📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 কুরআন উত্তোলনের কৌশল

📄 কুরআন উত্তোলনের কৌশল


মুআবিয়া রা.-এর বাহিনী যখন পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে, তখন আমর ইবনুল আস রা. মুআবিয়া রা.-কে এমন একটি পরামর্শ দেন, যার মাধ্যমে শামের বাহিনীকে সুনিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করা সম্ভব। তখন পর্যন্তও তারা নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করতেন যে, তারা সত্যের ওপর আছেন, সত্যের পথেই লড়াই করছেন এবং যারা উসমান রা.-এর খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে তাদের সঙ্গে লড়াই অব্যাহত রাখা আবশ্যক।

আমর ইবনুল আস রা. মুআবিয়া রা.-কে বললেন, আমি এমন একটি বিষয় ভেবেছি, এই মুহূর্তে যার মাধ্যমে আমরা সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি এবং তাদের মধ্যে বিভেদ বেড়ে যেতে পারে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, আমরা এখন কুরআন উত্তোলন করে তাদেরকে আমাদের দিকে আহ্বান করব। যদি তারা সকলেই সাড়া দেয় তাহলে লড়াই থেমে যাবে। আর যদি তারা মতানৈক্য করে; কেউ বলে সাড়া দেবে, আর কেউ বলে সাড়া দেবে না, তবে তারা ব্যর্থ হবে এবং তাদের শক্তি খর্ব হবে।

এই পরামর্শে মুআবিয়া রা. খুবই মুগ্ধ হন এবং তার বাহিনীর কিছু লোকদের ডেকে কুরআন উত্তোলন করার নির্দেশ দেন। তখন তারা কুরআন উত্তোলন করে বলে, হে ইরাকবাসী, তোমাদের ও আমাদের মধ্যে কুরআনকে ফয়সালাকারী হিসাবে তুলে ধরছি। অনেক মানুষ ইতিমধ্যে নিহত হয়ে গিয়েছে। তাহলে কারা সীমান্ত রক্ষা করবে? মুশরিক ও কাফেরদের সঙ্গে কারা লড়াই করবে?

এ কথা শুনে আলি রা.-এর বাহিনী বিভক্ত হয়ে যায়। কেউ বলে, আমরা আল্লাহ তাআলার কুরআনকেই ফয়সালাকারী হিসাবে মেনে নেবো। অপর লোকেরা বলে, আমরাই সত্যের ওপর আছি। তাই লড়াই চালিয়ে যাওয়াই বাঞ্ছনীয়।

এই ঘটনার ব্যাপারে শিয়াদের অনেক ভ্রান্ত এবং মিথ্যা বর্ণনা রয়েছে। যেগুলোতে চিত্রায়ন করা হয়েছে যে, আলি রা. শামের বাহিনীকে তিরস্কার ও গালমন্দ করে তাদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। বানোয়াট ও মিথ্যা বর্ণনা রচয়িতা শিয়া মতাবলম্বী আবু মিখনাফ লুত ইবনে ইয়াহইয়ার একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, আলি রা. সেদিন বলেছিলেন, আল্লাহর বান্দারা, তোমরা সত্যের ওপর এবং তোমাদের শত্রুদের সঙ্গে লড়াই করার ওপর সুদৃঢ় থাকো। নিশ্চয় মুআবিয়া, আমর ইবনুল আস, ইবনে আবু মুইত, হাবিব ইবনে মাসলামা, ইবনে আবু সারহ ও যাহহাক প্রমুখ ব্যক্তি দ্বীন এবং কুরআনের ধারক নয়। তোমাদের চেয়ে আমি তাদের বেশি চিনি। সেই শিশুকাল থেকে আমি তাদের সঙ্গে মিশেছি, প্রাপ্তবয়সেও তাদের সঙ্গে মিশেছি। তারা শিশুকালেও মন্দ ছিল এবং প্রাপ্তবয়সেও মন্দ ছিল। তোমরা যদি লড়াই না করো তবে তোমাদের জন্য দুর্ভোগ। তারা কুরআন তেলাওয়াত করে ঠিকই, কিন্তু এর মর্ম বোঝে না। তারা আমাদের ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই চক্রান্ত করে কুরআন উত্তোলন করেছে।

এমনটি কখনোই ঘটেনি। আলি রা. কখনোই এমন কথা বলেননি। মিথ্যাবাদী শিয়া আবু মিখনাফ লুত ইবনে ইয়াহইয়া এই মিথ্যা বর্ণনা রচনা করেছে। আলি রা. ছিলেন কুরআনকে ফয়সালাকারী হিসাবে মেনে নেওয়ার পক্ষে। শামের বাহিনীর এই প্রস্তাবে তিনি সম্মত হন এবং এ বিষয় নিয়ে কাকে মুআবিয়া রা.-এর কাছে পাঠাবেন তা ভাবতে থাকেন।

টিকাঃ
২৭৪, আল-কামিল ফিত তারিখ, ২/৬৬৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩০২

ফন্ট সাইজ
15px
17px