📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 যুদ্ধক্ষেত্রে উসমান রা.-এর হত্যাকারীদের কাছে সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য

📄 যুদ্ধক্ষেত্রে উসমান রা.-এর হত্যাকারীদের কাছে সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য


আলি রা. চিন্তা করেছিলেন, সকল মুসলিমের কল্যাণের জন্যই আমিরুল মুমিনিন এবং মুসলিম উম্মাহর বিরোধিতাকারী এই দলের সঙ্গে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তাই তিনি ফিতনাবাজদের সংখ্যাধিক্য এবং শক্তিমত্তার দিকে লক্ষ্য করে তাদের থেকে সহযোগিতা নেওয়াকে মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণকর মনে করেন।

রাসুল ﷺ-এর যুদ্ধগুলোর দিকে যদি তাকাই তবে দেখব যে, তিনি সকল মুনাফেকদের নাম ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন। আর মুনাফেকরা ছিল কাফেরদের চেয়েও অধিক বিপজ্জনক। তা সত্ত্বেও তারা রাসুল ﷺ-এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে এবং এতে কেউই আপত্তি করেননি। উহুদের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশই ছিল মুনাফেক। যাদের নেতৃত্বে ছিল মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল। রাসুল ﷺ তাদের নিষেধ করেননি। কারণ, তাদের নিষেধ করলে মদিনায় যে ফিতনা সৃষ্টি হতো তা হতো উহুদপ্রান্তরে কুরাইশ কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধ করার চেয়েও বিপজ্জনক।

ফকিহগণ এ ব্যাপারে একমত যে, যুদ্ধের ময়দানে ফাসেক মুসলিমদের থেকে সহযোগিতা নেওয়া যাবে। কিন্তু কাফেরদের কাছে সাহায্য চাওয়া যাবে কি না এ নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম মালেক রহ. ও ইমাম আহমাদ রহ.-এর মতে যুদ্ধে কাফেরদের কাছে সাহায্য চাওয়া বৈধ হবে না। ইমাম আবু হানিফা রহ. তা নিঃশর্তভাবে বৈধ মনে করেন। ইমাম শাফেয়ি রহ. বৈধতার জন্য কিছু শর্তারোপ করেছেন। উসমান রা.-এর হত্যায় যারা জড়িত ছিল নিশ্চিতভাবে তাদের কেউ কাফের বলেননি। এদিকে আবদুল্লাহ ইবনে সাবা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করে ভেতরে কুফরি বিশ্বাস লালন করত। এটিই হচ্ছে নেফাক।

যারা উসমান রা.-কে অবরোধ করেছিল তাদেরকে দুই দলে ভাগ করা হয়। একদল মনে করত যে, তারা সৎ কাজের আদেশ দিচ্ছে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করছে। দ্বিতীয় দলের লোকেরা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করলেও তাদের ভেতরে ছিল কুফরি, ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্র। মূলত তারা ছিল মুনাফেক।

টিকাঃ
২৬১. আল-মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা আল-কুয়েতিয়্যা, ৪/১৮, ৮/১৫০

ফন্ট সাইজ
15px
17px