📄 সিফফিনের উদ্দেশে উভয় পক্ষের যাত্রা
আলি রা. কুফা থেকে বেরিয়ে কুফার বাইরে নাখিলা নামক অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেন। কুফায় তার স্থলাভিষিক্ত করে যান বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবি উকবা ইবনে আমের আনসারি রা.-কে। আলি রা. অগ্রবর্তী দলকে শামের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেন। তারা ফোরাত নদী অতিক্রম করে সিফফিন নামক অঞ্চলে পৌঁছে যায়। আর তিনি অগ্রবর্তী দলের পেছনে পেছনে তার বাহিনী নিয়ে চলতে থাকেন।
মুআবিয়া রা.-এর কাছে সংবাদ পৌঁছায় যে, শামবাসী আলি রা.-এর বাইআত গ্রহণ না করায় আলি রা. তার বাহিনী নিয়ে ইরাক থেকে শামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মুআবিয়া রা. শামের নেতৃস্থানীয় লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করলে তারা আলি রা.-এর বাহিনীর অপেক্ষায় শামে বসে না থেকে তাদের উদ্দেশে বের হওয়ার পরামর্শ দেন। তারা আরও বলেন, যেমনইভাবে আলি রা. নিজে তার বাহিনীর সঙ্গে এসেছেন, তেমনইভাবে মুআবিয়া রা. নিজেই যেন তার বাহিনী পরিচালনা করেন।
মুআবিয়া রা. তাদের এই মতের সঙ্গে একমত হন এবং নিজেই বাহিনী নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। সেদিন যারা তাকে উৎসাহিত করেছিলেন তাদের মধ্যে আমর ইবনুল আস রা. ছিলেন অন্যতম। তিনি লোকদের উদ্দেশে বলেন, বসরা এবং কুফার বীর যোদ্ধাদের অধিকাংশই জঙ্গে জামালের দিন নিহত হয়েছে। আলির সঙ্গে এখন অল্প কিছু লোকই অবশিষ্ট আছে। খলিফা উসমান ইবনে আফফান রা.-কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই তোমরা উসমান রা.-এর রক্ত বৃথা যেতে দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। আমর ইবনুল আস রা. এভাবেই লোকদের যুদ্ধে বের হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর সেনাবাহিনীর বিগ্রেড গঠন করা হয়। মুআবিয়া রা. তার বাহিনী নিয়ে বেরিয়ে পড়েন এবং বাহিনীর অগ্রভাগকে আলি রা.-এর বাহিনীর উদ্দেশে পাঠিয়ে দিয়ে তাদের অনুসরণ করতে থাকেন।
তখন আমর ইবনুল আস রা.-এর বয়স ছিল ৮৬ বছর। এ বয়সে এসেও তিনি লোকদের লড়াইয়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং রাসুল ﷺ-এর একজন বিশিষ্ট সাহাবি। তার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাই কারও জন্যই তার প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা উচিত নয়। কেউ যেন এই ধারণা না করেন যে, জীবনের এই পর্যায়ে, আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সাক্ষাতের দরজায় দাঁড়িয়ে তিনি ক্ষমতা অথবা দুনিয়ালাভে আগ্রহী ছিলেন।
আলি রা.-এর অগ্রবর্তী দলের নেতৃত্বে ছিলেন যিয়াদ ইবনে নজর রহ. এবং মুআবিয়া রা.-এর অগ্রবর্তী দলের নেতৃত্বে ছিলেন আবুল আওয়ার সুলামি রা.। উভয় পক্ষের অগ্রবর্তী দল সিফফিনের প্রান্তরে পরস্পর মুখোমুখি হন।
আলি রা. তার বাহিনীর অগ্রভাগে এই মর্মে নির্দেশ পাঠিয়েছিলেন যে, তোমরা তাদেরকে বারবার বাইআতের দিকে আহ্বান করো। যদি তারা অস্বীকার করে, তবে তোমরা তাদের আগে লড়াই শুরু করো না। তাদের মধ্য থেকে যুদ্ধে আগ্রহী কেউ যেন তোমাদের কাছাকাছি আসতে না পারে এবং কেউ যেন তাদের থেকে ভীত হয়ে দূরে সরে না যায়।
আলি রা.-এর বাহিনীর অগ্রবর্তী দল মুআবিয়া রা.-এর বাহিনীর অগ্রবর্তী দলের কাছে বারবার বাইআত গ্রহণের প্রস্তাব পেশ করে। কিন্তু তারা বাইআত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। মুআবিয়া রা.-এর বাহিনীর আবুল আওয়ার সুলামি রা.-ই প্রথমে যুদ্ধ শুরু করেন। কিছুক্ষণ তাদের মধ্যে লড়াই হয় এবং বেশ কিছু লোক শহিদ হন। এরপর তারা বিরত হন। তখন ৩৬ হিজরির জিলহজ মাস কেবল শুরু হয়েছে। অর্থাৎ জঙ্গে জামালের সাত অথবা আট মাস পর শুরু হয় এই যুদ্ধ। পরদিন উভয় পক্ষ পুনরায় কিছু সময়ের জন্য লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। অতঃপর কিছু লোকের শাহাদাতবরণের পর আবার তারা লড়াই থেকে বিরত হন।
তৃতীয় দিন আলি রা. অবশিষ্ট বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হন এবং মুআবিয়া রা.-ও উপস্থিত হন তার অবশিষ্ট বাহিনী নিয়ে।
আলি রা.-এর বাহিনীর সেনাসংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ২০ হাজার। এদিকে মুআবিয়া রা. কেবল শামের অধিবাসীদের থেকেই ৯০ হাজার সেনা একত্র করেছিলেন। এ সংখ্যা ছিল অনেক বিশাল। সিফফিন অঞ্চলে পৌঁছে মুআবিয়া রা. একটি নদী দেখতে পান, যা থেকে পুরো সিফফিন অঞ্চলে পানির ব্যবস্থা হয়। তিনি নদীটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং আলি রা.-এর বাহিনীর কাছে পানি সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেন। অনেক দিন পানি বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে পিপাসায় আলি রা.-এর বাহিনী মৃত্যুর উপক্রম হয়ে যায়। উভয় পক্ষই পানির জন্য লড়াই করতে থাকে। এ দিনের শেষভাগে আলি রা. সাসা ইবনে সুহান রহ.-কে মুআবিয়া রা.-এর কাছে প্রেরণ করে জানান যে, আমরা আপনাদের কাছে এসেছিলাম সত্যকে প্রমাণিত করার জন্য, লড়াইয়ের জন্য নয়। এরপর আপনি আপনার অগ্রবর্তী দলকে প্রেরণ করেছেন। তারাই আগে আমাদের সঙ্গে লড়াই শুরু করেছে। আর এখন আপনারা আমাদের পানিবঞ্চিত করছেন!
মুআবিয়া রা. এ নিয়ে নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তখন আমর ইবনুল আস রা. বলেন, তাদের জন্য পানি সরবরাহের পথ উন্মুক্ত করে দিন। আমরা পানি পান করব আর তারা পিপাসিত থাকবে, তা কখনোই ইনসাফ হতে পারে না। তখন মুআবিয়া রা.-এর অপর এক পরামর্শক ওয়ালিদ বলেন, তাদেরকে পিপাসার যাতনা ভোগ করতে দিন, যেমনইভাবে আমিরুল মুমিনিন উসমান রা.-কে পিপাসার যাতনা দেওয়া হয়েছিল। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবু সারহ রা. বলেন, রাত পর্যন্ত তাদের পানি বন্ধ রাখুন। হয়তো তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবে।
উভয় পক্ষের পরামর্শ এবং আলোচনার পর লড়াই ব্যতিরেকেই উভয় পক্ষ সমানভাবে পানি পান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অতঃপর তাদের প্রতিদিনের লড়াইয়ের দৃশ্য ছিল এমন, যখন লড়াই চলত তারা লড়াই করতেন। অতঃপর লড়াই থেমে গেলে সবাই একই সঙ্গে পানি পান করতেন। কেউ কাউকে আঘাত করতেন না। এরপর উভয় পক্ষই রণাঙ্গন থেকে তাদের শহিদদের জানাজা পড়তেন এবং দাফন সম্পন্ন করতেন।
তৃতীয় দিন আলি রা. পুনরায় মুআবিয়া রা.-এর কাছে আরেকটি দল পাঠান। এ দলে ছিলেন বশির ইবনে আমর আনসারি রা., সাইদ ইবনে কায়স রহ. ও সুবাইস ইবনে রিবয়ি। মুআবিয়া রা.-এর কাছে গিয়ে প্রথমে বশির ইবনে আমর আনসারি রা. আলোচনা শুরু করেন। তিনি বলেন, মুআবিয়া, নিশ্চয় দুনিয়া আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। আর আপনি হবেন আখেরাতের নিশ্চিত যাত্রী। আমি আপনাকে শপথ করে বলছি, আপনি এই মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না এবং নিজেদের মধ্যে রক্তপাত করবেন না। তখন মুআবিয়া রা. বললেন, উসমান রা.-এর রক্তের প্রতি এভাবেই অবহেলা করা হবে? আল্লাহর শপথ! আমি তা কিছুতেই হতে দেবো না।
উভয় পক্ষের দাবি ছিল স্পষ্ট। সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুনরায় উভয় পক্ষে লড়াই শুরু হয়। পুরো জিলহজ মাসজুড়ে এভাবেই লড়াই চলছিল। মহররম মাসে এসে উভয় পক্ষই সন্ধির চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আলি রা. এবার মুআবিয়া রা.-এর কাছে প্রেরণ করেন সাহাবি আদি ইবনে হাতেম তায়ি রা.-কে। আদি ইবনে হাতেম রা. বলেন, মুআবিয়া, আমরা আপনাকে এমন একটি বিষয়ের দিকে আহ্বান করতে এসেছি, যার মাধ্যমে আমাদের ঐক্য সৃষ্টি হবে। নিশ্চয় আপনার চাচাতো ভাই আলি রা. হলেন মুসলিম উম্মাহর নেতা, যিনি ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী।
তখন মুআবিয়া রা. বলেন, আপনারা আমাকে মুসলিমদের দলের সঙ্গে থাকার ও আনুগত্যের দিকে আহ্বান করেছেন। মুসলিমদের দল তো আমাদের সঙ্গেও রয়েছে। উসমান রা.-এর হত্যাকাণ্ডে যে ব্যক্তি সাহায্য করেছে, কীভাবে আমরা তার আনুগত্য করতে পারি? তিনি (আলি রা.) দাবি করেছেন যে, তিনি উসমান রা.-কে হত্যা করেননি। আমরা তার এ কথাকে মিথ্যা বলি না এবং তার ওপর কোনো অপবাদও আরোপ করি না। কিন্তু তিনি উসমান রা.-এর খুনিদের আশ্রয় দিয়েছেন।
পুরো জিলহজ ও মহররম মাসে সন্ধি সম্পন্ন হয়নি। মহররম মাসের শেষ দিন আলি রা. তার ঘোষক ইয়াজিদ ইবনে হারিসকে তলব করেন এবং তাকে শামের কাছে গিয়ে এই মর্মে ঘোষণা দিতে নির্দেশ প্রদান করেন যে, আমিরুল মুমিনিন আপনাদের বলছেন, আমি আপনাদের সুযোগ দিয়েছি, যেন আপনারা সত্যের দিকে ফিরে আসেন। কিন্তু আপনারা এতে সাড়া দেননি। আলি রা. লড়াই শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আলি রা. তার বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রদান করেন। মুআবিয়া রা.-ও তার বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। সফর মাসের প্রথম দিন উভয় পক্ষ পুনরায় মুখোমুখি হয়। প্রথম দিনেই আলি রা. তার বাহিনী থেকে বড় একটি দল পাঠান, যার নেতৃত্বে ছিল আশতার নাখায়ি।
টিকাঃ
২৫৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২৮৪
২৫৪. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২৮৫
২৫৫. সুবাইস ইবনে রিবয়ি: তার নাম সাবাস ইবনে রিবয়ি, সুবাইস ইবনে রিবয়ি নয়। ইজলি রহ. বলেন, সে উসমান রা.-এর হত্যায় সহযোগিতা করে। সূত্র: আমিরুল মুমিনিন আলি ইবনে আবু তালিব রা., ড. আলি সাল্লাবি, (উইকিপিডিয়া)-সম্পাদক
২৫৬. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২৮৫
২৫৭. ইয়াজিদ ইবনে কায়স: সে ছিল উসমান রা.-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের একজন। আল-ফিতনা ওয়া ওয়াকআতুল জামাল, সাইফ ইবনে উমর তামিমি-(শামেলা) পৃ. ৪৫; -সম্পাদক
২৫৮. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭/২৮৭: তারিখ ইবনি খালদুন ১/১১৬-১১৮
২৫৯. তারিখুত তবারি, ৫/১০; আল-কামিল ফিত তারিখ, ২/৬৪৫; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২৮৯
২৬০. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২৮৬
📄 যুদ্ধক্ষেত্রে উসমান রা.-এর হত্যাকারীদের কাছে সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য
আলি রা. চিন্তা করেছিলেন, সকল মুসলিমের কল্যাণের জন্যই আমিরুল মুমিনিন এবং মুসলিম উম্মাহর বিরোধিতাকারী এই দলের সঙ্গে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তাই তিনি ফিতনাবাজদের সংখ্যাধিক্য এবং শক্তিমত্তার দিকে লক্ষ্য করে তাদের থেকে সহযোগিতা নেওয়াকে মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণকর মনে করেন।
রাসুল ﷺ-এর যুদ্ধগুলোর দিকে যদি তাকাই তবে দেখব যে, তিনি সকল মুনাফেকদের নাম ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন। আর মুনাফেকরা ছিল কাফেরদের চেয়েও অধিক বিপজ্জনক। তা সত্ত্বেও তারা রাসুল ﷺ-এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে এবং এতে কেউই আপত্তি করেননি। উহুদের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশই ছিল মুনাফেক। যাদের নেতৃত্বে ছিল মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল। রাসুল ﷺ তাদের নিষেধ করেননি। কারণ, তাদের নিষেধ করলে মদিনায় যে ফিতনা সৃষ্টি হতো তা হতো উহুদপ্রান্তরে কুরাইশ কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধ করার চেয়েও বিপজ্জনক।
ফকিহগণ এ ব্যাপারে একমত যে, যুদ্ধের ময়দানে ফাসেক মুসলিমদের থেকে সহযোগিতা নেওয়া যাবে। কিন্তু কাফেরদের কাছে সাহায্য চাওয়া যাবে কি না এ নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম মালেক রহ. ও ইমাম আহমাদ রহ.-এর মতে যুদ্ধে কাফেরদের কাছে সাহায্য চাওয়া বৈধ হবে না। ইমাম আবু হানিফা রহ. তা নিঃশর্তভাবে বৈধ মনে করেন। ইমাম শাফেয়ি রহ. বৈধতার জন্য কিছু শর্তারোপ করেছেন। উসমান রা.-এর হত্যায় যারা জড়িত ছিল নিশ্চিতভাবে তাদের কেউ কাফের বলেননি। এদিকে আবদুল্লাহ ইবনে সাবা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করে ভেতরে কুফরি বিশ্বাস লালন করত। এটিই হচ্ছে নেফাক।
যারা উসমান রা.-কে অবরোধ করেছিল তাদেরকে দুই দলে ভাগ করা হয়। একদল মনে করত যে, তারা সৎ কাজের আদেশ দিচ্ছে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করছে। দ্বিতীয় দলের লোকেরা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করলেও তাদের ভেতরে ছিল কুফরি, ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্র। মূলত তারা ছিল মুনাফেক।
টিকাঃ
২৬১. আল-মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা আল-কুয়েতিয়্যা, ৪/১৮, ৮/১৫০