📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 উসমান রা.-এর শাহাদাতবরণ

📄 উসমান রা.-এর শাহাদাতবরণ


উসমান রা. নফল নামাজ আদায় করেন। নামাজে সম্পূর্ণ সুরা তহা পাঠ করেন। এরপর কুরআন তেলাওয়াত করতে বসে যান।

এ সময় ফিতনাবাজদের চূড়ান্ত চিন্তাভাবনা ছিল কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে উসমান রা.-কে হত্যা করা যায়। ইতিমধ্যেই তারা জানতে পেরেছে, খলিফার সাহায্যে আগমনকারী মুসলিম বাহিনী মদিনার কাছাকাছি চলে এসেছে।

সুতরাং ফিতনার অন্যতম মূলহোতা কিনানা ইবনে বিশর তুজিবি আগুন দিয়ে উসমান রা.-এর ঘরের দরজা জ্বালিয়ে দেয়। এরপর কয়েকজন ফিতনাবাজ-সহ সে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আল-মাওতুল আসওয়াদ লকবধারী এক ব্যক্তি প্রবেশ করে। কেউ বলেন, সে ছিল আবদুল্লাহ ইবনে সাবা। আবার কেউ বলেন, সে ছিল অন্য কোনো ব্যক্তি। সে এসে প্রচণ্ড শক্তিতে উসমান রা.-এর গলা চেপে ধরে। এমনকি ধারণা হয়, তিনি মারা গিয়েছেন। তখন তারা তাকে ফেলে চলে যায়। এরপর প্রবেশ করেন মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রা.। পূর্বেই বলেছি, এই ফিতনায় অংশগ্রহণকারী তিনিই একমাত্র সাহাবি। তিনি উসমান রা.-এর কাছে আসেন। ভেবেছিলেন, তিনি মারা গিয়েছেন। কিন্তু এসে দেখেন যে, তিনি এখনো জীবিত আছেন। তখন মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর উসমান রা.-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে আহম্মক, আপনি কোন দ্বীনের ওপর আছেন?

তখন উসমান রা. বললেন, আমি ইসলাম ধর্মের ওপর আছি। আমি আহাম্মক নই; বরং, আমি হচ্ছি আমিরুল মুমিনিন (মুমিনদের নেতা)। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রা. বললেন, আপনি আল্লাহর কিতাবে পরিবর্তন করেছেন।

উসমান রা. বললেন, আল্লাহর কিতাব (কুরআন) তোমার আমার সামনেই আছে।

তখন মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রা. এগিয়ে এসে উসমান রা.-এর দাড়ি ধরে টান দেন এবং বলেন, নিশ্চয় আমরা কেয়ামতের দিন ওই সব লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতে চাই না, যারা বলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় আমরা আমাদের নেতা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদেরকে অনুসরণ করেছি। তারাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।' [সুরা আহযাব: ৬৭]

এ সময় পর্যন্তও মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রা. এবং ফিতনায় জড়িয়ে পড়া আরও কিছু লোক মনে করছিল যে, উসমান রা.-কে হত্যা বা অপসারণের মাধ্যমে তারা মহৎ কাজ করছেন। তারা আল্লাহর আনুগত্য এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের জন্যই খলিফাকে হত্যা বা অপসারণের চেষ্টা করছে। নিঃসন্দেহে এ ছিল তাদের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া ইবলিসের প্ররোচনা।

উসমান রা. বললেন, ভাতিজা, তুমি এমন দাড়িতে হাত দিয়েছ, তোমার পিতা যার সম্মান করতেন।

এ কথা শোনার পর মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রা.-এর কাছে এক নিমিষেই সত্য উন্মোচিত হয়ে যায়। এ কথার মাধ্যমে যেন তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রা.-এর অন্তর থেকে ওই পর্দা সরিয়ে দিলেন, যা তার নিকট সত্য ও সঠিক বিষয়কে প্রচ্ছন্ন করে রেখেছিল। তার মানসপটে ভাসতে থাকে রাসুল ﷺ, আবু বকর সিদ্দিক রা. এবং অন্য মুসলিমদের সঙ্গে উসমান রা.-এর বর্ণিল দিনগুলোর কথা। তখন তিনি লজ্জিত হয়ে উসমান রা.-এর দাড়ি থেকে হাত সরিয়ে নেন এবং কাঁদতে থাকেন। এভাবে কিছুক্ষণ অবস্থান করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। বেরিয়েই দেখতে পান, বিদ্রোহীরা উসমান রা.-এর ঘরে প্রবেশ করছে। তখন তিনি উসমান রা.-এর পক্ষে তরবারি তুলে প্রতিরোধ শুরু করেন। কিন্তু বিদ্রোহীরা তাকে পরাস্ত করে। তিনি তাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারেননি। উসমান রা.-এর স্ত্রী নায়েলা বিনতে ফারাফিসা রহ. এ কথার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

অভিশপ্ত কিনানা ইবনে বিশর পুনরায় উসমান রা.-এর ঘরে প্রবেশ করে। তরবারি দিয়ে তার শরীরে আঘাত করে। উসমান রা. হাত দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে ওই নরপিশাচ তার হাত কেটে ফেলে। এ আঘাতের পর উসমান রা. বলে ওঠেন, বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, অপরদিকে তার হাত থেকে রক্তের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ে। তখন তিনি বলেন, এ হাত দিয়েই প্রথম কুরআন লেখা হয়েছিল। এরপর তিনি জোরে বলে ওঠেন, সুবহানাল্লাহিল আজিম। তার হাত থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ে সামনে থাকা কুরআনের ওপর। সমস্ত বর্ণনা অনুযায়ী প্রমাণিত যে, সেদিন তার রক্ত গড়িয়ে পড়েছিল কুরআনের এই শব্দের ওপর, 'অচিরেই আল্লাহ তাআলা তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবেন।' [সুরা বাকারা: ১৩৭]

এরপর কিনানা পুনরায় তার মাথায় আঘাত করে। এতে উসমান রা. কাত হয়ে পড়ে যান। এবার অভিশপ্ত কিনানা তার বুকে আঘাত করতে উদ্যত হয়। নায়েলা রহ. তার স্বামীর পক্ষে সেই আঘাত প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসেন। স্বামীকে রক্ষা করার জন্য হাত তরবারির নিচে ধরেন। তখন কবজির অংশ-সহ তার কয়েকটি আঙুল কেটে যায় এবং তিনি পড়ে যান মাটিতে।

অভিশপ্ত কিনানা তখন উসমান রা.-এর বুকে আঘাত করে। এরপর তরবারি উত্তোলন করে আরেক নরাধম সাওদান ইবনে হুমরান। সে উসমান রা.-এর পেটে আঘাত করে। উসমান রা. জমিনের দিকে ঝুঁকে গেলে সে উসমান রা.-এর পেটের ওপর পদাঘাত করে। তার শরীর দিয়ে তরবারির ওপর ভর দেয় যেন উসমান রা.-এর শরীরে তরবারি ভালোভাবে বিদ্ধ হয়। এ আঘাতের পরেই উসমান রা. শাহাদাতবরণ করেন।

এরপর আমর ইবনুল হামিক নামক এক নরাধম তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে উসমান রা.-এর শরীরে নয়টি আঘাত করে। আঘাত করার সময় সে বলে, এই তিনটি আঘাত করলাম আল্লাহর জন্য। পরের ছয়টি আঘাত করলাম আমার মনের ক্ষোভ মেটানোর জন্য।

যুন নুরাইন তথা দুই নুরের অধিকারী। রাসুল ﷺ-এর দুই কন্যার স্বামী। একাধিকবার রাসুল ﷺ-এর মুখে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবি এবং ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান রা. এমন নির্মমভাবে শহিদ হয়ে পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাসুল ﷺ-এর সঙ্গে মিলিত হন।

ওই সব পাপিষ্ঠ খারেজিরা উসমান রা.-কে হত্যা করে তার ঘরে লুটপাট শুরু করে। তারা বলতে থাকে, যেহেতু তার রক্ত আমাদের জন্য বৈধ ছিল, তাহলে তার সম্পদ কেন বৈধ হবে না? এই বলে তারা সামনে যা দেখে তাই নিতে থাকে। এমনকি পানপাত্র পর্যন্তও ছাড়েনি। এরপর তারা উসমান রা.-এর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যত হলে তার দুই স্ত্রী নায়েলা রহ. ও উম্মুল বানিন রহ. এবং তার কন্যা চিৎকার করে ওঠেন। তখন আবদুর রহমান ইবনে উদাইস নামক ফিতনাবাজদের এক সর্দার বলে, তাকে ছেড়ে দাও। ফলে তারা উসমান রা.-এর মাথা বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকে। এরপর তারা যখন বেরিয়ে যায়, তখন উসমান রা.-এর এক দাস সাওদান ইবনে হুমরানের ওপর আঘাত করে তাকে জাহান্নামে পৌঁছে দেয়। তখন কাতারা নামক এক ফিতনাবাজ সেই দাসকে হত্যা করে। তখন উসমান রা.-এর অপর এক দাস এসে কাতারার জীবননাশ করে দেয়। ফিতনাবাজরা তখন দ্বিতীয় দাসকেও হত্যা করে।

এই দুর্ঘটনায় উসমান রা. এবং তার দুই দাস শাহাদাতবরণ করেন। কয়েকজন সাহাবি এবং তাদের সন্তান শাহাদাতবরণ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা., হাসান রা. ও হুসাইন রা. আহত হন।

টিকাঃ
১৭৫. তারিখুত তবারি, ৪/৩৮৪; তারিখুল ইসলাম, ৩/১৩৯; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২০৬; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১/২০৬
১৭৬. তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৩৯/৪০৯; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২০৭
১৭৭. আল-ইসতিয়াব, ৩/১৪৬; উসদুল গাবা, ৩/৫৭৮; তাহযিবুল কামাল, ১৯/৪৫৬; আল-কামিল ফিত তারিখ, ২/৫৪৪; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২০৮
১৭৮. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২১০

📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 উসমান রা.-এর হত্যাকাণ্ডের পর সাহাবিগণের অবস্থা

📄 উসমান রা.-এর হত্যাকাণ্ডের পর সাহাবিগণের অবস্থা


উসমান রা.-এর হত্যাকাণ্ডের পরে সাহাবিগণের প্রতিক্রিয়া কী ছিল, এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিয়াদের গ্রন্থগুলোতে এ বিষয়টিকে খুবই কদর্যরূপে উপস্থাপন করা হয়। তারা বুঝাতে চায় যে, সাহাবিগণ উসমান রা.-এর মৃত্যুতে আনন্দিত হয়েছেন। কারণ, উসমান রা. সাহাবিগণের মতের বিরোধী ছিলেন। সাহাবিগণ চাইতেন না তিনি ক্ষমতায় স্থায়ী হন। এমন আরও ভ্রান্ত ও বানোয়াট কথা তাদের গ্রন্থগুলোতে রয়েছে।

সাহাবিগণ উসমান রা.-এর হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানতে পারেন। পাশাপাশি আরেকটি বিস্ময়কর বিষয়ও জানতে পারেন। তা হলো, হত্যাকারীরা তাদের এই ঘৃণ্য অপকর্মের পর মুসা আ.-এর জাতির মতো আচরণ প্রকাশ করতে থাকে। মুসা আ.-এর জাতি গোবৎস পূজার পর যেভাবে সেই কাজের ওপর অনুতপ্ত হয়েছিল, তেমনই হত্যাকারীরাও নিজেদের অত্যন্ত অনুতপ্ত এবং লজ্জিত হিসাবে প্রকাশ করতে থাকে। মুসা আ.-এর জাতি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে জানাচ্ছেন— 'আর যখন তারা অনুতপ্ত হলো এবং বুঝতে পারল যে, তারা নিশ্চিত পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েছে। তখন বলতে লাগল, আমাদের প্রতি যদি আমাদের প্রভু করুণা না করেন এবং আমাদের ক্ষমা না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।' [সুরা আরাফ: ১৪৯]

ওই সব হত্যাকারীদের অনেকেই উসমান রা.-এর রক্ত এবং তার দেহ মাটিতে লুটে পড়া অবস্থায় দেখে তাদের অপরাধ এবং মন্দ কাজ অনুভব করতে পারে। ফলে তারা এ কাজে নিজেদের লজ্জা এবং অনুশোচনা প্রকাশ করে।

📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 উসমান রা.-এর হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পৌঁছে গেল সাহাবিগণের কাছে

📄 উসমান রা.-এর হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পৌঁছে গেল সাহাবিগণের কাছে


• যুবায়ের ইবনুল আওয়াম রা. এ সংবাদ শুনে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়েন। তার জন্য রহমতের দোয়া করেন। এরপর তার কাছে সংবাদ আসে যে, যারা তাকে হত্যা করেছে তারা লজ্জিত ও অনুতপ্ত। তিনি বলেন, তারা ধ্বংস হোক। এ কথা বলে তিনি এই আয়াত তেলাওয়াত করেন, 'তারা কেবল একটা ভয়াবহ শব্দের অপেক্ষা করছে, যা তাদের পাকড়াও করবে তাদের বিতর্কে লিপ্ত থাকা অবস্থায়। তখন তারা কোনো অসিয়ত করতে পারবে না। এবং পারবে না তাদের পরিবার-পরিজনের কাছেও ফিরে যেতে।' [সুরা ইয়াসিন: ৪৯-৫০]

• আলি রা.-এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছে। কোনো কোনো বর্ণনা মতে, যখন তার কাছে এ সংবাদ পৌঁছে তখন হাসান রা., হুসাইন রা., আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. ও মুহাম্মাদ ইবনে তালহা রা. তার সামনে ছিলেন। তখন আলি রা. হুসাইন রা.-কে চড় মারেন। হাসান রা.-এর বুকে আঘাত করেন। আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. ও মুহাম্মাদ ইবনে তালহা রা.-কে তিরস্কার করেন। তাদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের সামনে কীভাবে তাকে হত্যা করা হলো?

এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে নিজেকে উসমান রা.-এর রক্ত থেকে মুক্ত ঘোষণা করছি।

এরপর তাকে বলা হলো, হত্যাকারীরা নিজেদের কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়েছে। তখন আলি রা. বললেন, 'তাদের তুলনা হলো শয়তান, সে মানুষকে বলে কাফের হয়ে যা। এরপর যখন সে কাফের হয়ে যায়, তখন শয়তান বলে, তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলাকে ভয় করি।' [সুরা হাশর : ১৬]

• সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-এর কাছে উসমান রা.-এর হত্যার সংবাদ পৌঁছলে তিনি তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেন এবং রহমতের দোয়া করেন। তিনিও হত্যাকারীদের উদ্দেশে এ আয়াত তেলাওয়াত করেন, 'বলুন, আমি কি তোমাদের সেসব লোকের সংবাদ দেবো, যারা কর্মের দিক দিয়ে সর্বাপেক্ষা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত? তারাই সেসব লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়। অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করছে।' [সুরা কাহাফ : ১০৩-১০৪]

সাদ রা. বললেন, হে আল্লাহ, আপনি তাদের লজ্জিত করুন এবং পাকড়াও করুন।

সাদ রা. ছিলেন মুসতাজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়)। তার দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে রাসুল ﷺ দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই দোয়া কবুল করেছেন। পূর্বসূরি একজন মনীষী শপথ করে বলেছেন, উসমান রা.-এর হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল, তাদের সবারই মৃত্যু হয়েছে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের শাসনকাল পর্যন্ত জীবিত থাকে ও তার হাতে নিহত হয়। তাদের কেউই হত্যার হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। তারা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতের অনিষ্ট নিয়ে ফিরে গিয়েছে।

টিকাঃ
১৭৯. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২১১
১৮০. তারিখুল খুলাফা, পৃ. ১২৬
১৮১. তারিখুত তবারি, ৪/৩৯২, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২১১
১৮২. তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৩৯/৪৪০; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২১১

📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 সংবাদ যখন শাম পৌঁছল

📄 সংবাদ যখন শাম পৌঁছল


উসমান রা.-এর হত্যাকাণ্ডের পর তার স্ত্রী নায়েলা বিনতে ফারাফিসা রহ. উসমান রা.-এর রক্তমাখা জামা এবং উসমান রা.-কে বাঁচাতে গিয়ে তার কেটে যাওয়া আঙুল ও কবজি একত্র করেন। এরপর সেগুলো নোমান ইবনে বশির রা.-এর হাতে দিয়ে বলেন, এগুলো মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রা.-এর কাছে নিয়ে যান। তিনিই এখন উসমান রা.-এর উত্তরসূরি।

নোমান ইবনে বশির রা. এই আমানত শামে মুআবিয়া রা.-এর কাছে পৌঁছে দেন। মুআবিয়া রা. এগুলো মসজিদের মিম্বরের ওপর ঝুলিয়ে দেন এবং কেঁদে কেঁদে প্রতিশোধ গ্রহণের শপথ করেন। শামের অধিবাসীরা মুআবিয়া রা.-এর সঙ্গে সহমত পোষণ করে। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সাহাবি। আবু দারদা রা., উবাদা ইবনে সামিত রা. প্রমুখ বিখ্যাত সাহাবিগণ তখন শামেই অবস্থান করছিলেন। আবু দারদা রা. ছিলেন শামের বিচারক ও সেখানকার সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তিনি উসমান রা.-এর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধগ্রহণ ওয়াজিব বলে ফতোয়া প্রদান করেন। ফলে উসমান রা.-এর রক্তমাখা জামার নিচে বসে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ কাঁদতে কাঁদতে তার মৃত্যুর প্রতিশোধ গ্রহণের শপথ নেয়।

যারা প্রতিশোধ গ্রহণের ফতোয়ার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন তাদের মধ্যে আবু মুসলিম খাওলানি রহ. ছিলেন অন্যতম। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট তাবেয়ি। বলা হয়ে থাকে যে, আবু দারদা রা.-এর পর তিনিই ছিলেন শামের সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব।

টিকাঃ
১৮৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২৫৫; তারিখ ইবনি খালদুন, ২/৬২৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px