📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 গৃহবন্দি হলেন উসমান রা.

📄 গৃহবন্দি হলেন উসমান রা.


এ সময় পর্যন্ত খলিফা উসমান রা. স্বাভাবিকভাবেই চলছিলেন। মুহাজির এবং আনসার সকল সাহাবিই তার পেছনে নামাজ আদায় করছিলেন। এমনকি বিদ্রোহীরাও তার পেছনেই নামাজ পড়ত। এরই মধ্যে জুমার দিন চলে আসে। উসমান রা. দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা প্রদান করেন। নামাজ শেষে তিনি পুনরায় মিম্বরে আরোহণ করেন এবং বলেন, বহিরাগত লোকসকল, আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় মদিনাবাসীরা জানে যে, তোমরা হলে রাসুল ﷺ-এর ভাষায় অভিশপ্ত। তাই নেক কাজের মাধ্যমে তোমাদের ভুলগুলো মুছে ফেলো। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মন্দকে মুছে দেন একমাত্র নেককাজের মাধ্যমে।

তখন বিশিষ্ট সাহাবি মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা রা. দাঁড়িয়ে বলেন, আমি এর পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছি। হাকিম ইবনে জাবালা তার পাশেই ছিল। সে জোরপূর্বক তাকে বসিয়ে দেয় এবং গালমন্দ করে। তখন যায়দ ইবনে সাবেত আনসারি রা. বলেন, নিশ্চয় এ কথা কুরআনে রয়েছে।

তখন ফিতনাবাজদের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবনে আবি মুরাইরা নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায়দ রা.-কে টানাহ্যাঁচড়া ও গালমন্দ করে। এরপর জাহজাহ গিফারি নামক অপর এক ফিতনাবাজ দাঁড়িয়ে উসমান রা.-কে সম্বোধন করে কথা বলতে থাকে। তার দিকে এগিয়ে গিয়ে হাতের লাঠিটি কেড়ে নেয়, যে লাঠিতে ভর দিয়ে তিনি খুতবা দিতেন। এটি ছিল রাসুল ﷺ-এর লাঠি। তিনি এ লাঠিতে ভর দিয়ে খুতবা দিতেন। পরবর্তী সময়ে আবু বকর রা. ও উমর রা. এই লাঠি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু জাহজাহ নামক নরাধম এই পবিত্র লাঠিটি ছিনিয়ে নিয়ে হাঁটু দিয়ে ভেঙে ফেলে এবং উসমান রা.-কে বলে, হে আহাম্মক, তুই এই মিম্বর থেকে নেমে যা।

এই প্রথম উসমান রা.-কে জনসম্মুখে গালি দেওয়া হলো। নরাধম জাহজাহের এই কথা বলার পর সব বিদ্রোহীরা দাঁড়িয়ে সাহাবিগণ এবং উসমান রা.-এর ওপর পাথর নিক্ষেপ করতে শুরু করে। উসমান রা. তখনও মিম্বরে অবস্থান করছিলেন। তার গায়ের জামা রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। কয়েকজন সাহাবি তাকে ধরে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসেন। এরপর তিনি বাড়ি থেকে আর বের হতে পারেননি। ফিতনাবাজরা তার বাড়ি অবরোধ করে রাখে। মুসলিমদের নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব আসে আবু হুরাইরা রা.-এর কাঁধে। তবে বেশ কিছু দুর্বল বর্ণনায় পাওয়া যায়, উসমান রা.-কে হত্যার আগ পর্যন্ত নামাজের ইমামতি করত গাফেকি। তবে বিশুদ্ধ মতে এ সময় আবু হুরাইরা রা. ইমামতি করেছেন।

উসমান রা. পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বুঝতে পারলেন যে, এসব বিদ্রোহীদের সঙ্গে নম্রতায় কোনো কাজ হবে না, তাই তিনি বিভিন্ন প্রান্তে নিয়োজিত গভর্নরদের কাছে চিঠি পাঠান। যেন তারা সৈন্যদল পাঠিয়ে উদ্ভূত জটিলতার সমাধান করেন। শামে নিযুক্ত মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রা., কুফায় নিযুক্ত আবু মুসা আশআরি রা. এবং বসরায় নিযুক্ত আবদুল্লাহ ইবনে আমের ইবনে কুরাইজ রা.-এর কাছে চিঠি প্রেরণ করা হয়। কিন্তু মদিনা থেকে এসব অঞ্চলের দূরত্ব আমরা সকলেই জানি। তাই চিঠি পৌঁছতে দেরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ সময় পর্যন্ত উসমান রা.-কে হত্যা করার কথা কেউ বলেনি; বরং তারা তাকে শুধু বরখাস্ত করতে চেয়েছিল। হত্যার কথা তখনও কেউ প্রকাশ্যে আনেনি।

এ সময় উসমান রা. ঘরের জানালা দিয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের মধ্যে কি আলি ইবনে আবু তালেব, যুবায়ের, তালহা, সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস নেই? এসব মহান সাহাবি লোকদের সঙ্গে সেখানেই ছিলেন। তারা উসমান রা.-কে রেখে ফিরে যেতে চাননি। তাই ওই সব মহান সাহাবি নিজেদের অবস্থান দেখিয়ে বলেন, আমরা এখানেই আছি।

উসমান রা. তাদের বলেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তাআলার দোহাই দিয়ে বলছি, তোমরা জানো যে, রাসুল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি অমুক গোত্রের আত্মাবল ক্রয় করে দেবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এরপর আমি তা ক্রয় করে রাসুল ﷺ-এর কাছে গিয়ে বলেছি, আমি তা ক্রয় করে নিয়েছি। তখন রাসুল ﷺ বললেন, তুমি তা আমাদের মসজিদের জন্য দিয়ে দাও, এর সওয়াব তুমি পাবে। তিনি কি এ কথা বলেননি?

সাহাবিগণ বললেন, হ্যাঁ, তিনি বলেছিলেন।

উসমান রা. বললেন, আমি তোমাদেরকে ওই আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তোমরা জানো যে, রাসুল ﷺ বলেছেন, বিরে রুমা (রুমা নামক কূপ) কে ক্রয় করে দেবে? আমি তা এত দিনার দিয়ে ক্রয় করে রাসুল ﷺ-কে বললাম, আমি তা ক্রয় করে নিয়েছি। তিনি বললেন, মুসলিমদের পানি পানের জন্য তা দান করে দাও, তুমি এর সওয়াব পাবে। আমি কি তা করিনি?

সাহাবিগণ বললেন, হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি।

এরপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে ওই আল্লাহ তাআলার দোহাই দিয়ে বলছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তোমরা জানো যে, তাবুক যুদ্ধের বাহিনী প্রস্তুত করার দিনে রাসুল ﷺ লোকদের দিকে তাকিয়ে বললেন, যে ব্যক্তি তাদেরকে যুদ্ধসরঞ্জামাদি দিয়ে প্রস্তুত করে দেবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। আমি তাদেরকে যুদ্ধসরঞ্জামাদি দিয়েছি। এমনকি একটি লাগাম ও রশি পর্যন্তও বাদ রাখিনি। তোমরা কি তা দেখোনি?

সাহাবিগণ বললেন, হ্যাঁ।

তিনি বললেন, আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন! আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন! আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন! এরপর তিনি ফিরে যান।

এরপর তিনি আরেকবার অবরুদ্ধ ঘর থেকে উঁকি দিয়ে বললেন, আমি তাদেরকে আল্লাহ তাআলার দোহাই দিয়ে বলছি, যারা রাসুল ﷺ-কে হেরা পাহাড়ে যাওয়ার দিন দেখেছেন। সেদিন পাহাড় কেঁপে উঠলে রাসুল ﷺ পাহাড়ে পা রেখে বলেন, হেরা পাহাড়, শান্ত হও। তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক এবং একজন শহিদ রয়েছেন। তখন আমি তার সঙ্গে ছিলাম। বেশ কয়েকজন সাহাবি তার এ কথার পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন।

তিনি বলেন, আমি তাদেরকে আল্লাহ তাআলার শপথ দিয়ে বলছি, যারা বাইআতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করেছেন। সেদিন রাসুল ﷺ আমাকে মক্কার মুশরিকদের উদ্দেশে পাঠিয়েছিলেন। তখন তিনি নিজের এক হাতে আরেক হাত রেখে বলেছিলেন, এটি আমার হাত, অপরটি উসমানের হাত। এই বলে তিনি আমার পক্ষ থেকে বাইআত গ্রহণ করেছিলেন। বেশ কয়েকজন সাহাবি তার এ কথার পক্ষেও সাক্ষ্য দেন।

এরপর তিনি বলেন, আমি তাদেরকে আল্লাহ তাআলার শপথ দিয়ে বলছি, যারা রাসুল ﷺ-কে বলতে শুনেছে যে, যে ব্যক্তি আমাদের জন্য এই ঘরের মাধ্যমে মসজিদকে সম্প্রসারিত করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। তখন আমি নিজের সম্পদ থেকে সেই ঘর ক্রয় করে তা দিয়ে মসজিদ সম্প্রসারণ করেছি। বেশ কয়েকজন সাহাবি তার এ কথার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

তিনি আবার বলেন, আমি তাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, তাবুক যুদ্ধের বাহিনী প্রস্তুত করতে যেদিন কষ্ট হচ্ছিল সেদিন যারা রাসুল ﷺ-কে বলতে শুনেছে, কে আজ এমন দান করবে, যা কবুল হবে? সেদিন কি আমি আমার সম্পদ থেকে বাহিনীর অর্ধেক সদস্যের যুদ্ধসরঞ্জাম প্রস্তুত করে দিইনি? বেশ কয়েকজন সাহাবি তার পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন।

তিনি বললেন, আমি তাদেরকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলেছি, যারা রুমা কূপ থেকে মুসাফিরদের পানি ক্রয় করে পান করতে দেখেছে। আমি কি তা নিজের সম্পদ থেকে ক্রয় করে মুসাফিরদের জন্য উন্মুক্ত করে দিইনি?

তার এ কথার পক্ষেও অনেকে সাক্ষ্য দিলেন। এ পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবেই আলাপ চলতে থাকে। কিন্তু এরই মধ্যে বিদ্রোহীদের থেকে হত্যার মত আসতে শুরু করে। তারা উসমান রা.-কে বরখাস্ত অথবা হত্যার যেকোনো একটি বেছে নিতে বলেন। উসমান রা. এবং অন্যান্য সাহাবিগণের জন্য এটি ছিল খুবই কঠিন পরিস্থিতি।

টিকাঃ
১৫১. আল-কামিল ফিত তারিখ, ২/৫৩১; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/১৯৭; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১/১৯৩
১৫২. তারিখুত তবারি, ৪/৩৬৬; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/১৯৬
১৫৩. তারিখুল ইসলাম, ৩/১২১; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/১৯৭
১৫৪. সহিহ ইবনি হিব্বান, ৬৯২০; সহিহ ইবনি খুজাইমা, ২৪৮৭
১৫৫. সুনানুন নাসায়ি, ৩৬০৯; আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ৪২০; সুনানুদ দারাকুতনি, ৪৪৪৩

📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 সাহাবিগণের অবস্থান

📄 সাহাবিগণের অবস্থান


উসমান রা.-এর অবরোধের সময় সাহাবিগণের অবস্থান সম্পর্কে অনেক মিথ্যা ও বানোয়াট বর্ণনা রয়েছে। সেসব বর্ণনায় বলা হয়েছে, সাহাবিগণ এই কঠিন বিপদের সময় উসমান রা.-কে ছেড়ে গিয়েছিলেন। তার পক্ষে প্রতিরোধ করেননি। কারণ, তারা উসমান রা.-এর নীতিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। সাহাবিগণ সম্পর্কে এটি খুবই গুরুতর একটি অপবাদ।

ফিতনার প্রাথমিক পর্যায়ে সাহাবিগণ উসমান রা.-এর কাছে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে আলি রা., তালহা রা., যুবায়ের রা. এবং সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবি ছিলেন। কিন্তু উসমান রা. চাচ্ছিলেন না, তারা মদিনা থেকে অস্ত্রের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের সরিয়ে দিক। তিনি চেয়েছিলেন এই সংকট রক্তপাতহীন সমাধান করতে।

পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করার পর যুবায়ের ইবনুল আওয়াম রা. উসমান রা.-এর কাছে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, আমি আপনার জন্য বনু আমর ইবনে আউফকে সংগঠিত করতে পারব। এটি ছিল মদিনা থেকে কয়েক মাইল দূরত্বে অবস্থিত অনেক বড় একটি গোত্র। তখন উসমান রা. জবাব দিয়েছিলেন, যদি এমনটি সম্ভব হয় তবে তাই করুন। তখন উসমান রা. চিন্তিত মদিনাবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে। বিদ্রোহীদের তুলনায় সংখ্যায় তারা খুবই কম। যদি দুই পক্ষে যুদ্ধ বেধে যায়, তাহলে সাহাবিগণের রক্তপাত হবে। যদি বিদ্রোহীদের পরাজিত করতে সক্ষম বাহিনীর ব্যবস্থা হয় তবে তিনি শক্তির মাধ্যমে বিদ্রোহীদের দমনে সম্মত ছিলেন। তিনি তার প্রাণ উৎসর্গ করে দিতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে ওই সব বিদ্রোহীদের হাতে মদিনার সাহাবিগণের রক্তপাত হোক, তা কখনো কামনা করেননি। নিশ্চয় এমন বীরত্বের পুনরাবৃত্তি আর কখনো হবে না। একজন নেতা তার জাতির জন্য নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে দেবেন, এমন দৃশ্য খুবই বিরল; বরং আমরা দেখি যে, অনেক নেতা নিজেদের বিলাসিতার জন্য সেনাবাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। কিন্তু সমগ্র ইসলামি সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন যিনি, তিনি মদিনাবাসীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজের জীবনকেই উৎসর্গ করে দিচ্ছেন।

যায়েদ ইবনে সাবেত আনসারি রা. দাঁড়িয়ে উসমান রা.-কে বলেছিলেন, নিশ্চয় আনসাররা আপনার দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। তারা বলছে, আপনি চাইলে আমরা আনসারুল্লাহ তথা আল্লাহর সহযোগী হয়ে দাঁড়িয়ে যাব। এ কথা তিনি দুইবার বললেন। তখন উসমান রা. বললেন, আমার এর কোনো প্রয়োজন নেই। তোমরা নিজেদের হাত গুটিয়ে নাও।

হজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. উসমান রা.-এর কাছে এসে বলেছিলেন, আপনার দরজায় দাঁড়িয়ে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া আমার জন্য হজ থেকেও উত্তম। উসমান রা. তাকে বলেছিলেন, আমার এর কোনো প্রয়োজন নেই। এই বলে তিনি তাকে হজ কাফেলার আমির নিযুক্ত করে হজে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. তার সেই নির্দেশ পালন করেন।

একদল সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে উসমান রা-এর বাড়িতে যান আবু হুরাইরা রা.। তখন আবু হুরাইরা রা. বলেছিলেন, আমি আমার দুই কানে রাসুল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, আমার মৃত্যুর পর ফিতনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তাহলে কীভাবে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে? তিনি বললেন, শাসক এবং তার অনুগত দলের মাধ্যমে। এ বলে তিনি উসমান রা.-এর দিকে ইঙ্গিত করেন। উপস্থিত সাহাবিগণ উসমান রা.-কে বললেন, আপনি আমাদের অনুমতি দিন। আমরা তাদের সঙ্গে লড়াই করব। আমরা তো স্বচক্ষে সবই দেখতে পাচ্ছি। উসমান রা. অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, যাদের ওপর আমার আনুগত্য করা আবশ্যক, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার জোর নির্দেশ হচ্ছে, তারা যেন লড়াই না করে।

আবু হুরাইরা রা. বললেন, আমিরুল মুমিনিন, এখন আপনার সঙ্গে থেকে লড়াই করাই উত্তম। এই মুহূর্তে এটিই জিহাদ। উসমান রা. তাকে বললেন, আমি আপনাকে চলে যাওয়ার জন্য জোর নির্দেশ দিচ্ছি। আবু হুরাইরা রা. সেখান থেকে চলে এলেন।

বুঝাই যাচ্ছে পরিস্থিতি কতটা নাজুক ছিল তখন। উসমান রা. নিশ্চিতভাবেই জানতেন যে, এই অল্পসংখ্যক সাহাবি বিদ্রোহীদের সামনে টিকতে পারবেন না। তাই তিনি শাম, বসরা এবং কুফা থেকে আগত সৈন্যদলের সাহায্যের অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু দূরত্ব বেশি থাকায় তাদের পৌঁছতে বিলম্ব হয়। এদিকে যুবায়ের রা.-এর গোত্র বনু আমর ইবনুল আউফের সংঘবদ্ধ হওয়ার অপেক্ষাও করছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা সংঘবদ্ধ হতে পারেনি।

উসমান রা. দেখতেই পাচ্ছিলেন, মদিনায় বিদ্যমান সাহাবিগণ কিছুতেই বিদ্রোহীদের দমনে যথেষ্ট নন। তাই লড়াইয়ের কথা বলার কোনো অর্থই হয় না। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, উসমান ইবনে আফফান রা. পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করতেন যে, তিনি শহিদ হয়েই আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিশ্বাস করতেন, নিশ্চয় তিনি কোনো বিপদ অথবা ফিতনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করবেন। ফলে তিনি অচিরেই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। তিনি রাসুল ﷺ থেকে নিজ কানে এ ব্যাপারে বলতে শুনেছিলেন। রাসুল ﷺ-এর ব্যাপারে কুরআনের সাক্ষ্য হচ্ছে, 'তিনি মনগড়া কিছু বলেন না।' [সুরা নাজম: ৩]

সহিহ বুখারিতে কাতাদা রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, আনাস ইবনে মালেক রা. তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, একবার রাসুল ﷺ, আবু বকর রা., উমর রা. এবং উসমান রা. উহুদ পাহাড়ে উঠলেন। তখন পাহাড় তাদেরকে নিয়ে কেঁপে উঠলে রাসুল ﷺ বলেন, উহুদ, তুমি স্থির হও। নিশ্চয় তোমার ওপর রয়েছে একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও দুজন শহিদ।

সহিহ বুখারিতে আবু মুসা আশআরি রা.-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মদিনার কোনো এক বাগানে আমি একবার রাসুল ﷺ-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন একজন লোক এসে ভেতরে আসার অনুমতি প্রার্থনা করেন। রাসুল ﷺ বলেন, দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি দরজা খুলে দেখলাম আবু বকর রা. দাঁড়িয়ে আছেন। রাসুল ﷺ-এর কাছ থেকে শোনা সুসংবাদ আমি তাকে শুনিয়ে দিলাম। তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলেন। এরপর আরেক ব্যক্তি এসে অনুমতি চাইলেন। রাসুল ﷺ এবারও বললেন, দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি দরজা খুলে দেখলাম উমর রা. দাঁড়িয়ে আছেন। তাকে আমি রাসুল ﷺ-এর কাছ থেকে শোনা সুসংবাদ শুনিয়ে দিলাম। তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলেন। এরপর আরেক ব্যক্তি এসে অনুমতি চাইলেন। রাসুল ﷺ এবার বললেন, দরজা খুলে দাও এবং তাকে আসন্ন বিপদ-সহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও। এবার দেখলাম উসমান রা. দাঁড়িয়ে আছেন। রাসুল ﷺ যা বলেছেন আমি তাকে শুনালাম। তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে বললেন, আল্লাহ তাআলাই একমাত্র সহায়।

উসমান রা. মনে করতেন যে, যেহেতু তার জীবন উৎসর্গই এই ফিতনার সমাধান; তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি সমাধানের জন্য এটিকেই অধিক উপযুক্ত মনে করেছেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, এই ফিতনার কারণেই তার জীবননাশ হবে। তাই মদিনার ৭০০ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে তার জীবন বিসর্জন দিতে কোনো সমস্যা নেই। উসমান রা.-এর মৃত্যুর পর তারাই হবেন উম্মাহর কাণ্ডারি। এরপর সেই পাপিষ্ঠ বিদ্রোহীরা আর ক্ষমতায় বসতে সক্ষম হবে না। বিদ্রোহীরা তখন পর্যন্ত উসমান রা.-এর স্থলে আলি রা., তালহা রা. ও যুবায়ের রা.-এর মধ্যে যেকোনো একজনকে চাচ্ছিল। তারা সকলেই ছিলেন উত্তম এবং যোগ্য। জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০জন সাহাবির অন্তর্ভুক্ত। তাই তারা লড়াই করে নিহত হওয়া এবং গুটিকয়েক বিদ্রোহীর হাতে শাসনক্ষমতা চলে যাওয়ার চেয়ে তাদের জীবিত থাকাই হবে সবচেয়ে উত্তম।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উসমান রা. ছিলেন সকল মুসলিমের খলিফা। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তার আনুগত্য করা আবশ্যক। তাই তিনি যদি তাদের বলেন, যাদের ওপর আমার অনুসরণ আবশ্যক, তাদের আমি আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে নির্দেশ দিচ্ছি, তারা যেন লড়াই না করে। এ কথার পর যদি কেউ লড়াইয়ে লিপ্ত হয় তাহলে তা হবে উসমান রা.-এর নির্দেশের অবাধ্যতা। উসমান রা. তাদেরকে খুবই জটিল এক বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। কেউ যদি তার পক্ষে লড়াই করে তবে তা হবে অবাধ্যতা। আর অবাধ্যতা করা মানে বিদ্রোহ করা। উসমান রা. এই মত পোষণ করতেন। সাহাবিগণ ইসলাম ধর্মে উসমান রা.-এর মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন। নিশ্চিতভাবেই তারা জানতেন উসমান রা.-এর রয়েছে প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা।

আলি ইবনে আবু তালেব রা. এবং সাইদ খুজায়ি নামক এক তাবেয়ির মধ্যকার কথোপকথন আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে। সাইদ রহ. আলি রা.-কে বললেন, উসমান রা. এবং আপনার মধ্যকার একটি বিষয় নিয়ে আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই। আলি রা. বললেন, তোমার যা ইচ্ছা হয় জিজ্ঞাসা করো। সাইদ রহ. বললেন, যখন উসমান রা.-কে হত্যা করা হচ্ছিল তখন কোন ঘর আপনাকে আটকে রেখেছিল যে, তাকে সাহায্য করতে পারলেন না? আলি রা. জবাব দিলেন, উসমান রা. ছিলেন আমাদের নেতা। তিনিই আমাদের লড়াই করতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি তরবারি উন্মুক্ত করবে সে আমার অনুসারী নয়। যদি এরপরও আমরা লড়াই করতাম তবে তার অবাধ্যতা হতো। সাইদ রহ. বললেন, তিনি যখন আত্মসমর্পণ করেছিলেন তখন কীসের ওপর ভরসা করেছিলেন? আলি রা. জবাব দিলেন, আদম আ.-এর ছেলে যার ওপর ভরসা করে তার ভাইকে বলেছিলেন, 'তুমি যদি হত্যা করার জন্য আমার দিকে হাত বাড়াও, তাহলে তোমাকে হত্যা করার জন্য আমি হাত বাড়াব না। নিশ্চয় আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলাকে ভয় করি।' [সুরা মায়েদা : ২৮]

কেউ কেউ প্রশ্ন করে থাকে যে, তাহলে উসমান রা. আলি রা., তালহা রা. অথবা যুবায়ের রা.-এর মধ্যে কারও হাতে ক্ষমতা দিয়ে সরে গেলেন না কেন? জবাবে বলব, তিনি যদি এমনটি করতেন তবে তা হতো শরিয়ত ও রাসুল ﷺ-এর হাদিসের স্পষ্ট বিরোধিতা। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন, হে উসমান, যদি আল্লাহ তাআলা কখনো তোমার হাতে এই ক্ষমতা সঁপে দেন, অতঃপর মুনাফেকরা তোমার শরীর থেকে আল্লাহপ্রদত্ত এই সম্মানের পোশাক খুলে ফেলতে চায়, তবে তুমি খুলবে না। এ কথা তিনি তিনবার বলেন। এই হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, রাসুল ﷺ তাকে ক্ষমতা ধরে রাখার এবং ওই সকল মুনাফেকদের কথা না মানার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই ক্ষমতা থেকে নেমে যাওয়া হতো রাসুল ﷺ-এর হাদিসের বিরোধিতা।

কোনো কোনো সাহাবি এই বিশাল ফিতনার বিষয়টি নিয়ে খুবই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। তখন মুররা ইবনে কাব রা. তাদের মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন রাসুল ﷺ-এর হাদিস। রাসুল ﷺ ফিতনা প্রসঙ্গে কথা বলেন যে, তা অতি নিকটবর্তী। তখন কাপড় দিয়ে আবৃত এক ব্যক্তি পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। রাসুল ﷺ তাকে দেখে বলেন, এই ব্যক্তি সেদিন সঠিক পথে থাকবে। আমি তার কাছে গিয়ে দেখলাম তিনি হলেন উসমান ইবনে আফফান রা.। মুররা ইবনে কাব রা. বলেন, আমি তাকে নিয়ে রাসুল ﷺ-এর কাছে এসে বললাম, ইনিই? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা. ও রাসুল ﷺ-এর অন্য সকল স্ত্রীগণ তখন হজের সফরে ছিলেন। মদিনায় ফেরার পথে সংবাদ এল। আয়েশা রা. এবং তার সঙ্গে থাকা লোকেরা যাত্রাপথে রাতের বেলায় হাওয়াব নামক এক জলাশয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন কিছু কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। আয়েশা রা. সেই ডাক শুনে জিজ্ঞাসা করেন, এই জায়গার নাম কী? উত্তর এলো, হাওয়াব। তখন তিনি বলেন, আমি রাসুল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি তার স্ত্রীগণকে বলছিলেন, তোমাদের মধ্য থেকে কাকে দেখে হাওয়াবের কুকুররা ঘেউ ঘেউ করবে, আমি যদি তা জানতাম! অতঃপর তিনি ফিরে যাওয়ার সংকল্প করেন। কিন্তু সাহাবিগণ তাকে মুসলিমদের মধ্যে মীমাংসা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব বোঝান।

ফিতনার ঘটনার সময় যখন উসমান রা.-কে গৃহবন্দি করা হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, আপনাদের মধ্যে যারা নবীজি ﷺ-এর সাহাবি আছেন তাদের আমি আল্লাহ তাআলার শপথ করে বলছি, আপনারা কি জানেন, রাসুল ﷺ বলেছিলেন, যে ব্যক্তি তাবুক যুদ্ধের বাহিনী প্রস্তুত করবে তার জন্য রয়েছে জান্নাত। এরপর আমি সেই বাহিনী প্রস্তুত করে দিয়েছি? তারা বললেন, হ্যাঁ। আবু হুরাইরা রা. বলতেন, উসমান রা. দুইবার রাসুল ﷺ-এর কাছ থেকে জান্নাত কিনে নিয়েছেন; একবার রুমা কূপ খনন করে, আরেকবার তাবুক যুদ্ধের বাহিনী প্রস্তুত করে।

২৫ হিজরির ১৫ থেকে ১৮ জিলকদ। এই সময়টাতে বিদ্রোহীরা নতুন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। বন্ধ করে দেয় উসমান রা.-এর খাবার ও পানীয়। এ কথা জানতে পেরে উসমান রা. ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, তোমরা কি জানো, রাসুল ﷺ যখন মদিনায় এলেন, তখন মুসল্লিদের জন্য মসজিদের জায়গা সংকীর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন, কে তার নিজস্ব সম্পদ থেকে এই জায়গাটি ক্রয় করে সকল মুসলিমের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে? সে জান্নাতে এর চেয়ে উত্তম জায়গা লাভ করবে। তখন আমি নিজের সম্পদ থেকে সেই জমি ক্রয় করে মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছি। অথচ তোমরা সেই মসজিদেই আমাকে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে দিচ্ছ না? আমি তোমাদের আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, তোমরা কি জানো, রাসুল ﷺ যখন মদিনায় এলেন, তখন এখানে বিরে রুমা ব্যতীত অন্য কোনো মিষ্টি পানির কূপ ছিল না। রাসুল ﷺ বলেছিলেন, কে তার নিজস্ব সম্পদ থেকে এই কূপ ক্রয় করে মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে? তাতে তার ততটুকু অধিকারই থাকবে, যতটুকু অন্যান্য মুসলিমের থাকবে এবং সে জান্নাতে এর চেয়ে উত্তম বিনিময় লাভ করবে। তখন আমি আমার ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে সেই কূপ ক্রয় করে মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আর তোমরা সেই কূপ থেকে আমাকে পানি পান করতে দিচ্ছ না?

তখন আলি রা. নিজের মশকে করে পানি নিয়ে খচ্চরের পিঠে উঠে বসেন এবং বিদ্রোহীদের কাতারের মাঝ দিয়ে ঢুকে এগোতে থাকেন। তিনি তাদের বলেন, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় পারসিক এবং রোমকরাও তাদের কোনো বন্দির সঙ্গে এমনটি করে না, যেমনটি তোমরা করছ। আল্লাহর শপথ! পারসিক এবং রোমকরাও তাদের বন্দিদের খাবার এবং পানীয় প্রদান করে। উম্মুল মুমিনিন উম্মে হাবিবা রা. তার কাপড়ে পানি নিয়ে লুকিয়ে রাখেন। এরপর খচ্চরের পিঠে চড়ে বের হন উসমান রা.-কে পানি পান করানোর জন্য। তখন বিদ্রোহীরা তাকে ঘিরে ধরে এবং খচ্চরের লাগাম কেটে দেয়, ফলে উম্মে হাবিবা রা. খচ্চরের পিঠ থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হন।

ঐশী নিয়মকানুন ও ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে রাসুল ﷺ আগে থেকেই উসমান রা.-কে জানিয়েছিলেন। রাসুল ﷺ অদৃশ্যের যে সংবাদ দিয়েছেন তার ওপর নিশ্চিতভাবে ঈমান আনতে হবে। নিশ্চয় এটি ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহি।

টিকাঃ
১৫৬. তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৩৯/৩৯৬; তারিখু খলিফা ইবনি খয়্যাত, ১/১৭৩
১৫৭. শারহু উসুলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ, ৭/১৪৩
১৫৮. সহিহ বুখারি, ৩৬৮৯; সহিহ ইবনি হিব্বান, ৬৮৬৫
১৫৯. সহিহ বুখারি, ৩৬৯৩; সহিহ মুসলিম, ২৪০৩
১৬০. আল-ইকদুল ফারিদ, ৫/৫৩
১৬১. সুনানু ইবনি মাজাহ, ১১২; আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ২৪৫৬৬; সুনানুত তিরমিজি, ৩৭০৫; আল-মুসতাদরাক লিল হাকিম, ৪৫৪৪
১৬২. সুনানুত তিরমিজি, ৩৭০৪
১৬৩. তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৩৯/৩৫৮; তারিখু খলিফা ইবনি খইয়াত, ১/১৭০
১৬৪. কিসাস: হত্যার বিনিময়ে হত্যা।-সম্পাদক
১৬৫. সুনানুন নাসায়ি, ৪০১৯; সুনানুত তিরমিজি, ২১৫৮; সুনানু আবি দাউদ, ৪৫০২; সুনানু ইবনি মাজাহ, ২৫৩৩
১৬৬. হাসান হাদিস: সহিহ হাদিসের মতোই নির্ভরযোগ্য হাদিসের একটি প্রকার এবং নবীজি থেকে প্রমাণিত। এ প্রকারের হাদিস দ্বারাও শরিয়তের সব ধরনের বিধিবিধান সাব্যস্ত হয়।-সম্পাদক
১৬৭. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২০২
১৬৮. সুনানুত তিরমিজি, ৩৭০৩; সুনানুন নাসায়ি, ৩৬০৮
১৬৯. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২০৯
১৭০. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২০৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px