📄 উসমান রা.-এর বাগ্মিতা
তিনি ছিলেন একজন বাগ্মী। আল্লাহ তাআলা তাকে অনেক বাগ্মিতা এবং খোদাভীরুতা দান করেছিলেন। নিজের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন,
আল্লাহ তাআলা তোমাদের দুনিয়া দিয়েছেন এর মাধ্যমে আখেরাত অনুসন্ধান করার জন্য। দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হওয়ার জন্য নয়। নিশ্চয় দুনিয়া একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে আখেরাত কখনো ধ্বংস হবে না। তাই অস্থায়ী জগৎ যেন তোমাদের অবাধ্য না করে এবং চিরস্থায়ী জগৎ থেকে বিমুখ না করে দেয়। তোমরা অস্থায়ী জগতের ওপর স্থায়ী জগতকে প্রাধান্য দাও। দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলার দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তাই আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো। আল্লাহর ভয়ই হচ্ছে তাঁর ক্রোধ থেকে বাঁচার ঢাল এবং তাঁর নৈকট্যলাভের মাধ্যম। আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করা থেকে ভয় করো। নিজেদের জামাত তথা দলকে আঁকড়ে ধরো। দলে দলে বিভক্ত হয়ে যেয়ো না।
স্মরণ করো আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের কথা। যখন তোমরা ছিলে শত্রু, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তোমাদের হৃদয়গুলোকে জুড়ে দিয়েছেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। [সুরা আলে ইমরান: ১০৩]
অনেক সাহাবি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, উসমান রা. ছিলেন একজন প্রাঞ্জল আলোচক ও বক্তা। আবদুর রহমান ইবনে হাতিব রা. বলেন, কথা বলার ক্ষেত্রে উসমান রা. ছিলেন সবচেয়ে পরিপূর্ণ ব্যক্তি। তবে তিনি কথা বলতে খুবই ভয় করতেন। কারণ, তিনি ছিলেন অত্যন্ত লাজুক।
ওয়াকিদি রহ.-এর এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, উসমান রা. খলিফা হওয়ার পর প্রথমে সবার উদ্দেশে দাঁড়িয়ে বলেন, হে লোকসকল, যেকোনো কাজের প্রথম পর্যায় কঠিন হয়ে থাকে (আজকের এ দিনটি আমার খেলাফত আমলের প্রথম পর্যায়)। কিন্তু এ দিনের পর আরও বহুদিন আসবে (তখন আর খেলাফতের দায়িত্ব পালন কঠিন মনে হবে না)। আমি যদি (দীর্ঘদিন) বেঁচে থাকি তাহলে (দেখে যেতে পারব যে) তোমাদের (মন্দ চরিত্রের) বক্তারা যথাযথ বক্তব্য দেবে। কিন্তু আমি বক্তা নই, কিন্তু অবশ্যই আল্লাহ তাআলা আমাকে শেখাবেন।
আল্লামা ইবনে কাসির রহ. ওয়াকিদি থেকে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অপর এক স্থানে বলেছেন, এ বর্ণনার বক্তব্যটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল নয়।
📄 উসমান রা.-এর দয়াশীলতা
উসমান রা. ছিলেন অত্যন্ত দানশীল। পরিচিত এবং অপরিচিত সকলের জন্যই তার দানের হাত ছিল উন্মুক্ত। খলিফা হওয়ার পূর্বে এবং পরে মদিনার সকল লোকের কাছেই তার দান পৌঁছেছে। বর্ণিত আছে, আবু তালহা রা. উসমান রা.-এর কাছে ৫০ হাজার দিরহাম ঋণী ছিলেন। আবু তালহা রা. উসমান রা.-এর কাছে সংবাদ পাঠিয়ে জানালেন, আপনার পাওনা সংগ্রহ হয়ে গেছে। তাই কাউকে পাঠিয়ে দিন নিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন উসমান রা. বলেন, আপনার ব্যক্তিত্বের প্রতি লক্ষ করে আমি তা আপনাকে উপহার দিলাম। (৭২)
অথচ পাশ্চাত্যবাদী লেখিকা জাহিয়া কাদুরা এই মহান সাহাবি সম্পর্কে কী ধৃষ্টতাপূর্ণ কথাই-না লিখেছে! সে লিখেছে, তিনি শুধু নিজের পরিবারের প্রতিই দয়া করতেন। অপর মুসলিমদের কিছু দান করতেন না, তাদের কোনো খোঁজ নিতেন না। এমনই ঘৃণ্য বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে এই লেখিকার থেকে।
উসমান রা. এত মর্যাদাশীল হওয়া সত্ত্বেও ওই সকল নিন্দুকেরা তার ব্যাপারে এমন মিথ্যা অপবাদ আরোপ করতে এতটুকুও কুণ্ঠাবোধ করেনি। শিয়াদের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ আল-বুরহান-এ রয়েছে,
আপনি কি তাদের দেখেন না, যারা নিজেদের পরিশুদ্ধ দাবি করে, অথচ আল্লাহ তাআলা যাকে চান তাকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের এক বিন্দুও অত্যাচার করা হয় না। [সুরা নিসা: ৪৯]
টিকাঃ
৭২. তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ২৫/১০৩
📄 উসমান রা.-এর প্রজ্ঞা
উসমান রা. ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি। তিনি ছিলেন রাসুল ﷺ-এর পরামর্শ সভার অন্যতম সদস্য। আবু বকর রা. এবং উমর রা.-এর পরামর্শ সভায়ও তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আবু বকর রা. এবং উমর রা. উভয়েই চাইতেন উসমান রা. যেন কোনো যুদ্ধ অভিযানের জন্য মদিনা থেকে বেরিয়ে না যান। যেন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার পরামর্শ দ্বারা উপকৃত হতে পারেন। এমনইভাবে আলি রা.-ও উসমান রা.-এর পরামর্শকে খুবই গুরুত্ব দিতেন।
২৩ হিজরির শেষভাগে ইসলামি ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ২৩ হিজরির ২৭ জিলহজ তারিখে সংঘটিত হয়েছিল এই নৃশংস ঘটনা। সেদিন হত্যা করা হয় উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে। অগ্নিপূজারি আবু লুলু সেদিন তাকে খঞ্জর দিয়ে আঘাত করেছিল। এরপর ২৩ হিজরির সর্বশেষ রাতে উমর রা. ইন্তেকাল করেন। তবে এর আগে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর তিনি ছয়জন সাহাবির মধ্য থেকে মুসলিম বিশ্বের পরবর্তী খলিফা নির্বাচিত করতে বলে যান। তারা হলেন, উসমান ইবনে আফফান রা., আলি ইবনে আবু তালেব রা., যুবায়ের ইবনুল আওয়াম রা., তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা., সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. ও আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা।
তারা সকলেই ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০জন সাহাবির অন্তর্ভুক্ত। ১০জনের মধ্যে আবু বকর রা. এবং আবু উবাইদা রা. ইতিপূর্বে ইন্তেকাল করেছিলেন। উমর রা. তো মৃত্যুশয্যায়ই ছিলেন। সাইদ ইবনে যায়দ রা.-কে উমর রা. এই তালিকায় রাখেননি। কারণ, তিনি ছিলেন উমর রা.-এর চাচাতো ভাই। তাই সতর্কতাবশত উমর রা. তাকে বাদ দিয়েছিলেন। যেন কেউ বলতে না পারে যে, আত্মীয় হওয়ার কারণে উমর রা. তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। যদিও ইসলামের জন্য সাঈদ ইবনে যায়েদ রা.-এরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
সেই ছয়জনের সঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কেও রেখেছিলেন। তবে তাকে কোনো বিষয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। উমর রা. এই ছয়জনের প্রহরার জন্য আবু তালহা আনসারি রা.-এর নেতৃত্বে ৫০জন সাহাবিকে নিযুক্ত করেছিলেন। তারা মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. অথবা উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা.-এর ঘরে, কিংবা বায়তুল মালে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছার জন্য বসেন। সবশেষে ছয়জনের মধ্যে উসমান ইবনে আফফান রা., আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. এবং আলি ইবনে আবু তালেব রা. এই তিনজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. নিজ থেকেই এই দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুজনের মধ্যে যাকে তিনি এ দায়িত্বের জন্য অধিক উপযুক্ত মনে করবেন, তাকেই নির্বাচিত করবেন। সবাই তার সঙ্গে ঐকমত্য প্রকাশ করে। এরপর (উসমান রা. ও আলি রা. থেকে) এই মর্মে শপথ নেওয়া হয় যে, উসমান রা. অথবা আলি রা., যাকেই খলিফা নির্বাচিত করা হোক না কেন, সে মানুষের মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে। একজনকে খলিফা নিযুক্ত করা হলে অপরজন তার পূর্ণ আনুগত্য করবে।
এরপর আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. টানা তিন দিন ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। একজন, দুজন করে এবং সম্মিলিতভাবে লোকদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন। ছোট-বড় সবার কাছে, এমনকি বালকদের কাছেও জিজ্ঞাসা করেন। স্বাধীন-দাস সবাইকেই এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। মদিনায় আগত অতিথি, মদিনার পাশ দিয়ে গমনকারী অনারব কাফেলা এবং মহিলাদের কাছেও তিনি এ নিয়ে প্রশ্ন করেন। অবশেষে এই কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি বলেন যে, মিকদাদ ইবনে আম্মার রা. এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. ব্যতীত মদিনার সকলেই আলি রা.-এর ওপর উসমান রা.-কে প্রাধান্য দিয়েছেন। কোনো কোনো বর্ণনায় এমনটি এসেছে যে, এজন্যই শিয়া পণ্ডিতরা এ দুজন সাহাবিকে কাফের সাব্যস্ত করে না।
এই তিন দিন আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. ঘুমাননি। লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা, খোঁজখবর নেওয়া, নামাজ আদায়, ইস্তেখারা এবং দোয়ার মধ্যেই সময় কাটিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর চতুর্থ রাতে এসে তিনি তার ভাগ্নে মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা.-এর দরজায় কড়া নেড়ে বলেন, মিসওয়ার তুমি কি ঘুমিয়ে গিয়েছ? আল্লাহর শপথ! গত তিন দিন ধরে আমি খুব একটা ঘুমাতে পারিনি। যাও আলি এবং উসমানকে ডেকে নিয়ে এসো।
মিসওয়ার রা. জিজ্ঞাসা করলেন, প্রথমে কাকে ডাকব? তিনি বললেন, তোমার যাকে ইচ্ছা হয়।
মিসওয়ার রা. বলেন, এরপর আমি আলি রা.-এর কাছে গিয়ে বললাম, আমার মামার সালাম গ্রহণ করুন। আলি রা. বললেন, আমার সঙ্গে অন্য কাউকে ডাকতে বলেছেন? মিসওয়ার রা. বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, কাকে?
মিসওয়ার রা. বললেন, উসমান ইবনে আফফান রা.-কে। আলি রা. বললেন, আমাদের মধ্যে কার কথা আগে বলেছেন?
মিসওয়ার রা. বললেন, আমাকে এমন কিছু বলেননি। বলেছেন তোমার যাকে ইচ্ছা হয় তার কাছেই আগে যাও। আমি প্রথমে আপনার কাছে এলাম। এরপর আলি রা. মিসওয়ার রা.-এর সঙ্গে চলতে লাগলেন।
মিসওয়ার রা. বলেন, আমরা যখন উসমান ইবনে আফফান রা.-এর বাড়িতে পৌঁছলাম, তখন আলি রা. বসলেন। আমি উসমান রা.-এর ঘরে প্রবেশ করতেই দেখি তিনি ফজরের পূর্বে বিতরের নামাজ আদায় করছেন। তখন তিনি আমাকে আলি রা.-এর মতোই প্রশ্ন করলেন এবং তিনিও আমাদের সঙ্গে চললেন।
এরপর তারা উভয়েই আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.-এর কাছে গেলে তিনি তাদের বললেন, আমি আপনাদের দুজন সম্পর্কে লোকদের জিজ্ঞাসা করেছি। আমি দেখেছি, তারা অন্য কাউকেই আপনাদের সমকক্ষ মনে করে না। এরপর তিনি উভয়ের কাছ থেকে পুনরায় শপথ নিলেন যে, তাদের মধ্য থেকে যাকে নির্বাচিত করা হবে অপরজন তাকে নির্দ্বিধায় মেনে নেবে।
এরপর আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. নবীজি-এর কাছ থেকে উপহার পাওয়া পাগড়িটি পরিধান করে মসজিদের উদ্দেশে বের হন। সঙ্গে ঝুলিয়ে নেন নিজের তরবারি। নামাজের আহ্বান করা হলে সকল মানুষ এসে সমবেত হয় মসজিদ প্রান্তরে। সেদিন সেখানে এতই লোকসমাগম হয়েছিল যে, উসমান রা. বসার জায়গা পাচ্ছিলেন না। অথচ তিনি ছিলেন খেলাফতের জন্য মনোনয়ন প্রাপ্তদের একজন। অগত্যা তিনি মসজিদের একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি ছিলেন খুবই লাজুক।
অতঃপর আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. রাসুল -এর মিম্বরে আরোহণ করেন। মিম্বরে আরোহণ করে তিনি দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন এবং নীরবে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতে থাকেন। এরপর তিনি বলেন, হে লোকসকল, আমি আপনাদের প্রকাশ্যে এবং গোপনে, পছন্দের ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। আমি দেখেছি আপনারা অন্য কাউকেই এ দুজনের সমকক্ষ মনে করে না। কেউ বলেছেন আলি রা.-এর কথা, কেউ বলেছেন উসমান রা.-এর কথা। তাই হে আলি, আপনি দাঁড়ান। এরপর আলি রা. দাঁড়ালেন এবং মিম্বরের নিচে গিয়ে বসলেন। আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. তার হাত ধরে বললেন, আপনি কি আল্লাহ তাআলার কিতাব (কুরআন), তাঁর প্রেরিত রাসুলের সুন্নাহ এবং আবু বকর রা. ও উমর রা.-এর কর্মের অনুসরণের শর্তে আমার কাছে বাইআত গ্রহণ করতে রাজি আছেন?
আলি রা. বললেন, না। (বরং কুরআন, সুন্নাহ ও) আমার ইজতেহাদ অনুসারে চলব।
আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. আলি রা.-এর হাত ছেড়ে দিয়ে এবার উসমান রা.-কে দাঁড়াতে বললেন। এরপর তার হাতে ধরে বললেন, আপনি কি আল্লাহ তাআলার কিতাব (কুরআন), তাঁর প্রেরিত রাসুলের সুন্নাহ এবং আবু বকর রা. ও উমর রা.-এর কর্ম অনুসরণের শর্তে আমার কাছে বাইআত গ্রহণ করতে রাজি আছেন?
তিনি বললেন, হ্যাঁ।
মিসওয়ার রা. বলেন, এরপর আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. তার মাথা তুলে মসজিদের ছাদের দিকে তাকালেন। তার হাত তখন উসমান রা.-এর হাতে। তিনি বললেন, হে আল্লাহ, আপনি শুনুন এবং সাক্ষী থাকুন। আপনি শুনুন এবং এবং সাক্ষী থাকুন। নিশ্চয় আমি আমার কাঁধের বোঝা উসমান রা.-এর কাঁধে অর্পণ করলাম।
মিসওয়ার রা. বলেন, অতঃপর সকল মানুষ উসমান রা.-এর হাতে বাইআত গ্রহণের জন্য ভিড় করলেন। এক বর্ণনা অনুযায়ী সবার আগে আলি রা. বাইআত গ্রহণ করেছিলেন। আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. মিম্বরের তৃতীয় সিঁড়িতে বসলেন। উসমান রা. বসলেন দ্বিতীয় সিঁড়িতে। তিনি দাঁড়িয়ে লোকেদের উদ্দেশে তার প্রথম খুতবা প্রদান করেন। (৭৪) অবশ্যই এ খুতবা তেমন ছিল না, যেমনটি ওয়াকিদি বর্ণনা করেছেন।(৭৫)
আল্লামা ইবনে কাসির রহ. এ ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত করে বলেন, শিয়া রাফেজি আলেমদের বর্ণনা অনুযায়ী এ ঘটনার পর আলি রা. আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.-কে বলেছিলেন, আপনি আমাকে ধোঁকা দিয়েছেন। তিনি আপনার মেয়ের জামাই বলেই আপনি তাকে নির্বাচিত করেছেন। যেন সে প্রতিদিন আপনার সঙ্গেই যাবতীয় বিষয়ে পরামর্শ করে। এসব কথা স্পষ্ট ভ্রান্ত এবং ভিত্তিহীন। (৭৬)
২৪ হিজরির ৩ মহররম উসমান রা.-এর হাতে বাইআত গ্রহণ করা হয়েছিল। এ দিন থেকে শুরু হয় ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান রা.-এর শাসনামল। যা স্থায়ী হয় ৩৫ হিজরি পর্যন্ত। তবে এ সময়ের মাঝে ঘটে যায় বহু ঘটনা।
টিকাঃ
৭৩. হক্কুল ইয়াকিন, ২৭১
৭৪. সহিহ বুখারি, ৩৭০০; তারিখুত তবারি, ৪/২৩৬-২৩৮; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১/১৬৩-১৬৫
৭৫. ওয়াকিদির বর্ণনা কয়েক পৃষ্ঠা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেখানে ইবনে কাসির রহ. থেকে তার বর্ণনা খণ্ডনও উল্লেখ করা হয়েছে।-সম্পাদক
৭৬. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/১৬৫
📄 উসমান রা.-এর খেলাফতকালের অবদান ও ঘটনা
উমর রা.-এর মৃত্যুর পর খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে উসমান রা. পারস্য বিজয় অভিযান সম্পন্ন করার জন্য সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন।
কাম্পিয়ান সাগরের পূর্বে অবস্থিত রায় অঞ্চলে প্রেরণ করেন একটি বাহিনী। এ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবি আবু মুসা আশআরি রা.। এ অভিযানে তিনি বিজয় লাভ করেন। এরপর রোমকদের বেশ কয়েকটি কেল্লা এবং দুর্গে আক্রমণ করেন।
এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার একটি হচ্ছে উসমান রা. ২৪ হিজরিতে সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-কে কুফার গভর্নর হিসাবে নিয়োগ দেন। পূর্ব থেকেই এ শহর ছিল বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। সবসময় তারা শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এসেছে। ২৫ হিজরিতে তারা নতুন করে সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-এর বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ ঘোষণা করে। উসমান রা. সাদ রা.-কে সরিয়ে ওয়ালিদ ইবনে উকবা ইবনে আবু মুইত রা.-কে তার স্থলাভিষিক্ত করেন।
২৬ হিজরিতে ওয়ালিদ ইবনে উকবা রা.-এর হাতেই বিজিত হয় কাস্পিয়ান সাগরের পশ্চিমে অবস্থিত আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া অঞ্চল।
এ সময় (২৬ হিজরিতে) উসমান রা. মসজিদে নববির সম্প্রসারণের কাজে হাত দেন।
এ বছরই (২৬ হিজরিতে) বিজিত হয় পারস্যের পূর্বাঞ্চলীয় সাবুর রাজ্য। যা ছিল ঘনবসতিপূর্ণ সমৃদ্ধশীল একটি ধনী রাজ্য। এ অঞ্চলের খারাজ (ট্যাক্স) ছিল ৩৩ লক্ষ দিরহাম। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ব্যাপকভাবে কল্যাণের বাতাস বইতে শুরু করে এ সময়।
২৭ হিজরিতে বিজিত হয় পারস্যের আরজান (৭৭) অঞ্চল। মিশরের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয় আমর ইবনুল আস রা.-কে। তিনি উমর রা.-এর পক্ষ থেকে সেখানকার গভর্নর নিযুক্ত হয়েছিলেন। তাকে বরখাস্ত করার কারণ ছিল, তিনি মিশরের আহলে কিতাবদের জিযয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাতেই সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। এ বছর বিজয় অভিযান সম্প্রসারিত হয় বুরকা শহর পর্যন্ত। যা বর্তমানে লিবিয়ার অন্তর্গত। মিশরের নতুন গভর্নর নিয়োগ করা হয় আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবু সারহ রা.-কে। তিনি পুনরায় আমর ইবনুল আস রা.-এর শাসনকালের শুরুরদিকের মতো জিযয়া চালু করেন। এদিকে তিনি মিশর থেকে পশ্চিম অভিমুখে বিজয় অভিযান শুরু করেন এবং বর্তমান তিউনিসিয়া অভিমুখে বাহিনী প্রেরণ করেন। এ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন উকবা ইবনে নাফে রা.।
২৮ হিজরিতে বিজিত হয় সাইপ্রাস অঞ্চল। তৎকালীন ইসলামি সাম্রাজ্যের জন্য এ ছিল বিরাট অগ্রগতি। কারণ, ইতিপূর্বে মুসলিমদের কোনো নৌবহর ছিল না। উমর ইবনুল খাত্তাব রা. নৌযুদ্ধে সম্মত ছিলেন না। তিনি মুসলিমদের জন্য নৌযুদ্ধকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করতেন। তবে মুআবিয়া রা. এ ব্যাপারে বেশ জোর দেন এবং উসমান রা.-এর কাছে বারংবার নৌবাহিনী গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন। অবশেষে উসমান রা. তার প্রস্তাব মেনে নেন। ইসলামি নৌবাহিনীর প্রথম অভিযান ছিল সাইপ্রাস অঞ্চলে। এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রা. এবং মিশরের গভর্নর আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবু সারহ রা.। তারা দুজন সাইপ্রাস অবরোধ করেন। অবশেষে তা বিজিত হয়। এ সময় আফ্রিকা বিজয় সম্পন্ন হয় এবং পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে ইসলামি সাম্রাজ্যের স্তম্ভ শক্তিশালী হয়।
২৯ হিজরিতে পারস্যের এস্তাখার নামক অঞ্চল বিদ্রোহ করে মুসলিমদের সঙ্গে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে। উসমান রা. তখন এ শহর অভিমুখে বাহিনী প্রেরণ করেন এবং তা পুনরায় বিজিত হয়।
এ বছরই (২৯ হিজরিতে) দ্বিতীয়বারের মতো মসজিদে নববিকে সম্প্রসারণ করা হয়।
৩০ হিজরিতে বিজিত হয় খোরাসান, নিশাপুর এবং কোস শহর। ফলে ইসলামি সাম্রাজ্যের ট্যাক্স বৃদ্ধি পায় ব্যাপক হারে। নিজেদের চিরায়ত অভ্যাস অনুযায়ী কুফাবাসী আবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসে ওয়ালিদ ইবনে উকবা রা.-এর বিরুদ্ধে। ফলে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয় সাইদ ইবনুল আস রা.-কে।
হাসান বসরি রহ. ছিলেন সেই সময়ের প্রসিদ্ধ একজন তাবেয়ি। তিনি উসমান রা.-এর শাসনামলের এ সময় সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, উসমান রা.-এর ওপর বিদ্বেষীরা কী কারণে ক্ষুব্ধ হয়েছে আমি তা বুঝতে পারি। তার সময়ে এমন দিন খুব কমই ছিল, যেদিন লোকেরা ধনসম্পদ ভাগাভাগি করে নেয়নি। তিনি বলতেন, হে মুসলিমগণ, তোমাদের ভাতা সংগ্রহ করো। এরপর তারা সেখান থেকে পূর্ণরূপে গ্রহণ করতেন। তিনি পুনরায় বলতেন, তোমাদের ভাতা সংগ্রহ করো। তারা সেখান থেকেও পূর্ণরূপে গ্রহণ করতেন। তিনি বলতেন, ঘি ও মধু গ্রহণ করুন। এভাবে মুসলিমদের ভাতা অব্যাহত ছিল। শত্রুরা ছিল দূরে। মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল সুন্দর। কল্যাণের প্রাচুর্য ছিল। কোনো মুসলিম অপর মুসলিম ভাইকে ভয় পেত না। তাদের সকলের মধ্যেই ছিল ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। (৭৮) তখন মুসলিমরা ছিলেন খুবই সচ্ছল। ইতিপূর্বে কখনো তারা এতটা সচ্ছল ছিলেন না।
এ সময় উসমান রা. হাত দেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজে। ব্রতী হন এক মলাটে কুরআন সংরক্ষণের প্রতি। এর কারণ, তখন পুরো শাম এবং রোম সাম্রাজ্য বিজয় অভিযানে শাম ও ইরাকের মুসলিমরা যোগ দিয়েছিলেন। সেসব অভিযানে অংশ নেওয়া হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. লোকেদের কুরআন তেলাওয়াতে ব্যাপক পার্থক্য দেখতে পান। প্রত্যেক অঞ্চলের মানুষ কুরআন তেলাওয়াত করত ভিন্ন ভিন্ন কেরাত অনুযায়ী। শাম তথা বৃহত্তর সিরিয়ার অধিবাসীরা তেলাওয়াত করত মিকদাদ ইবনে আমর রা. এবং আবু দারদা রা.-এর কেরাত অনুযায়ী। ইরাকের অধিবাসীরা তেলাওয়াত করত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এবং উবাই ইবনে কাব রা.-এর কেরাত অনুযায়ী। সে সময় কিছু অজ্ঞ—যারা জানত না যে কুরআন সাত হরফে (৭৯) অবতীর্ণ হয়েছে—তারা একে অপরের কেরাতকে ভুল আখ্যা দিতে শুরু করে। এমনকি ব্যাপারটা একে অপরকে কাফের সাব্যস্ত করা পর্যন্ত গড়িয়ে যায়।
এ অবস্থা দেখে হুজাইফা রা. উসমান রা.-এর কাছে এসে বলেন, মুসলিম উম্মাহর লাগাম টেনে ধরুন।
এ সময় উসমান রা. যায়দ ইবনে সাবেত রা.-কে তলব করেন। তিনি আবু বকর সিদ্দিক রা.-এর আমলে কুরআন সংকলনের কাজ করেছিলেন। উসমান রা. তাকে তার সংকলিত কুরআনের পাণ্ডুলিপিগুলো একত্র করতে বলেন। এগুলো প্রথমে ছিল আবু বকর রা.-এর কাছে। এরপর আসে উমর রা.-এর কাছে। তিনি ইন্তেকালের সময় তার মেয়ে উম্মুল মুমিনিন হাফসা রা.-এর কাছে এই পাণ্ডুলিপিগুলো রেখে যান। যায়দ ইবনে সাবেত রা. তখনই হাফসা রা.-এর কাছ থেকে পাণ্ডুলিপিগুলো নিয়ে আসেন।
সাইদ ইবনুল আস উমাবি রা., যায়দ ইবনে সাবেত আনসারি রা., আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের ইবনুল আওয়াম আসাদি রা. এবং আবদুর রহমান ইবনে হারেস ইবনে হিশাম মাখযুমি রহ. এই চারজনকে উসমান রা. নিয়োগ দেন। আবু বকর রা.-এর যুগে যায়দ ইবনে সাবেত রা. যে কেরাতে কুরআন একত্র করেছেন সেই কেরাতেই কুরআনের একটি পাণ্ডুলিপি লিপিবদ্ধ করার আদেশ দেন। সুতরাং উসমান রা. নতুন কোনো কেরাত সংযুক্ত করেননি। বরং ইতিপূর্বে আবু বকর রা.-এর সময়ে যেভাবে সংকলন করা হয়েছিল সেগুলোকেই তিনি নতুনভাবে সংকলন করেন।
সাইদ ইবনুল আস রা. তেলাওয়াত করতেন, যায়দ ইবনে সাবেত রা. তা শুনে শুনে লিখতেন আর আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. এবং আবদুর রহমান ইবনে হারিস রহ. তখন উপস্থিত থেকে যাবতীয় বিষয়ের তদারকি করতেন। এভাবেই পূর্ণ কুরআন লিপিবদ্ধের কাজ সম্পন্ন হয় এবং এর সাতটি কপি করা হয়।
অন্যান্য সাহাবিগণের কাছে যেসব পাণ্ডুলিপি ছিল (৮০) এবং যেগুলোর বিন্যাস রাসুল -এর মৃত্যুর কয়েক মাস পূর্বে দশম হিজরির রমজান মাসে যেভাবে তিনি ও জিবরাইল আ. একে অপরকে কুরআন শুনিয়েছিলেন সে বিন্যাসের চেয়ে ভিন্ন ছিল, সেগুলোকে উসমান রা. পুড়িয়ে ফেলেন। এটি ছিল খুবই কষ্টকর একটি কাজ।
উসমান রা. যে কুরআন সংকলন করেছিলেন সেগুলোর একেকটি পাণ্ডুলিপির আয়তন ছিল ৮০×৬০ সেন্টিমিটার। একটি পাণ্ডুলিপি বহন করতে একদল লোকের প্রয়োজন হতো। উসমান রা. সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একটি করে কপি পাঠিয়ে দেন। মদিনা মুনাওয়ারায় রাখেন এক কপি। এক কপি পাঠান মক্কায়। তৃতীয় কপি মিশরে, চতুর্থ কপি শামে, পঞ্চম কপি কুফায়, ষষ্ঠ কপি বসরায় এবং সপ্তম কপি পাঠান ইয়ামেনে।
এভাবেই সকল মুসলিমের জন্য এক কেরাতে কুরআন সংকলন করা হয়। কুরআনের এই সংকলিত পাণ্ডুলিপিকে বলা হয় মুসহাফে উসমানি। যদিও উসমান রা. তাতে একটি হরফও (বর্ণও) লেখেননি; বরং তিনি তা সংকলন এবং পাণ্ডুলিপি আকারে তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন মাত্র। (৮১)
• ৩১ হিজরিতে মুসলিম বাহিনী এক ঐতিহাসিক নৌ-অভিযানে অংশগ্রহণ করে। যা যাতুস সাওয়ারি নামে প্রসিদ্ধ।
• ৩৪ হিজরিতে অনেক প্রসিদ্ধ সাহাবি ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ফিতনায় জড়িয়ে পড়ার অনিষ্ট থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, আব্বাস ইবনে আবদিল মুত্তালিব রা., আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা., আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা., আবু দারদা রা., আবু যর রা. এবং যায়দ ইবনে আবদি রাব্বিহ রা. প্রমুখ। শেষোক্ত সাহাবি স্বপ্নে আজানের বাক্যগুলো শুনেছিলেন। রাসুল -এর কাছে গিয়ে তার স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেছিলেন। তখন রাসুল -ও তার সঙ্গে একমত হয়েছিলেন।
• উসমান রা.-এর শাসনামলে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের কিছু অংশও বিজিত হয়। তবে মুআবিয়া রা.-এর শাসনামলে এসব অঞ্চল পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।
• ৩৩ হিজরিতে বিজিত হয় হাবাশা অঞ্চল অর্থাৎ সুদানের কিছু অংশ।
• ৩৪ হিজরিতে কুফাবাসী পুনরায় বিদ্রোহ ঘোষণা করে গভর্নর সাইদ ইবনুল আস রা.-এর বিরুদ্ধে। তখন কুফিবাসীদের আগ্রহে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয় আবু মুসা আশআরি রা.-কে। উসমান রা. তাদের আগ্রহের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।
• ৩৪ হিজরিতেই ফিতনার বড় বড় পর্বগুলো (ক্রমেই) স্পষ্ট আকার ধারণ করতে শুরু করে। এর প্রেক্ষিতেই ৩৫ হিজরিতে উসমান রা. পান করেন শাহাদাতের অমীয় সুধা। এর মাধ্যমেই সমাপ্ত হয় উসমান রা.-এর বর্ণাঢ্য জীবন। যে জীবন তিনি ব্যয় করেছিলেন আল্লাহ তাআলার প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে। যার কারণে জীবদ্দশাতেই রাসুল তাকে দিয়েছিলেন জান্নাতের সুসংবাদ।
টিকাঃ
৭৭. খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে এ শহর ধ্বংস হয়ে যায়। এ অঞ্চলের বর্তমান নাম বেবাহ। যা ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত।-অনুবাদক
৭৮. আল-ইসতিয়াব, ৩/১০৪১; তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৩৯/২২৭; তাহযিবুল কামাল, ১৯/৪৫১
৭৯. সাত হরফ: এর ব্যাখ্যা নিয়ে মুফাসসিরগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আবু উবাইদ রহ. প্রমুখ মুফাসসিরের মতে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে সাত গোত্রের সাতটি ভাষা। কোনো কোনো মুফাসসিরের মতে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রসিদ্ধ সাত কেরাত। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।
৮০. সাহাবিগণের একক সূত্রে বর্ণিত কুরআনের আয়াত বা সাহাবিগণকর্তৃক কুরআনের ব্যাখ্যামূলক কথা সম্বলিত কপিগুলোই মূলত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। মানাহিলুল ইরফান, ১/২৬০-২৬১; (শামেলা)-সম্পাদক
৮১. তারিখু ইবনি খালদুন, ২/৫৮৩