📄 দাসদের সঙ্গে উসমান রা.-এর আচরণ
তিনি দাসদের সঙ্গে কোমল আচরণ করতেন। খলিফা হওয়ার পর তিনি দাসকে জাগ্রত না করে নিজেই অজুর পানি প্রস্তুত করতেন আর বলতেন, রাত তাদের জন্য। তারা বিশ্রাম করুক।
📄 উসমান রা.-এর নামাজ-রোজা
তিনি অনেক রোজা রাখতেন। এমনও বলা হয় যে, তিনি বছরব্যাপী অথবা এর কাছাকাছি সময় রোজা রাখতেন। তিনি অধিক পরিমাণে নফল নামাজও পড়তেন।
📄 উসমান রা.-এর বাগ্মিতা
তিনি ছিলেন একজন বাগ্মী। আল্লাহ তাআলা তাকে অনেক বাগ্মিতা এবং খোদাভীরুতা দান করেছিলেন। নিজের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন,
আল্লাহ তাআলা তোমাদের দুনিয়া দিয়েছেন এর মাধ্যমে আখেরাত অনুসন্ধান করার জন্য। দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হওয়ার জন্য নয়। নিশ্চয় দুনিয়া একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে আখেরাত কখনো ধ্বংস হবে না। তাই অস্থায়ী জগৎ যেন তোমাদের অবাধ্য না করে এবং চিরস্থায়ী জগৎ থেকে বিমুখ না করে দেয়। তোমরা অস্থায়ী জগতের ওপর স্থায়ী জগতকে প্রাধান্য দাও। দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলার দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তাই আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো। আল্লাহর ভয়ই হচ্ছে তাঁর ক্রোধ থেকে বাঁচার ঢাল এবং তাঁর নৈকট্যলাভের মাধ্যম। আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করা থেকে ভয় করো। নিজেদের জামাত তথা দলকে আঁকড়ে ধরো। দলে দলে বিভক্ত হয়ে যেয়ো না।
স্মরণ করো আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের কথা। যখন তোমরা ছিলে শত্রু, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তোমাদের হৃদয়গুলোকে জুড়ে দিয়েছেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। [সুরা আলে ইমরান: ১০৩]
অনেক সাহাবি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, উসমান রা. ছিলেন একজন প্রাঞ্জল আলোচক ও বক্তা। আবদুর রহমান ইবনে হাতিব রা. বলেন, কথা বলার ক্ষেত্রে উসমান রা. ছিলেন সবচেয়ে পরিপূর্ণ ব্যক্তি। তবে তিনি কথা বলতে খুবই ভয় করতেন। কারণ, তিনি ছিলেন অত্যন্ত লাজুক।
ওয়াকিদি রহ.-এর এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, উসমান রা. খলিফা হওয়ার পর প্রথমে সবার উদ্দেশে দাঁড়িয়ে বলেন, হে লোকসকল, যেকোনো কাজের প্রথম পর্যায় কঠিন হয়ে থাকে (আজকের এ দিনটি আমার খেলাফত আমলের প্রথম পর্যায়)। কিন্তু এ দিনের পর আরও বহুদিন আসবে (তখন আর খেলাফতের দায়িত্ব পালন কঠিন মনে হবে না)। আমি যদি (দীর্ঘদিন) বেঁচে থাকি তাহলে (দেখে যেতে পারব যে) তোমাদের (মন্দ চরিত্রের) বক্তারা যথাযথ বক্তব্য দেবে। কিন্তু আমি বক্তা নই, কিন্তু অবশ্যই আল্লাহ তাআলা আমাকে শেখাবেন।
আল্লামা ইবনে কাসির রহ. ওয়াকিদি থেকে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অপর এক স্থানে বলেছেন, এ বর্ণনার বক্তব্যটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল নয়।
📄 উসমান রা.-এর দয়াশীলতা
উসমান রা. ছিলেন অত্যন্ত দানশীল। পরিচিত এবং অপরিচিত সকলের জন্যই তার দানের হাত ছিল উন্মুক্ত। খলিফা হওয়ার পূর্বে এবং পরে মদিনার সকল লোকের কাছেই তার দান পৌঁছেছে। বর্ণিত আছে, আবু তালহা রা. উসমান রা.-এর কাছে ৫০ হাজার দিরহাম ঋণী ছিলেন। আবু তালহা রা. উসমান রা.-এর কাছে সংবাদ পাঠিয়ে জানালেন, আপনার পাওনা সংগ্রহ হয়ে গেছে। তাই কাউকে পাঠিয়ে দিন নিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন উসমান রা. বলেন, আপনার ব্যক্তিত্বের প্রতি লক্ষ করে আমি তা আপনাকে উপহার দিলাম। (৭২)
অথচ পাশ্চাত্যবাদী লেখিকা জাহিয়া কাদুরা এই মহান সাহাবি সম্পর্কে কী ধৃষ্টতাপূর্ণ কথাই-না লিখেছে! সে লিখেছে, তিনি শুধু নিজের পরিবারের প্রতিই দয়া করতেন। অপর মুসলিমদের কিছু দান করতেন না, তাদের কোনো খোঁজ নিতেন না। এমনই ঘৃণ্য বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে এই লেখিকার থেকে।
উসমান রা. এত মর্যাদাশীল হওয়া সত্ত্বেও ওই সকল নিন্দুকেরা তার ব্যাপারে এমন মিথ্যা অপবাদ আরোপ করতে এতটুকুও কুণ্ঠাবোধ করেনি। শিয়াদের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ আল-বুরহান-এ রয়েছে,
আপনি কি তাদের দেখেন না, যারা নিজেদের পরিশুদ্ধ দাবি করে, অথচ আল্লাহ তাআলা যাকে চান তাকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের এক বিন্দুও অত্যাচার করা হয় না। [সুরা নিসা: ৪৯]
টিকাঃ
৭২. তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ২৫/১০৩