📄 উসমান রা.-এর ঈমান
ইবনে উমর রা. বলেন, একদিন সকালে সূর্যোদয়ের পর রাসুল আমাদের কাছে এসে বললেন, ফজরের পূর্বমুহূর্তে আমি স্বপ্নে দেখেছি আমাকে যেন সমস্ত চাবিকাঠি এবং দাঁড়িপাল্লা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। চাবি তো (তোমাদের পরিচিত) এ চাবি। দাঁড়িপাল্লাও ওই দাঁড়িপাল্লা যা দিয়ে তোমরা পরিমাণ করে থাকো। সে দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় রাখা হলো আমাকে, আরেক পাল্লায় রাখা হলো আমার উম্মতকে। এরপর আমার ওজন তাদের চেয়ে বেশি হলো। এরপর আবু বকরকে মাপা হলো, তার ওজন আমার উম্মতের চেয়ে বেশি হলো। উসমান রা.-কে মাপা হলো, তার ওজনও উম্মতের চেয়ে বেশি হলো। এরপর দাঁড়িপাল্লা উঠিয়ে নেওয়া হলো। (৬৬)
এখানে উসমান রা.-এর ঈমান দিয়ে এই উম্মতের ঈমানের পরিমাপ করা হলো।
টিকাঃ
৬৬. আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ৫৪৬৯
📄 উসমান রা.-এর কুরআন তেলাওয়াত
তিনি ছিলেন কুরআনের হাফেজ। হৃদয় দিয়ে তিনি কুরআনকে ধারণ করেছিলেন। তারিখুল খুলাফা গ্রন্থে জালালুদ্দিন সুয়ুতি রহ. বলেন, খলিফাগণের মধ্য থেকে কেবল দুজন খলিফাই কুরআন হিফজ করেছিলেন। উসমান ইবনে আফফান রা. এবং আব্বাসি খলিফা মামুন। (৬৭)
উসমান রা. কুরআন তেলাওয়াতের প্রতি খুবই আসক্ত ছিলেন। তিনি প্রচুর পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। এমনকি যখন তাকে অবরোধ করা হয় তখন তার স্ত্রী নায়েলা রহ. বলেন, তোমরা তাকে হত্যা করে ফেলো অথবা ছেড়ে দাও। কারণ, আল্লাহর শপথ! তিনি তো পুরো রাত এক রাকাতে কুরআন তেলাওয়াত করেই কাটিয়ে দেন। (৬৮)
উসমান রা. বলেছেন, আমাদের অন্তর যদি পবিত্র হতো তবে কখনোই আমরা প্রভুর কালাম পাঠ করে অতৃপ্ত হতাম না। আল্লাহর শপথ! আমি চাই না, আমার জীবনে এমন কোনো দিন আসুক, যেদিন আমি কুরআনের দিকে তাকাতে পারব না। (৬৯)
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, ﴿أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَابِمَا يَحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ﴾ তবে কি (এরূপ ব্যক্তি সেই ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে) যে রাতের মুহুর্তগুলোতে ইবাদত করে, কখনো সিজদাবস্থায়, কখনো দাঁড়িয়ে, যে আখেরাতকে ভয় করে এবং নিজ প্রতিপালকের রহমতের আশা করে। [সুরা যুমার: ৯] কুরআনের এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল উসমান রা.-এর ব্যাপারে। (৭০)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, وَ ضَرَبَ اللهُ মَثَلًا রَّজُلَيْنِ أَحَدُهُمَا أَبْكَمُ لَا يَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ وَهُوَ كَلٌّ عَلَى مَوْلَهُ أَيْنَمَا يُوجِهُهُ لَا يَأْتِ بِخَيْرٍ هَلْ يَسْتَوِي هُوَ وَ مَنْ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَهُوَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ আল্লাহ তাআলা দুই ব্যক্তির দৃষ্টান্ত পেশ করলেন। যাদের একজন মূক, কিছুই বলতে পারে না। সে তার মনিবের ওপর বোঝাস্বরূপ, যেখানেই তাকে পাঠানো হয় কোনো কল্যাণ নিয়ে আসে না। সেই ব্যক্তি কি একজন সঠিক পথ অবলম্বনকারী ন্যায়ের আদেশদাতার সমান হবে? [সুরা নাহল: ৭৬] উক্ত আয়াতও অবতীর্ণ হয়েছিল উসমান রা.-এর ব্যাপারে। (৭১)
টিকাঃ
৬৭. তারিখুল খুলাফা, পৃ. ২৫, উল্লেখ্য যে, খলিফাগণের মধ্যে কেবল উসমান রা. ও খলিফা মামুন হাফেজ ছিলেন এ দাবি বাস্তবসম্মত নয়। উপরিউক্ত খলিফাদ্বয় ছাড়া আলি ইবনে আবু তালেব রা.-সহ বেশ কয়েকজন খলিফা কুরআনের হাফেজ ছিলেন। দেখুন, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/৩০২; তারিখুল খুলাফা, পৃ. ২৫।-সম্পাদক
৬৮. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২৪০
৬৯. কিতাবুল ইতিকাদ, পৃ. ৫০১; শুআবুল ঈমান, ২০৩০; হিলয়াতুল আওলিয়া, ৫/১৬৭৪
৭০. তাফসিরুল বাগাবি, ৪/৮১; রুহুল মাআনি, ১২/২৩৭
৭১. রুহুল মাআনি, ৪/৪৩৭
📄 দাসদের সঙ্গে উসমান রা.-এর আচরণ
তিনি দাসদের সঙ্গে কোমল আচরণ করতেন। খলিফা হওয়ার পর তিনি দাসকে জাগ্রত না করে নিজেই অজুর পানি প্রস্তুত করতেন আর বলতেন, রাত তাদের জন্য। তারা বিশ্রাম করুক।
📄 উসমান রা.-এর নামাজ-রোজা
তিনি অনেক রোজা রাখতেন। এমনও বলা হয় যে, তিনি বছরব্যাপী অথবা এর কাছাকাছি সময় রোজা রাখতেন। তিনি অধিক পরিমাণে নফল নামাজও পড়তেন।