📄 সূর্যাস্ত
কেহ কেহ লিখিয়াছেন যে, মিসরে ফিতয়ান নামক মালিকী মযহবের অন্ধ মুকাল্লিদ একজন তর্কবাগীশ বাস করিতেন। তিনি আপন মজলিসে ইমাম শাফেয়ীর বিরুদ্ধে প্রায় অভদ্রোচিত ভাষায় আক্রমণ চালাইতেন। কোন এক তর্কযুদ্ধে তিনি ইমাম শাফেয়ীকে আঁটিয়া উঠিতে না পারায় কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করেন। ইমাম সাহেব তাঁর গালাগালিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করিয়া মূল বক্তব্য বিষয়ে বক্তৃতা করিতে থাকেন। মিসরের শাসন কর্তৃপক্ষ সমুদয় বৃত্তান্ত অবগত হইয়া তর্কবাগীশটিকে ধৃত করেন এবং তাঁর পৃষ্ঠে কশাঘাত করিয়া উষ্ট্রপৃষ্টে নগর প্রদক্ষিণ করাইবার শাস্তি দেন। এই ঘটনায় ফিতয়ানের মূর্খ ভক্তের দল কুপিত হইয়া উঠে। আর কতিপয় গুণ্ডা ইমাম সাহেবের দর্সের হলকায় যোগদান করে, পঠন ও পাঠন সমাপ্তির পর যখন অন্যান্য ছাত্রমণ্ডলী বিদায় গ্রহণ করেন তখন আকস্মিক ভাবে গুণ্ডারদল ইমাম সাহেবকে আক্রমণ করিয়া এরূপ ভয়ঙ্কর ভাবে আঘাত করে যে, অবশেষে তাঁহাকে তাঁর বাসগৃহ পর্যন্ত বহন করিয়া আনিতে হয়। এই আঘাত সহ্য করিতে না পারিয়া অবশেষে ইমাম সাহেব মানবলীলা সংবরণ করেন।
কিন্তু রিজাল ও জীবনী সমূহের বিশ্বস্ত লেখকগণ এই ঘটনার উল্লেখ করেন নাই। তাঁহারা লিখিয়াছেন যে, ইমাম সাহেব স্মৃতিশক্তি বর্ধনের জন্য ছাত্র জীবনে অধিক মাত্রায় লোবান ব্যবহার করায় অবশেষে তিনি অর্শরোগে আক্রান্ত হইয়াছিলেন এবং এই দুরারোগ্য ব্যাধির প্রকোপে অধিক মাত্রায় রক্তক্ষয় ঘটিয়া তাঁর জীবন প্রদীপ নির্বাপিত হইয়াছিল। কেহ কেহ এরূপ কথাও লিখিয়াছেন যে, হাদীস বিদ্বেষীগণ তাঁহাকে বিষপান করাইয়াছিল।
ফলকথা, কুরআন, হাদীস, ফিক্হ, উসূল, ইতিহাস, আরবী সাহিত্য প্রভৃতি বিদ্যার একচ্ছত্র অধিপতি, জ্ঞান ও প্রতিভার এই উজ্জ্বল ভাস্কর ২০৪ হিজরীতে রজব মাসের শেষ রাত্রিতে চিরতরে অস্তমিত হইয়া যায়... ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন। রাহেমাহুল্লাহু ওয়া রাযিয়া আনহু।