📄 মক্কায় আগমন
ইমাম সাহেব তাঁর দুই বৎসর বয়ঃক্রম কালে পিতৃহীন হন। তাঁর জননী শাফেয়ীর বংশ গৌরব যাহাতে ক্ষুন্ন না হয় তজ্জন্য শিশু পুত্র সমভিব্যবহারে মক্কায় চলিয়া আসেন এবং জনৈক কুরায়শী জ্ঞাতির আশ্রয় গ্রহণ করেন। শাফেয়ী কুরায়শীদের মধ্যে থাকিয়া প্রতিপালিত এবং স্বীয় উর্ধতন পুরুষগণের গুণাবলীর উত্তরাধিকারী হন, এই আশাতেই তাঁর মহিয়সী জননী তাঁহাকে মক্কায় বহন করিয়া আনিয়াছিলেন। জননীর আশা যে সার্থক হইয়াছিল একথা বলা বাহুল্য। দশ বৎসর বয়স পর্যন্ত শাফেয়ীর জননী মাঝে মাঝে মক্কায় বাহিরেও তাঁহাকে লইয়া যাইতেন কিন্তু অতঃপর তিনি স্থায়ী ভাবে মক্কায় রহিয়া যান। ৭ বৎসর বয়সে শাফেয়ী কুরআন আর ১০ বৎসর বয়সে ইমাম মালিকের মুআত্তা কণ্ঠস্থ করিয়া ফেলেন।
📄 ইমাম শাফেয়ীর উসতাযগণ
ইমাম শাফেয়ীর বহু সংখ্যক উসতাযের মধ্যে তাঁর চাচা মুহাম্মদ বিনে আলী বিনে শাফেঅ, ইবরাহীম বিনে আবি ইয়াহয়া সউদ, ইসমাঈল বিনে কস্তম্ভীন, ইসমাঈল বিনে জা'ফর, দাউদ বিনে আবদুর রহমান, আবদুল আযীয দরাওয়ার্দী, ইবরাহীম বিনে আবি ইয়াহুয়া, আবদুর রহমান মলীকী, আবদুল্লাহ মখযুমী, ইবরাহীম বিনে আবি মহযুরা, আবদুল্লাহ বিনুল হারেস মখমী, মুহাম্মদ বিন আবি ফুদয়ক, আবদুল মজীদ বিনে আবি রাউয়াদ, মুহাম্মদ বিনে উসমান জমহী, সঈদ বিনে সালেম কদ্দায়া, ইয়াহয়া বিনে সলিম তায়েফী, হাতেম বিনে ইসমাঈল, মুতাররফ বিনে মাযেন, হিশাম বিনে ইউসুফ, ইয়াহয়া বিনে আবি হাসান, আবদুল ওয়াহহাব সকফী, ইসমাঈল বিনে আলীঈয়া, মুসলিম বিনে খালিদ যন্জী, আবদুল আযীয বিনুল মাজেশুন, মুহাম্মদ বিনুল হাসান শয়বানী, সুফয়ান বিনে উআয়না ও ইমাম মালেক সমাধিক প্রসিদ্ধ।
📄 কিরআত বিদ্যায় পারদর্শিতা
মক্কার বিখ্যাত ক্বারী ইসমাঈল বিনে কস্তম্ভীনের নিকট হইতে কিরআতের বিদ্যায় শাফেয়ী অতুলনীয় দক্ষতা অর্জন করিয়াছিলেন। রামাযানের তারাবীহে তিনি ৬০ বার কুরআন সমাপ্ত করিতেন। তাঁর কণ্ঠস্বর এমন সুমধুর এবং পাঠভংগী এত হৃদয়গ্রাহী ছিল যে, বাহুর বিনে নসর বলেন, আমরা যখন কাঁদিতে ইচ্ছা করিতাম তখন পরস্পর বলাবলি করিতাম, চল, আমরা সেই মুত্তলবী নওজওয়ানের কাছে গিয়া কুরআন শ্রবণ করিয়া আসি। অতঃপর আমরা শাফেয়ীর নিকট সমবেত হইতাম এবং তিনি কুরআন মজীদের কিরআৎ আরম্ভ করিয়া দিতেন, তাঁর সম্মুখে শ্রোতারা অজ্ঞান হইয়া পতিত হইতেন এবং তাঁর সুমধুর ও উদাত্ত কণ্ঠের কুরআন শ্রবণ করিয়া শ্রোতৃবৃন্দের মধ্যে ক্রন্দনের রোল পড়িয়া যাইত।
📄 স্মৃতি ও অধ্যবসায়
স্মরণ শক্তি অতিশয় তীক্ষ্ণ হওয়া সত্বেও অধিকতর স্মৃতি শক্তি লাভ করার জন্য লোবান ব্যবহার করার ফলে শাফেয়ী অর্শ্বরোগে আক্রান্ত হইয়াছিলেন। অসামান্য স্মৃতিধর হইয়াও ইমাম শাফেয়ী কাপড় ও চামড়ায় হাদীস লিখিয়া লইতেন। দারিদ্র নিবন্ধন কাগজ কিনিতে অক্ষম হওয়ায় অনেক সময়ে সরকারী দফতরের পরিত্যক্ত কাগজের শূন্য পৃষ্ঠায় হাদীস লিপিবদ্ধ করিতেন।