📘 ফিরকাবন্দি বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি 📄 ইমাম আ’যমের উক্তি

📄 ইমাম আ’যমের উক্তি


হাফিয ইবনে আবদুর রব সনদ সহকারে বর্ণনা দিয়াছেন যে, ইমাম সাহেব বলিয়াছেন:
‘মা জা-আনা আন রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ক্বাবিলনাহু আলার রা’ছি ওয়াল আইনাইন— রাসূলুল্লাহ (সা) নিকট হইতে যাহা আমরা প্রাপ্ত হইয়াছি তাহা আমরা মস্তক ও চক্ষুদ্বয়ের উপর ধারণ করিয়া কবুল করিয়াছি আর আল্লাহর রাসূলের (সা) সাহাবীগণের যেসব কথা আমাদের নিকট পৌঁছিয়াছে তাঁর মধ্য হইতে আমরা বাছাই করিয়া যে উক্তি উত্তম বিবেচিত হইয়াছে, তাহা গ্রহণ করিয়াছি কিন্তু কোন অবস্থাতেই তাঁদের সকলের সিদ্ধান্তের বাহিরে যাই নাই। অর্থাৎ কোন না কোন সাহাবীর উক্তি গ্রহণ করিয়াছি। কিন্তু ব্যাপার যখন তাবেয়ীগণের পর্যায় পর্যন্ত গড়ায় তখন আমাদের অভিমত এই যে, তারা যেরূপ গবেষণা করিয়াছেন আমরাও সেইরূপ করিতে সক্ষম।’ [আল-ইনতাকা: ১৪৪ পৃঃ]।।

হাফিয ইবনে হজর আসকালানী ইয়াহ্ইয়া বিনে যরীসের প্রমুখাৎ বর্ণনা দিয়াছেন যে, ‘আমি ইমাম আবু হানীফাকে বলিতে শুনিয়াছি যে, যে কোন সমস্যা হউক না কেন তাঁর সমাধানকল্পে আমি সর্বপ্রথম আল্লাহর গ্রন্থ কুরআনের আশ্রয় লইয়া থাকি, কুরআনে তাঁর সমাধান প্রাপ্ত না হইলে আমি রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নত অনুসন্ধান করি, সুন্নতেও তাঁর সমাধান না পাইলে সাহাবাগণের মধ্য হইতে যে কোন জনের উক্তি আমার মনঃপূত বিবেচিত হয়, আমি তাহা বাছিয়া লই কিন্তু কোন অবস্থাতেই তাঁদের সকলের উক্তি পরিহার করিয়া অন্যদিকে গমন করি না।’ [তাহযীবুত তাহযীব (১০) ৪৫১ পৃঃ]।।

শায়খ আবদুল ওয়াহ্হাব মা'রানী ইমাম আ'যমের এই উক্তি উধৃত করিয়াছেন:
‘তোমরা যদি আমার কোন উক্তি প্রকাশ্য কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিকূল দেখিতে পাও তাহা হইলে তোমরা কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশ পালন করিও এবং আমার উক্তি প্রাচীরের উপর ফেলিয়া মারিও।’ [মীযানে কুবরা (১) ৫৭ পৃঃ]।।

‘ফাতাওয়ায় শামীয়া’ নামক ফিক্হ গ্রন্থে উল্লিখিত হইয়াছে যে, ইমাম সাহেব বলিয়াছেন: ‘ইযা সাহহাল হাদীসু ফাহুয়া মাযহাবী— কোন সমস্যা সম্বন্ধে সহীহ হাদীসে যে সমাধান পাওয়া যাইবে, তাহাকেই তোমরা আমার মযহব বলিয়া জানিবে।’ গ্রন্থকার ইবনে আবেদীন বলিতেছেন যে, এই রেওয়ায়ত সঠিক ভাবে প্রমাণিত হইয়াছে। [রদ্দুল মুহতার (১) ৪৬২ পৃঃ]।।

আল্লামা শাহ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দিস স্বীয় ‘ইকদুর জীদ’ নামক পুস্তিকায় লিখিয়াছেন যে, ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করা হইল, ‘আপনার কোন সিদ্ধান্ত রাসূলুল্লাহর (সা) নির্দেশের বিপরীত হইলে আমরা কি করিব?’ ইমাম সাহেব বলিলেন, ‘আল্লাহর রাসূলের (সা) হাদীসের মুকাবেলায় আমার উক্তি ফেলিয়া দিও।’ [ইকদুল জীদ, ৫৪ পৃঃ]।।

ইমাম সাহেবের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিপক্ষগণের বড় অভিযোগ এই যে, তিনি হাদীস গ্রাহ্য করিতেন না। আল্লামা ইবনে আবেদীন তাঁর ফতাওয়ায় ইমাম সাহেবের উক্তি উধৃত করিয়াছেন: ‘আল হাদীসুয যায়ীফু আহাব্বু ইলাইয়্যা মিন আরা-ইর রিজাল— বিদ্বানগণের ব্যক্তিগত অভিমতের তুলনায় আমার কাছে দুর্বল হাদীসও অধিকতর প্রিয়।’

কাযী আবু ইউসুফ (রহ) স্বীয় উসতায ইমাম আবু হানীফার (রহ) উক্তি বর্ণনা করিয়াছেন যে, ‘লা ইয়াহিল্লু লি-আহাদিন আইঁ ইয়াফতিয়া বি-ক্বওলিনা মা লাম ই’লাম মিন আইনা ক্বুলনা— আমাদের সিদ্ধান্তের সূত্র অর্থাৎ আমরা কোন্ দলীল সূত্রে সিদ্ধান্ত করিয়াছি ইহা অবগত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সিদ্ধান্ত অনুসারে ফতওয়া প্রদান করা কাহারও পক্ষে বৈধ হইবে না।’ [বুস্তানে আবুল লয়েস সমরকন্দী: ৮ পৃঃ]।।

ইমাম সাহেব আরও বলিয়াছেন: ‘লা ইয়াম্বাগী লি-মান লাম ই’য়ারিফ দলীলী আইঁ ইয়াফতিয়া বি-কালামী— যে ব্যক্তি আমার দলীল অবগত নহে তাঁর পক্ষে আমার উক্তি সূত্রে ফতওয়া দেওয়া সঙ্গত নয়।’ [হুজ্জাতুল্লাহেল বালেগা ১৬২ পৃঃ]।।

শায়খুল ইসলাম আহমদ বিনে হাম্বল বলিয়াছেন, ‘ইমাম আবু হানীফা বিদ্যাবত্তা, পরহেযগারী এবং পারলৌকিক কল্যাণের আগ্রহে যে আসন অধিকার করিয়াছেন, সে আসন অন্য কেহ অধিকার করিতে পারেন নাই।’ ইরাকের গভর্ণর ইবনে হুরায়রা ইমাম সাহেবকে কুফার প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করিয়াছিলেন, রাজি না হওয়ায় তাঁকে কারারুদ্ধ করিয়া প্রহার করা হইয়াছিল। ইমাম আহমদ বিনে হাম্বল ইমাম সাহেবের এই ত্যাগ আলোচনা করিতেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করিতেন। ইমাম সাহেব ১৫০ হিজরীর শবেবরাতের নিশীথে বাগদাদের কারাগারে মহাপ্রস্থান করিয়াছিলেন। রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ওয়া রাযিয়া আনহু।

ফন্ট সাইজ
15px
17px