📘 ফিরকাবন্দি বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি 📄 দ্বিতীয় খলীফার যুগে

📄 দ্বিতীয় খলীফার যুগে


মসরুক তাবেয়ী বলেন যে, দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর একদা মিম্বরে আরোহন করিয়া জনমন্ডলীকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, স্ত্রীলোকদের মোহরের পরিমাণ বর্দ্ধিত করা যদি শুভকার্য হইত তাহা হইলে রাসূলুল্লাহ (সা) এবং তদীয় সাহাবীগণ বর্ধিত পরিমাণে মোহর নির্ধারিত করিতেন কিন্তু তাঁহাদের মধ্যে কেহই চারি শত দিরহামের অতিরিক্ত মোহর স্বীয় স্ত্রী ও কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করেন নাই। অতএব অতঃপর যদি কেহ চারিশত দিরহামের অতিরিক্ত মোহর স্বীয় স্ত্রী বা কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করে তাহা হইলে অতিরিক্ত অর্থ আমি বায়তুল মালের অন্তর্ভুক্ত করিয়া লইব। মসরুক বলেন যে জনৈকা কুরায়শী মহিলা হযরত উমরের নির্দেশ শ্রবণ করিয়া বাধা প্রদান করিলেন এবং হযরত উমরকে জিজ্ঞাসা করিলেন, হে আমিরুল মুমেনীন, আপনি কি লোকদিগকে স্ত্রী লোকদের মোহর চারিশত দিরহামের অতিরিক্ত নির্ধারিত করিতে নিষেধ করিতেছেন? আপনি কি কুরআনের আয়াত শ্রবণ করেন নাই যে, আল্লাহ বলিয়াছেন, ওয়া আতাইতুম ইহদাহুন্না ক্বিনতারা। "তোমরা যদি স্বীয় নারীদিগকে অর্থের স্তূপ মোহর-স্বরূপ দান কর"। মহিলাটির কথা শ্রবণ করিয়া হযরত উমর তৎক্ষণাৎ মসজিদে প্রত্যাবর্তন করিলেন এবং পুনরায় মিম্বরে আরোহন করিয়া বলিলেন, "একজন পুরুষ ভুল বুঝিয়াছিল কিন্তু একজন নারী ঠিক বুঝিয়াছে। হে জনমণ্ডলী, আমি আপনাদিগকে চারিশত দিরহামের অতিরিক্ত মোহর নির্ধারণ করিতে নিষেধ করিয়াছিলাম, আমি এক্ষণে আমার নির্দেশ প্রত্যাহার করিয়া লইতেছি এবং বলিতেছি যে, যাহার যেরূপ ইচ্ছা ও সামার্থ সে তদনুরূপ মোহর নির্ধারণ করিতে পারে।” [আবু ইয়োলা]

এই ঘটনার সাহায্যে তিনটি বিষয় অবিসম্বাদিত ভাবে প্রমাণিত হইতেছে: প্রথম, আইনের তাৎপর্য অনুধাবন করার যোগ্যতায় নর-নারী সম্পূর্ণ অভিন্ন। দ্বিতীয়, কোন রাষ্ট্রাধিনায়কের বা পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত কুরআনের বিপরীত হইলে ইসলামী রাষ্ট্রে উক্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে না। তৃতীয়, সমুদয় বিদ্বান ও চিন্তাশীল মনীষীগণের অভিমত কুরআনের প্রতিকূল হইলে তাঁহাদের অভিমত পরিত্যজ্য হইবে।

দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর কুফার চীফ জাষ্টিস কাযী সুরায়হকে যাহা লিখিয়াছিলেন সমস্যা ও তাঁর সমাধান পদ্ধতির পক্ষে উহাকে ইসলামের বুনিয়াদী বিধানরূপে গ্রহণ করা যাইতে পারে। তিনি লিখিয়াছেন, "আপনার নিকট কোন সমস্যা সমুপস্থিত হইলে আপনি আল্লাহর গ্রন্থ অনুসারে তাঁর নিস্পত্তি করিয়া দিবেন। সাবধান! মানুষের উক্তির দিকে আপনি আগ্রহান্বিত হইবেন না আর বিষয়টি যদি এরূপ হয় যাহার মীমাংসা আল্লাহর গ্রন্থে নাই তাহা হইলে আপনি রাসূলুল্লাহর হাদীসে দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন এবং তদনুসারে সমাগত সমস্যার সমাধান করিয়া দিন আর যদি বিষয়টির মীমাংসা আল্লাহর গ্রন্থের মত রাসূলের সুন্নতে খুঁজিয়া না পান তাহা হইলে (ইসলামী পার্লামেন্টে) মানুষেরা যে বিষয়েতে একমত হইয়াছেন আপনি তাহা গ্রহণ করুন আর যদি উপস্থাপিত প্রশ্নের মীমাংসা আল্লাহর কিতাবে এবং তাঁর নবীর সুন্নতে বিদ্যমান না থাকে এবং পূর্ববর্তীগণও কেহ সে বিষয়ে আলোচনা না করিয়া থাকেন তাহা হইলে আপনি দুইটির মধ্য হইতে একটি পথ নির্বাচন করিয়া লউন অর্থাৎ হয় আপনি আপনার ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধির সাহায্য লইয়া অগ্রসর হউন, আর না হয় তাঁর মীমাংসায় ক্ষান্ত থাকুন। আমি কিন্তু আপনার পক্ষে ক্ষান্ত থাকাই মঙ্গলজনক বলিয়া বিবেচনা করি। [দারমী]

আবদুল্লাহ বিনে উমর বলেন, দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ফারুক মৃত্যু-শয্যায় নিজের মনে বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, আমি যদি কাহাকেও আমার স্থলাভিষিক্ত করিয়া না যাই তাহা হইলে রাসূলুল্লাহও (সা) তো কাহাকেও স্থলাভিষিক্ত করিয়া জান নাই। আর যদি আমি কোন ব্যক্তিকে আমার স্থলাভিষিক্ত করিয়া যাই তাহা হইলে আবু বকর স্বীয় স্থলাভিষিক্ত করিয়া গিয়াছিলেন। হযরত উমরের পুত্র বিখ্যাত তাপস ও বিদ্বান হযরত আবদুল্লাহ বলিতেছেন, আল্লাহর কসম! যখন পিতা রাসূলুল্লাহ (সা) ও আবু বকরের তুলনা করিলেন তখনই আমি বুঝিয়া ফেলিলাম যে, তিনি আবু বকর অথবা অন্য কাহারও খাতিরে রাসূলুল্লাহ (সা) রীতি পরিহার করিবেন না এবং কাহাকেও তিনি স্বীয় স্থলাভিষিক্ত মনোনীত করিয়া যাইবেন না। [মুসলিম (২) ১২০ পৃঃ]

যাহারা মনে করিয়া থাকেন যে, হযরত উমর সকল বিষয়ে তাঁর পূর্ববর্তী শাসনকর্তা খলীফা আবু বকরের অন্ধ অনুসরণ করিয়া চলিতেন এই ঘটনায় তাঁহাদের চৈতন্য উদ্রিক্ত হওয়া উচিত। হযরত উমর তাঁর খিলাফতের যুগে হযরত আবু বকরের বহু ব্যক্তিগত নির্দেশ অমান্য করিয়াছেন এবং প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের (সা) সমকক্ষতায় কাহারও কোন নির্দেশ মুসলমানের কাছে যে গ্রহণ যোগ্য হইতে পারে না ইহা সামান্য চিন্তা করিলে সকলেই হৃদয়ঙ্গম করিতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে জাতির সর্বাধিনায়ক নির্বাচন করার অধিকার ইসলাম জাতির হস্তেই প্রদান করিয়াছে এবং এই জন্যই রাসূলুল্লাহ (সা) আবশ্যক বিবেচনা করা সত্ত্বেও তাঁর মহাপ্রয়াণের প্রাক্কালে স্পষ্ট ভাষায় কাহাকেও স্বীয় স্থলাভিষিক্ত করিয়া যান নাই।

সঈদ বিনুল মুসাইয়েব বলেন, হযরত উমরের ব্যক্তিগত অভিমত অনুসারে স্ত্রীর পক্ষে তাঁর স্বামীর দিয়ত অর্থাৎ আহত বা নিহত হওয়ার দরুন আর্থিক ক্ষতিপূরণের কোন অংশ প্রাপ্ত হইবার উপায় ছিল না কিন্তু যাহ্হাক বিনে সুফয়ান হযরত উমরকে লিখিয়া পাঠাইলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) আশ্হয়স বিনুয যবাবির স্ত্রীকে তাঁর স্বামীর দিয়তের দরুণ অর্থের অংশ প্রদান করিয়াছিলেন। ইহা অবগত হওয়া মাত্র হযরত উমর ফারুক তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত প্রত্যাহার করিয়া লইলেন। [ইবনে মাজাহ, ১৯৪ পৃঃ]

উমর ফারুক অগ্নিপূজকদের নিকট হইতে সামরিক ট্যাক্স গ্রহণ করার পক্ষপাতী ছিলেন না, তাহাদিগকে তিনি "আবাদাতুল আওসান" বা প্রতিমাপূজকদের পর্যায়ভুক্ত মনে করিতেন। অবশেষে আবদুর রহমান বিনে আওফ সাক্ষ্যদান করিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) হিজরের অগ্নিপূজকদের নিকট সামরিক ট্যাক্স গ্রহণ করিয়াছিলেন। অতঃপর হযরত উমর তাঁর পূর্ব মত পরিহার করিয়া লইলেন।

আবু সঈদ খুদরী বলেন যে, একদা আমি আনসারদের এক বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম এমন সময় আবু মূসা আশআরী অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত ভাবে প্রবেশ করিলেন এবং বলিলেন, আমি উমরের নিকট গিয়া বাড়ীর ভিতর প্রবেশ করার জন্য তিনবার অনুমতি চাই এবং জওয়াব না পাওয়ায় ফিরিয়া আসি, ইতিমধ্যে হযরত উমরের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎকার ঘটে এবং তিনি প্রত্যাবর্তনের কারণ আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি বলি যে, রাসূলুল্লাহ (সা) আদেশ করিয়াছেন: ইযাছতা’যানা আহাদুকুম সালাসা ফাল্লাম ইউ’যান লাহূ ফালইয়ারজি’ "তোমাদের মধ্যে কেহ যদি কাহারও গৃহে প্রবেশ করিবার জন্য তিনবার অনুমতি চাহিয়াও উত্তর না পায় তাহা হইলে সে ফিরিয়া আসিবে।" উমর বলিলেন, আল্লাহর কসম! আপনাকে এ কথার প্রমাণ দিতে হইবেই। আবু মূসা আনসারদিগকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, তোমরা কেহ হযরতের (সা) বাচনিক এই হাদীস শ্রবণ করিয়াছ কি? আবু সঈদ খুদরী বলেন যে, আমি দলের মধ্যে সর্বাপেক্ষা কনিষ্ট ছিলাম, আমি আবু মুসা আশআরীর সহিত গমন করিয়া হযরত উমরের নিকট সাক্ষ্যদান করিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বাস্তবিকই উক্ত কথা বলিয়াছিলেন। [বুখারী, ইসতিযান]

এই ঘটনার সাহায্যেও প্রমাণিত হইতেছে যে, অপরের গৃহে প্রবেশ সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীসটি কনিষ্ট সাহাবীগণের জানা থাকলেও উমরের ন্যায় প্রাচীন ও অগ্রগণ্য সাহাবীর উহা অপরিজ্ঞাত ছিল। যদি আবু বকর ও উমরের ন্যায় মহামনীষীদের কোন কোন হাদীস অজ্ঞাত থাকিতে পারে, তাহা হইলে পরবর্তী ইমাম ও ফকীহদের পক্ষে রাসূলুল্লাহর (সা) কোন কোন নির্দেশ অপরিজ্ঞাত থাকা কিছু মাত্র বিস্ময়কর নয়। যাহারা মনে করেন যে, নির্দিষ্ট ইমাম বা ফকীহ রাসূলুল্লাহর (সা) সমুদয় আদেশ ও নিষেধ অবগত ছিলেন এবং শরীয়তের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য অন্য বিদ্বান বা ফকীহর বিদ্যার সহায়তা গ্রহণ করা আদৌ আবশ্যক নয় তাঁহাদের এই ধারণা একান্ত একদেশদর্শিতা ও গোড়ামীর পরিচায়ক মাত্র।

📘 ফিরকাবন্দি বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি 📄 তৃতীয় খলীফার যুগে

📄 তৃতীয় খলীফার যুগে


স্বামী মরিয়া গেলে স্ত্রী যে কোন স্থানে থাকিয়া ইদ্দত পালন করিতে পারে বলিয়া হযরত উসমানের ধারণা ছিল। কিন্তু বিষয়টি মীমাংসার জন্য হযরত উসমান আবু সাঈদ খুদরীর ভগ্নি ফোরায়'আকে ডাকাইয়া পাঠান এবং উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ফোরায়া হযরত উসমানকে জ্ঞাপন করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট আমার আত্মীয় স্বজনের মধ্যে থাকিয়া ইদ্দত প্রতি পালন করিবার অনুমতি চাহিয়াছিলাম কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা) তাহা অস্বীকার করেন অথচ আমার স্বামী তাঁর পলাতক দাসের অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া নিহত হইয়াছিলেন এবং তিনি তাঁর নিজস্ব ঘরবাড়ী বা সহায় সম্পদ কিছুই রাখিয়া যান নাই, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা) সমস্ত অবগত হওয়া সত্বেও আমাকে বলিলেন, আল্লাহর গ্রন্থের নির্দিষ্ট মী'আদ পর্যন্ত স্বামীর গৃহে অবস্থান কর। অতঃপর হযরত উসমান স্বীয় অভিমত পরিবর্তন করিলেন এবং রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীস বলবৎ করিয়া দিলেন। [মুওয়াত্তা, ২১৭ পৃঃ]

আবু সামান বলেন, একদা আমি খলীফা উসমান গনীর নিকট উপস্থিত ছিলাম ইতিমধ্যে তাঁর সম্মুখে ওলীদ বিন উকবাকে ধরিয়া আনা হইল (ওলীদ এবং হযরত উসমান একই মাতার সন্তান ছিলেন এবং ওলীদ কুরায়শ গোষ্ঠির বিশিষ্ট ব্যক্তি, মহাবীর, কবি ও সুসাহিত্যিক ছিলেন)। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা), উমর ফারুক ও উসমান গনীর শাসনকালে বিভিন্ন স্থানের গভর্ণর পদে মনোনীত হইয়াছিলেন। ওলীদ ফজরের নামাযের দুই রাআতে ইমামত করিয়া মুক্তাদিগকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, তোমাদের জন্য কি আরও কিছু নামায পড়াইয়া দিব? দুই জন লোক হযরত উসমানের নিকটে সাক্ষ্যদান করিলেন যে, তাহারা ওলীদকে সুরা পান করিতে দেখিয়াছেন। আর এক ব্যক্তি বলিলেন, তিনি তাহাকে বমন করিতে দেখিয়াছেন।

হযরত উসমান বলিলেন, মদ না খাইলে ওলীদের বমনে সুরা ধরা পড়িত কেমন করিয়া? অতঃপর হযরত উসমান ওলীদকে সুরাপানের দণ্ড স্বরূপ বেত্রাঘাত করার জন্য হযরত আলীকে আদেশ দিলেন। হযরত আলীর নির্দেশ ক্রমে তদীয় ভ্রাতুষ্পুত্র আবদুল্লাহ বিনে জা'ফর ওলীদকে বেত্রাঘাত করিতে ও হযরত আলী তাহা গণনা করিতে লাগিলেন। চল্লিশ বেত লাগান হইলে হযরত আলী বলিলেন, ক্ষান্ত হও! রাসূলুল্লাহ (সা) মদ্য পানের দণ্ডস্বরূপ চল্লিশ বেত লাগাইয়া ছিলেন, আবু বকরও চল্লিশ বেত লাগাইয়াছিলেন কিন্তু উমর ফারুক আশি বেত লাগাইয়াছিলেন। সমস্তই সুন্নত বটে কিন্তু আমার কাছে চল্লিশ বেতের শাস্তিই উত্তম। [সহীহ মুসলিম, (২) ১৭ পৃঃ]

এই ব্যাপারে কয়েকটি গুরুতর বিষয় লক্ষ করা উচিত। ইসলামের সমাজ ব্যবস্থায় দেশের শাসনকর্তা ও সর্বসাধরণের মধ্যে আইনের প্রয়োগ ব্যবস্থায় কোনরূপ ব্যতিক্রম রাখা হয় নাই। ওলীদ একাধারে যেরূপ কুফার গবর্ণর ছিলেন, সেইরূপ ইসলাম জগতের সর্বাধিনায়ক হযরত উসমান গনীর সহোদর ছিলেন, কিন্তু ইসলামী দণ্ডবিধির আওতা হইতে তিনি নিজেকে মুক্ত রাখিতে পারেন নাই এবং হযরত উসমানের পক্ষেও স্বজন প্রীতির কোন লক্ষণ প্রদর্শিত হয় নাই। ইসলামী রাষ্ট্রের এই বৈশিষ্টকে তথাকথিত গণতন্ত্রবাদীর দলবিশেষ আশঙ্কার দৃষ্টিতে দেখিয়া থাকেন, কারণ সাম্য ও গণতন্ত্রের ঢাক পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রগুলি যত জোরেই বাজান না কেন ইসলামের সাম্য এবং ন্যায় বিচারের সঙ্গে তাহারা কোন দিন মুকাবিলা করিতে পারেন নাই এবং ভবিষতেও ইহার কোন সম্ভাবনা নাই।

দ্বিতীয় বিষয়টি যাহা আমাদের বিশেষভাবে লক্ষ্য করা উচিত তাহা হইল এই যে, হযরত আলী আবু বকর এবং উমরের দণ্ডবিধানকে ভ্রান্তিমূলক মনে না করিলেও তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) দণ্ডবিধানকে অগ্রগণ্য করিয়াছিলেন।

📘 ফিরকাবন্দি বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি 📄 চতুর্থ খলীফার যুগে

📄 চতুর্থ খলীফার যুগে


ইকরিমা বলেন, ইবনে সাবা ইহুদীর প্ররোচনায় শিয়াদের প্রথম যে দলটি ইসলাম ধর্ম বর্জন করিয়া হযরত আলীকে আল্লাহর অবতার বলিতে আরম্ভ করিয়াছিল হযরত আলী তাহাদিগকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করিয়াছিলেন। ইহা জানিতে পারিয়া আবদুল্লাহ বিনে আব্বাস বলেন, আমি যদি আলীর স্থানে হইতাম, তাহা হইলে ইসলাম ভ্রষ্টদিগকে অগ্নদগ্ধ না করিয়া তরবারী দ্বারা নিহত করিতাম। কারণ রাসূলুল্লাহর (সা) বলিয়াছেন মান বাদ্দালা দীনাহূ ফাক্বতুলূহু "ইসলাম গ্রহণ করার পর যদি কেহ ফিরিয়া যায় তাহাকে তরবারীর আঘাতে নিহত কর।" ইবনে আব্বাস পুনশ্চ বলিলেন যে, আমি অপরাধিদিগকে কদাচ অগ্নিদগ্ধ করিয়া মারিতাম না। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা) বলিয়াছেন যে, তোমরা আল্লাহর দণ্ড দ্বারা কাহাকেও দণ্ডিত করিও না। হযরত আলী ইবনে আব্বাসের উক্তি শ্রবণ করিয়া বলিলেন, ইবনে আব্বাস সত্য কথাই বলিয়াছেন। [তিরমিযী (২), ৩৩৭ পৃঃ]

আবদুল্লাহ বিনে উমরের পুত্র সালিম বলেন যে, একদা আমি জনৈক সিরিয়াবাসীকে তামাকু হজ্জ (উমরা এবং হজ্জ্বের মিলিত সঙ্কল্প) সম্পর্কে আমার পিতা আবদুল্লাহ বিনে উমরকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে শুনিয়াছিলাম, ইবনে উমর উত্তর করিয়াছিলেন যে, উহা হালাল! তাঁর ফতওয়া শ্রবণ করিয়া সিরিয়ার লোকটি বিস্মিত হইলেন এবং বলিলেন, আপনি হালাল বলিতেছেন বটে কিন্তু আপনার পিতা তামাকু হজ্জ নিষেধ করিতেন। ইবনে উমর বলিলেন, দেখ! যে কার্য আমার পিতা নিষেধ করিয়াছেন যদি তাহা রাসূলুল্লাহ (সা) করিয়া থাকেন তাহা হইলে তুমি বল সেরূপ ক্ষেত্রে আমার পিতার সিদ্ধান্ত মান্য করিতে হইবে, না রাসূলুল্লাহর (সা) আদেশ শিরোধার্য করিয়া লইতে হইবে? লোকটি বলিলেন, এরূপ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহর (সা) আদেশই অবশ্য প্রতিপালিত হইবে। [তিরমিযী, হজ্জ]

হযরত আব্দুল্লাহ বিনে উমর একদা বিখ্যাত তা'বেয়ী আবুশ শা'আসা জাবির বিনে যয়েদকে বলিলেন, ইন্নাকা মিন ফুকা্বহা-ই বারিয়াতি ফালা তুফতি ইল্লা বিকুরআনিম না-তিক্বিন আও সুন্নাতিম মা-যিয়াহ্। "তুমি বসরার ফকীহগণের অন্যতম, সাবধান! স্পষ্ট কুরআন এবং অতিক্রান্ত সুন্নত ছাড়া অন্য কোন বিষয় অবলম্বন করিয়া ফওয়া প্রদান করিওনা।" [দারমী, ৩৩ পৃ]

হযরত মু'আয বিনে জবল বলেন, মুসলিমগণ! "তোমরা বিপদ অবতীর্ণ হইবার পূর্বেই তাঁর জন্য ব্যতিব্যস্ত হইও না, কারণ সাহাবীগণের চিরাচরিত প্রথা ছিল যে, কোন সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হইলে, তাঁহারা রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীস বর্ণনা করিয়া শুনাইয়া দিতেন। [দারমী, ২৩ পৃঃ]

হযরত আবদুল্লাহ বিনে আব্বাস যদি কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হইতেন তাহা হইলে জিজ্ঞাসিত বিষয়টি কুরআনে উল্লিখিত থাকিলে তিনি কুরআনের নির্দেশ জানাইয়া দিতেন। কুরআনে না থাকিলে রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীস শুনাইয়া দিতেন। জিজ্ঞাসিত বিষয়টির মীমাংসা যদি কুরআন ও হাদীসে না থাকিত, তাহা হইলে তিনি হযরত আবু বকর ও হযরত উমরের ফতওয়া শুনাইয়া দিতেন এবং ইহাও যদি সম্ভবপর না হইত তাহা হইলে তখন তিনি তাঁর নিজের অভিমত ব্যক্ত করিতেন। [দারমী, ৩৩ পৃষ্ঠা]

আবদুল্লাহ বিনে আব্বাস কর্তৃক আবু বকর ও উমরের ফয়া উল্লেখ করার তাৎপর্য এই নয় যে, তিনি তাঁহাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের অন্ধ অনুসরণ বা তকলীদ করিতেন। আবুবকর ও উমরের সমুদয় সিদ্ধান্ত ইসলামী পার্লামেন্টে গৃহীত সিদ্ধান্তের নামান্তর মাত্র, সুতরাং ইবনে আব্বাসের আচরণ দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, কুরআন ও সুন্নতে যে বিষয়ের মীমাংসা খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না, সে সম্পর্কে মুসলমানদিগকে সাহাবীগণের ইজমার অনুসরণ করিয়া চলিতে হইবে।

হযরত আবদুল্লাহ বিনে মসউদ বলেন যে, কাহারও উপর বিচার-পতিত্বের ভার ন্যস্ত করা হইলে তাহাকে আল্লাহর গ্রন্থ অনুসারে বিচার করিতে হইবে। আর যাহা কুরআনে নাই তাঁর মীমাংসা রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাত অনুসারে করিতে হইবে এবং যে বিষয়ের মীমাংসা কুরআন এবং হাদীসে নাই তাঁর ফয়সালা সাহাবীগণের মিলিত সিদ্ধান্ত অনুসারে করিতে হইবে- [দারমী ৩ পৃঃ]

আমীর মু'আবিয়া হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় আসিয়া মদীনাতেও আগমন করেন এবং রাসূলুল্লাহর (সা) মিম্বরে আরোহন করিয়া বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, আমার বিবেচনায় সিরিয়া দেশের দুই মুদ্ (অর্ধ সা) গম এক সা' খেজুরের সমতুল্য। সর্বসাধারণ শাসনকর্তার এই কথা মানিয়া লইলেন কিন্তু বিখ্যাত সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করিয়া বলিলেন, আমি মু'আবিয়ার এই নির্দেশ মান্য করিব না, রাসূলুল্লাহর (সা) সময়ে যেভাবে ফিত্রা আদা করিতাম ঠিক সেই ভাবেই যাবজ্জীবন দিতে থাকিব এবং এক সা'র কম কোন খাদ্য বস্তুরই ফিত্রা কদাচ বাহির করিব না। [বুখারী ফতহসহ, (৬) ৬৪ পৃঃ]

এই ঘটনা দ্বারা প্রতিপন্ন হয় যে শাসনকর্তাদের শরয়ী মসআলা সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত জনমণ্ডলীর জন্য প্রতিপালনীয় নয় এবং কাহারও ইজতেহাদ আইনের পর্যায়ভুক্ত হইতে পারে না।

📘 ফিরকাবন্দি বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি 📄 তাবেয়ীগণের যুগে

📄 তাবেয়ীগণের যুগে


আমর বিনে দীনার তাবেয়ীকুল গৌরব সালেম বিনে আবদুল্লাহ বিনে উমরের বাচনিক রেওয়ায়ত করিয়াছেন যে, হযরত উমর হজ্জের সময় জমরার পর বায়তুল্লাহর যিয়ারতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত অর্থাৎ তাওয়াফে-ইফাযার পূর্বে সুগন্ধির ব্যবহার নিষেধ করিতেন। জননী আয়েশা বলিলেন, আমি স্বহস্তে রাসূলুল্লাহর (সা) পবিত্র দেহে ইহরামের প্রাক্কালে ও হালাল হইবার সময় তাওয়াফে ইফাযার পূর্বে সুগন্ধি মাখাইয়াছি। সালিম বলিতেছেন, রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাত অনুসরণের অধিকতর যোগ্য। ইমাম শাফেয়ী বলিতেছেন, সালিম হযরত আয়িশার প্রমুখাৎ বর্ণিত রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীসের দরুণ স্বীয় পিতামহ ও ইসলাম জগতের সর্বাধিনায়ক উমর ফারুকের ফতওয়া বর্জন করিয়াছিলেন। এই প্রসঙ্গে হাফিজ ইবনে আবদুল বর ও ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ মন্তব্য করিয়াছেন যে, ইহাই প্রত্যেক মুসলিমের উপযোগী আচরণ। তকলীদপন্থীরা যেভাবে স্বীয় মান্যস্পদগণের খাতিরে রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীস বর্জন করিয়া থাকেন, তাহা একজন মুসলিমের উপযোগী আচরণ নয়। [ইকায, ১১ পৃঃ]

তায়েবীকুল-ভূষণ আবু সালমা বসরায় পদার্পণ করিলে আবুন্নসর ইয়াহয়া বিনে আবি কাসির ও ইমাম হাসান বসরী তাঁর সহিত সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট গমন করেন। আবু সালমা হাসান বসরীকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন যে, তুমিই হাসান বসরী? এই নগরীতে তোমার অপেক্ষা অধিক অন্য কাহারও সাক্ষাৎকার আমার বাঞ্ছনীয় ছিল না। আমি শুনিয়াছি, তুমি নাকি নিজের বুদ্ধি খাটাইয়া ফতওয়া দিয়া থাক, সাবধান! রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাত এবং অবতীর্ণ কুরআন ব্যতিরেকে কখনই ফতওয়া দিওনা। [দারমী-৩৩ পৃঃ]

ইমাম আওযায়ী বলিতেছেন যে, পঞ্চম খলীফায়ে রাশেদ স্বনামধন্য তাবেয়ী ফকীহ উমর বিনে আবদুল আযীয ঘোষণা পত্র প্রচার করিলেন যে, আল্লাহর গ্রন্থের মুকাবেলায় কাহারও অভিমতের কোন মূল্য নাই কিন্তু যে বিষয়ে কুরআনে কিছু অবতীর্ণ হয় নাই এবং যে বিষয়ে রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীসেও কোন নির্দেশ বিদ্যমান নাই কেবলমাত্র সেই সব বিষয়ে ইমামগণের অভিমত মূল্যবান। যে সুন্নাত স্বয়ং রাসূলুল্লাহর (সা) বলবৎ করিয়া গিয়াছেন তাঁর মুকাবিলায় যে কেহই হোক না কেন কাহারও অভিমত কার্যকরী নয়। [হুজ্জতুল্লাহেল বালেগা-১৫৫ পৃষ্ঠা]

খলীফা উমর বিনে আবদুল আযীযের বাণী ও চার্টারের সাহায্যে কয়েকটি বিষয় দ্ব্যর্থহীন ভাবে প্রমাণিত হইতেছে:- ১। ইসলাম শুধু ইবাদত সংক্রান্ত কতিপয় বিধানের সমষ্টি মাত্র নয়। সমাজ, রাষ্ট্র ও শাসন শৃংখলার যাবতীয় বিধানের সন্ধান মুখ্য বা পরোক্ষভাবে কুরআন ও সুন্নতে বিদ্যমান রহিয়াছে। ২। কোন বিদ্বান বা আইনজ্ঞের, এমন কি কোন রাষ্ট্রেরও ইসলামী সমাজ জীবনে বা শাসনব্যবস্থায় কুরআন ও সুন্নতের প্রতিকূল কোন ফতওয়া বা আইন রচনার কোন অধিকার নাই। ৩। রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক কুরআন ও সুন্নতের বলবৎকারী শক্তি মাত্র। তাঁহারা স্বাধীন ও স্বতন্ত্র শরীয়ত (সমাজ বা রাষ্ট্র বিধান) প্রণয়ন ও প্রবর্তনের অধিকারী নন। ৪। যে সকল বিষয়ে কুরআন ও সুন্নতে স্পষ্ট বা অস্পষ্ট নির্দেশ বিদ্যমান নাই শুধু সেই সকল বিষয়েই বিদ্বান ও আইনজ্ঞগণের কুরআন ও সুন্নতকে ভিত্তি করিয়া গবেষণা ও প্রতিপাদন কার্যে প্রবৃত্ত হওয়া বৈধ হইবে। ৫। যে বিষয়গুলি কুরআন ও সুন্নতের স্পষ্ট বিধানের প্রতিকূল, সেই সকল বিষয়ে বিদ্বান বা শাসন-কর্তাগণের কোন আদেশ কখনও অনুসরণীয় ও আইনের পর্যায়ভুক্ত হইবে না।

তাবেয়ী-কুলশ্রেষ্ঠ ইব্রাহীম নখয়ী এই অভিমত পোষণ করিতেন যে, দুই ব্যক্তি নামাযের জামাআতে দাঁড়াইলে মুক্তাদিকে ইমামের বাম পার্শ্বে দাঁড়াইতে হইবে। আ'মশ বলেন যে, রাসূলুল্লাহর (সা) ইবনে আব্বাসকে তাঁর দক্ষিণ পার্শ্বে দাঁড় করাইয়াছিলেন। ইব্রাহীম নখয়ী এই হাদীস শ্রবণ করা মাত্র স্বীয় অভিমত পরিবর্তন করিয়া ফেলিলেন। [দারমী, ৬২ পৃঃ]

স্বনামধন্য তাবেয়ী আমের বিনে আবদুল্লাহ শা'বী বলিতেছেন, বিদ্বানগণ যাহা রাসূলুল্লাহর (সা) প্রমুখাৎ বর্ণনা করিয়া শুনাইবেন, তোমরা তাহা গ্রহণ কর। কিন্তু তাঁহারা নিজেদের খেয়াল মত যে ব্যবস্থা প্রদান করিবেন তাহা আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ কর।

আমরা এযাবৎ যে সকল উধৃতি পাঠকবর্গের সম্মুখে উপস্থিত করিয়াছি, কুরআন ও হাদীসের অনুসরণ সম্পর্কে বিদ্বানগণের অভিমত ও আচরণের তাঁর সামান্য মাত্র নিদর্শন। এই সকল উক্তির সাহায্যে দ্ব্যর্থহীন ভাবে ইহা প্রতিপন্ন হয় যে, সুবর্ণ যুগে মুসলমানদের সম্মুখে যে কোন পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যার উদ্ভব হইত কুরআন ও হাদীসের সাহায্যেই সেই সকল সমস্যার সমাধান করিয়া লওয়া মুসলমানগণের চিরন্তন রীতি ছিল। বিদ্বানগণের গবেষণা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বহুমূল্য হইলেও তাঁর প্রত্যেকটি কথা চিরন্তন ও সার্বকালিন নয়। যে দিবস হইতে মুসলমানরা তাহাদের ব্যক্তিগত মতামত ও সিদ্ধান্তকে আল্লাহর গ্রন্থ ও রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাতের তুল্য আসন প্রদান করিতে শুরু করিয়াছেন সেই দিন হইতেই মুসলমানগণের জাতীয় জীবনের বিধ্বস্তি এবং সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গীর অসামঞ্জস্য আরম্ভ হইয়াছে। সেই দিন হইতেই মুসলমানরা এত দলে ও পথে বিভক্ত হইয়া পড়িয়াছে যে, আজ তাহাদিগকে কোন নির্দিষ্ট কেন্দ্রে সমবেত করার প্রচেষ্টা সফল ও সার্থক হইতে পারিতেছেনা। ব্যক্তিগত ও দলীয় খোদাওন্দির প্রভাব হইতে উদ্ধার করিয়া মুসলিম সমাজকে কুরআন ও হাদীসের সনাতন ও শাশ্বত কেন্দ্রে ফিরাইয়া আনাই আহলে হাদীস আন্দোলনের লক্ষ্য।

ফন্ট সাইজ
15px
17px