📘 ফিরকাবন্দি বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি 📄 বাগদাদের বাহিরে

📄 বাগদাদের বাহিরে


তাতারী অভিযানের ফলে ইসলামী সম্রাজ্যের অন্যান্য স্থানগুলি কিরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছিল তাঁর মোটামুটি বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হইল:
৬১৭-৬১৮ হিজরীতে নিম্নলিখিত দেশ ও নগরগুলি বিধ্বস্ত হয়: সমরকন্দ, বুখারা, খোরাসান, খোওয়ার্যম, রয়, হামদান, আযর বাইজান, দরবন্দ-শিরওয়ান, কষবীন, তবরেয, মরাগান, মরাগ, আরবল্, সল্ফান, তিরমিয, বলখ, নাসা, নেশাপুর, মঞ্জু, হিরাত ও বামীয়ান।
৬২০-৬২১ হিজরীতে নিম্নলিখিত স্থানগুলি আক্রান্ত ও পুনরাক্রান্ত হয়: কিপচাপ, কুম, কাশান, তুরিয, রয়, হামদান।
৬২৪ হিজরীতে ইসফাহান বিধ্বস্ত হয়।
৬২৮ হিজরীতে খোরাসান, আযরবাইজান ও মুরাগা পুনরাক্রান্ত হয় এবং মাদীন ও আসআর্দের পতন ঘটে।
৬২৯ হিজরীতে শহরযোরের পতন হয়।
৬৩৩-৬৩৪ হিজরীতে নিম্নলিখিত নগরগুলি পুনরাক্রান্ত এবং নতুনভাবে আক্রান্ত হয়: সমরকন্দ, শিরওয়ান, আবরন ও মসুল।
৬৩৪ হিজরীতে দকুকা বিজিত হয়।
৬৪১ হিজরীতে ইউরোপের কতকাংশ আক্রান্ত ও বিধ্বস্ত হয়।
৬৫০ হিজরীতে দেয়ারে বকরের নসিবয়েন ও সঞ্জার প্রভৃতি অধিকৃত হয়।
৬৫৫ হিজরীতে মসুল পুনরাক্রান্ত হয়।
৬৫৬ হিজরীতে বাগদাদের পতন হয়।
৬৫৭ হিজরীতে আরবল পুনরাক্রান্ত, ময়াফার্কিন ও হাররান বিধ্বস্ত হয়।
৬৫৮-৬৫৯ হিজরীতে বিরা ও হলব অধিকৃত হয়।
৬৬০ হিজরীতে মসুল পুনরাক্রান্ত হয়।

ইসলাম জগতের বিধ্বস্তির উপরিউক্ত তালিকা হালাকুর মৃত্যু পর্যন্ত শেষ করা হইল। ৬৬২ হিজরীতে হালাকুর মৃত্যু ঘটে। যতগুলি স্থান তাতারী নর-রাক্ষস দল কর্তৃক আক্রান্ত হইয়াছিল সমস্তগুলিই সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত এবং নরনারী নির্বিশেষে সমুদয় অধিবাসী নিধন প্রাপ্ত হইয়াছিল। খোওয়ার্যম শহরে বার লক্ষ মুসলিম নরনারীকে হত্যা করা হয়, ইহাদের মধ্যে বিখ্যাত সাধক শায়খুল ইসলাম নাজিমুদ্দিন কুবরা অন্যতম। ৬২৮ হিজরীতে খোরাসানে জন প্রাণীর বসবাস করার উপায় ছিল না। নেশাপুরে নিহত অধিবাসীবর্গের মস্তক ছেদন করিয়া স্ত্রী, পুরুষ ও শিশুদের মাথার খুলির পৃথক পৃথক তিনটি পিরামিড প্রস্তুত করা হইয়াছিল। মরও নগরে তের লক্ষ লোককে হত্যা করা হয়, যাহারা পলায়ন করিয়া বাঁচিয়াছিল দ্বিতীয় পর্যায়ে তাহাদিগকে নিঃশেষিত করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে নিহতদের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার। বামীয়ান নগরীতে ১০০ বৎসর পর্যন্ত ঘাস জন্মিতে পারে নাই, সমস্ত শহর জনমানব শূন্য মরুভূমিতে পরিণত হইয়াছিল।

আলাউদ্দীন আতা মালিক জুওয়ায়নী তাঁর "জাহাঁকুশা" নামক ইতিহাস গ্রন্থে লিখিয়াছেন যে, মুসলামান দেশ সমূহে হাজারে একজন লোকেরও প্রাণ রক্ষা হয় নাই। [Brown's History (২) ৪৩৯ পৃঃ]।।

জাতীয় জীবনের উল্লিখিত ভয়াবহ বিপর্যয় এবং সংকটের মূল কারণ ছিল মুসলমানদের গৃহ বিবাদ এবং এই গৃহ বিবাদের অন্যতম কারণ ছিল মযহবী কোন্দল এবং তকলীদপরস্তদের গোঁড়ামী ও বিদ্বেষ! দুঃখের বিষয় এত বড় আঘাতের পরও মুসলমানগণ সমবেতভাবে চৈতন্য লাভ করিতে পারেন নাই এবং ইহাই নিদারুণ পরিণতি স্বরূপ আজ তাতারী অভিযানের স্থানে নাস্তিকতা ও জড়বাদের যে সয়লাব সমগ্র ইসলাম জগতকে গ্রাস করিতে উদ্যত হইয়াছে, তাঁর প্রতিকার কল্পে মুসলমানগণ কুরআন ও সুন্নতের মর্মকেন্দ্রের দিকে প্রত্যাবর্তন করিয়া জাতীয় জীবনকে সংহত ও সমৃদ্ধ করিয়া তুলিতে প্রস্তুত হইতেছেন না। والله المستعان

ফন্ট সাইজ
15px
17px