📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে তার শর্ত

📄 যে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে তার শর্ত


১. ইসলাম: তাই কাফেরের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴾وَأَشْهِدُوا ذَوَى عَدْلٍ مِنْكُمْ) "তোমাদের মধ্য হতে দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে।” [সূরা ত্বলাক: ২] আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন : ﴾مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ “তোমরা যাদেরকে সাক্ষী হিসেবে পছন্দ করো।” [সূরা বাক্বারাহ: ২৮২]
আর কাফের ন্যায়পরায়ণ ও পছন্দনীয় ব্যক্তি নয়। তবে সফরে থাকা অবস্থায় প্রয়োজনীয় অসীয়ত করার ক্ষেত্রে অন্য কাউকে না পাওয়া গেলে, কাফেরদের মধ্য হতে আহলে কিতাবদের (ইয়াহুদী বা নাসারাদের) সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে। আল্লাহ তা'আলার বাণী:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِينَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ أَوْ آخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ إِنْ أَنْتُمْ ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَأَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةُ الْمَوْتِ "হে মুমিনগণ! তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে অসীয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে অথবা অন্যদের (অমুসলিমদের) থেকে দুইজন সাক্ষী বাছাই করবে। যদিও তোমরা সফরে থাকো এবং তোমাদের মৃত্যু পেয়ে বসে।" [সূরা মায়িদাহ : ১০৬]
ইবনু আব্বাস ও অনেক আলেমের মত আল্লাহর বাণী: ﴾أَوْ آخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ﴿ উদ্দেশ্য হচ্ছে- অমুসলিম কেউ অর্থাৎ আহলে কিতাব।
২. প্রাপ্তবয়ষ্ক ও বুদ্ধিমান: ছোটোদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, যদিও সে ন্যায়পরায়ণ হয়। কেননা সে পূর্ণ বুদ্ধিমান নয়, ফলে সে যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। তবে একে অপরকে আঘাত করে আহত করার ক্ষেত্রে শিশুদের একে অপরের বিপক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। বিশেষভাবে তারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বে তাদের সবার কথা একই রকম হলে গ্রহণযোগ্য হবে।
অনুরূপভাবে পাগল, নির্বোধ ও মাতালের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা তাদের সাক্ষ্য এমন দৃঢ় বিশ্বাসের জন্ম দেয় না যে অনুযায়ী ফয়সালা দেওয়া যেতে পারে।
৩. কথা বলতে পারা: সুতরাং বোবার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না, যদিও তার ইশারা বোঝা যায়। তবে প্রয়োজনে বিশেষ কোনো বিধানের ক্ষেত্রে তার ইশারা গ্রহণযোগ্য হবে। তবে যদি সে লিখে তার সাক্ষ্য পেশ করতে পারে, তাহলে গ্রহণ হবে। কারণ লেখা মুখের ভাষার মতোই প্রকাশ করে।
৪. মুখস্থকরণ, সংরক্ষণ ও সচেতন হওয়া: সুতরাং অমনোযোগী এবং অত্যধিক ভুল করা ও ভুলে যাওয়ায় প্রসিদ্ধ, এমন কারো সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা তার কথায় আস্থা রাখা যায় না। এমন সম্ভাবনা থাকে সে ভুল সাক্ষ্য দিবে। তবে যার ভুল কম হয়, তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।
৫. ন্যায়পরায়ণতা: সুতরাং ফাসেকের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। আল্লাহ তা'আলার বাণী: وَأَشْهِدُوا ذَوَى عَدْلٍ مِنْكُمْ
"তোমাদের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ তাদেরকে সাক্ষী রাখো।” [সূরা তালাক : ২]
ন্যায়পরায়ণ বলতে উদ্দেশ্য: যে ব্যক্তি তার দ্বীনের উপর অটল আছে, যার নিকট থেকে কোনো সংশয় প্রকাশ পায়নি। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, ওয়াজিব ও মুস্তাহাব পালনকারী এবং হারাম ও মাকরূহ বিষয়াবলি থেকে মুক্ত, সেই ন্যায়পরায়ণ।

টিকাঃ
১০৩৭ তাফসীর ইবনু কাসীর দ্রষ্টব্য।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সাক্ষ্য সংক্রান্ত কিছু বিধান

📄 সাক্ষ্য সংক্রান্ত কিছু বিধান


১. সাক্ষী যে ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছে সে ব্যাপারে তার জানা থাকা ওয়াজিব। তার অজ্ঞাত বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া বৈধ নয়। মহামহিয়ান আল্লাহ বলেন:
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ "আর যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না।” [সূরা ইসরা : ৩৬]
মহান আল্লাহ আরও বলেন: إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ﴾ “তবে যারা সত্য উপলব্ধি করে সাক্ষ্য দেয়, তারা ব্যতীত।" [সুরা যুখরুফ: ৮৬]
অর্থাৎ যারা জেনেবুঝে সাক্ষ্য দেয়। শোনা বা দেখার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয় অথবা প্রসিদ্ধতা ও ব্যাপকতা বা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমেও জ্ঞান অর্জিত হয়। যেমন- বংশনামা ও মৃত্যু।
২. পুত্রের পক্ষে পিতা বা পিতার পক্ষে পুত্রের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না; কেননা এক্ষেত্রে অপবাদের সম্ভাবনা থাকতে পারে। অনুরূপভাবে স্বামী স্ত্রীর একে অপরের পক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে তাদের একে অপরের বিপক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। তাই পিতা-পুত্র যদি একে অপরের বিপক্ষে বা স্বামী-স্ত্রী একে অপরের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে গ্রহণযোগ্য হবে। কেননা এতে অপবাদের কোনো আশংকা নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ) “হে ঈমানদারগণ! ন্যায়ের উপর সুপ্রতিষ্ঠ ও আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হও, যদিও তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা এবং আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে যায়।” [সূরা নিসা: ১৩৫]
৩. শত্রুর বিপক্ষে শত্রুর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না এবং যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে নিজের কোনো উপকার বা নিজের কোনো ক্ষতি দূর করতে চায়, তার সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে দ্বীনের ক্ষেত্রে 'শত্রুতা' সাক্ষ্য গ্রহণে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। অতএব, কাফেরের বিপক্ষে মুসলিমের এবং বিদআতির বিপক্ষে সুন্নাহর অনুসারীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে।
৪. সাক্ষীর জন্য সত্য সাক্ষ্য দেওয়া আবশ্যক, যদিও তা তার সবচেয়ে আপন মানুষের বিরুদ্ধে হয়। সাক্ষ্যতে পক্ষপাতিত্ব করা নাজায়েয। আল্লাহ তা'আলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ﴾ “হে ঈমানদারগণ। ন্যায়ের উপর সুপ্রতিষ্ঠ ও আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হও, যদিও তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা এবং আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে যায়।" [সূরা নিসা: ১৩৫]
অর্থাৎ যদিও সাক্ষী দেওয়াটা তোমার পিতামাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে যায়। তুমি এই ব্যাপারে তাদের প্রতি ইতস্তত করবে না। বরং সত্য সাক্ষ্য দিবে, যদিও এতে তাদের কোনো ক্ষতি হয়ে যায়।
৫. সাক্ষীর প্রতিনিধি হয়ে সাক্ষ্য দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ এটা প্রয়োজনের তাগিদেই হয়। তবে শর্ত হলো: অসুস্থতা, মৃত্যু বা অনুরূপ কারণে মূল সাক্ষী উপস্থিত হতে অপারগ হলে এবং মূল সাক্ষী ও প্রতিনিধি সাক্ষী উভয়েই ন্যায়পরায়ণ হয়, তবেই গ্রহণযোগ্য হবে।
৬. মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া কবীরা গুনাহ। আল্লাহ তা'আলার বাণী: فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ "তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা বর্জন করো এবং মিথ্যা কথা পরিহার করো।" [সুরা হাজ্জ : ৩০] নাবী বলেন: أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الكَبَائِرِ ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ الله، قَالَ : الإِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ وَجَلَسَ وَكَانَ مُتَّكِنًا فَقَالَ أَلاَ وَقَوْلُ الزُّورِ ، قَالَ : فَمَا زَالَ يُكَرُرُهَا حَتَّى قُلْنَا: لَيْتَهُ سَكَتَ "আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড়ো পাপের ব্যাপারে সতর্ক করব না! তখন সাহাবীরা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। নাবী হেলান দিয়ে বসা ছিলেন তখন তিনি বললেন, সাবধান! মিথ্যা সাক্ষ্য! (রাবী) বলছেন: নাবী এই কথাটি পুনরাবৃত্তি করতেই থাকলেন। আমরা বলছিলাম, যদি তিনি থামতেন।”
৭. সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয নেই। তবে যদি সাক্ষ্য দেওয়ার স্থানে হেঁটে যেতে অক্ষম হয় তাহলে পরিবহন বাবদ ভাড়া গ্রহণ করতে পারে।
৮. যে ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে, তার বিভিন্নতায় সাক্ষীর সংখ্যায় ভিন্নতা হবে। ব্যভিচার ও সমকামিতার ক্ষেত্রে চারজন পুরুষ সাক্ষীর কম গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তা'আলা বাণী: لَوْلا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ “তারা ৪ জন সাক্ষী উপস্থিত করল না কেন?”[সূরা নূর: ১৩] চুরি ও অপবাদের মতো অন্যান্য হদ্দ, অনুরূপভাবে যা সম্পদ নয় বা যা দ্বারা সম্পদ উদ্দেশ্য নয় এবং এছাড়া যে ক্ষেত্রে সাধারণত পুরুষরা বেশি অবগত হয়; যেমন বিবাহ, তালাক, রজয়ী, যিহার, বংশনামা, প্রতিনিধিত্ব, অসীয়ত বা অনুরূপ বিষয়গুলো সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে দুইজন পুরুষ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য, মহিলার সাক্ষী গ্রহণযোগ্য হবে না। আল্লাহ তা'আলা তালাকে রজয়ীর ক্ষেত্রে বলেন: وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ "তোমাদের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ তাদেরকে সাক্ষী রাখো।"[সুরা তালাক: ২।
এর উপরই পূর্বে উল্লিখিত সবকিছু কিয়াস করা হবে। কেননা তা সম্পদ নয় এবং এর দ্বারা সম্পদ উদ্দেশ্য নয়। তাই তা শাস্তির মতো।
আর এই দলীলের ভিত্তিতেই সম্পদ ও যা দ্বারা সম্পদ উদ্দেশ্য, যেমন ক্রয়-বিক্রয়, ভাড়া, নির্দিষ্ট মেয়াদের ক্রয়-বিক্রয়, ঋণ, বন্ধক, আমানত ও অনুরূপ আর্থিক চুক্তির ক্ষেত্রে দুজন পুরুষের সাক্ষ্য বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। আল্লাহ তা'আলার বাণী:
وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ فَإِنْ لَمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ
“তোমাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ সাক্ষীকে সাক্ষী করবে; যদি দুইজন পুরুষ না পাওয়া যায়, তাহলে সাক্ষীগণের মধ্যে তোমরা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী মনোনীত করবে।” [সূরা বাক্বারাহ: ২৮২]
সম্পদ এবং যার মাধ্যমে সম্পদ উদ্দেশ্য করা হয় এমন ক্ষেত্রে একজন পুরুষের সাক্ষ্য এবং বাদীর শপথ গ্রহণ করা হবে। নাবী এর ফয়সালা এমনই ছিল। পক্ষান্তরে যে সকল বিষয় সাধারণত পুরুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়; যেমন নারীর গোপন দোষত্রুটি, বন্ধ্যাত্ব, কুমারিত্ব, জন্মসূত্র, স্তন্যপান, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর চিৎকার করা ইত্যাদি বিষয় সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শুধুমাত্র নারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে এবং এক্ষেত্রে একজন ন্যায়নিষ্ঠ নারীই যথেষ্ট।
যদি কেউ স্বচ্ছল থাকার পর দারিদ্রতার হয়ে যাওয়ার দাবি করে, তবে তার সমর্থনে তিনজন পুরুষের সাক্ষ্য শর্তারোপ করা হয়েছে। ক্ববীসাহ বিন মাখারিক এর হাদীসে যাদের জন্য ভিক্ষা করা বৈধ তাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহর রসূল বলেন:
وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُومُ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ: لَقَدْ أَصَابَتْ فُلَانًا فَاقَةٌ
“কোনো ব্যক্তি এমন অভাবী হয়েছে যে, তার বংশের তিনজন জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন লোক সাক্ষ্য দেয় যে, “সত্যিই অমুক অভাবে পড়েছে।”
৯. সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে 'আমি এই মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি' বা 'আমি সরেজমিনে উপস্থিত ছিলাম'- বা این ধরনের শব্দ বলা শর্ত নয়। বরং কেউ যদি বলে, "আমি এমনটি দেখেছি” বা “আমি শুনেছি” অথবা এজাতীয় কিছু যদি বলে, তবে সেটাই যথেষ্ট হবে। কারণ নাবী থেকে এরকম নির্ধারিত কোনো শব্দ শর্তারোপ করার বিষয়ে কোনো বর্ণনা আসেনি।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এই সংক্ষিপ্ত কিতাব একত্রিত করাকে সহজ করে দিয়েছেন। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে তার মুমিন বান্দাদেরকে উপকৃত করেন।

টিকা:
১০০৮ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৬৫৩, ২৬৫৪।
১০০৯ সহীহ মুসলিম, হা. ১০৪৪, ফুআ, ২২৯৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00