📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 বিচার-ফয়সালার পদ্ধতি ও গুণাবলি

📄 বিচার-ফয়সালার পদ্ধতি ও গুণাবলি


বিচারক তার নিকট আসা বিবাদে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে করতে হতে পারেন-
> দুইজন বিবাদকারী তার নিকট উপস্থিত হলে তাদেরকে সামনে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করবেন: তোমাদের কে বাদী? অথবা চুপ থাকবেন যাতে বাদী কথা শুরু করে। অতঃপর তার অভিযোগ শুনবেন।
> সঠিক পদ্ধতিতে অভিযোগ আসলে বিচারক বিবাদীকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার অবস্থান জিজ্ঞাসা করবেন। যদি স্বীকার করে তাহলে তার বিপক্ষে ফয়সালা প্রদান করবেন আর যদি অস্বীকার করে, তাহলে বাদীর কাছে প্রমাণ চাইবেন।
> বাদীর নিকট কোনো প্রমাণ থাকলে তা উপস্থিত করার আদেশ দিবেন, তার সাক্ষ্য শুনে শর্তানুযায়ী ফয়সালা প্রদান করবেন। নিজের ইলম অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করবেন না।
> বাদীর নিকট কোনো প্রমাণ না থাকলে বিচারক তাকে জানাবেন যে, এ বিবাদে তার প্রতিপক্ষের উপর কসম করার অধিকার রয়েছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী:
أَلَكَ بَيِّنَةً؟ قَالَ: لَا ، قَالَ: فَلَكَ يَمِينُهُ
"তোমার নিকটে কোনো প্রমাণ আছে? সে বলল, না। তিনি বললেন: তোমার জন্য কসম রয়েছে।” নাবী আরও বলেন:
البَيِّنَةُ عَلَى المُدَّعِي، وَاليَمِينُ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ
"বাদীর দায়িত্ব সাক্ষী-প্রমাণ উপস্থিত করা এবং বিবাদীর দায়িত্ব শপথ করা।”
> যদি বাদী বিবাদীর কসম গ্রহণ করে নেয় তাহলে বিচারক তাকে কসম করিয়ে ছেড়ে দিবেন। কারণ মূল হুকুম হচ্ছে সে নির্দোষ।
> বিবাদী যদি কসম করা থেকে বিরত থাকে এবং কসম করতে অস্বীকার করে, তাহলে বিচারক বিরত থাকার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ফয়সালা দিবেন। النكول বা বিরত থাকার অর্থ হলো তার কসম করা থেকে বিরত থাকা: বাদীর সত্যবাদীতার প্রমাণ করে এমন প্রকাশ্য ইঙ্গিত। উসমান ও একদল আলেম এ পন্থায় ফয়সালা দিয়েছেন। 'আনহু
অন্য একদল আলেম বলেছেন: বিবাদী কসম থেকে বিরত থাকলে কসম বাদীর কাছে ফিরে আসবে। অতঃপর সে কসম করবে ও ফয়সালার হকদার হবে। বিশেষ করে যদি তার দিকটি শক্তিশালী হয়।
> যদি বিবাদী কসম করে তাহলে বিচারক তাকে মুক্ত করে দিবেন। অতঃপর যদি বাদী পরবর্তীতে তার প্রমাণ পেশ করে তাহলে বিচারক সে অনুযায়ী ফয়সালা দিবেন। কারণ অস্বীকারীর কসম অধিকার নষ্ট করে না বরং তা কেবল ঝগড়া মিটিয়ে দেয়।

টিকা:
১০০২ সহীহ মুসলিম, হা. ২২৫, ফুআ. ১৩৯।
১০০৩ তিরমিযী, হা. ১৩৪১; সুনানুদ দারাকুলী, হা. ৪৩১১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00