📄 বিচার-ফয়সালার পরিচয়, বিধান ও শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল
১. পরিচয়: القضاء শাব্দিক পরিচয়: الحكم বা বিচার, الفصل বা রায়। কোনো কিছুকে দৃঢ় করা ও সে ব্যাপারে নিষ্পত্তি ঘটানো। قضى يقضي قضاء বলা হয় যখন বিচার করা হয় এবং সিদ্ধান্ত বা রায় দেওয়া হয়।
في الاصطلاح : تبيين الحكم الشرعي، والإلزام به، وفصل الخصومات، وقطع المنازعات পারিভাষিক অর্থ: শরীয়তের হুকুম স্পষ্ট করা ও আবশ্যক করে দেওয়া এবং ঝগড়াবিবাদ নিষ্পত্তি ও মীমাংসা করা।
ফয়সালাকে (القضاء) হুকুম নামকরণ করা হয়েছে। কারণ তার মাধ্যমে জুলুম থেকে বাধা প্রদান করা হয়। এটি الحكمة বা আল-হিকমাহ শব্দ থেকে গৃহীত যা লোনো জিনিসকে তার উপযুক্ত স্থানে রাখা আবশ্যক করে।
২. বিচার-ফয়সালার হুকুম ও হিকমাহ: এটা ফরযে কিফায়াহ। যদি যথেষ্ট পরিমাণ ব্যক্তি এর তত্ত্বাবধান করে তাহলে বাকিরা গুনাহমুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি সকল সৎ ব্যক্তি এ থেকে বিরত থাকে তাহলে সবাই গুনাহগার হবে। কেননা বিচার-ফয়সালা ছাড়া মানব সমাজের বিষয়াদি ঠিক থাকবে না। বিচার-ফয়সালা করা বড়ো নৈকট্যের কাজ। কারণ এর মাধ্যমে নির্যাতিতদের সাহায্য করা, হদ্দ প্রতিষ্ঠা, অধিকারীকে তার অধিকার প্রদান করা, মানুষের মাঝে সংশোধন করা এবং ঝগড়া বিবাদ মীমাংসা করা হয়; যাতে নিরাপত্তার পথ সুগম হয় এবং অনিষ্টতা কমে যায়।
এ জন্যই ইমামের (শাসক) উপর আবশ্যক হলো, প্রয়োজন ও জনস্বার্থ অনুযায়ী বিচারক নিয়োগ দেওয়া, যাতে হক নষ্ট না হয় ও অত্যাচার ছড়িয়ে না পড়ে। যে যোগ্য ব্যক্তি এ কাজে প্রবেশ করবে এবং তা বাস্তবায়ন করবে, তার জন্য রয়েছে বিরাট ফযীলত। পক্ষান্তরে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যদি তাতে প্রবেশ করে তার হক আদায় না করে তাবে তার জন্য রয়েছে বিরাট পাপ।
৩. বিচার-ফয়সালা শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল: তার দলীল হচ্ছে কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা। কুরআন থেকে বিচার-ফয়সালা শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল: আল্লাহ তা'আলার বাণী: يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ)
“হে দাউদ! নিশ্চয় আমরা তোমাকে জমিনে খলীফা বানিয়েছি। অতএব মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার করো।” [সুরা সা-দ: ২৬]
সুন্নাহ থেকে দলীল: নাবী এর বাণী: إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرُ
“কোনো বিচারক ইজতিহাদ তথা বিচার-বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছলে তার জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে। আর কোনো বিচারক ইজতিহাদ তথা বিচার-বিশ্লেষণে ভুল করলে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।"
নাবী নিজে বিচারকের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন ও বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে সাহাবায়ে কিরাম ও সালাফে সালেহীনের অন্যতম দায়িত্ব ছিল এটি।
ইজমা থেকে দলীল: সকল মুসলমান বিচারকদের দ্বায়িত্ব পালন ও মানুষের মাঝে বিচার-ফয়সালার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
টিকা:
১০২৬ 'মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৭৩৫২; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৭১৬।
📄 বিচারকের শর্ত
যে ব্যক্তি বিচারকের দায়িত্ব পালন করবে, তারজন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলি আরোপ করা হয়:
১. মুসলিম হওয়া: ন্যায়বিচার করার জন্য ইসলাম শর্ত। পক্ষান্তরে কাফের ন্যায়পরায়ণ (আদেল) নয়। অনুরূপভাবে কাফেরকে বিচারকের দ্বায়িত্ব দেওয়া তার জন্য সম্মানের ব্যাপার অথচ কাম্য হচ্ছে তাকে হেয় করা।
২. দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়া: অর্থাৎ (বালেগ ও আকেল) প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হওয়া। কেননা শিশু ও পাগল দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নয় বরং তারা অন্যের অভিভাবকত্বে রয়েছে।
৩. স্বাধীন হওয়া: কেননা দাস তার মনীবের হক আদায়ে ব্যস্ত এবং তার কোনো কর্তৃত্ব নেই। সুতরাং সে মহিলার ন্যায় বিচার-ফয়সালার যোগ্য নয়।
৪. পুরুষ হওয়া: মহিলা বিচার-ফয়সালার দায়িত্ব নিতে পারবে না। কারণ সে কর্তৃত্বের যোগ্য নয়। নাবী বলেছেন: لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمُ امْرَأَةَ
"এমন জাতি কখনো সফলতা হতে পারবে না যারা তাদের নেতৃত্বের দায়িত্ব মহিলাকে দিবে। "
৫. ন্যায়পরায়ণ হওয়া: কোনো ফাসেককে এ দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। আল্লাহ তা'আলার বাণী: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا
"হে ঈমানদারগণ! যদি তোমাদের নিকট কোনো ফাসেক সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই-বাচাই করো।” [সূরা হুজুরত: ৬]
যেহেতু তার সংবাদই গ্রহণ করা হয় না, সেহেতু তার বিচার গ্রহণ না করাটা আরও অধিক যুক্তিযুক্ত।
৬. দুরারোগ্য ব্যধি থেকে মুক্ত থাকা: যেমন: বধির, অন্ধ এবং বোবা। কেননা এসব বিকলাঙ্গতার কারণে বিচারক ঝগড়া-বিবাদের ফয়সালা করতে সক্ষম হবে না। আর চোখের ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে দেখতে পাওয়া।
৭. যে বিষয়ে ফয়সালার দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেসব বিষয়ে শরীয়তের হুকুম-আহকাম জানা থাকা: যদিও তা তার মাযহাবে সীমাবদ্ধ হয়। যে মাযহাবে সে ইমামাদের মধ্য থেকে কোনো একজন ইমামের তাক্বলীদ করে থাকে তবুও।
টিকা:
১০২৭ সহীহুল বুখারী, হা. ৭৩৫২।
📄 বিচারকের শিষ্টাচার ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তারজন্য কী থাকা উচিত এবং কী উচিত নয়
১. বিচারকের উচিত অহংকার ও রুঢ়তাহীন শক্তিশালী ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হওয়া: এমন কোমল হওয়া যা দুর্বলতা নয়, যেন শক্তিশালী ব্যক্তি তার বাতিল ফয়সালার প্রত্যাশী না হয় এবং দুর্বল ব্যক্তি তার ন্যায়পরায়নতা থেকে নিরাশ না হয়।
২. ধৈর্যশীল ও সতর্ক হওয়া: যেন বিবাদীদের কথায় রাগান্বিত না হয়। কারণ রাগান্বিত হলে ফয়সালা করতে পারবে না।
৩. বুদ্ধিমান ও সচেতন হওয়া: আমনোযোগী বা উদাসীন হয়ে বিচার করবে না।
৪. বিচারকের সচ্চরিত্র ও তাকওয়াবান হওয়া: আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ থেকে বেঁচে থাকা।
৫. পরিতুষ্ট ও সত্যবাদী হওয়া: অভিমত ও পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত প্রদানকারী হওয়া। আলী বলেন:
لَا يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ الْقَاضِي قَاضِبًا حَتَّى تَكُونَ فِيهِ خَمْسُ خِصَالٍ؛ عَفِيفٌ، حَلِيمٌ، عَالِمٌ بِمَا كَانَ قَبْلَهُ، يَسْتَشِيرُ ذَوِي الْأَلْبَابِ، لَا يَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ
"বিচারকের পাঁচটি গুণাবলী না থাকলে বিচারক হওয়া উচিত নয়। ১. সচ্চরিত্রবান, ধৈর্যশীল, পূর্ববর্তী ঘটনা সম্পর্কে অবগত, জ্ঞানীদের সাথে পরামর্শ করবে, আল্লাহ তা'আলার ক্ষেত্রে কোনো তিরস্কারকারীর তিরষ্কারকে ভয় করবে না। "
৬. বিচারকের জন্য দুইজন বিবাদকারীর কারো সাথে গোপনে কথা বলা হারাম: কারো পক্ষপাতিত্ব করা, তাকে যুক্তি শিখিয়ে দেওয়া অথবা কীভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করবে তা শিখিয়ে দেওয়া বিচারকের জন্য হারাম।
৭. বিচারকের জন্য কঠিন রাগের মুহূর্তে বিচার করা হারাম: নাবী এর হাদীস: صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
لا يَقْضِي الْحَاكِمُ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ
“বিচারক রাগান্বিত অবস্থায় দুইজন ব্যক্তির মাঝে ফয়সালা করবে না।”
সমস্যা, উৎকণ্ঠা, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও অসুস্থতা ইত্যাদি যেসব বিষয় চিন্তাকে বিঘ্ন ঘটায়, সেগুলোকে রাগের উপর কিয়াস করা হয়।
৮. বিচারকের জন্য ঘুষ গ্রহণ করা হারাম: আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
لَعَنَ اللَّهُ الرَّاشِيَ وَالْمُرْتَشِيَ فِي الْحُكْمِ
"আল্লাহ তা'আলা বিচার-ফয়সালার ক্ষেত্রে ঘুষদাতা ও গ্রহীতাকে লানত করেছেন।”
ঘুষ বিচারককে অধিকারীর পক্ষে ন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে অথবা বাতিলপন্থীর পক্ষে বাতিল ফয়সালা প্রদানে বাধ্য করে। এ দুটোই বিরাট অকল্যাণকর।
৯. দুই বিবাদকারীর পক্ষ থেকে অথবা যে-কোনো একজনের পক্ষ থেকে হাদীয়া গ্রহণ করা বিচারকের জন্য হারাম: তবে যদি বিচার কাজের পূর্ব থেকেই হাদীয়া গ্রহণের অভ্যাস থাকে তাহলে সেই হাদীয়া গ্রহণে সমস্যা নেই। এই শর্তে যে, বিচারক উক্ত হাদীয়া প্রদানকারীর পক্ষপাতী হয়ে তার পক্ষে রায় দিবেন না। যদি উল্লিখিত সবকিছু থেকে মুক্ত থাকতে পারে, তাহলে তা তার জন্য উত্তম। বিচার-ফয়সালা ও প্রসিদ্ধতায় প্রভাব ফেলে এমন সকল কাজ থেকে বিচারকের বেঁচে থাকা উচিত। এমনকি ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ার ভয়ে পরিচিত কারো কাছ থেকে নিজে ক্রয়-বিক্রয় করাও উচিত নয়। কেননা ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ভালোবাসা হাদীয়ার মতোই প্রভাব ফেলে। বরং বিচারক এমন প্রতিনিধির মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করবেন যাকে কেউ চিনবে না।
১০. বিচারকের জন্য নিজের ও আত্মীয়দের মাঝে বিচার ফয়সালা করা বৈধ নয়: যাদের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, তাদের বিচার ফয়সালা করাও জায়েয নয়। বিচারক তার শত্রুর বিচার করবেন না। কারণ এসকল অবস্থায় অপবাদের সম্ভাবনা রয়েছে।
১১. বিচারক নিজের ইলম অনুযায়ী বিচার করবেন না: তা তাকে অপবাদের দিকে ধাবিত করবে।
১২. বিচারকের জন্য একজন লেখক রাখা, যিনি ঘটনাসমূহ লিখে রাখবেন: এছাড়াও বিচারক তার প্রয়োজন অনুপাতে রক্ষী, যাকাত আদায়ের অফিসার, দোভাষী রাখতে পারেন, যারা তাকে সহযোগীতা করবে। কারণ বিচারক মানুষের বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তার সহযোগী প্রয়োজন।
১৩. বিচারকের উপর আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রসুলের সুন্নাহ মোতাবেক বিচার ফয়সালা করা আবশ্যক: যদি কিতাব ও সুন্নাহ হতে কোনো ফয়সালা না পান, তাহলে ইজমা দ্বারা ফয়সালা করবেন। যদি ইজমাতে না পান আর বিচারক মুজতাহিদ হন তাহলে ইজতিহাদ করবেন আর যদি মুজতাহিদ না হন তাহলে তার উপর আবশ্যক হচ্ছে কোনো মুফতিকে ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করে সে অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করা।
১৪. সকল বিষয়ে দুইজন বিবাদীর মাঝে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করা বিচারকের উপর ওয়াজিব: উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট চিঠি লিখেন:
وَاسِ بَيْنَ النَّاسِ فِي وَجْهِكَ وَمَجْلِسِكَ وَعَدْلِكَ حَتَّى لَا يَيْأَسَ الضَّعِيفُ مِنْ عَدْلِكَ وَلَا يَطْمَعُ الشَّرِيفُ فِي حَيْفِكَ
"তুমি তোমার সামনে, তোমার মজলিসে এবং তোমার ন্যায়পরায়ণতায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করো। যাতে দুর্বল লোকেরা তোমার ন্যায়পরাণতা থেকে নিরাশ না হয় এবং সম্ভ্রান্ত লোকেরা তোমার অন্যায়ের আকাঙ্ক্ষা না করে।"
টিকা:
১০২৮ দেখুন, ইমাম ইবনে কুদামার আল-মুগনী ১৪/১৭; উমার ইবনু আবদুল আযীয থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ইমাম বায়হাকী ১০/১১০; দেখুন, ইরওয়াউল গালীল৮/২৩৯।
১০২৯ 'মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৭১৫৮; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৭১৭।
১০০০ তিরমিযী, হা ১৩৩৬ এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন; ইবনু মাজাহ, হা. ২৩১৩; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ সুনানুত তিরমিযী, হা. ১০৭৩।
১০০১ সুনানুদ দারাকুতনী, হা. ৪৪৭১ সহীহ সানাদে। দেখুন, ইরওয়াউল গালীল ৮/২৪১।
📄 বিচার-ফয়সালার পদ্ধতি ও গুণাবলি
বিচারক তার নিকট আসা বিবাদে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে করতে হতে পারেন-
> দুইজন বিবাদকারী তার নিকট উপস্থিত হলে তাদেরকে সামনে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করবেন: তোমাদের কে বাদী? অথবা চুপ থাকবেন যাতে বাদী কথা শুরু করে। অতঃপর তার অভিযোগ শুনবেন।
> সঠিক পদ্ধতিতে অভিযোগ আসলে বিচারক বিবাদীকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার অবস্থান জিজ্ঞাসা করবেন। যদি স্বীকার করে তাহলে তার বিপক্ষে ফয়সালা প্রদান করবেন আর যদি অস্বীকার করে, তাহলে বাদীর কাছে প্রমাণ চাইবেন।
> বাদীর নিকট কোনো প্রমাণ থাকলে তা উপস্থিত করার আদেশ দিবেন, তার সাক্ষ্য শুনে শর্তানুযায়ী ফয়সালা প্রদান করবেন। নিজের ইলম অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করবেন না।
> বাদীর নিকট কোনো প্রমাণ না থাকলে বিচারক তাকে জানাবেন যে, এ বিবাদে তার প্রতিপক্ষের উপর কসম করার অধিকার রয়েছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী:
أَلَكَ بَيِّنَةً؟ قَالَ: لَا ، قَالَ: فَلَكَ يَمِينُهُ
"তোমার নিকটে কোনো প্রমাণ আছে? সে বলল, না। তিনি বললেন: তোমার জন্য কসম রয়েছে।” নাবী আরও বলেন:
البَيِّنَةُ عَلَى المُدَّعِي، وَاليَمِينُ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ
"বাদীর দায়িত্ব সাক্ষী-প্রমাণ উপস্থিত করা এবং বিবাদীর দায়িত্ব শপথ করা।”
> যদি বাদী বিবাদীর কসম গ্রহণ করে নেয় তাহলে বিচারক তাকে কসম করিয়ে ছেড়ে দিবেন। কারণ মূল হুকুম হচ্ছে সে নির্দোষ।
> বিবাদী যদি কসম করা থেকে বিরত থাকে এবং কসম করতে অস্বীকার করে, তাহলে বিচারক বিরত থাকার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ফয়সালা দিবেন। النكول বা বিরত থাকার অর্থ হলো তার কসম করা থেকে বিরত থাকা: বাদীর সত্যবাদীতার প্রমাণ করে এমন প্রকাশ্য ইঙ্গিত। উসমান ও একদল আলেম এ পন্থায় ফয়সালা দিয়েছেন। 'আনহু
অন্য একদল আলেম বলেছেন: বিবাদী কসম থেকে বিরত থাকলে কসম বাদীর কাছে ফিরে আসবে। অতঃপর সে কসম করবে ও ফয়সালার হকদার হবে। বিশেষ করে যদি তার দিকটি শক্তিশালী হয়।
> যদি বিবাদী কসম করে তাহলে বিচারক তাকে মুক্ত করে দিবেন। অতঃপর যদি বাদী পরবর্তীতে তার প্রমাণ পেশ করে তাহলে বিচারক সে অনুযায়ী ফয়সালা দিবেন। কারণ অস্বীকারীর কসম অধিকার নষ্ট করে না বরং তা কেবল ঝগড়া মিটিয়ে দেয়।
টিকা:
১০০২ সহীহ মুসলিম, হা. ২২৫, ফুআ. ১৩৯।
১০০৩ তিরমিযী, হা. ১৩৪১; সুনানুদ দারাকুলী, হা. ৪৩১১।