📄 الأيمان বা শপথ পরিচিতি প্রসঙ্গে
আভিধানিক অর্থ: ایمان শব্দটি يمين শব্দের বহুবচন। অর্থ: প্রতিজ্ঞা বা কৃসম। আর কুসমকে يمين বা ডান হাত বলা হয় এজন্য যে, আরবরা যখন কোনো বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করত, তখন তারা একে অপরের ডান হাতে আঘাত (স্পর্শ) করত।
شرعاً: توكيد الشيء المحلوف عليه بذكر اسم الله، أو صفة من صفاته. শরীয়তের পরিভাষায় শপথ: আল্লাহ তা'আলার নাম বা তাঁর কোনো গুণবাচক শব্দ উল্লেখ করে শপথকৃত বিষয়কে দৃঢ়তা প্রদান করা।
📄 শপথের প্রকারভেদ
শপথ সংঘটিত হওয়া বা না হওয়ার দিক থেকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
১. اليمين اللغو বা অনর্থক শপথ: শপথ করার ইচ্ছা ছাড়াই শপথসূচক কথা বলা। যেমন- কোনো ব্যক্তি বলবে, আল্লাহর শপথ! না, এমনটি নয়। আল্লাহর শপথ। হ্যা, এমনটিই। এর দ্বারা সে শপথ উদ্দেশ্য করে না এবং কুসমও না। এ জাতীয় শপথকে اليمين اللغو বা অনর্থক শপথ হিসেবে গণ্য করা হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ
"আল্লাহ তোমাদেরকে অনর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না।" [সূরা মায়িদাহ : ৯]
আয়িশাহ রা. বলেন:
أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ فِي قَوْلِ الرَّجُلِ لَا وَاللَّهِ وَبَلَى وَاللَّهِ وَكَلَّا وَاللَّهِ.
“আল্লাহ তা'আলার বাণী: لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ” এই আয়াতটি ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যে বলে: আল্লাহর শপথ! না, এমনটি নয়। আল্লাহর শপথ! হ্যাঁ, এমনটিই। আল্লাহর শপথ! কক্ষনোই না। "
এ জাতীয় শপথের কোনো কাফফারা নেই। এর জন্য পরকালে পাকড়াও করা হবে না এবং শপথকারীর উপর কোনো পাপ বর্তাবে না।
২. اليمين المنعقدة বা সংঘটিত শপথ:
শপথ করার ইচ্ছে করে দৃঢ়চিত্তে মুখে শপথসূচক কথা বললে তাকে সংঘটিত শপথ বলে। এই শপথটা হতে পারে ভবিষ্যতের কোনো কাজ কিংবা সম্ভাব্য কোনো বিষয়ে। এ জাতীয় শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা আবশ্যক হবে। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেন:
لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَدْتُمُ الْأَيْمَانَ
“আল্লাহ তোমাদেরকে অনর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না, কিন্তু তোমরা দৃঢ়চিত্তে করেছ, এমন শপথের জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন।" [সূরা মায়িদাহ: ৮৯]
৩. اليمين الغموس বা মিথ্যা শপথ:
এ প্রকারের শপথ হচ্ছে, এমন মিথ্যা শপথ যার মাধ্যমে অধিকারসমূহ খর্ব করা হয় অথবা এর দ্বারা ধোঁকা ও খিয়ানত উদ্দেশ্য। অতএব এক্ষেত্রে শপথকারী জেনে-শুনে মিথ্যার উপর শপথ করে। এটি কাবীরা গুনাহসমূহের অন্যতম। এ শপথ কার্যকর হবে না এবং এর কোনো কাফফারা নেই। কেননা এটি কাফফারা দিয়ে (ক্ষমা পাওয়ার) চেয়েও মারাত্মক, কারণ এটি সংঘটিত শপথ নয়। অতএব, اليمين اللغو বা অনর্থক শপথের মতো এতে কোনো কাফফারা নেই। এরূপ শপথ থেকে তাওবা করা এবং এর দ্বারা যদি কারো হক নষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে হকদারের হক তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। এ জাতীয় শপথকে غموس বা ডুবন্ত বলা হয় এ কারণে যে, এর মাধ্যমে শপথকারী পাপে, অতঃপর জাহান্নামের আগুনে ডুবে যায়। আমরা আল্লাহর কছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে দলীল হলো আল্লাহ তা'আলার বাণী:
وَلَا تَتَّخِذُوا أَيْمَانَكُمْ دَخَلًا بَيْنَكُمْ فَتَزِلَّ قَدَمٌ بَعْدَ ثُبُوتِهَا وَتَذُوقُوا السُّوءَ بِمَا صَدَدْتُمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَلَكُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
"পরস্পরকে ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তোমরা শপথকে ব্যবহার করো না। তাহলে তোমাদের পা স্থির থাকার পর টলে যাবে। আল্লাহর পথ হতে বাঁধা প্রদানের কারণে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে এবং তোমাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [সূরা নাহল: ৯৪]
এ ব্যাপারে ইবনু উমার থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রসূল বলেন: الكبائر : الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ، وَاليَمِينُ الغَمُوسُ
“কবীরাগুনাহগুলো হলো: আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কোনো (নিরাপরাধ) ব্যক্তিকে হত্যা করা এবং মিথ্যা শপথ করা।”
আবু হুরায়রা হতে অপর বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ বলেন: خمْسٌ لَيْسَ لَهُنَّ كَفَّارَةُ: الشَّرْكُ بِاللَّهِ وَقَتْلُ النَّفْسِ بِغَيْرِ حَقٌّ وَبَهْتُ مُؤْمِنٍ وَفِرَارٌ يَوْمَ الزَّحْفِ وَيَمِينُ صَابِرَةٌ يَقْتَطِعُ بِهَا مَالًا بِغَيْرِ حَقٌّ
"পাঁচটি বিষয়ে কোনো কাফফারা নেই। আল্লাহর সাথে শরীক করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, মু'মিন ব্যক্তির উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া এবং মিথ্যা কসম করা, যার দ্বারা অন্যায়ভাবে মাল আত্মাসাৎ করা হয়। "
টিকা:
৯৪২ সহীহুল বুখারী, হা. ৪৬১৩।
৯৪৩ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৬৭৫।
৯৪৪ এটা মিথ্যা শপথ। এই নামে নামকরণ করার উদ্দেশ্য: صابرة শব্দটি الصبر থেকে গৃহীত হয়েছে। যার অর্থ বন্দীত্ব ও বাধ্যবাধকতা। কেননা এই শপথকারী নিজেকে এর উপর সীমাবদ্ধ করে এবং বন্দী করে নেয়। হুকুমের দিক থেকে এটি তারজন্য সহজাত।
৯৪৫ আহমাদ ২/৩৬২, শাইখ আলবানী হাদীসটিকে 'হাসান' বলেছেন, ইরওয়া নং ২৫৬৪।
📄 শপথের কাফফারা এবং তা ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ
১. শপথের কাফফারা: আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য শপথ ভঙ্গের কাফফারার বিধান দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তারা শপথ হতে মুক্ত হতে পারে এবং তা ভঙ্গ করতে পারে। আর এটা বান্দাদের প্রতি তাঁর দয়াস্বরূপ। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةً أَيْمَانِكُمْ
"আল্লাহ তোমাদের জন্য শপথ ভঙ্গের কাফফারা আবশ্যক করে দিয়েছেন।" [সূরা তাহরীম: ২]
আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ، فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، فَلْيَأْتِهَا، وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ “যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে শপথ করে অতঃপর দেখে যে, অন্যটি এর চেয়ে উত্তম, তাহলে সে যেন উত্তমটিই বাস্তবায়ন করে এবং তার শপথের কাফফারা প্রদান করে।”
আর এই কাফফারা ঐ ব্যক্তির উপর আবশ্যক হবে, যখন সে শপথ ভঙ্গ করবে এবং যে বিষয়ে শপথ করেছিল তা বাস্তবায়ন না করবে।
শপথের কাফফারা আদায়ের ক্ষেত্রে (নির্ধারিত কাফফারা'র যে-কোনো একটি আদায় করার) ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে ও ধারাবাহিকতা রক্ষার বিধানও আছে। অতএব যার উপর শপথের কাফফারা আবশ্যক তার জন্য স্বাধীনতা রয়েছে যে, সে দশজন মিসকিনকে অর্ধ সা' করে খাবার খাওয়াবে, অথবা দশজন মিসকিনকে কাপড় পরিধান করাবে, যা তাদের সালাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট হবে। অথবা দোষ-ত্রুটিমুক্ত একজন মুমিন দাসী আজাদ করবে। আর যে ব্যক্তি উল্লিখিত তিনটি পদ্ধতির কোনোটিতেই সক্ষম নয়, সে তিনদিন সিয়াম পালন করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَدْتُمُ الْأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ
"অনর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তোমরা দৃঢ়ভাবে যে সমস্ত শপথ করো, সেগুলো ভঙ্গ করার কারণে তিনি তোমাদেরকে পাঁকড়াও করবেন। অতএব, তার কাফফারা হলো, দশজন মিসকিনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়ানো, যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে খাইয়ে থাকো। অথবা তাদেরকে কাপড় পরিধান করানো। অথবা একজন মুমীন দাসী আজাদ করা। যে ব্যক্তি এগুলোতে সক্ষম নয়, সে (একাধারে) তিনদিন সিয়াম পালন করবে।” [সূরা মায়িদাহ: ৮৯]
এখানে শপথের কাফফারা দেওয়াকে ইচ্ছার স্বাধীনতা ও ধারাবাহিকতার সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যক্তির স্বাধীনতা রয়েছে খাদ্য খাওয়ানো, পোষাক পরানো অথবা দাসী আজাদ করার ক্ষেত্রে এবং এ তিনটি বিষয় অক্ষম হলে ধারাবাহিকভাবে সিয়াম রাখার বিধান করা হয়েছে।
২. শপথের কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ:
যখন কোনো ব্যক্তি শপথ ভঙ্গ করবে এবং তা আদায় করবে না, তখন তিনটি শর্ত ছাড়া তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে না। আর সেগুলো হলো:
প্রথম শর্ত: শপথটি বাস্তবায়নযোগ্য হতে হবে। তা এভাবে যে, শপথকারী তা ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের দৃঢ় সংকল্প করবে। যেমনটি বর্ণনা আগে অতিবাহিত হয়েছে। আর আল্লাহর সত্তাগত নাম, অথবা তাঁর গুণবাচক নামসমূহের কোনো একটি নাম কিংবা সিফাতসমূহের কোনো একটি সিফাতের নামে শপথ না হলে, সেটি শপথ বলে গণ্য হবে না। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَدْتُمُ الْأَيْمَانَ﴾
"অনর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তোমরা দৃঢ়ভাবে যে সমস্ত শপথ করো, সেগুলো ভঙ্গ করার কারণে তিনি তোমাদেরকে পাঁকড়াও করবেন।” [সুরা মায়িদা: ৮৯]
অত্র আয়াত প্রমাণ করে যে, সংঘটিত শপথ হলেই কেবল কাফফারা আবশ্যক হবে। পক্ষান্তরে যার যবান দ্বারা উদ্দেশ্যবিহীন শপথ উচ্চারিত হবে, তা শপথ বলে গণ্য হবে না। আর এরূপ শপথের কোনো কাফফারা নেই।
দ্বিতীয় শর্ত: শপথকারী স্বেচ্ছায় শপথ করবে। অতএব, যে ব্যক্তি বাধ্য হয়ে শপথ করে, তার শপথটি সংঘটিত শপথ হিসেবে গণ্য হবে না এবং তাতে তার উপর কোনো কাফফারা নেই। কেননা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
رُفِعَ عَنْ أُمَّتِي الخطأ والنِّسْيَانَ وَمَا استكرهوا عليه.
"আমার উম্মত হতে ভুল, ভুলে যাওয়া এবং যে জিনিসে বাধ্য করা হয়, তা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। " (অর্থাৎ এ তিন অবস্থায় কোনো ভুল হলে তার জন্য কোনো শাস্তির বিধান নেই।)
তৃতীয় শর্ত: শপথ ভঙ্গ করবে এমন কাজ করার মাধ্যমে, যা সে পরিত্যাগ করার ব্যাপারে শপথ করেছিল। অথবা এমন কাজ না করার মাধ্যমে, যা করার ব্যাপারে শপথ করেছিল। আর এ সময় শপথের করা তার স্মরণে থাকতে হবে এবং নিজ ইচ্ছায় শপথ ভাঙ্গতে হবে। পক্ষান্তরে ভুলে শপথ ভেঙ্গে ফেললে কিংবা তাকে শপথ ভাঙ্গতে বাধ্য করা হলে, উপর্যুক্ত হাদীসের আলোকে তার উপর কোনো কাফফারা নেই।
শপথে ইন-শা-আল্লাহ বলা: যে ব্যক্তি শপথ করার সময় إِن شاء الله অর্থাৎ আল্লাহ যদি চান বলবে, অতঃপর যদি সে শপথ ভঙ্গ করেও, তাহলে তার উপর শপথ ভঙ্গের বিধান নেই এবং কাফফারাও নেই। কেননা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: من حلف فقال : إِنْ شَاءَ اللهُ لَمْ يَحْنَتْ “যে ব্যক্তি শপথ করার সময় বলবে: إِن شاء الله (যদি আল্লাহ চান!) তাহলে তার শপথ ভঙ্গ হবে না। "
শপথ ভঙ্গ করা ও তাতে আবশ্যকীয় বিষয় পূর্ণ না করা: শপথকারী তার শপথকে পূর্ণ করবে, এটাই মূল কথা। কিন্তু কখনো কোনো বিশেষ কারণে অথবা প্রয়োজনে শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা আদায়ের বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। শপথকৃত বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করে শপথ ভঙ্গ করাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো হলো:
১. যে শপথ ভঙ্গ করা আবশ্যক: যখন কোনো ব্যক্তি ওয়াজিব কাজ পরিত্যাগ করার উপর শপথ করবে। যেমন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে শপথ করা অথবা কোনো হারাম কাজ করবে বলে শপথ করা। উদাহরণস্বরূপ কোনো ব্যক্তি শপথ করল যে, সে অবশ্যই মদ পান করবে। এই অবস্থায় শপথ ভঙ্গ করা তার উপর ওয়াজিব। আর তার উপর কাফফারা প্রদান করা আবশ্যক। কারণ সে পাপকাজের শপথ করেছিল।
২. যে শপথ ভঙ্গ করা হারাম: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ওয়াজিব কাজ করার ব্যাপারে কিংবা কোনো হারাম কাজ পরিত্যাগের ব্যাপারে শপথ করে, তবে তার জন্য শপথ পূর্ণ করা আবশ্যক এবং শপথ ভঙ্গ করা তারজন্য হারাম। এ কারণে যে, তার শপথ ছিল আল্লাহ যা তার উপর আবশ্যক করেছেন, তা আদায়ে দৃঢ়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে।
৩. যে শপথ ভঙ্গ করা বৈধ: সাধারণ কোনো বৈধ কাজ করা বা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে শপথ করবে।
টিকা:
৯৪৬ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৬৭২২; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৫০।
৯৪৭ ইবনু মাজাহ, হা, ২০৪৩; বায়হাকী এবং তিনি সহীহ বলেছেন। শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া, নং ৮২।
৯৪৮ তিরমিযী, হা. ১৫৩২; আহমাদ ২/৩০৯; ইমাম আলবানী 'সহীহ' বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী।
📄 কিছু বৈধ ও নিষিদ্ধ শপথের স্বরূপ
বৈধ শপথ হলো, যেখানে আল্লাহর নাম বা তাঁর সিফাতসমূহের কোনো একটি সিফাত দ্বারা শপথ করা হয়। যেমন সে বলবে: আল্লাহর শপথ অথবা আল্লাহর মুখমণ্ডলের শপথ অথবা আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ত্বের শপথ ইত্যাদি। ইবনু উমার-এর হাদীসে এসেছে-
أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدْرَكَ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ، وَهُوَ يَسِيرُ فِي رَكْبٍ، يَحْلِفُ بِأَبِيهِ، فَقَالَ: «أَلَا إِنَّ اللهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَصْمُتْ
"রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার উমারকে এমন অবস্থায় পেলেন যে, তিনি আরোহীতে চলন্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং তার পিতার নামে শপথ করছেন, তখন তিনি বললেন: জেনে রেখো! আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃ-পুরুষের নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি শপথ করবে, সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে।” ইবনু উমার-এর অপর হাদীসে এসেছে। তিনি বলেন,
كَانَتْ يَمِينُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا وَمُقَلِّبِ القُلُوبِ "রাসূল এর শপথ এরূপ ছিল )لا ومقلب القلوب( অর্থাৎ অন্তর পরিবর্তনকারীর শপথ! না কক্ষনোই নয়।”
অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি যদি বলে, 'আল্লাহর নামে শপথ করছি যে আমি অবশ্যই এ কাজটি করব।' সে যদি এর দ্বারা শপথ উদ্দেশ্য করে থাকে, তাহলে তা শপথ হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴾وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ﴿ "আর তারা আল্লাহর নামে দৃঢ় শপথ করে।" [সূরা আনআম: ১০৯]
কতিপয় নিষিদ্ধ শপথ:
১. আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করা। যেমন এমনটি বলা যে, তোমার জীবনের শপথ! আমানতের শপথ ইত্যাদি। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার-এর হাদীসে এসেছে, নাবী বলেন:
مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَصْمُتْ "যে ব্যক্তি শপথ করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে।”
২. এই শপথ করা যে, সে ইহুদি অথবা খৃষ্টান অথবা সে আল্লাহ থেকে মুক্ত অথবা সে আল্লাহর রসূল থেকে মুক্ত: যদি সে এমন করে, তাহলে তার কথাই বাস্তবায়ন হবে। বুরায়দা রা: তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। নাবী বলেন: مَنْ حَلَفَ فَقَالَ: إِنِّي بَرِيءٌ مِنَ الْإِسْلَامِ، فَإِنْ كَانَ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ: وَإِنْ كَانَ صَادِقًا فَلَنْ يَرْجِعَ إِلَى الْإِسْلَامِ سَالِمًا “যে ব্যক্তি শপথ করে বলে যে, আমি ইসলাম থেকে মুক্ত। সে যদি এ শপথে মিথ্যা বলে, তাহলে সে যেভাবে বলেছে সেভাবেই গণ্য হবে। আর সে যদি শপথে সত্যবাদী হয়, তাহলে সে কক্ষনো নিরাপদে ইসলামে ফিরে আসতে পারবে না।”
৩. বাপ-দাদা ও তাগুতের নামে শপথ করা। আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ-এর হাদীস। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: لَا تَحْلِفُوا بِالطَّوَاعِي، وَلَا بِآبَائِكُمْ "তোমরা তাগুতসমূহ ও বাপ-দাদা'র নামে শপথ করো না।”
টিকা:
৯৪৯ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৬২৭০; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৪৬।
৯৫০ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৬২৮।
৯৫১ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা, ৬২৭০; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৪৬।
৯৫২ সুনান আবু দাউদ, হা. ৩২৫৮; নাসাঈ ৬/৭; ইমাম আলবানী 'সহীহ' বলেছেন, সহীহ সুনানুন নাসাঈ, নং ৩৫৩২।
৯৫৩ সহীহ মুসলিম, হা. ৪১৫৪, ফুআ, ১৬৪৮।