📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ধর্মত্যাগ সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়সমূহ

📄 ধর্মত্যাগ সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়সমূহ


ভাবগাম্ভীর্য অথবা রসিকতা অথবা বিদ্রূপের ছলে ধর্মত্যাগ সাব্যস্ত হয় এমন কোনো কাজ করলে ধর্মত্যাগ সাব্যস্ত হবে। সকল ধরনের শিরকী কাজে জড়িয়ে যাওয়া, সলাত অথবা ইসলামের অন্যান্য রুকন অস্বীকার করা, আল্লাহ এবং তাঁর রসূলকে গালি দেওয়া, সম্পূর্ণ কুরআন অথবা তার কিয়দাংশ অস্বীকার করা, সীমালংঘনকারী সুফীদের ন্যায় এই বিশ্বাস করা যে, কিছু কিছু মানুষের জন্য মুহাম্মাদ এর শরীয়ত থেকে বের হওয়া জায়েয। অনুরূপ মুশরিকদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করা। এ ছাড়াও মুরতাদ হওয়ার আরও অনেক বিষয় রয়েছে, যা ইসলাম ভঙ্গের কারণসমূহের কোনো একটি কারণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়। তার মধ্য হতে: ইসলামী শরীয়ত যা নিয়ে এসেছে তার থেকে দুনিয়ার বিচার-ফয়সালাকে অধিক উপযুক্ত মনে করা বা এর সমান মনে করে বিচারকার্য পরিচালনা করা।
এর উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, যে সমস্ত কাজের মাধ্যমে মানুষ মুরতাদ হয়ে যায় তা কয়েকটি জিনিসের মাঝে সীমাবদ্ধ। সেগুলো হলো:
১. কথার মাধ্যমে: যেমন আল্লাহ তা'আলা, তার রসূল বা তার ফেরেশতাগণকে গালি দেওয়া অথবা নবুয়ত বা অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করে। তেমনিভাবে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন করা।
২. কাজের মাধ্যমে: যেমন মূর্তি বা কবরকে সাজদাহ করা। অথবা কুরআন ছুড়ে ফেলা বা ইচ্ছা করে কুরআনকে অপমান করা। অথবা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সাহায্য করা ইত্যাদি।
৩. বিশ্বাসের মাধ্যমে: যেমন আল্লাহর সাথে অন্য কেউ শরীক আছে, অথবা তার স্ত্রী-সন্তান আছে এমন বিশ্বাস করা। অথবা ব্যভিচার করা বা মদ খাওয়া বৈধ, বা নাবী ছাড়া অন্য কারো পদর্শিত জীবনব্যবস্থা অধিক বেশি পরিপূর্ণ এমন বিশ্বাস রাখা।
৪. সন্দেহের মাধ্যমে: যেমন যে বিষয়টি হালাল হিসেবে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেন সেটাকে হারাম বলে সন্দেহ করা। বা যে বিষয়টি হারাম হিসেবে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেন সেটাকে হালাল হিসেবে সন্দেহ করা। এ উদাহরণটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মুসলিমদের মাঝে বেড়ে উঠেছে, ফলে তার সে বিষয়টি অজানা নয়।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ধর্মত্যাগী হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত বিধিবিধান

📄 ধর্মত্যাগী হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত বিধিবিধান


১. যে ব্যক্তি বাধ্য হয়ে মুরতাদ হওয়ার শব্দ উচ্চারণ করে, তাকে মুরতাদ বলে হুকুম দেওয়া যাবে না। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌ بِالْإِيمَانِ “তবে যে ব্যক্তিকে বাধ্য করা হয়েছে, অথচ তার অন্তর ঈমানের উপর স্থির থাকে।” [সূরা নাহল: ১০৬]
২. মুরতাদকে তিন দিন তাওবা করার সুযোগ দেওয়া হবে। সে তাওবা করলে ভালো, নয়তো তাকে হত্যা করতে হবে। আর তাকে হত্যা করার বিষয়টি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল বা স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তির উপর বর্তাবে।
৩. মুরতাদকে তার মাল লেনদেন করা থেকে বাধা প্রদান করা হবে। অতঃপর যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তার সম্পদ তাকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। আর সে যদি মুরতাদ অবস্থায় মারা যায় বা তাকে শাস্তি স্বরূপ হত্যা করা হয়, তাহলে তার সম্পদ মুসলিমদের বায়তুল মালে (কোষাগারে) মালে ফায় হিসেবে জমা হবে। কেননা তার কোনো ওয়ারিস নেই। কারণ মুসলিম ব্যক্তি কাফেরের ওয়ারিস হবে না এবং কাফের ব্যক্তি মুমিনের ওয়ারিস হতে পারবে না। কেননা মুরতাদ অবস্থায় তাকে (সম্পদ ব্যবহারের) অনুমতি দেওয়া হয় না।
৪. মুরতাদকে গোসল দেওয়া হবে না, তার জানাযার সলাত আদায় করা হবে না এবং তাকে মুসলিমদের কবরস্থানেও দাফন করা যাবে না, যদি তাকে ধর্মত্যাগের কারণে হত্যা করা হয়।
৫. দুই শাহাদাত পাঠের মাধ্যমে মুরতাদ ব্যক্তির তাওবা গ্রহণ করা হবে। কারণ আল্লাহর রসূল হাদীসে বলেন:
أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا
"আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা বলে: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই)। অতএব তারা যখন এটা বলবে, তখন তারা তাদের রক্ত ও সম্পদকে আমার থেকে বাঁচিয়ে নিবে। তবে তার (কালিমার) হক বাকি থাকবে।"
আর যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো বিষয়কে অস্বীকার করার কারণে মুরতাদ হয়ে যাবে, তার তাওবার জন্য শাহাদাতের সাথে দুটি বিষয় স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রথমতঃ দ্বীনের যে বিষয়টি অস্বীকার করেছিল, তার স্বীকৃতি দিবে। দ্বিতীয়তঃ সে যা কুফরী করেছিল, তা থেকে ফিরে আসবে।

টিকা:
৯৪১ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৫; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ২১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00