📄 সন্ত্রাসীদের উপর শাস্তি ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্তসমূহ
সন্ত্রাসীদের উপর শাস্তি কার্যকর করার জন্য কিছু শর্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে হতে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত নিম্নরূপ:-
১. শারঈ দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে হবে। অতএব জ্ঞানবান ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া আবশ্যক, যাতে করে ঐ ব্যক্তিকে লুটপাটকারী হিসেবে গণ্য করা যায় এবং তার উপর শাস্তি কার্যকর করা যায়।
তাই নাবালক এবং পাগলকে লুটকারী বলে গণ্য করা হবে না। শরীয়তে তাদের কেউ দায়িত্বপ্রাপ্ত না হওয়ার কারণে তাদেরকে কোনো প্রকার শাস্তি দেওয়া হবে না।
২. তারা প্রকাশ্যভাবে আক্রমণ করতে আসবে এবং জোরপূর্বক সম্পদ নিয়ে নিবে। যদি তারা গোপনীয়তার সাথে সম্পদ গ্রহণ করে, তাহলে তারা চোর। আর যদি তারা ছিনিয়ে নেয় এবং পালায়, তাহলে তারা ছিনতাইকারী, এমন হলে হাত কাটা হবে না।
৩. তারা লুটপাটকারী সাব্যস্ত হতে হবে; চাই তা তাদের স্বীকৃতির মাধ্যমে বা দুইজন ন্যায়পরায়ন ব্যক্তির সাক্ষ্য দানের মাধ্যমে হোক। যেমনভাবে চুরির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
৪. সম্পদটি সংরক্ষিত স্থান থেকে নিয়েছে বলে প্রমাণিত হতে হবে। অর্থাৎ তা তার মালিক থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিবে। যদি সম্পদ কারো হাতে না থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে, তবে তা গ্রহণকারী তখন লুটকারী হিসেবে গণ্য হবে না।
📄 লুটকারীর উপর থেকে শাস্তি বাতিল হওয়া
গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই যদি লুটকারী তাওবা করে, তবে হদ্দ বাতিল হয়ে যাবে। যেমন সে পলায়ন করে বা নিজেকে গোপন করে তাওবা করবে। যেমন আল্লাহ বলেন:
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ)
"তবে যারা ধরা খাওয়ার পূর্বেই তাওবা করবে, তাদের কথা ভিন্ন। আর জেনে রাখো, আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল এবং রহমকারী।" [সূরা মায়িদাহ : ৩৪]
এর ফলে আল্লাহর জন্য যেগুলো ওয়াজিব অথবা আল্লাহর হক-সংক্রান্ত বিষয়গুলো রহিত হয়ে যাবে ঠিকই; যেমন - দেশান্তর, হাত-পা কাটা এবং হত্যা করা। কিন্তু মানবীয় হক (ব্যক্তিগত, পাক্ষিক অথবা সম্পদের অধিকার) ঋণের ন্যায়, যতক্ষণ না দাবিদার ব্যক্তি তা ক্ষমা করে দেয়, তার সাথে ঝুলন্ত থাকবে।
ধরা পরার পর বা বিচারকের নিকট উপস্থিত করার পর যদি তাওবা করে, তাহলে তার উপর থেকে শাস্তি বাতিল হবে না, যদিও সে তার তাওবার ব্যাপারে সত্যবাদী হয়ে থাকে।