📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 লুটতরাজের পরিচয় ও লুটপাটকারীদের শাস্তি

📄 লুটতরাজের পরিচয় ও লুটপাটকারীদের শাস্তি


الحراية শব্দের শাব্দিক অর্থ: الحَرَابَةُ শব্দটি حرب حربًا থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সে তার সমস্ত সম্পদ লুট করেছে। পারিভাষিক অর্থ: البروز لأخذ مال أو لقتل أو لإرهاب، مكابرة، اعتماداً على الشوكة، مع البعد عن مسافة الغوث، من كل مكلف ملتزم للأحكام، ولو كان ذمياً أو مرتدا "সাহায্যের অবকাশহীন দূরবর্তী স্থানে (শহর বা এলাকার বাইরে), বল প্রয়োগপূর্বক সম্পদ ছিনতাই অথবা হত্যা অথবা ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য বিধিনিষেধের দায়বদ্ধ ব্যক্তি কর্তৃক দাম্ভিকতার সাথে, প্রকাশ্যে বের হওয়াকে হারাব বলা হয়। যদিও সে জিম্মি বা ধর্মত্যাগী হয়।” এটাকে ডাকাতি-ও বলা হয়।
লুটতরাজের নির্ধারিত শাস্তি এবং লুটপাটকারীদের জন্য শাস্তি: লুটপাট বা যারা ডাকাতি করে ত্রাস সৃষ্টিকারী, তাদের জন্য শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে দলীল মহান আল্লাহর বানী: إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ)
"যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিশৃঙ্খলা করে বেড়ায়, তাদের আযাব এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শুলে চড়ানো হবে কিংবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশান্তর করা হবে।" [সূরা মায়িদাহ : ৩৩]
লুটতরাজ কর্মের শাস্তি এবং লুটপাটকারীদের শাস্তি অন্যায়ের ভিন্নতা অনুপাতে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যার বর্ণনা নিম্নে আসছে:
> যে তাদের মধ্য থেকে কাউকে হত্যা করে এবং সম্পদ ছিনিয়ে নেয়, তাকে হত্যা করা হবে এবং শুলে চড়ানো হবে, যাতে তার বিষয়টি প্রচার-প্রসার লাভ করে। ওলামাদের ঐকমত্যে তাকে ক্ষমা করা বৈধ না।
> যে তাদের মধ্য থেকে কাউকে হত্যা করে কিন্তু সম্পদ নেয় না, তাকে হত্যা করা হবে, তবে শূলে চড়ানো হবে না।
> যে সম্পদ ছিনিয়ে নিবে কিন্তু হত্যা করবে না, এই ব্যক্তির একইসাথে বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলা হবে।
> যে শুধুমাত্র মানুষকে ভয় দেখায় এবং রাস্তায় বাধা দেয় কিন্তু হত্যা করে না, সম্পদও ছিনিয়ে নেয় না, তাকে দেশান্তর করতে হবে, বিতারিত করতে হবে। সুতরাং তাকে দেশে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।
আর এসব তাদের শাস্তির বিস্তারিত বর্ণনা, যা উপরিউক্ত আয়াতে উল্লিখিত (৩১) শব্দে শাস্তির প্রকার এবং ধারাবহিকতা বুঝানো এবং ঐচ্ছিক স্বাধীনতা না থাকা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে।

টিকা:
১৩৬ ইমাম শাফিয়ী তার মুসনাদে বর্ণনা করেন, নং ২৮২।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সন্ত্রাসীদের উপর শাস্তি ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্তসমূহ

📄 সন্ত্রাসীদের উপর শাস্তি ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্তসমূহ


সন্ত্রাসীদের উপর শাস্তি কার্যকর করার জন্য কিছু শর্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে হতে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত নিম্নরূপ:-
১. শারঈ দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে হবে। অতএব জ্ঞানবান ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া আবশ্যক, যাতে করে ঐ ব্যক্তিকে লুটপাটকারী হিসেবে গণ্য করা যায় এবং তার উপর শাস্তি কার্যকর করা যায়।
তাই নাবালক এবং পাগলকে লুটকারী বলে গণ্য করা হবে না। শরীয়তে তাদের কেউ দায়িত্বপ্রাপ্ত না হওয়ার কারণে তাদেরকে কোনো প্রকার শাস্তি দেওয়া হবে না।
২. তারা প্রকাশ্যভাবে আক্রমণ করতে আসবে এবং জোরপূর্বক সম্পদ নিয়ে নিবে। যদি তারা গোপনীয়তার সাথে সম্পদ গ্রহণ করে, তাহলে তারা চোর। আর যদি তারা ছিনিয়ে নেয় এবং পালায়, তাহলে তারা ছিনতাইকারী, এমন হলে হাত কাটা হবে না।
৩. তারা লুটপাটকারী সাব্যস্ত হতে হবে; চাই তা তাদের স্বীকৃতির মাধ্যমে বা দুইজন ন্যায়পরায়ন ব্যক্তির সাক্ষ্য দানের মাধ্যমে হোক। যেমনভাবে চুরির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
৪. সম্পদটি সংরক্ষিত স্থান থেকে নিয়েছে বলে প্রমাণিত হতে হবে। অর্থাৎ তা তার মালিক থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিবে। যদি সম্পদ কারো হাতে না থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে, তবে তা গ্রহণকারী তখন লুটকারী হিসেবে গণ্য হবে না।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 লুটকারীর উপর থেকে শাস্তি বাতিল হওয়া

📄 লুটকারীর উপর থেকে শাস্তি বাতিল হওয়া


গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই যদি লুটকারী তাওবা করে, তবে হদ্দ বাতিল হয়ে যাবে। যেমন সে পলায়ন করে বা নিজেকে গোপন করে তাওবা করবে। যেমন আল্লাহ বলেন:
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ)
"তবে যারা ধরা খাওয়ার পূর্বেই তাওবা করবে, তাদের কথা ভিন্ন। আর জেনে রাখো, আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল এবং রহমকারী।" [সূরা মায়িদাহ : ৩৪]
এর ফলে আল্লাহর জন্য যেগুলো ওয়াজিব অথবা আল্লাহর হক-সংক্রান্ত বিষয়গুলো রহিত হয়ে যাবে ঠিকই; যেমন - দেশান্তর, হাত-পা কাটা এবং হত্যা করা। কিন্তু মানবীয় হক (ব্যক্তিগত, পাক্ষিক অথবা সম্পদের অধিকার) ঋণের ন্যায়, যতক্ষণ না দাবিদার ব্যক্তি তা ক্ষমা করে দেয়, তার সাথে ঝুলন্ত থাকবে।
ধরা পরার পর বা বিচারকের নিকট উপস্থিত করার পর যদি তাওবা করে, তাহলে তার উপর থেকে শাস্তি বাতিল হবে না, যদিও সে তার তাওবার ব্যাপারে সত্যবাদী হয়ে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00