📄 চুরির শাস্তির ক্ষেত্রে সুপারিশ এবং চোরকে চুরিকৃত সম্পদ দিয়ে দেওয়া
১. চুরির শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করা: বিচারকের নিকট চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া বা তার নিকট পৌঁছার পর চুরির শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করা জায়েয নেই। এমনকি অন্যান্য শাস্তির ব্যাপারেও না। কারণ মাখজুম গোত্রের একজন মহিলা যে চুরি করেছিল, তার ব্যপারে উসামা বিন যায়েদ যখন সুপারিশ করার ইচ্ছা করলেন, তখন নাবী বললেন:
أَتَشْفَعُ فِي حَدٍ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ তুমি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করছো? এই ব্যাপারে হুদুদ অধ্যায়ের প্রথম দিকে অনেক কথা অতিক্রম হয়েছে।
২. চোরকে চুরিকৃত সম্পদ দান করে দেওয়া: চোরকে চুরিকৃত সম্পদের কিছু অংশ হেবা বা দান করে দেওয়া এবং উক্ত বিষয়টি বিচারকের নিকট উপস্থাপন এর পূর্বেই যার সম্পদ চুরি করা হয়েছে, চোরকে তার পক্ষ থেকে ক্ষমা করা জায়েয। পক্ষান্তরে বিষয়টি বিচারকের নিকট পৌঁছে গেলে আর জায়েয হবে না। সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া এর হাদীস ঐ চোরের
ব্যাপারে যে তার মাথার নিচ থেকে চাদর চুরি করেছিল। অতঃপর যখন সে উক্ত বিষয়টি নাবী এর নিকট উপস্থাপন করল, তখন নাবী তাঁর হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। সাফওয়ান বললেন, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হে আল্লাহর রসূল! চুরিকৃত চাদরটি তাকে দিয়ে দিলাম। একথা শুনে নাবী বললেন:
هَلَّا قَبْلَ أَنْ تَأْتِيَنِي بِهِ "আমার কাছে তাকে নিয়ে আসার পূর্বে কেন তা করলে না?”
টিকাঃ
৯৩০ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩৪৭৫; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৮৮।
৯৩১ নাসাঈ, হা. ৪৮৮৪; আহমাদ ৬/৪৬৬ সহীহ বর্ণনা। শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ২৩১৭।
📄 হাত কাটার পদ্ধতি এবং হাতের কোন স্থান কাটা হবে?
পূর্বে উল্লিখিত শর্তসমূহ যখন পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন হাত কাটা ওয়াজিব। চোরের ডান হাতের তালুর জোড়া (কবজি) পর্যন্ত কেটে দেওয়া হবে। হাত কেটে দেওয়ার পরপরই চোরের হাতে আগুনের ছেক বা তেলে চুবিয়ে দেওয়া হবে অথবা এগুলো ছাড়া এমন মাধ্যম বা উপকরণ ব্যবহার করবে, যা রক্ত বন্ধ করে দেয়। যার ফলে এর ক্ষতস্থান শুকিয়ে যাবে এবং যার হাত কাটা হবে সে মৃত্যু বা ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।
চোর দ্বিতীয়বার আবার চুরি করলে, তার বাম পা কেটে নেওয়া হবে।