📄 অপবাদের শাস্তি আবশ্যক হওয়ার জন্য শর্তসমূহ
অপবাদদাতা এবং অপবাদকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত পূর্ণ হলেই কেবল অপবাদের শাস্তি আবশ্যক হবে। এমনকি সেটা এমন অপরাধে পরিণত হতে হবে যা বেত্রাঘাতের উপযুক্ত।
প্রথমত: অপবাদদাতার ক্ষেত্রে শর্তসমূহ; আর তা হচ্ছে ৫ টি:
১. প্রাপ্তবয়ষ্ক হতে হবে, নাবালকের উপর কোনো শাস্তি নেই।
২. জ্ঞানবান হতে হবে, পাগল বা অর্ধপাগলের উপর কোনো শাস্তি নেই।
৩. অপবাদকৃত ব্যক্তির আসল (ঊর্ধ্বতন) হওয়া যাবে না; যেমন বাবা, দাদা, মা, দাদী। সুতরাং যদি পিতা মাতা তাদের সন্তানকে (ছেলে, মেয়ে বা এর থেকে নিচের দিকের সন্তানের) অপবাদ দেয়, তাহলে তাদের উপর কোনো প্রকার শাস্তি নেই।
৪. স্বেচ্ছায় অপবাদ দিতে হবে। সুতরাং ঘুমন্ত বা বাধ্য হয়ে অপবাদ দেওয়ার উপর কোনো শাস্তি নেই।
৫. অপবাদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে অবগত হতে হবে। সুতরাং যে জানে না তার উপর কোনো হদ্দ নেই।
দ্বিতীয়ত: অপবাদকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত; এগুলোও পাঁচটি:
১. মুসলিম হতে হবে, যে কাফেরকে অপবাদ দেয় তার উপর কোনো প্রকার হদ্দ নেই।
২. বোধশক্তি সম্পন্ন হতে হবে, যে পাগলকে অপবাদ দিবে তার উপর কোনো প্রকার শাস্তি নেই।
৩. প্রাপ্তবয়ষ্ক হতে হবে। অথবা সহবাসে সক্ষম হতে হবে বা উপযুক্ত হবে। সে দশ বছরের ছেলে বা নয় বছরের মেয়ে (অথবা এর বেশি হবে)।
৪. প্রকাশ্যভাবে জিনা থেকে পবিত্র হতে হবে। সুতরাং তার উপর শাস্তি নেই যে পাপী ব্যক্তিকে অপবাদ দেয়।
৫. স্বাধীন হতে হবে। সুতরাং সেই ব্যক্তির উপর শাস্তি নেই যে দাসকে অপবাদ দেয়। নাবী বলেন: مَنْ قَذَفَ تَمْلُوكَهُ بِالزِّنَا ، يُقَامُ عَلَيْهِ الْحَدُّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَ :
“যে ব্যক্তি তার দাসকে জিনার অপবাদ দেয়, কিয়ামতের দিনে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে। তবে যা সে বলেছে তা যদি সঠিক হয়, তাহলে ভিন্ন কথা। ”
ইমাম নাববী বলেন, এখানে একটি বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, দুনিয়াতে কোনো দাসের অপবাদদাতার উপর কোনো প্রকার হদ্দ নেই। এ বিষয়ের উপর সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে দাসের অপবাদদাতাকে শিক্ষামূলক শাস্তি দেওয়া হবে। কারণ দাস বিবাহিত নয়।
ইতঃপূর্বে যা কিছু অবিবাহিত হলো তা থেকে স্পষ্ট হলো যে, অপবাদদাতার উপর হদ্দ কার্যকর করার জন্য অপবাদকৃত ব্যক্তি মুহসিন হতে হবে। আর মহসিন হলো সে মুসলিম, জ্ঞানবান, স্বাধীন, জিনা থেকে পবিত্র, প্রাপ্তবয়স্ক অথবা সহবাসের জন্য উপযুক্ত বয়স হতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহর বাণী: وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ
"যারা সতী-সাধ্বী নারীদের মিথ্যা অপবাদ দেয়..." [সূরা নূর: ৪]
এ থেকে বুঝা যাচ্ছে: ঐ ব্যক্তির উপর বেত্রাঘাত করা যাবে না, যে মুহসিন নয় এমর ব্যক্তির উপর অপবাদ দেয়।
টিকাঃ
৯১৩ সহীহ মুসলিম, হা. ৪২০৩, ফুআ. ১৬৬০।
৯১৪ শারহু সহীহ মুসলিম ১১/১৩১-১৩২।
📄 অপবাদের নির্ধারিত শাস্তির জন্য কিছু শর্তসমূহ
অপবাদের শাস্তি ওয়াজিব হলে বাস্তবায়নের জন্য চারটি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক। তা হলো:
১. অপবাদকৃত ব্যক্তি অপবাদদাতার শাস্তির আবেদন করবে। হদ্দ কার্যকর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার এই আবেদন অব্যাহত থাকবে। কারণ অপবাদের শাস্তি অপবাদকৃত ব্যক্তির অধীনে। সুতরাং হদ্দ বাস্তবায়িত হবে তার দাবি অনুপাতে। অথবা তার ক্ষমার কারণে হদ্দ রহিত হয়ে যাবে। যদি সে অপবাদদাতাকে ক্ষমা করে তাহলে তার উপর থেকে হদ্দ রহিত হবে। তবে ক্ষমা করে দিলেও তাকে শিক্ষামূলক শাস্তি দেওয়া হবে এজন্য যে, যাতে সে পরবর্তীতে এরকম হারাম অপবাদে না জড়ায়।
২. অপবাদদাতা যে বিষয়ে অপবাদ দিয়েছে তা সাব্যস্ত করার জন্য কোনো প্রমাণ নিয়ে আসবে না। আর সেই প্রমাণ হচ্ছে চারজন সাক্ষী। আল্লাহ তা'আলার বাণী:
﴿وَلَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ﴾ "তারা যদি চার জন সাক্ষ্য না নিয়ে আসে, তোমরা তাদেরকে বেত্রাঘাত করো।” [সূরা নূর: ৪]
৩. অপবাদকৃত ব্যক্তিকে যে বিষয়ে তাকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়ে অপবাদদাতাকে সত্যায়িত করবে না এবং সেই বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিবে না। যদি অপবাদকৃত ব্যক্তি স্বীকারোক্তি দেয় এবং অপবাদদাতাকে সত্যায়িত করে, তাহলে কোনো প্রকার শাস্তি নেই। কেননা তার স্বীকারোক্তি অপরাধ সাব্যস্তের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।
৪. অপবাদদাতা ও অপবাদকৃত উভয়ই পরস্পর লিআন করবে না। অপবাদদাতা যদি স্বামী হয় আর স্ত্রীর সাথে লিআন করে তাহলে হদ্দ বাতিল হবে। যেমনটি লিআনের অধ্যায়ে অতিবাহিত হয়েছে।