📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কীসের মাধ্যমে জিনা সাব্যস্ত হবে?

📄 কীসের মাধ্যমে জিনা সাব্যস্ত হবে?


জিনার শাস্তি কার্যকর করার জন্য জিনা সংঘটিত হওয়া আবশ্যক। দুটি বিষয়ের কোনো একটির মাধ্যমে জিনা সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হবে:
প্রথম বিষয়: জিনাকারী নিজেই চারবার স্বীকৃতি প্রদান করবে, যদিও তা ভিন্ন বৈঠকে হয়। কারণ নাবী মায়েজ এবং গামেদীয়াহ এর স্বীকৃতি গ্রহণ করেছেন। আর চারবার স্বীকৃতি শর্ত করা হয়েছে এই কারণে যে, নাবী এর নিকট মায়েজ নিজের পক্ষ থেকে তিনবার স্বীকৃতি দেন। অতঃপর যখন চতুর্থবার স্বীকৃতি দেন তখন তার ওপর শাস্তি কার্যকর করা হয়।
আর স্বীকৃতির মধ্যে স্পষ্টভাবে জিনা ও সহবাসের বাস্তবতা পরিষ্কার হতে হবে। কেননা এমন সম্ভাবনা থাকতে পারে যে, জিনা করার উদ্দেশ্য ছাড়া এমন কিছু উপভোগ করতে চেয়েছে যার কারণে শাস্তি হওয়া আবশ্যক হয় না। নাবী এর নিকট যখন মায়েজ স্বীকৃতি প্রদান করেছিল তখন নাবী তাকে বলেছিলেন: لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ، أَوْ غَمَزْتَ، قَالَ: لَاَ
"সম্ভবত তুমি চুমু খেয়েছে? অথবা একটু স্পর্শ করেছ? সে, বলল না।” বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ার জন্য কয়েকবার তার সাথে পুনরাবৃত্তি করলেন যতক্ষণ না সম্ভাবনা দূর হলো।
হদ্দ এর শাস্তি কার্যকর করা পর্যন্ত তাকে তার স্বীকৃতির উপর অটল থাকতে হবে। সেখান থেকে ফিরে যাবে না। কেননা নাবী মায়েজের নিকট থেকে কয়েকবার স্বীকৃতি নিয়েছেন। সম্ভবত সে তার স্বীকৃতি থেকে ফিরে আসতেও পারে। অতঃপর মায়েজকে যখন পাথর মারা হচ্ছিল এবং সে পালায়ন করতে চাচ্ছিল। তখন নাবী বললেন: هَلًا تَرَكْتُمُوهُ
"তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?”
দ্বিতীয় বিষয়: জিনাকারীর উপর চারজন সাক্ষী জিনার সাক্ষ্য দিবে। আল্লাহ তা'আলার বাণী: لَوْلَا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ "তারা চার জন সাক্ষী উপস্থিত করল না কেন?” [সূরা নূর: ১৩]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةٌ مِنْكُمْ "অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে তাদের জন্য চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে।" [সূরা নিসা: ১৫]
জিনাকারীর উপর সাক্ষীগণের সাক্ষ্য বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত করা হয়েছে:
১. পূর্বে উল্লিখিত আয়াতগুলোর মাধ্যমে বোঝা যায় সাক্ষী চারজন হতে হবে। সুতরাং যদি চারজনের কম হয় তাহলে গ্রহণ করা হবে না।
২. সাক্ষীগণ মুকাল্লাফ ব্যক্তি (অর্থাৎ শরীয়ত কর্তৃক বিধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) ও জ্ঞানবান হতে হবে। সুতরাং নাবালগ বা পাগলদের সাক্ষী গ্রহণ করা হবে না।
৩. ন্যায়পরায়ণ পুরুষ হতে হবে। সুতরাং জিনার শাস্তির ক্ষেত্রে মহিলার সাক্ষী গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা তাদের জন্য সতর্কতা ও সম্মানের কারণ। কেননা ব্যভিচার একটি নিকৃষ্ট কাজ। অনুরূপভাবে ফাসেক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। আল্লাহ তা'আলার বাণী:
وَأَشْهِدُوا ذَوَى عَدْلٍ مِنْكُمْ
"তোমাদের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ তাদেরকে সাক্ষী রাখো।" [সূরা তালাক: ২]
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا
"হে বিশ্বাসীগণ! যখন তোমাদের কাছে ফাসেক ব্যক্তি কোনো বিষয়ে সংবাদ নিয়ে আসে, তোমরা তা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।" [সূরা হুজুরাত : ৬]
৪. সাক্ষীগণ স্বচক্ষে জিনা সংঘটিত হওয়া দেখবে এবং এটি তারা এমন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে যাতে জিনা ছাড়া অন্যান্য হারাম উপভোগের ইচ্ছামূলক সমস্ত সম্ভাবনার বিষয়গুলো দূর হয়ে যায়। সুতরাং তারা বলবে: আমরা তার পুরুষাঙ্গ মহিলার লজ্জাস্থানে ঐভাবে দেখেছি যেমনভাবে কাঠি সুরমাদানিতে দেখা যায়। প্রয়োজনে এরূপ কিছু দেখা বৈধ আছে।
৫. সাক্ষীগণ মুসলিম হওয়া। সুতরাং কাফের ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্ত না হওয়ার কারণে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না।
৬. একই বৈঠকে তারা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে। চাই তারা স্বয়ং ঐ বৈঠকে একত্রে আসবে বা পৃথক হয়ে আসবে।
সুতরাং শর্তসমূহের কোনো একটি ত্রুটিপূর্ণ হলে সমস্ত সাক্ষীদের উপর অপবাদের শাস্তি আবশ্যক হয়ে যাবে। কারণ তারা অপবাদদাতা।

টিকাঃ
৯১০ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৮২৪।
৯১১ তিরমিযী, হা. ১৪২৮; ইবনু মাজাহ, হা. ২৫৫৪ এবং ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন। শাইখ আলবানী বলেন, হাসান সহীহঃ সহীহুত তিরমিযী, হা. ১১৫৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00