📄 ক্বাসামার শর্তসমূহ
১. এ ক্ষেত্রে لوث বিদ্যামান থাকতে হবে অর্থাৎ নিহত ব্যক্তি ও হত্যায় অভিযুক্ত উভয় ব্যক্তির মাঝে প্রকাশ্য শত্রুতা থাকতে হবে। পূর্বে এর অর্থ আলোচনা হয়েছে।
২. হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শরীয়ত কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে হবে। অতএব শিশু ও পাগলকে হত্যার অভিযুক্ত করা সঠিক হবে না।
৩. তেমনিভাবে অভিযুক্তকারী ব্যক্তিকেও শরীয়ত কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে হবে। অতএব শিশু ও পাগলেল অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না।
৪. হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট থাকবে হবে। অতএব, অনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার দাবি গ্রহনযোগ্য হবে না।
৫. হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করার সক্ষমতা থাকতে হবে। অতএব ব্যক্তি যদি ঘটনার স্থান হতে দূরে থাকার কারণে তাকে হত্যা করা সম্ভব না হয়, তবে এ দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।
৬. অভিযোগকারী ব্যক্তির দাবি পরস্পর বিরোধী হবে না।
৭. ক্বাসামার দাবি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত হতে হবে। সুতরাং এভাবে বলতে হবে যে, এ ব্যক্তি আমার অভিভাবক/আত্মীয়-স্বজন অমুক বিন অমুককে ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুল করে হত্যা করেছে এবং হত্যা করার পদ্ধতি সে বর্ণনা করবে।
📄 ক্বাসামার পদ্ধতি
যখন ক্বাসামার শর্তগুলো পূরণ হয়ে যাবে তখন প্রথমে হত্যার অভিযোগকারীদেরকে ডাকা হবে, পঞ্চাশ বার শপথ করতে বলা হবে। নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারের স্তর অনুযায়ী তাদের মাঝে এই ৫০টি শপথ বণ্টন করে দেওয়া হবে। শপথ করে বলবে যে, উমুক ব্যক্তিই তাকে হত্যা করেছে। আর এটা হবে হত্যার অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে। পূর্ববর্তী ইবনু আবী হাছমার হাদীসে আল্লাহর রসূল বলেছেন: أَفَتَسْتَحِقُونَ الدِّيَةَ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْكُمْ : 1 10 MIC WERE
“তোমরা পঞ্চাশ বার শপথ করে রক্তপণ আদায়ের হকদার হবে কী?” মৃত ব্যক্তির ওয়ারিসরা যদি শপথ করতে অথবা পঞ্চাশ বার শপথ পূর্ণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পঞ্চাশ বার শপথ করতে বলা হবে; যদি অভিযুক্তকারীরা এতে সন্তুষ্ট থাকে। পূর্ববর্তী হাদীসে আল্লাহর রসূল বলেছেন: فَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ؟ قَالُوا : لَيْسُوا بِمُسْلِمِينَ
"তবে ইহুদিরা তোমাদের বিরুদ্ধে শপথ করবে কী? তারা বলল: তারা তো মুসলিম নয়।” তারা তাদের শপথে সন্তুষ্ট ছিল না। তবে তারা যদি শপথ করে তবে তারা মুক্তপণ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি অভিযুক্তকারীরা শপথে সন্তুষ্ট না থাকে তবে রাষ্ট্রের নেতা বায়তুল মাল হতে তার রক্তপন পরিশোধ করবেন যেমনটি আল্লাহর রসূল করেছেন। আনসারীরা ইহুদিদের শপথ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি রায়তুল মাল থেকে রক্তপণ আদায় করে ছিলেন। কেননা অভিযোগকারীদের থেকে রক্তপণ আদায়ের কোনো পথই আর থাকে না। সুতরাং, বায়তুল মাল থেকে রক্তপণ আদায় করা আবশ্যক, যাতে করে নিরাপরাধ ব্যক্তির রক্ত মূল্যহীন হয়ে না যায়। আর যে ব্যক্তি মানুষের ভীড়ের মাঝে মারা যাবে, তার দিয়াত/মুক্তিপণ বায়তুল মাল হতে আদায় করা হবে। এ ব্যাপারে আলী হতে একটি আসার বর্ণিত রয়েছে। أنه قال لعمر رضي الله عنه في رجل قتل في زحام الناس بعرفة: (يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَا يُطَلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ ، إِن علمت قاتله، وإلا فأعط ديته من بيت المال)
"একজন ব্যক্তি আরাফার ভীড়ে মারা গেলে তিনি উমার কে বলেন: হে আমীরুল মুমীনিন, মুসলিমের রক্ত অনর্থক বৃথা যাওয়ার নয়। যদি পারেন তবে তার হত্যাকারীকে আপনি খুঁজে বের করুন, নয়তো বায়তুল মাল হতে তার মুক্তিপণ আদায় করে দিন।”
টিকাঃ
৮৯৪ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৮৯৯।
৮৯৫ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৬৮৯৯; সহীহ মুসলিম, হা. ৪২৩৪-৪২৪১, ফুআ. ১৬৬৯।
৮৯৬ আবদুর রাযযাক তার মুসান্নাফে বর্ণনা করেন ১০/৫১; ইবনে আবি শায়বাহ ৯/৩৯৫।