📄 نفقة এর সংজ্ঞা এবং তার প্রকার সমূহ
ক. نفقة এর পরিচয়:
نفقة শাব্দটিকে الإنفاق শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে। এটা মূলত বের করা ও শেষ করার অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং الإنفاق শব্দকে কল্যাণকর বিষয় ছাড়া ব্যবহার করা হয় না।
وشرعاً: كفاية من يَمُونُه بالمعروف قوتاً، وكسوة، ومسكناً، وتوابعها
শারঈ অর্থ: ব্যয় বা ভরণপোষণের অর্থ হলো ন্যায়সংগতভাবে অধীনদেরকে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদির সরবরাহ করা।
খ. نفقات-এর প্রকার:
১. মানুষ তার নিজের উপর খরচ করা; ২. মূল কর্তৃক শাখার উপর খরচ করা; ৩. শাখা কর্তৃক মূলের উপর খরচ করা; ৪. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর উপর খরচ করা।
প্রথম: মানুষ তার নিজের উপর খরচ করা:
ব্যক্তির উপর আবশ্যক হলো নিজের উপর খরচের মাধ্যমে শুরু করা, যদি এতে সক্ষম থাকে। জাবির এর হাদীসের ভিত্তিতে।
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ : أَعْتَقَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عُذْرَةَ عَبْدًا لَهُ عَنْ دُبُر إلى أن قال رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِ : ابْدَأَ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقُ عَلَيْهَا، فَإِنْ فَضَلَ شَيْءٍ فَلأَهْلِكَ، فَإِنْ فَضَلَ عَنْ أَهْلِكَ شَيْءٌ فَلِذِي قَرَابَتِكَ،
"জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু উযরাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে তার মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার কথা দিলেন। ... নাবী তাতে বলেন: "এ অর্থ তুমি প্রথমে তোমার নিজের জন্য ব্যয় করো। তারপর কিছু বাকি থাকলে তোমার পরিবারের লোকদের জন্য তা ব্যয় করো, পরিবারের লোকদের জন্য ব্যয় করার পর কিছু থাকলে অতঃপর তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য ব্যয় করো।"
দ্বিতীয়: মূল কর্তৃক শাখার উপর খরচ করা: পিতা, দাদাদের উপর ওয়াজিব হলো ছেলে এবং তার অধস্তনদের উপর খরচ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
"পিতার কর্তব্য ভালোভাবে তাদের ভরণপোষণ করা।"[সূরা বাক্বারাহ: ২৩৩] পিতার উপর আবশ্যক তার দুধ সন্তানের উপর খরচ করা। আয়িশাহ হতে বর্ণিত হাদীস।
قَالَتْ هِنْدٌ أُمُّ مُعَاوِيَةَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ، فَهَلْ عَلَيَّ جُنَاحٌ أَنْ أَخُذَ مِنْ مَالِهِ سِرًّا؟ قَالَ: «خُذِي أَنْتِ وَبَنُوكِ مَا يَكْفِيكِ بِالْمَعْرُوفِ
"মুআবিয়া -এর মা হিন্দা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, আবু সুফিয়ান (৫) একজন কৃপণ ব্যক্তি। এমতাবস্থায় আমি যদি তার সম্পদ থেকে গোপনে কিছু নিই, তাতে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বললেন: তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গতভাবে নিতে পারো।"
তৃতীয়: শাখা কর্তৃক মূলের উপর খরচ করা: সন্তানের উপর আবশ্যক হলো তার পিতা মাতার উপর খরচ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَصَاحِبُهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا
"পৃথিবীতে তাদের সাথে সদভাবে বসবাস করো।"[সূরা লুকমান: ১৫]
মহান আল্লাহ আরও বলেন: وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا "পিতামাতার সাথে সুন্দর আচরণ করো।" [সূরা ইসরা: ২৩]
আর উভয়ের উপর খরচ করাটাই ইহসান বা দয়ার বহিঃপ্রকাশ। বরং এটা পিতামাতার উপর সবচেয়ে বড়ো ইহসানের অন্যতম। আয়িশাহ হতে বর্ণিত হাদীস।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَطْيَبَ مَا أَكَلَ الرَجُلُ مِنْ كَسْبِهِ، وَإِنَّ وَلَدَ الرَجُلِ مِنْ كَسْبِهِ
"আয়িশাহ হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন: কোনো ব্যক্তির নিজ হাতের উপার্জিত খাদ্য সর্বোত্তম খাদ্য। তার সন্তানও তার উপার্জন বিশেষ।"
উমার ইবনুল আস হতে বর্ণিত। নাবী বলেন: أَنْتَ وَمَالُكَ لِوَالِدِكَ، إِنَّ أَوْلَادَكُمْ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِكُمْ، فَكُلُوا مِنْ كَسْبِ أَوْلَادِكُمْ
"তুমি এবং তোমার সম্পদ উভয়ই তোমার পিতার। তোমাদের সন্তান তোমাদের জন্য সর্বোত্তম উপার্জন। সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন খাবে।"
চতুর্থ: স্ত্রীর উপর খরচ করা: স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভরণপোষণ আবশ্যক। আল্লাহ তা'আলা বলেন- الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ
"পুরুষরা নারীদের অভিভাবক। কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং এজন্য যে, পুরুষ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে।" [সূরা নিসা: ৩৪]
জাবির থেকে বর্ণিত হাদীসে নাবী এর বিদায় হাজ্জের বাণী রয়েছে। তাতে বলেন: وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
"তাদের জন্য ন্যায়সঙ্গত খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করা তোমাদের কর্তব্য।"
ইতঃপূর্বে গত জাবির এর হাদীসে রয়েছে: فَإِنْ فَضَلَ شَيْءٌ فَلأَهْلِكَ "তারপর কিছু বাকি থাকলে তোমার পরিবারের লোকদের জন্য তা ব্যয় করো।"
ইতঃপূর্বে গত আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদীস। তাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাণী রয়েছে: «خُذِي أَنْتِ وَبَنُوكِ مَا يَكْفِيكِ بِالْمَعْرُوفِ» “তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গতভাবে নিতে পারো।”
এমনিভাবে স্বামী স্ত্রীর খাবার, বাসস্থান, বস্ত্র এগুলোর খরচ বহন করবে।
আর এই খরচটি স্ত্রীকে দেওয়া আবশ্যক। রাজয়ী তালাকপ্রাপ্ত নারীর ক্ষেত্রে ইদ্দতে থাকাকালিন সময়ে খরচ দিতে হবে। আর তালাকে বায়িন এর ক্ষেত্রে খরচ দেওয়া ও বাসস্থান আবশ্যক না তবে যদি গর্ববতী হয় তাহলে খরচ দেওয়া আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন:
(وَإِنْ كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ) “তারা গর্ভবতী থাকলে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত তাদের জন্য খরচ করো।” [সুরা তালাক : ৬]
টিকাঃ
৮৫৫ সহীহ মুসলিম, হা. ২২০৩, ফুআ. ৯৯৭।
৮৫৬ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা, ২২১১। সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩৬৯, ফুআ, ১৭১৪।
৮৫৭ তিরমিযী, হা. ১৩৮৫; সুনান আবু দাউদ, হা. ৩৫২৮। নাসাঈ, হা. ৪৪৫১; ইবনে মাজাহ, হা. ২১৩৮ ইআসহ, সহীহন নাসাঈ, হা, ৪১৪৪।
৮৫৮ সুনান আবু দাউদ, হা. ৩৫৩০; ইআসহ, ইরওয়া হা. ৮৩৮।
৮৫৯ সহীহ মুসলিম, হা. ২৮৪০, ফুআ, ১২১৮।
৮৬০ সহীহ মুসলিম, হা. ২২০৩, ফুআ, ৯৯৭।
৮৬১ মুত্তাফাকুন আলাইহি; সহীহুল বুখারী, হা. ২২১১; সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩৬৯, ফুআ. ১৭১৪।
📄 দাস এবং চতুষ্পদ জন্তুর খরচ
১. দাসের উপর খরচ করা: দাসের উপর খরচ করার হুকুম: মনিবের উপর দাসের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের খরচ উত্তমভাবে বহন করা আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন: قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِي أَزْوَاجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ "আমি তাদের স্ত্রী এবং মালিকানাধীন দাসীগণ ব্যাপারে তাদের উপর যা নির্ধারিত করেছি তা অবশ্যই জানি।” (সূরা আহযাব: ৫০)
لِلْمَمْلُوكِ طَعَامُهُ وَكِسْوَتُهُ : "কৃতদাসের জন্য খাওয়া ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করা দায়িত্ব।" তাদের সাথে নরম আচরণ করা এবং সক্ষমতার বাহিরে কোনো কিছু না চাপিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: وَلَا تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ، فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ
"তোমরা তাদের উপর এমন কোনো কাজের ভার চাপিয়ে দিবে না, যা করতে তাদের বোঝা হয়ে যায়। যদি তোমরা তাদেরকে কোনো কষ্টকর কাজ দাও, তাহলে তাদেরকে সাহায্যও করো।"
২. দাসের বিয়ে ও তাকে বিয়ে দেওয়া: যদি দাস বিবাহ করতে চায় তাহলে তার মালিক তাকে বিবাহ দিবে। মহান আল্লাহ বলেন: وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَا بِكُمْ "তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও।"[সুরা নূর: ৩২
কেননা যদি বিবাহ না দেয়, তাহলে তার ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ভয় আছে। আর যখন দাসী বিবাহ করতে চাইবে তখন তার মালিকের বিবাহ দেওয়া ও সহবাস করার মাঝে স্বাধীনতা থাকবে। অথবা তার ক্ষতি দূর করতে বিক্রি করে দিবে।
দ্বিতীয়: চতুষ্পদ জন্তুর খরচ: মালিকের উপর পশুকে খাদ্য দেওয়া, পানি পান করানো এবং তার সকল বিষয় দেখাশোনা করা আবশ্যক। নাবী বলেন: dَخَلَتِ امْرَأَةُ النَّارَ فِي هِرَّةٍ رَبَطَتْهَا ، فَلَا هِيَ أَطْعَمَتْهَا ، وَلَا هِيَ أَرْسَلَتْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ، حَتَّى مَاتَتْ هَزْلًا "এক মহিলা একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে যায়। সে তাকে মজবুত করে আটকে রাখে, তাকে খাবার দেয়নি, পানীয় দেয়নি এবং তাকে মুক্তি দেয়নি যে, জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে। পরিশেষে বিড়ালটি মারা যায়।"
এর থেকে বুঝা যায় যে, প্রাণির উপর খরচ করা আবশ্যক। কারণ মহিলার জাহান্নামে যাওয়ার কারণ প্রাণির উপর খরচ না করা। এমনিভাবে সমস্ত গৃহপালিত পশুর ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য হবে।
যদি মালিক তার উপর খরচ করার ব্যাপারে অক্ষম হয় তাহলে তা বিক্রি করবে অথবা ভাড়া দিবে। যদি খাওয়া যায় তাহলে তা যবেহ করে খাবে। কিন্তু যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয় এবং তার জন্য খরচ না করা হয় তাহলে অন্যায় ও অত্যাচার হবে। আর এই অন্যায় অবশ্যই দূর করতে হবে।
টিকাঃ
৮৬২ সহীহ মুসলিম, হা. ৪২০৮, ফুআ, ১৬৬২।
৮৬৩ সহীহ মুসলিম, হা. ৪২০৫, ফুআ. ১৬৬১।
৮৬৪ সহীহ মুসলিম, হা. ৬৫৭৩, ফুআ, ২৬১৯।