📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 حاضن এর শর্ত ও লালন পালনের প্রতিবন্ধিকতাসমূহ

📄 حاضن এর শর্ত ও লালন পালনের প্রতিবন্ধিকতাসমূহ


১. মুসলিম হতে হবে: সুতরাং কোনো মুসলিমের দায়িত্ব কোনো কাফেরকে দেওয়া বৈধ না। কাফেরের জন্য মুসলিমের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করা জায়েয নেই। কারণ এতে এই ভয় আছে যে, সে তার দ্বীনে ফিতনা সৃষ্টি করবে এবং তাকে মুসলিম থেকে কাফের বানিয়ে ফেলবে।
২. প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবেকবান হতে হবে: ছোটো, পাগল ও জ্ঞানহীন ব্যক্তি এই দায়িত্ব নিতে পারবে না। কেননা তারা এই দায়িত্ব পালনে অক্ষম এবং লালন-পালন করার ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজন মেটাতে অক্ষম।
৩. দ্বীনদারিতা ও পবিত্রতার ক্ষেত্রে আমানত রক্ষা করা: খিয়ানতকারী ও পাপাচারী ব্যক্তির লালনপালনের কোনো অধিকার নেই। কেননা এরা আমানতদার নয়। এছাড়াও শিশু তাদের কাছে থাকলে নিজের এবং তার সম্পদ এর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪. শিশুর সকল দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম থাকতে হবে: সুতরাং বৃদ্ধ, বোবা ও বধির-এর দায়িত্ব নেওয়া সঠিক নয়। অনুরূপভাবে হতদরিদ্র, নিঃস্ব কিংবা একাধিক কাজে ব্যস্ত এমন ব্যক্তিও দায়িত্ব নিতে পারবে না। কারণ এর ফলে তার অধীন শিশুটির সমস্যা হতে পারে।
৫. লালনপালনকারী পাকস্থলীর রোগ থেকে মুক্ত থাকবে: যেমন- কৌষ্ঠরোগ ও অন্যান্য।
৬. সুবোধ সম্পন্ন হতে হবে: নির্বোধ প্রকৃতির লোকদের জন্য লালনপালনের দায়িত্ব নেই; যেন সে ঐ পালনকৃত শিশুর সম্পদ নষ্ট না করতে পারে।
৭. লালনপালনকারী ব্যক্তি স্বাধীন হবে: সুতরাং দাস কর্তৃক দায়িত্ব গ্রহণ ঠিক নয়। কেননা লালনপালন একটি অভিভাকত্ব মূলক কাজ, আর দাস অভিভাবকদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এ শর্তসমূহ পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর মহিলার জন্য আরেকটি শর্ত বেশি রয়েছে: সে ঐ শিশুটিসহ অন্য কোনো অপরিচিত ব্যক্তির কাছে বিবাহিত থাকবে না। কেননা সে তখন তার স্বামীর অধিকার আদায়ে ব্যস্ত থাকবে। রসূল বলেন: أَنْتِ أَحَقُّ بِهِ مَا لَمْ تَنْكِحِي
"যতক্ষণ না তুমি বিবাহ করো, তুমিই অগ্রাধিকার পাবে।" আর এই লালনপালনের দায়িত্বটা বাতিল হয়ে যাবে যদি উল্লিখিত কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে অথবা উল্লিখিত শর্তের কোনো একটি না থাকে।

টিকাঃ
৮৫২ আহমাদ ২/১৮২; দ, হা. ২২৭৬; হাকিম ২/২০৭ এবং তিনি সহীহ বলেছেন; ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, ইরওয়া, নং ২১৮৭

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 حضانة সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ

📄 حضانة সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ


১. যদি শিশুর পিতা-মাতার কেউ লম্বা সফর করে, এতে যদি শিশুর ক্ষতির উদ্দেশ্য না হয়, আর পথ যদি নিরাপদ হয়, তখন পিতা লালনপালনের অতি বেশি হকদার। চাই সে মুসাফির হোক বা মুকীম হোক। কারণ সে ছেলের আদব শেখাতে ও তাকে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে থাকে। অতএব যখন সে দূরে থাকে তখন তার সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।
২. আর সফর যদি কাছাকাছি স্থানে হয় দুরত্ব না হয়ে, তখন দায়িত্ব মা পাবে। চাই সে মুসাফির হোক বা মুক্কিম হোক। কারণ সে অতি স্নেহময়। তার পিতার জন্য উচিত তাকে দেখাশোনা করা ও তার অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা।
আর যদি সফরটি প্রয়োজনে অতি দীর্ঘ হয় এবং পথ নিরাপদ না হয়। উভয়ের মাঝে যে মুকীম সে লালনপালন করবে।
৩. এই লালনপালন ৭ বৎসর পর্যন্ত থাকবে। যখন ৭ বৎসর শেষ হবে তখন পিতামাতার মাঝে আলোচনা সাপেক্ষে ও তার যাকে ভালো লাগে সেই বিষয়টি বিবেচনা করে নির্ধারিত হবে। নাবী এর বাণীর ভিত্তিতে।
هَذَا أَبُوكَ، وَهَذِهِ أُمُّكَ فَخُذْ بِيَدِ أَيُّهَا شِئْتَ، فَأَخَذَ بِيَدِ أُمِّهِ، فَانْطَلَقَتْ بِهِ
“এই তোমার বাবা এবং এই তোমার মা। সুতরাং তুমি এদের যাকে খুশি গ্রহণ করো। সে তার মায়ের হাত ধরে। ফলে সে (মহিলাটি) তাকে নিয়ে চলে গেল।”
আ এমনিভাবে উমার ও আলী ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়ে ফয়সালা করেছেন। আর এই ইচ্ছাধিকার থাকবে বোধসম্পন্ন হওয়ার পরে পিতামাতা লালানপালনের জন্য উপযুক্ত হলে। ইচ্ছাধিকারকে সাত বছরের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে। কারণ সপ্তম বছরটা হচ্ছে প্রথম বছর যে বছরে শরীয়তপ্রণেতা সালতের আদেশ করেছেন। যদি সন্তান তার পিতাকে নির্বাচন করে তাহলে সে পিতার কাছে দিনরাত থাকবে যাতে পিতা তাকে আদব শেখাতে পারেন এবং লালনপালন করতে পারেন। আর মায়ের কাছে যেতে তাকে বাঁধা প্রদান করবে না। যদি মায়ের কাছে থাকতে চায়, তাহলে মায়ের কাছে রাতে এবং পিতার কাছে দিনে থাকবে, যাতে পিতা তাকে লালনপালন করতে পারে ও আদব শেখাতে পারে। কারণ দিন হচ্ছে প্রয়োজন পূরণ এবং কাজের সময়।
মেয়ে যখন ৭ বছরে পৌঁছাবে তখন সে তার পিতার কাছে থাকবে। কারণ সে অন্যের তুলনায় অধিক সংরক্ষণ ও লালনপালনের অধিকারী। এসময়ে তার বিবাহের বয়সের কাছাকাছি হয়। যেহেতু পিতা হলো অভিভাবক, তাই তার কাছে বিবাহের প্রস্তাব আসতে পারে। পিতাই অন্যদের থেকে বিবাহের সমতার ব্যাপারে বেশি জানেন। যখন কোনো ফিতনা-ফাসাদের আশংকা না থাকবে, তখন তার মায়ের সাথে সাক্ষাত করতে বাঁধা দিবে না। কিন্তু পিতা যদি তার ব্যস্ততার কারণে অথবা বার্ধক্যের কারণে কিংবা অসুস্থতার কারণে বা দ্বীনদারীতায় স্বল্পতার কারণে তাকে রক্ষা করতে না পারে, তাহলে তার মা যদি তাকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়, সে বেশি হকদার হবে। অনুরূপ পিতা যদি অন্য কাউকে বিবাহ করে এবং তাকে সেই স্ত্রীর কাছে রাখে আর সেই স্ত্রী তাকে কষ্ট দেয় তাহলে মা বেশি হকদার হবে।
৪. লালনপালনের খরচ: লালনপালনকারী মা হোক অন্য কেউ হোক, যদি তার সম্পদ থাকে খরচ শিশুর সম্পদ থেকেই নেওয়া হবে। কিন্তু যদি তার সম্পদ না থাকে তাহলে তার অভিভাবকের থেকে নেওয়া হবে।

টিকাঃ
৮৫০ আহমাদ ২/২৪৬। দ, হা. ২২৭৭; তিরমিযী, হা. ১৩৭৫ এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন। হাকিম ৪/৯৭ এবং তিনি সহীহ বলেছেন: ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, ইরওয়া, নং ২১৯২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00