📄 খোলা তালাকের সাথে সম্পৃক্ত বিধান এবং এর সংশ্লিষ্ট হিকমাহ
ক. খোলা তালাকের বিধি-বিধান: খোলা তালাকের বিধি-বিধানের সার-সংক্ষেপ:
১. স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতির কারণে খোলা তালাক বৈধ হয়ে থাকে। এটা সম্পদের বিনিময় ছাড়া সংগঠিত হয় না। সম্পদের পরিমাণ স্ত্রী নিজে স্বামীর জন্য ধার্য্য করবে।
২. অপ্রাপ্ত বয়স্ক স্ত্রীর মাধ্যমে খোলা তালাক সংগঠিত হবে না। কেননা সে স্বামী-স্ত্রীর মাঝের সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো অবস্থানে থাকে না।
৩. মহিলা যখন সাথে খোলা তালাকের চুক্তি সম্পন্ন করবে তখন খোলা তালাক পাওয়ার কারণে মহিলা নিজের মালিক হয়ে যাবে। স্বামীর কোনো ক্ষমতাই তার উপর থাকবে না। এমনকি স্বামী তাকে আর ফেরাতেও পারবে না।
৪. খোলা তালাক দেওয়ার ইদ্দত পালনকালে খোলাপ্রাপ্ত নারীর সাথে কোনো রকমের তালাক, যিহার বা ইলা সংযুক্ত হবে না। কেননা এই নারী তার স্বামী থেকে একেবারেই অপরিচিতা হয়ে গেছে।
৫. হায়েয এবং সহবাস হওয়া তুহুরের ভিতর খোলা তালাক দেওয়ার বৈধতা আছে। কারণ এর মাধ্যমে স্ত্রীর যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। আর আল্লাহ তা'আলা খোলা তালাককে মুক্তভাবে রেখে দিয়েছেন। এটাকে কোনো সময় দ্বারা শর্তযুক্ত করেননি।
৬. পুরুষের জন্য এটা হারাম যে, সে তার স্ত্রীকে কষ্ট দিবে এবং স্ত্রীর হক আটকে দিয়ে স্ত্রীকে খোলা তালাক নিতে বাধ্য করবে। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ
"তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ তা থেকে কিছু আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটকে রেখো না, যদি না তারা স্পষ্ট খারাপ আচরণ করে।" [সুরা নিসা: ১৯)
৭. খোলা তালাক নেওয়ার মতো কোনো কারণ নেই এবং অবস্থাও ভালো যাচ্ছে, এমতাবস্থায় কোনো মহিলার খোলা তালাকের সিদ্ধান্ত নেওয়া মাকরূহ এবং নিষেধ। তবে যদি স্বামীর জন্মগত কোনো ত্রুটি থাকে যেই ত্রুটি নিয়ে সংসার করা মহিলার পক্ষে সম্ভব না। অথবা স্বামীর চরিত্র খারাপ। অথবা মহিলা আশংকা করছে যে, সে আল্লাহর সীমা রক্ষা করতে পারবে না। তাহলে ভিন্ন কথা।
খ. খোলা তালাক শরীয়ত সম্মত করার হিকমাহ: এটা সকলেরই জানা বিষয় যে, বিবাহ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বন্ধন ও সুসম্পর্ক তৈরি করে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
(وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً)
"আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করেছেন।” [সূরা রুম: ২১]
আর এটাই হলো বিবাহের ফলাফল। সুতরাং যদি এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত না হয়। অর্থাৎ, উভয় পক্ষ হতে আন্তরিকতা পাওয়া না যায় কিংবা শুধু স্বামীর পক্ষ থেকে আন্তরিকতা না পাওয়া যায় এবং সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায় ও সমাধান কঠিন হয়ে যায় তবে স্ত্রীকে সুন্দরভাবে ছেড়ে দেওয়ার ব্যপ্যারে স্বামীকেই আদেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
(فَإِمْسَاكَ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحُ بِإِحْسَانٍ)
“অতঃপর উত্তমভাবে রেখে দাও অথবা সুন্দরভাবে ছেড়ে দাও।" [সূরা বাক্বারাহ: ২২৯]
আর যদি বিষয়টা উল্টো হয়। স্বামীর পক্ষ থেকে ভালোবাসা-সম্পৃতি পাওয়া যায় কিন্তু স্ত্রীর পক্ষ থেকে এগুলো পাওয়া না যায়। অর্থাৎ স্ত্রী স্বামীর আচার-আচরণ অথবা তার দ্বীনদারিত্বের ঘতটিকে অপছন্দ করে। অথবা স্বামীর হক উপেক্ষা করার দ্বারা গোনাহগার হওয়ার আশংকা করে এ অবস্থায় মহিলার জন্য জায়েয হবে স্বামীর থেকে বিচ্ছেদ চাওয়া এমন সম্পদের বিনিময়ে যা সে নিজেই স্বামীর জন্য খরচ করবে। এবং সেই সম্পদের বিনিময়ে নিজেকে মুক্ত করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
(فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ)
"অতঃপর তোমরা যদি আশংকা করো যে, আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে না, সেই অবস্থায় স্ত্রী কোনো কিছুর বিনিময়ে মুক্তি চাইলে, তাতে উভয়ের কোনো দোষ নেই।” [সূরা বাক্বারাহ: ২২৯]