📄 অলীমার দাওয়াত কবুল করার বিধান
অলীমার দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব। দলীল ইবনু উমার এর বর্ণিত হাদীস। إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى الوَلِيمَةِ فَلْيَأْتِهَا তোমাদের কাউকে অলীমার দাওয়াত দেওয়া হলে তাতে অংশগ্রহণ করবে। ”৮২৩ এবং আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। হাদীস।
مَنْ لَّمْ يُحِبِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَرَسُولَهُ "যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করল না, সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফারমানী করল।”৮২৪
অলীমার দাওয়াত কবুল করার শর্তসমূহ: ১. বিবাহের প্রথম দিন অলীমা হতে হবে। যদি দ্বিতীয় দিন অলীমা হয় তাহলে সেই দাওয়াত কবুল করা মুস্তাহাব। আর তৃতীয় দিন অলীমা করা মাকরূহ। ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদীস। নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
طَعَامُ أَوَّلِ يَوْمٍ حَقٌّ، وَطَعَامُ يَوْمِ الثَّانِي سُنَّةٌ، وَطَعَامُ يَوْمِ الثَّالِثِ سُمْعَةٌ، وَمَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ "বিয়ের প্রথম দিনে খাবারের (অলীমা) ব্যবস্থা করা আবশ্যক। দ্বিতীয় দিনে ব্যবস্থা করা সুন্নাহ এবং তৃতীয় দিনে খাবারের (অলীমা) ব্যবস্থা করা হয় নাম-ডাক ছড়ানোর উদ্দেশে। যে ব্যক্তি নাম-ডাক ছড়াতে চায়, আল্লাহ তা'আলা তাতে তেমনিই প্রকাশ করবেন। "৮২৫ ২. দাওয়াতকারী মুসলিম হতে হবে। সুতরাং কাফেরের দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব নয়। ৩. দাওয়াতকারী (শরীয়তের) অবাধ্য, প্রকাশ্য গুনাহকারী, অত্যাচারী এবং হারাম মালের অধিকারী হতে পারবে না। ৪. দাওয়াত নির্দিষ্টভাবে হতে হবে। সুতরাং যদি আমভাবে দেওয়া হয়। তাহলে তা কবুল করা ওয়াজিব নয়। ৫. দাওয়াতের উদ্দেশ্য হতে হবে সম্প্রীতি ও নৈকট্য লাভ। সুতরাং যদি ভয়ের কারণে অথবা প্রভাবশালীতার কারণে কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয় তাহলে সেই দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব নয়।
৬. অলীমার মধ্যে খারাপ কিছু থাকতে পারবে না। যেমন মদ খাওয়া, গান-বাজনা করা অথবা নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশا। সুতরাং এগুলো পাওয়া গেলে দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব হবে না। জাবির এর বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে। আল্লাহর রসূল বলেন: مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلَا يَقْعُدَنَّ عَلَى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا الْخَمْرُ
"যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন এমন দস্তরখানে না বসে যেখানে মদ পরিবেশন করা হয়।"৮২৬
তবে যদি দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে এগুলো দূর করার ক্ষমতা রাখে, তাহলে দাওয়াত কবুল করা এবং সেখানে উপস্থিত হয়ে এই খারাপ কাজগুলো প্রতিহত করা তার জন্য ওয়াজিব। আবু সাঈদ খুদরী আল্লার রসূল থেকে বর্ণনা করেন: مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
"তোমাদের কেউ অন্যায় কাজ হতে দেখলে সে যেন নিজ হাতে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে। যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখ (বাক্য) দ্বারা এর পরিবর্তন করবে। আর যদি সে সাধ্যও না থাকে, তখন অন্তর দ্বারা করবে। তবে এটা ইমানের দুর্বলতম পরিচায়ক।"৮২৭
টিকাঃ
৮২৩. মুত্তালাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫১৭৩, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৪২৯/৯৬।
৮২৪. সহীহ মুসলিম, হা. ৩৪১৩, ফুআ. ১৪৩২।
৮২৫. তিরমিযী, হা. ১০৯৭; একই অর্থে আহমাদ ইবনে হাম্বল তার মুসনাদে ৮/২৮; আলবানী যঈফ বলেছেন, ইরওয়া, নং ১৯৫০।
৮২৬. আহমাদ ১/২০; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ১৯৪৯।
৮২৭. সহীহ মুসলিম, হা. ৮১, ফুআ, ৪৯