📄 বিবাহিত জীবনের অধিকারসমূহ
কোনো বিবাহ যখন সহীহভাবে সম্পন্ন হয় তখন তার উপর ভিত্তি করে স্বামী-স্ত্রীর অনেক অধিকার সাব্যস্ত হয়।
প্রথম: স্ত্রীর অধিকার
স্বামীর উপর স্ত্রীর কিছু আর্থিক অধিকার থাকে। যেমন: মোহর ও ভরণপোষণের ব্যায়। আর্থিক অধিকারের পর কিছু আভ্যন্তরীণ অধিকারও সাব্যস্ত হয়ে থাকে। যেমন স্ত্রীর প্রতি ন্যায় বিচার করা, সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা এবং স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করা। এগুলোর বিস্তারিত আলোচনা নিম্নে আসছে।
১. মোহর: এটি স্বামীর উপর স্ত্রীর একটি অধিকার। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ﴿وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً﴾ "তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে নারীদেরকে তাদের মোহরারা প্রদান করো।” [সূরা নিসা: ৪] অন্যান্য আরও দলীল পিছনে গত হয়েছে।
২. ভরণপোষণ, পোশাক-আশাক এবং বসবাসের ব্যবস্থা: স্ত্রীর জন্য এগুলোর ব্যবস্থা করে দেওয়া স্বামীর উপর ওয়াজিব। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ﴿وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ﴾ "যে ব্যক্তি দুধপানের সময় পূর্ণ করতে চায়, তার জন্য মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে। পিতার কর্তব্য ভালোভাবে তাদের ভরণপোষণ করা।” [সূরা বাক্বারাহ: ২৩৩] এবং অন্যত্র বলেছেন: ﴿الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ﴾ "পুরুষরা নারীদের অভিভাবক। কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং এজন্য যে, পুরুষ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে।" [সূরা নিসা: ৩৪]
পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করা হাকীম ইবনে মুয়াবিয়া আল-কুশাইরী এর হাদীস। قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا حَقُّ زَوْجَةِ؟ قَالَ: أَنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طَعِمْتَ، وَأَنْ تَكْسُوهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ، "তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল। স্ত্রীর প্রতি কী হক রয়েছে? তিনি ﷺ বললেন: তুমি যখন খাবে তাকেও খাওয়াবে। তুমি পোশাক পরিধান করলে তাকেও পোশাক দিবে।" ৮০৯
আল্লাহর রসূল এর খুতবা থেকে জাবির এর বর্ণিত হাদীস। তাতে রয়েছে وَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
"তাদের জন্য ন্যায়সঙ্গত খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করা তোমাদের কর্তব্য। "৮১০
৩. মিলনের মাধ্যমে স্ত্রীকে নিষ্পাপ রাখা: বিবাহে তার যে অধিকার এবং উপকার রয়েছে সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং ফিতনাকে তার থেকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে। আয়াতের ব্যাপকতা থেকে এটা প্রমাণিত হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ
"তারপর তারা যখন পরিশুদ্ধ হবে তখন তাদের সহবাস করো, যেভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন।" [সূরা বাক্বারাহ: ২২২]
মহান আল্লাহ আরও বলেন: نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
"তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছে গমন করতে পারো।" [সূরা বাক্বারাহ: ২২৩]
আল্লাহর রসূল বলেছেন: وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَ "আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সাদকা।"৮১১ অর্থাৎ মিলন।
৪. স্ত্রীর সাথে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সুন্দর আচরণ করা: আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
"তোমরা তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করবে।" [সুরা নিসা: ১৯]
সুতরাং স্ত্রীর সাথে উত্তম সম্পর্কের মাধ্যমে তার অন্তরঙ্গ হয়ে যাবে, তার থেকে যে কষ্টদায়ক আচরণ প্রকাশ পায় সেগুলোর উপর ধৈর্য ধারণ করবে এবং তার প্রতি ভালো ধারনা রাখবে। আল্লাহর রসূল বলেছেন: خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই যে তার পরিবারের নিকটে উত্তম। "৮১২
৫. স্ত্রীদের মাঝে ভরণপোষণ এবং রাত্রীযাপনে নিরপেক্ষ থাকা: এটা সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার একাধিক স্ত্রী রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:
فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا "যদি তোমরা ইনসাফ করতে না পারার ভয় করো।" [সূরা নিসা: ৩]
আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كَانَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تِسْعُ نِسْوَةٍ، فَكَانَ إِذَا قَسَمَ بَيْنَهُنَّ، لَا يَنتَهِي إِلَى الْمَرْأَةِ الْأُولَى إِلَّا فِي يَسْعِ "নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মাঝে পালাবণ্টনে নয় দিনের আগে (পালার) প্রথম স্ত্রীর কাছে পুনরায় পৌঁছাতেন না।"৮১৩
দ্বিতীয়: স্বামীর অধিকার স্ত্রীর থেকে প্রাপ্য স্বামীর অধিকারগুলো স্বামী থেকে পাওয়া স্ত্রী অধিকারের থেকে বড়ো। আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴾لِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ "পুরুষদেরকে তাদের উপর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।” [সূরা বাক্বারাহ: ২২৮]
রসূল বলেছেন: لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ المَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا وَلَا تُؤَدِّي الْمُرْأَةُ حَقَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهَا كُلَّهُ، حَتَّى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا عَلَيْهَا كُلَّهُ "আমি যদি কোনো ব্যক্তিকে অপর কাউকে সাজদা করার আদেশ করতাম, তাহলে অবশ্যই স্ত্রীকে তার স্বামীকে সাজদা করতে নির্দেশ দিতাম। কোনো মহিলা তার উপর অর্পিত আল্লাহর হক সম্পূর্ণ আদায় করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার স্বামীর হক আদায় করবে।”৮১৪
স্ত্রীর কাছে স্বামীর প্রাপ্য অধিকার:
১. স্বামীর গোপন বিষয়কে হেফাজত করা, কারো কাছে প্রকাশ না করা: কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেন: فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ "যে সকল নারী পুণ্যবতী তারা আনুগত্য করে, লোকচক্ষুর আড়ালে আল্লাহর সংরক্ষিত বিষয় সংরক্ষণ করে।" [সূরা নিসা: ৩৪]
২. সৎ কাজে স্বামীর অনুগত থাকা ওয়াজিব: আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ "পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক।” [সূরা নিসা: ৩৪]
৩. স্বামী যখন বিছানায় ডাকবে তখন নিজেকে তার কাছে অর্পণ করা: যখন শারঈ কোনো বাধা থাকবে না। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ أَنْ تَجِيء، فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ "যদি পুরুষ তার স্ত্রীকে তার সঙ্গে বিছানায় শোয়ার জন্য ডাকে, আর সে আসতে অস্বীকার করে, অতঃপর স্বামী স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হয়ে রাত্রি যাপন করে, তাহলে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ ঐ মহিলার ওপর লা'নত বর্ষণ করতে থাকেন। "৮১৫
৪. স্বামীর অর্থ-সম্পদ, ঘরবাড়ি এবং সন্তান-সন্ততিকে রক্ষনাবেক্ষণ ও উত্তমভাবে লালন-পালন করা: আল্লাহর রসূল বলেছেন:
كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ الْإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ... وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَهِيَ مسؤوله عَن رَعِيَّتِهَا "তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনদের (দায়িত্ব) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হবে। ইমাম দায়িত্বশীল; তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।... নারী তার স্বামী- গৃহের কর্ত্রী, তাকে তার অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।”৮১৬
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন:
وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ "তাদের উপরে তোমাদের অধিকার হলো, তারা যেন তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে স্থান না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ করো। "৮১৭
৫. আন্তরিকতার সাথে স্বামীর সঙ্গী হওয়া। স্বামীর সাথে উত্তম আচরণ করা। তাকে কষ্ট না দেওয়া: আল্লাহর রসূল বলেছেন:
لَا تُؤْذِي امْرَأَةٌ زَوْجَهَا فِي الدُّنْيَا، إِلَّا قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الحُورِ العِينِ: لَا تُؤْذِيهِ، قَاتَلَكِ اللَّهُ، فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكِ دَخِيلٌ يُوشِكُ أَنْ يُفَارِقَكِ إِلَيْنَا
“যখন স্ত্রী তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখন জান্নাতে তার আয়তালোচনা হুর স্ত্রীগণ বলতে থাকেন, ওহে! আল্লাহ্ তোমার ধ্বংস করুন। তুমি তাকে কষ্ট দিও না। সে তোমার নিকট অল্প দিনের মেহমান। অচিরেই সে তোমাকে ত্যাগ করে আমাদের নিকট চলে আসবে।”৮১৮
الدخيل বা আদ দাখিল অর্থ হলো- মেহমান, কুটুম।
তৃতীয়: স্বামী-স্ত্রীর যৌথ অধিকার পূর্বে উল্লিখিত অধিকারগুলোর অধিকাংশই স্বামী-স্ত্রীর যৌথ অধিকার। এগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো উপভোগ এবং এর সাথে সম্পৃক্ত অধিকারগুলো। সেই সাথে স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকেই অপরের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। অপরের দেওয়া কষ্ট বা আচার-আচরনকে মেনে নিতে হবে। অপরের অধিকারকে ঝুলিয়ে রাখতে পারবে না। একে অন্যকে অপছন্দ করতে পারবে না এবং অন্যকে কষ্ট ও খোঁটা দিতে পারবে না। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ﴿
“তোমরা তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করবে।” [সুরা নিসা: ১৯] আরও বলেছেন: وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ﴿
“নারীদের ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে তাদের উপর পুরুষদের অধিকারের মতোই।” [সূরা বাক্বারাহ: ২২৮] আল্লাহর রসুল বলেছেন: خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই যে তার পরিবারের নিকটে উত্তম।”৮১৯ সেই সাথে স্বামীর কাছে স্ত্রী অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও তাকে রেখে দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا
“তোমরা তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করো; তোমরা যদি তাদেরকে অপছন্দ করেও থাকো, তবে এমন হতে পারে যে, আল্লাহ অগণিত কল্যাণ রেখেছেন।” [সূরা নিসা: ১৯]
টিকাঃ
৮০৯. সুনান আবু দাউদ, হা. ২১৪২, আহমাদ ৪/৪৪৭; হাকিম ২/১৮৭ এবং তিনি সহীহ বলেছেন; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া, হা, ২০৩৩।
৮১০. সহীহ মুসলিম, হা. ২৮৪০, ফুআ. ১২১৮।
৮১১. সহীহ মুসলিম, হা, ২২১৯, ফুআ. ১০০৬।
৮১২. আহমাদ ৪/৪৭২; সুনান আবু দাউদ, হা. ৪৬৮৬। শাইখ আলবানী যঈফ বলেছেন, যঈফাহ ২/২৪২।
৮১৩. সহীহ মুসলিম, হা. ৩৫২০, ফুআ. ১৪৬২।
৮১৪. 'ইবনু মাজাহ, হা. ১৮৫২; বায়হাকী ৭/২৯২। শাইখ আলবানী ইমাম মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন, সহীহাহ ৩/২০২।
৮১৫. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫১৯৩, ৫১৯৪, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৪৩৬-১২২।
৮১৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৮৯৩, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৮২৯।
৮১৭. সহীহ মুসলিম, হা. ২৮৪০, ফুআ, ১২১৮।
৮১৮. মুসনাদে আহমাদ ৫/২৪২; ইবনু মাজাহ, হা. ২০১৪; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহাহ, হা. ১৭৩।
৮১৯. 'আহমাদ ৪/৪৭২; সুনান আবু দাউদ, হা. ৪৬৮৬; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, যঈফাহ ২/২৪২।
📄 বিবাহের কথা প্রচার করা
বিবাহের কথা প্রচার-প্রসার করা এবং তাতে দফ বাজানো সুন্নত। আল্লাহ আল্লাহর রসূল বলেছেন:
فَضْلُ مَا بَيْنَ الحَلالِ وَالْحَرَامِ الصَّوْتُ وَالدُّفُّ فِي النِّكَاحِ "বিবাহে হালাল ও হারামের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে ঘোষণা দেওয়া ও দফ বাজানো।"৮২০ দফ বাজাবে শুধু মেয়েরা, ছেলেরা নয়। তবে শর্ত হলো দফের সাথে অশ্লীল বা শরীয়ত বিরোধী কোনো কথা থাকতে পারবে না।
টিকাঃ
৮২০. আহমাদ ৩/১৪৮, নাসাঈ ২/৯১, তিরমিযী, হা. ১০৮৮ এবং তিনি হাসান বলেছেন: ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, ইরওয়া নং ১৯৯৪।
📄 বিবাহের অলীমা
الوليمة طعام العرس يدعى إليه الناس ويجمعون. অলীমা: বাসরকে কেন্দ্র করে যে খাবারের আয়োজনে মানুষকে দাওয়াত দেওয়া হয়। অলীমা করাকে সুন্নত করা হয়েছে। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এর বর্ণিত হাদীসের কারণে। তিনি এক নারীকে বিবাহ করার পর আল্লাহর রসূল বলেছিলেন:
أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ "একটি ছাগল দিয়ে হলেও অলীমা করো।"৮২১ এবং আল্লাহর রসূল নিজেও অলীমা করেছেন।
أَوْلَمَ النَّبِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى زَيْنَبَ رَضِي الله عنها بِخُبْزٍ وَلَحْمٍ "নাবী যায়নাব কে বিবাহ করে রুটি ও গোশত দিয়ে অলীমা করেছেন।"৮২২
টিকাঃ
৮২১. মুত্তালাকুন আলাইহি : সহীহুল বুখারী, হা. ২০৪৮, মুসলিম ১৪২৮।
৮২২. মুত্তালাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫১৫৪, মুসলিম ১৪২৮।
📄 অলীমার দাওয়াত কবুল করার বিধান
অলীমার দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব। দলীল ইবনু উমার এর বর্ণিত হাদীস। إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى الوَلِيمَةِ فَلْيَأْتِهَا তোমাদের কাউকে অলীমার দাওয়াত দেওয়া হলে তাতে অংশগ্রহণ করবে। ”৮২৩ এবং আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। হাদীস।
مَنْ لَّمْ يُحِبِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَرَسُولَهُ "যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করল না, সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফারমানী করল।”৮২৪
অলীমার দাওয়াত কবুল করার শর্তসমূহ: ১. বিবাহের প্রথম দিন অলীমা হতে হবে। যদি দ্বিতীয় দিন অলীমা হয় তাহলে সেই দাওয়াত কবুল করা মুস্তাহাব। আর তৃতীয় দিন অলীমা করা মাকরূহ। ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদীস। নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
طَعَامُ أَوَّلِ يَوْمٍ حَقٌّ، وَطَعَامُ يَوْمِ الثَّانِي سُنَّةٌ، وَطَعَامُ يَوْمِ الثَّالِثِ سُمْعَةٌ، وَمَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ "বিয়ের প্রথম দিনে খাবারের (অলীমা) ব্যবস্থা করা আবশ্যক। দ্বিতীয় দিনে ব্যবস্থা করা সুন্নাহ এবং তৃতীয় দিনে খাবারের (অলীমা) ব্যবস্থা করা হয় নাম-ডাক ছড়ানোর উদ্দেশে। যে ব্যক্তি নাম-ডাক ছড়াতে চায়, আল্লাহ তা'আলা তাতে তেমনিই প্রকাশ করবেন। "৮২৫ ২. দাওয়াতকারী মুসলিম হতে হবে। সুতরাং কাফেরের দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব নয়। ৩. দাওয়াতকারী (শরীয়তের) অবাধ্য, প্রকাশ্য গুনাহকারী, অত্যাচারী এবং হারাম মালের অধিকারী হতে পারবে না। ৪. দাওয়াত নির্দিষ্টভাবে হতে হবে। সুতরাং যদি আমভাবে দেওয়া হয়। তাহলে তা কবুল করা ওয়াজিব নয়। ৫. দাওয়াতের উদ্দেশ্য হতে হবে সম্প্রীতি ও নৈকট্য লাভ। সুতরাং যদি ভয়ের কারণে অথবা প্রভাবশালীতার কারণে কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয় তাহলে সেই দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব নয়।
৬. অলীমার মধ্যে খারাপ কিছু থাকতে পারবে না। যেমন মদ খাওয়া, গান-বাজনা করা অথবা নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশا। সুতরাং এগুলো পাওয়া গেলে দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব হবে না। জাবির এর বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে। আল্লাহর রসূল বলেন: مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلَا يَقْعُدَنَّ عَلَى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا الْخَمْرُ
"যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন এমন দস্তরখানে না বসে যেখানে মদ পরিবেশন করা হয়।"৮২৬
তবে যদি দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে এগুলো দূর করার ক্ষমতা রাখে, তাহলে দাওয়াত কবুল করা এবং সেখানে উপস্থিত হয়ে এই খারাপ কাজগুলো প্রতিহত করা তার জন্য ওয়াজিব। আবু সাঈদ খুদরী আল্লার রসূল থেকে বর্ণনা করেন: مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
"তোমাদের কেউ অন্যায় কাজ হতে দেখলে সে যেন নিজ হাতে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে। যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখ (বাক্য) দ্বারা এর পরিবর্তন করবে। আর যদি সে সাধ্যও না থাকে, তখন অন্তর দ্বারা করবে। তবে এটা ইমানের দুর্বলতম পরিচায়ক।"৮২৭
টিকাঃ
৮২৩. মুত্তালাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫১৭৩, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৪২৯/৯৬।
৮২৪. সহীহ মুসলিম, হা. ৩৪১৩, ফুআ. ১৪৩২।
৮২৫. তিরমিযী, হা. ১০৯৭; একই অর্থে আহমাদ ইবনে হাম্বল তার মুসনাদে ৮/২৮; আলবানী যঈফ বলেছেন, ইরওয়া, নং ১৯৫০।
৮২৬. আহমাদ ১/২০; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ১৯৪৯।
৮২৭. সহীহ মুসলিম, হা. ৮১, ফুআ, ৪৯