📄 বিবাহের হুকুম এবং স্ত্রী নির্বাচন
১. বিবাহের হুকুম: ব্যক্তির অবস্থার ভিন্নতার কারণে বিবাহের হুকুম ভিন্ন হয়ে থাকে।
প্রথমত: বিবাহ করা ওয়াজিব: কোনো ব্যক্তি যদি বিবাহের দায়িত্ব ও খরচ বহনে সক্ষম হয়, জিনায় জড়িয়ে যাওয়ার আশংকা করে, তবে তার উপর ওয়াজিব। কারণ বিবাহই একমাত্র পথ যা তাকে নিষ্পাপ রাখবে এবং হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে হেফাজত করবে। আর যদি বিবাহের দায়িত্ব ও খরচ বহন করতে সক্ষম না হয়, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে সচ্ছল বানিয়ে দেওয়া পর্যন্ত তার জন্য রোজা রাখা আবশ্যক।
দ্বিতীয়ত: সুন্নত ও উত্তম কাজ: কোনো ব্যক্তি এমন অবস্থার মাঝে আছে যে, তার যৌন চাহিদাও আছে, বিবাহ করার মতো অর্থও তার আছে। তবে সে নিজের ব্যপারে জিনার জড়িয়ে যাওয়ার আশংকা করে না। তবুও তার জন্য বিবাহ করা সুন্নত। কারণ মানুষকে বিবাহের প্রতি আগ্রহী ও উদ্বুদ্ধ করে অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে।
তৃতীয়ত: মাকরূহ তথা অপছন্দনীয়: যদি কোনো ব্যক্তি বিবাহের প্রয়োজন অনুভব না করে, হতে পারে সে এমন বৃদ্ধ বা অসুস্থ যার কোনো যৌন চাহিদা নেই অথবা হতে পারে সে (عنين) অর্থাৎ তার স্ত্রী মিলনের সক্ষমতা নেই অথবা নারীর প্রতি তার কোনো আগ্রহ জাগে না।
২. স্ত্রী নির্বাচনে যা করণীয়:
বিবাহের পাত্রী দেখার ব্যাপারে কিছু মূলনীতিকে সুন্নাত করা হয়েছে। যেমন: পাত্রীর দ্বীনদারিতা, তার চারিত্রিক পবিত্রতা, তার মৌলিক ভালোগুণ, তার বংশ মর্যাদা এবং সৌন্দর্য। যে হাদীসটির কারণে নারীর এই গুণাবলিকে সুন্নত করা হয়েছে সেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা । তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعِ : لَمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ، تَرِبَتْ يَدَاكَ
"নারীদেরকে চারটি গুণ দেখে বিবাহ করা হতো: তার ধন-সম্পদ, বংশ-মর্যাদা, রূপ-লাবন্য এবং দ্বীনদারিতা। তবে দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দিবে। আর তা না করলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”৭৮৮
সুতরাং ব্যক্তি সর্বাগ্রে দ্বীনকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং এটাকেই পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের মূল মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করবে। অনুরূপভাবে অধিক সন্তান জন্মদানকারিণী নারীকে স্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করাও সুন্নাত। হাদীসটি আনাস আল্লাহর রসূল থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّي مُكَاثِرُ بِكُمُ الْأُمَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
"তোমরা অধিক মমতাময়ী ও অধিক সন্তান জন্মদানকারী নারী বিবাহ করো। আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যার আধিক্য নিয়ে গর্ব করব।"৭৮৯
এছাড়াও কুমারী নির্বাচন করা সুন্নাত। আল্লাহর রসূল জাবির কে বলেছিলেন:
فَهَلًا بِكْرًا تُلاعِبُهَا وَتُلاعِبُكَ “তুমি কি কুমারী নারী খুঁজে পেলে না! সে তোমাকে আনন্দ দিত এবং তুমিও তাকে সোহাগ দিতে!”৭৯০
তবে যদি পূর্বে বিবাহিত নারীকে বিবাহ করার মাঝে কোনো কল্যাণ থাকে, তাহলে বিবাহিত নারীই নির্বাচন করবে ও কুমারী নারীর উপর বিবাহিত নারীকে প্রাধান্য দিবে। তবে সুদর্শনা নারী নির্বাচন করবে। তাহলে সেই নারী তার চিত্তকে প্রশান্ত রাখবে। তার চোখকে অন্য নারী থেকে ফিরিয়ে রাখবে এবং তার ভালোবাসাকে বারবার জাগিয়ে তুলবে।
টিকাঃ
৭৮৮. 'মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহ বুখারী, হা. ৫০৯০; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৪৬৬।
৭৮৯. 'সুনান আবু দাউদ, হা. ২০৫০; নাসাঈ, হা. ৬৫১৬; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহন নাসাঈ, হা. ৩০২৬।
৭৯০. 'মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহ বুখারী, হা. ৫০৭৯; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৭১৫।
📄 বিবাহ প্রস্তাবের নিয়মনীতি এবং তার শিষ্টাচার
الخطبة এর অর্থ হলো নির্দিষ্ট এক নারীকে বিবাহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করা। সেই ইচ্ছার কথা তার অভিভাবককে জানিয়ে দেওয়া।
বাগদান এর নিয়ম-নীতি এবং শিষ্টাচার: ১. কন্যাপক্ষকে কেউ প্রস্তাব দিয়েছে এবং কন্যাপক্ষ সেই প্রস্তাবে সম্মতিও প্রকাশ করেছে। এই সম্মতি প্রকাশ যদি ইশারা ইঙ্গিতেও হয়ে থাকে, এ অবস্থায় প্রথম প্রস্তাবের সম্মতির কথা জানার পর অন্য কোনো মুসলিমের সেখানে বিবাহ প্রস্তাব প্রদান করা হারাম। আল্লাহর রসূল বলেছেন: لَا يَخْطُبُ الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ حَتَّى يَنْكِحَ أَوْ يَتْرُكَ “কোনো লোক তার মুসলিম ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব পেশ করতে পারবে না; যতক্ষণ না প্রথম ব্যক্তি বিবাহ করে অথবা তা ছেড়ে দেয়।”৭৯১ কারণ দ্বিতীয় প্রস্তাব প্রথম প্রস্তাবকে নষ্ট করে দিবে এবং পরস্পরের মাঝে শত্রুতা সৃষ্টি করবে।
২. المعتدة البائن বা তালাকে বায়েনাহ (চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা) প্রাপ্তা নারী। যে ইদ্দত পালন করছে, তাকে স্পষ্টভাবে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া হারাম। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ولَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ "আর যদি তোমরা ইশারায় নারীদের বিয়ের প্রস্তাব দাও বা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখো, তবে তোমাদের কোনো পাপ নেই।"[সুরা বাক্বারাহ: ২৩৫]
তবে তাকে ইশারা ইঙ্গিতের মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া যাবে। যেমন: কেউ বলল, আমি চাচ্ছি যে, কোনো সৎ নারীকে আল্লাহ যেন আমার জন্য সহজ করে দেন। অথবা বলল, আমি বিবাহ করতে চাই। সুতরাং ইশারার মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া বৈধ আছে। এ কথাটি প্রমাণ করে যে, স্পষ্টভাবে প্রস্তাব দেওয়া জায়েয নেই। কেননা এ অবস্থাতে কোনো নারীকে স্পষ্টভাবে প্রস্তাব দিলে সে ইদ্দত শেষ না করেই বিবাহ বসার জন্য আগ্রহী হয়ে যেতে পারে।
আর المعتدة الرجعية বা যে নারী রাজঈ তালাক নিয়ে ইদ্দত পালন করছে, তাকে কোনোভাবেই প্রস্তাব দেওয়া যাবে না; স্পষ্টভাবেও না, ইশারা ইঙ্গিতেও না। কেননা সে এখনো স্ত্রীর হুকুমে আছে।
৩. পাত্র এবং পাত্রীর ব্যাপারে যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হবে তার জন্য আবশ্যকীয় হলো, সে দোষ-গুণ সবই উল্লেখ করবে। এটা গীবত হবে না; বরং এটা সৎ পরামর্শ। এ ব্যপারে শরীয়ত উৎসাহ দিয়ে থাকে।
৪. 'বাগদান' ওই মেয়ের প্রতি বিবাহের প্রতিশ্রুত ও আগ্রহ প্রকাশ মাত্র। 'বাগদান' কখনোই বিয়ে নয়। তাই ছেলে এবং মেয়ে প্রত্যেকেই অন্যের কাছে গাইরে মাহরাম হিসেবে গণ্য হবে।
টিকাঃ
৭৯১. সহীহ বুখারী, হা. ৫১৪৪।
📄 খার বিধান
কেউ নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিতে ইচ্ছা করলে সে স্বাভাবিক অবস্থায় নারীর যে সকল অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ খোলা থাকে, তা দেখতে পারবে। এটা শরীয়ত সম্মত এবং সন্নাহ। যেমন- চেহারা, হাতের কব্জি ও পা। সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণিত হাদীসের আলোক।
أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللهَ جِئْتُ لِأَهَبَ لَكَ نَفْسِي، فَنَظَرَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَعَّدَ النَّظَرَ إِلَيْهَا وَصَوَّبَهُ، ثُمَّ طَأْطَأَ رَأْسَهُ "এক নারী আল্লাহর রসূল এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি নিজেকে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম। তখন আল্লাহর রসূল তার দিকে তাকালেন, তাকে দেখলেন। এরপর মাথা নীচু করে ফেললেন।”৭৯২ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةَ مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنظَرْتَ إِلَيْهَا ؟»، قَالَ: لَا ، قَالَ: «فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا، فَإِنَّ فِي أَعْيُنِ الْأَنْصَارِ شَيْئًا
"আমি নাবী এর নিকটে ছিলাম। তখন এক লোক আল্লাহর রসূল এর কাছে এসে বলল, সে এক আনসারী নারীকে বিবাহ করতে চায়। তখন আল্লাহর রসূল জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তাকে দেখেছ? লোকটি বলল, না আমি তাকে দেখিনি। তিনি বললেন, তুমি যাও তাকে ভালোভাবে দেখে আসো। আনসারী নারীদের চোখে কি যেন থাকে।"৭৯৩
জাবির এর বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمُرْأَةَ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ ، قَالَ: فَخَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنتُ أَتَخَبَّلُ لَهَا حَتَّى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِي إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوَّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا
"তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিবে তখন সে সাধ্যের মধ্যে থেকে তার ঐ অঙ্গগুলো দেখে নিবে, যেগুলো বিবাহের দিকে আহবানকারী। জাবির বলেন, তখন আমি এক নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম। আড়াল থেকে তার এমন কিছু দেখে নিলাম, যা বিবাহের আহবানকারী। এরপর তাকে বিবাহ করে ফেললাম।"৭৯৪
বিবাহের পূর্বে কন্যা দেখার হিকমাহ: ছেলের মনে মেয়েটির কাছের মানুষ হওয়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী হলো বিয়ের আগে কন্যা দেখে নেওয়া। সেই সাথে এর মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে মায়া-মমতা ও স্নেহ ভালোবাসার স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি হয়ে থাকে। যেমন মুগীরা এক মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন আল্লাহর রসূল তাকে বলেছিলেন, তুমি তাকে দেখে নাও! কারণ এতে উভয়ের মাঝে মিল-মহব্বত বেশি হবে। অর্থাৎ উভয়ের মাঝে ভালোবাসা এবং ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হবে।
টিকাঃ
৭৯২. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫০৮৭। সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৪২৫
৭৯৩. সহীহ মুসলিম, হা. ৩৩৭৬, ফুআ, ১৪২৪; شيئاً দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে কেউ বলেন ছোটো, আর কেউ নীল রঙ।
৭৯৪. সুনান আবু দাউদ, হা, ২০৮২। আহমাদ ৩/৩৩৪; ইমাম হাকিম তার মুসতাদরাকে ২/১৬৫ এবং তিনি বলেন, ইমাম মুসলিমের শর্তে সহীহ। ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সিলসিলাতুস সহীহাহ, ৯৯ নং
কেউ নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিতে ইচ্ছা করলে সে স্বাভাবিক অবস্থায় নারীর যে সকল অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ খোলা থাকে, তা দেখতে পারবে। এটা শরীয়ত সম্মত এবং সন্নাহ। যেমন- চেহারা, হাতের কব্জি ও পা। সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণিত হাদীসের আলোক।
أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللهَ جِئْتُ لِأَهَبَ لَكَ نَفْسِي، فَنَظَرَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَعَّدَ النَّظَرَ إِلَيْهَا وَصَوَّبَهُ، ثُمَّ طَأْطَأَ رَأْسَهُ "এক নারী আল্লাহর রসূল এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি নিজেকে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম। তখন আল্লাহর রসূল তার দিকে তাকালেন, তাকে দেখলেন। এরপর মাথা নীচু করে ফেললেন।”৭৯২ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةَ مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنظَرْتَ إِلَيْهَا ؟»، قَالَ: لَا ، قَالَ: «فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا، فَإِنَّ فِي أَعْيُنِ الْأَنْصَارِ شَيْئًا
"আমি নাবী এর নিকটে ছিলাম। তখন এক লোক আল্লাহর রসূল এর কাছে এসে বলল, সে এক আনসারী নারীকে বিবাহ করতে চায়। তখন আল্লাহর রসূল জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তাকে দেখেছ? লোকটি বলল, না আমি তাকে দেখিনি। তিনি বললেন, তুমি যাও তাকে ভালোভাবে দেখে আসো। আনসারী নারীদের চোখে কি যেন থাকে।"৭৯৩
জাবির এর বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمُرْأَةَ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ ، قَالَ: فَخَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنتُ أَتَخَبَّلُ لَهَا حَتَّى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِي إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوَّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا
"তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিবে তখন সে সাধ্যের মধ্যে থেকে তার ঐ অঙ্গগুলো দেখে নিবে, যেগুলো বিবাহের দিকে আহবানকারী। জাবির বলেন, তখন আমি এক নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম। আড়াল থেকে তার এমন কিছু দেখে নিলাম, যা বিবাহের আহবানকারী। এরপর তাকে বিবাহ করে ফেললাম।"৭৯৪
বিবাহের পূর্বে কন্যা দেখার হিকমাহ: ছেলের মনে মেয়েটির কাছের মানুষ হওয়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী হলো বিয়ের আগে কন্যা দেখে নেওয়া। সেই সাথে এর মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে মায়া-মমতা ও স্নেহ ভালোবাসার স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি হয়ে থাকে। যেমন মুগীরা এক মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন আল্লাহর রসূল তাকে বলেছিলেন, তুমি তাকে দেখে নাও! কারণ এতে উভয়ের মাঝে মিল-মহব্বত বেশি হবে। অর্থাৎ উভয়ের মাঝে ভালোবাসা এবং ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হবে।
টিকাঃ
৭৯২. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫০৮৭। সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৪২৫
৭৯৩. সহীহ মুসলিম, হা. ৩৩৭৬, ফুআ, ১৪২৪; شيئاً দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে কেউ বলেন ছোটো, আর কেউ নীল রঙ।
৭৯৪. সুনান আবু দাউদ, হা, ২০৮২। আহমাদ ৩/৩৩৪; ইমাম হাকিম তার মুসতাদরাকে ২/১৬৫ এবং তিনি বলেন, ইমাম মুসলিমের শর্তে সহীহ। ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সিলসিলাতুস সহীহাহ, ৯৯ নং
📄 ববাহের শর্ত ও রুকনসমূহ
প্রথম. বিবাহের শর্তসমূহ: ১. বর এবং কনেকে নির্দিষ্ট করা। অনির্দিষ্ট কনের উপর আকদে নিকাহ বা বিবাহের চুক্তি সহীহ হবে না। যেমন কোনো ব্যক্তির একাধিক মেয়ে আছে। সেই ব্যক্তি বলল, আমার মেয়েকে তোমার কাছে বিবাহ দিলাম। অথবা কোনো ব্যক্তির একাধিক ছেলে আছে সেই ব্যক্তি বলল, আমার ছেলেকে তার সাথে বিবাহ দিলাম। এভাবে আকদে নিকাহ সহীহ হবে না। বরং এক্ষেত্রে নাম নির্দিষ্ট করতে হবে। যেমন ফাতিমা, আলী। অথবা গুণ উল্লেখ করতে হবে। যেমন বড়ো মেয়ে, ছোটো মেয়ে অথবা বড়ো ছেলে, ছোটো ছেলে।
২. বর এবং কনে উভয়ে একে অপরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে হবে: সুতরাং জোড় করে বিবাহ দেওয়া বৈধ নয়। কারণ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল বলেছেন: لَا تُنْكَحُ الأَيْمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ البِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ
"সম্মতি ব্যতীত বিধবা মহিলাকে বিবাহ দিবে না এবং অনুমতি ব্যতীত কুমারী নারীকে বিবাহ দিবে না। ”৭৯৫
৩. বিবাহের অভিভাবকত্ব: একমাত্র অভিভাবক কনের পক্ষ হতে বিবাহের চুক্তি সম্পাদন করতে পারবে। অন্য কেউ তা করতে পারবে না। হাদীসে এসেছে- لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِي
"অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।” ৭৯৬
অভিভাবক হওয়ার জন্য শর্ত হলো অবশ্যই তাকে পুরুষ, বালেগ, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন এবং অন্তত বাহ্যিকভাবে নীতিবান লোক হতে হবে।
৪. আকদে নিকাহ বা বিবাহের চুক্তির সময় সাক্ষী উপস্থিত থাকা: সুতরাং দুজন সাক্ষী ছাড়া বিবাহ হবে না। সাক্ষী দুজনকে অবশ্যই মুসলিম এবং বালেগ হতে হবে। সেই সাথে অন্তত বাহ্যিকভাবে নীতিবান লোক হতে হবে। আল্লাহর রসূল বলেছেন: لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِي وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ وَمَا كَانَ غَيْرِ ذَلِكَ فَهُوَ بَاطِلٌ
“একজন অভিভাবক এবং দুইজন নীতিবান সাক্ষী ছাড়া বিবাহ হবে না। এ ছাড়া যত বিবাহ আছে সব বিবাহ বাতিল। ৭৯৭
ইমাম তিরমিযী বলেন, আল্লাহর রসুল এর সাহাবীদের মধ্য হতে যারা আহলুল ইলম ছিলেন তারা এর উপরই আমল করেছেন। তাদের পরে তাবেঈন এবং অন্যরাও এর উপর আমল করেছেন। তারা সকলেই বলেছেন, সাক্ষী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহের ক্ষেত্রে সাক্ষীকে শর্ত করা হয়েছে যেন বংশ সুরক্ষিত থাকে। পরবর্তীতে কেউ যেন বিবাহকে অস্বীকার করতে না পারে।
৫. বিবাহকে বাধা দেয় এমন বিষয় থেকে বর এবং কনে উভয়কে মুক্ত থাকতে হবে। যেমন: বংশগত, দুগ্ধগত (رضاعی) এবং বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা। কিছু প্রতিবন্ধকতা অন্যান্য কারণেও হয়ে থাকে। যেমন ধর্মের ভিন্নতা থাকার কারণে, বর বা কনে উভয়ের কেউ হাজ্জ বা উমরার ইহরামে থাকার কারণে।
দ্বিতীয়, বিবাহের রুকন যে বিষয়গুলোর মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়, সেগুলোকে বিবাহের রুকন বলে। সেগুলো হলো:
১. দুইজন চুক্তিকারী থাকবে। একজন বর, একজন কনে, তারা ঐসকল প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত থাকবে যা বিবাহকে বাধা দিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ আগেই এব্যাপারে ইশারা করা হয়েছে। বাকিগুলো মুহাররমাত এর অধ্যায়ে আসবে।
২. প্রস্তাব করা: এমন কিছু শব্দ যেগুলো অভিভাবক বা তার স্থানে থাকা উকিলের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ (النكاح) নিকাহ এবং (التزویج) তাযউইজ শব্দ দ্বারা হবে।
৩. প্রস্তাব কবুল করা: অর্থাৎ এমন কিছু শব্দ বর বা তার প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রকাশ পাবে। যেমন সে বলবে, আমি এই বিবাহ কবুল করলাম অথবা বলবে, আমি এই বিবাহে খুশী হলাম। প্রস্তাব অবশ্যই কবুলের পূর্বে হতে হবে।
টিকাঃ
৭৯৫. মুত্তাফাকুন আলাইহি। সহীহুল বুখারী, হা. ৫১৩৬, সহীহ মুসলিম ১৪১৯/৬৪।
৭৯৬. তিরমিযী, হা. ১১০১; সুনান আবু দাউদ, হা. ২০৮৫; ইবনু মাজাহ, হা. ১৯০৭, ১৯০৮; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ সুনাবনু মাজাহ, হা. ১৫৩৭, ১৫৩৮।
৭৯৭. ইবনু হিব্বান, হা. ৪০৭৫; ইমাম ইবনে হাযাম তার মুহাল্লা গ্রন্থে ৯/৩৪৬৫।
প্রথম. বিবাহের শর্তসমূহ: ১. বর এবং কনেকে নির্দিষ্ট করা। অনির্দিষ্ট কনের উপর আকদে নিকাহ বা বিবাহের চুক্তি সহীহ হবে না। যেমন কোনো ব্যক্তির একাধিক মেয়ে আছে। সেই ব্যক্তি বলল, আমার মেয়েকে তোমার কাছে বিবাহ দিলাম। অথবা কোনো ব্যক্তির একাধিক ছেলে আছে সেই ব্যক্তি বলল, আমার ছেলেকে তার সাথে বিবাহ দিলাম। এভাবে আকদে নিকাহ সহীহ হবে না। বরং এক্ষেত্রে নাম নির্দিষ্ট করতে হবে। যেমন ফাতিমা, আলী। অথবা গুণ উল্লেখ করতে হবে। যেমন বড়ো মেয়ে, ছোটো মেয়ে অথবা বড়ো ছেলে, ছোটো ছেলে।
২. বর এবং কনে উভয়ে একে অপরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে হবে: সুতরাং জোড় করে বিবাহ দেওয়া বৈধ নয়। কারণ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল বলেছেন: لَا تُنْكَحُ الأَيْمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ البِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ
"সম্মতি ব্যতীত বিধবা মহিলাকে বিবাহ দিবে না এবং অনুমতি ব্যতীত কুমারী নারীকে বিবাহ দিবে না। ”৭৯৫
৩. বিবাহের অভিভাবকত্ব: একমাত্র অভিভাবক কনের পক্ষ হতে বিবাহের চুক্তি সম্পাদন করতে পারবে। অন্য কেউ তা করতে পারবে না। হাদীসে এসেছে- لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِي
"অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।” ৭৯৬
অভিভাবক হওয়ার জন্য শর্ত হলো অবশ্যই তাকে পুরুষ, বালেগ, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন এবং অন্তত বাহ্যিকভাবে নীতিবান লোক হতে হবে।
৪. আকদে নিকাহ বা বিবাহের চুক্তির সময় সাক্ষী উপস্থিত থাকা: সুতরাং দুজন সাক্ষী ছাড়া বিবাহ হবে না। সাক্ষী দুজনকে অবশ্যই মুসলিম এবং বালেগ হতে হবে। সেই সাথে অন্তত বাহ্যিকভাবে নীতিবান লোক হতে হবে। আল্লাহর রসূল বলেছেন: لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِي وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ وَمَا كَانَ غَيْرِ ذَلِكَ فَهُوَ بَاطِلٌ
“একজন অভিভাবক এবং দুইজন নীতিবান সাক্ষী ছাড়া বিবাহ হবে না। এ ছাড়া যত বিবাহ আছে সব বিবাহ বাতিল। ৭৯৭
ইমাম তিরমিযী বলেন, আল্লাহর রসুল এর সাহাবীদের মধ্য হতে যারা আহলুল ইলম ছিলেন তারা এর উপরই আমল করেছেন। তাদের পরে তাবেঈন এবং অন্যরাও এর উপর আমল করেছেন। তারা সকলেই বলেছেন, সাক্ষী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহের ক্ষেত্রে সাক্ষীকে শর্ত করা হয়েছে যেন বংশ সুরক্ষিত থাকে। পরবর্তীতে কেউ যেন বিবাহকে অস্বীকার করতে না পারে।
৫. বিবাহকে বাধা দেয় এমন বিষয় থেকে বর এবং কনে উভয়কে মুক্ত থাকতে হবে। যেমন: বংশগত, দুগ্ধগত (رضاعی) এবং বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা। কিছু প্রতিবন্ধকতা অন্যান্য কারণেও হয়ে থাকে। যেমন ধর্মের ভিন্নতা থাকার কারণে, বর বা কনে উভয়ের কেউ হাজ্জ বা উমরার ইহরামে থাকার কারণে।
দ্বিতীয়, বিবাহের রুকন যে বিষয়গুলোর মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়, সেগুলোকে বিবাহের রুকন বলে। সেগুলো হলো:
১. দুইজন চুক্তিকারী থাকবে। একজন বর, একজন কনে, তারা ঐসকল প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত থাকবে যা বিবাহকে বাধা দিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ আগেই এব্যাপারে ইশারা করা হয়েছে। বাকিগুলো মুহাররমাত এর অধ্যায়ে আসবে।
২. প্রস্তাব করা: এমন কিছু শব্দ যেগুলো অভিভাবক বা তার স্থানে থাকা উকিলের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ (النكاح) নিকাহ এবং (التزویج) তাযউইজ শব্দ দ্বারা হবে।
৩. প্রস্তাব কবুল করা: অর্থাৎ এমন কিছু শব্দ বর বা তার প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রকাশ পাবে। যেমন সে বলবে, আমি এই বিবাহ কবুল করলাম অথবা বলবে, আমি এই বিবাহে খুশী হলাম। প্রস্তাব অবশ্যই কবুলের পূর্বে হতে হবে।
টিকাঃ
৭৯৫. মুত্তাফাকুন আলাইহি। সহীহুল বুখারী, হা. ৫১৩৬, সহীহ মুসলিম ১৪১৯/৬৪।
৭৯৬. তিরমিযী, হা. ১১০১; সুনান আবু দাউদ, হা. ২০৮৫; ইবনু মাজাহ, হা. ১৯০৭, ১৯০৮; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ সুনাবনু মাজাহ, হা. ১৫৩৭, ১৫৩৮।
৭৯৭. ইবনু হিব্বান, হা. ৪০৭৫; ইমাম ইবনে হাযাম তার মুহাল্লা গ্রন্থে ৯/৩৪৬৫।