📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 বিবাহ শরীয়ত সম্মত হওয়ার তাৎপর্যসমূহ

📄 বিবাহ শরীয়ত সম্মত হওয়ার তাৎপর্যসমূহ


আল্লাহ তা'আলা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হিকমতের কারণে বিবাহকে শরীয়ত সম্মত করেছেন। নিম্নে এগুলোর সার-সংক্ষেপ আলোচনা করা হলো।
১. মানুষের যৌনাঙ্গগুকে নিষ্পাপ রাখা। কারণ আল্লাহ তা'আলা নিজে মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টির সময়ই মানুষের প্রকৃতিতে যৌন বাসনা স্থাপন করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বিবাহকে শরীয়ত সম্মত করেছেন এই বাসনাকে তৃপ্ত করার জন্য এবং এই বাসনা নিয়ে খেলতামাশা দূর করার জন্য।
২. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়া। সেই সাথে উভয়ের মাঝে আনন্দ, ভালবাসা, শান্তি ও প্রশান্তি অর্জিত হওয়া। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
(وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً) "আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করেছেন।” [সূরা রুম: ২১]
৩. বংশ সুরক্ষিত থাকা, একে অন্যের মাধ্যমে পরস্পরিক আত্মীয়তার সম্পর্ক এবং রক্তের বন্ধন তৈরি হওয়া।
৪. মানব বংশকে টিকিয়ে রাখা এবং মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করা; যাতে করে মুসলিমদের মাধ্যমে কাফেরদেরকে দমন করা যায় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রচার করা যায়।
৫. অবৈধ সম্পর্ক আর জিনার মাধ্যমে ধ্বংস ও বিনাশ হওয়া থেকে মানুষের চরিত্রকে রক্ষা করা।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 বিবাহের হুকুম এবং স্ত্রী নির্বাচন

📄 বিবাহের হুকুম এবং স্ত্রী নির্বাচন


১. বিবাহের হুকুম: ব্যক্তির অবস্থার ভিন্নতার কারণে বিবাহের হুকুম ভিন্ন হয়ে থাকে।
প্রথমত: বিবাহ করা ওয়াজিব: কোনো ব্যক্তি যদি বিবাহের দায়িত্ব ও খরচ বহনে সক্ষম হয়, জিনায় জড়িয়ে যাওয়ার আশংকা করে, তবে তার উপর ওয়াজিব। কারণ বিবাহই একমাত্র পথ যা তাকে নিষ্পাপ রাখবে এবং হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে হেফাজত করবে। আর যদি বিবাহের দায়িত্ব ও খরচ বহন করতে সক্ষম না হয়, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে সচ্ছল বানিয়ে দেওয়া পর্যন্ত তার জন্য রোজা রাখা আবশ্যক।
দ্বিতীয়ত: সুন্নত ও উত্তম কাজ: কোনো ব্যক্তি এমন অবস্থার মাঝে আছে যে, তার যৌন চাহিদাও আছে, বিবাহ করার মতো অর্থও তার আছে। তবে সে নিজের ব্যপারে জিনার জড়িয়ে যাওয়ার আশংকা করে না। তবুও তার জন্য বিবাহ করা সুন্নত। কারণ মানুষকে বিবাহের প্রতি আগ্রহী ও উদ্বুদ্ধ করে অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে।
তৃতীয়ত: মাকরূহ তথা অপছন্দনীয়: যদি কোনো ব্যক্তি বিবাহের প্রয়োজন অনুভব না করে, হতে পারে সে এমন বৃদ্ধ বা অসুস্থ যার কোনো যৌন চাহিদা নেই অথবা হতে পারে সে (عنين) অর্থাৎ তার স্ত্রী মিলনের সক্ষমতা নেই অথবা নারীর প্রতি তার কোনো আগ্রহ জাগে না।
২. স্ত্রী নির্বাচনে যা করণীয়:
বিবাহের পাত্রী দেখার ব্যাপারে কিছু মূলনীতিকে সুন্নাত করা হয়েছে। যেমন: পাত্রীর দ্বীনদারিতা, তার চারিত্রিক পবিত্রতা, তার মৌলিক ভালোগুণ, তার বংশ মর্যাদা এবং সৌন্দর্য। যে হাদীসটির কারণে নারীর এই গুণাবলিকে সুন্নত করা হয়েছে সেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা । তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعِ : لَمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ، تَرِبَتْ يَدَاكَ
"নারীদেরকে চারটি গুণ দেখে বিবাহ করা হতো: তার ধন-সম্পদ, বংশ-মর্যাদা, রূপ-লাবন্য এবং দ্বীনদারিতা। তবে দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দিবে। আর তা না করলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”৭৮৮
সুতরাং ব্যক্তি সর্বাগ্রে দ্বীনকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং এটাকেই পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের মূল মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করবে। অনুরূপভাবে অধিক সন্তান জন্মদানকারিণী নারীকে স্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করাও সুন্নাত। হাদীসটি আনাস আল্লাহর রসূল থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّي مُكَاثِرُ بِكُمُ الْأُمَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
"তোমরা অধিক মমতাময়ী ও অধিক সন্তান জন্মদানকারী নারী বিবাহ করো। আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যার আধিক্য নিয়ে গর্ব করব।"৭৮৯
এছাড়াও কুমারী নির্বাচন করা সুন্নাত। আল্লাহর রসূল জাবির কে বলেছিলেন:
فَهَلًا بِكْرًا تُلاعِبُهَا وَتُلاعِبُكَ “তুমি কি কুমারী নারী খুঁজে পেলে না! সে তোমাকে আনন্দ দিত এবং তুমিও তাকে সোহাগ দিতে!”৭৯০
তবে যদি পূর্বে বিবাহিত নারীকে বিবাহ করার মাঝে কোনো কল্যাণ থাকে, তাহলে বিবাহিত নারীই নির্বাচন করবে ও কুমারী নারীর উপর বিবাহিত নারীকে প্রাধান্য দিবে। তবে সুদর্শনা নারী নির্বাচন করবে। তাহলে সেই নারী তার চিত্তকে প্রশান্ত রাখবে। তার চোখকে অন্য নারী থেকে ফিরিয়ে রাখবে এবং তার ভালোবাসাকে বারবার জাগিয়ে তুলবে।

টিকাঃ
৭৮৮. 'মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহ বুখারী, হা. ৫০৯০; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৪৬৬।
৭৮৯. 'সুনান আবু দাউদ, হা. ২০৫০; নাসাঈ, হা. ৬৫১৬; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহন নাসাঈ, হা. ৩০২৬।
৭৯০. 'মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহ বুখারী, হা. ৫০৭৯; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৭১৫।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 বিবাহ প্রস্তাবের নিয়মনীতি এবং তার শিষ্টাচার

📄 বিবাহ প্রস্তাবের নিয়মনীতি এবং তার শিষ্টাচার


الخطبة এর অর্থ হলো নির্দিষ্ট এক নারীকে বিবাহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করা। সেই ইচ্ছার কথা তার অভিভাবককে জানিয়ে দেওয়া।
বাগদান এর নিয়ম-নীতি এবং শিষ্টাচার: ১. কন্যাপক্ষকে কেউ প্রস্তাব দিয়েছে এবং কন্যাপক্ষ সেই প্রস্তাবে সম্মতিও প্রকাশ করেছে। এই সম্মতি প্রকাশ যদি ইশারা ইঙ্গিতেও হয়ে থাকে, এ অবস্থায় প্রথম প্রস্তাবের সম্মতির কথা জানার পর অন্য কোনো মুসলিমের সেখানে বিবাহ প্রস্তাব প্রদান করা হারাম। আল্লাহর রসূল বলেছেন: لَا يَخْطُبُ الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ حَتَّى يَنْكِحَ أَوْ يَتْرُكَ “কোনো লোক তার মুসলিম ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব পেশ করতে পারবে না; যতক্ষণ না প্রথম ব্যক্তি বিবাহ করে অথবা তা ছেড়ে দেয়।”৭৯১ কারণ দ্বিতীয় প্রস্তাব প্রথম প্রস্তাবকে নষ্ট করে দিবে এবং পরস্পরের মাঝে শত্রুতা সৃষ্টি করবে।
২. المعتدة البائن বা তালাকে বায়েনাহ (চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা) প্রাপ্তা নারী। যে ইদ্দত পালন করছে, তাকে স্পষ্টভাবে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া হারাম। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ولَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ "আর যদি তোমরা ইশারায় নারীদের বিয়ের প্রস্তাব দাও বা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখো, তবে তোমাদের কোনো পাপ নেই।"[সুরা বাক্বারাহ: ২৩৫]
তবে তাকে ইশারা ইঙ্গিতের মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া যাবে। যেমন: কেউ বলল, আমি চাচ্ছি যে, কোনো সৎ নারীকে আল্লাহ যেন আমার জন্য সহজ করে দেন। অথবা বলল, আমি বিবাহ করতে চাই। সুতরাং ইশারার মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া বৈধ আছে। এ কথাটি প্রমাণ করে যে, স্পষ্টভাবে প্রস্তাব দেওয়া জায়েয নেই। কেননা এ অবস্থাতে কোনো নারীকে স্পষ্টভাবে প্রস্তাব দিলে সে ইদ্দত শেষ না করেই বিবাহ বসার জন্য আগ্রহী হয়ে যেতে পারে।
আর المعتدة الرجعية বা যে নারী রাজঈ তালাক নিয়ে ইদ্দত পালন করছে, তাকে কোনোভাবেই প্রস্তাব দেওয়া যাবে না; স্পষ্টভাবেও না, ইশারা ইঙ্গিতেও না। কেননা সে এখনো স্ত্রীর হুকুমে আছে।
৩. পাত্র এবং পাত্রীর ব্যাপারে যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হবে তার জন্য আবশ্যকীয় হলো, সে দোষ-গুণ সবই উল্লেখ করবে। এটা গীবত হবে না; বরং এটা সৎ পরামর্শ। এ ব্যপারে শরীয়ত উৎসাহ দিয়ে থাকে।
৪. 'বাগদান' ওই মেয়ের প্রতি বিবাহের প্রতিশ্রুত ও আগ্রহ প্রকাশ মাত্র। 'বাগদান' কখনোই বিয়ে নয়। তাই ছেলে এবং মেয়ে প্রত্যেকেই অন্যের কাছে গাইরে মাহরাম হিসেবে গণ্য হবে।

টিকাঃ
৭৯১. সহীহ বুখারী, হা. ৫১৪৪।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 খার বিধান

📄 খার বিধান


কেউ নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিতে ইচ্ছা করলে সে স্বাভাবিক অবস্থায় নারীর যে সকল অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ খোলা থাকে, তা দেখতে পারবে। এটা শরীয়ত সম্মত এবং সন্নাহ। যেমন- চেহারা, হাতের কব্জি ও পা। সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণিত হাদীসের আলোক।
أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللهَ جِئْتُ لِأَهَبَ لَكَ نَفْسِي، فَنَظَرَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَعَّدَ النَّظَرَ إِلَيْهَا وَصَوَّبَهُ، ثُمَّ طَأْطَأَ رَأْسَهُ "এক নারী আল্লাহর রসূল এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি নিজেকে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম। তখন আল্লাহর রসূল তার দিকে তাকালেন, তাকে দেখলেন। এরপর মাথা নীচু করে ফেললেন।”৭৯২ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةَ مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنظَرْتَ إِلَيْهَا ؟»، قَالَ: لَا ، قَالَ: «فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا، فَإِنَّ فِي أَعْيُنِ الْأَنْصَارِ شَيْئًا
"আমি নাবী এর নিকটে ছিলাম। তখন এক লোক আল্লাহর রসূল এর কাছে এসে বলল, সে এক আনসারী নারীকে বিবাহ করতে চায়। তখন আল্লাহর রসূল জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তাকে দেখেছ? লোকটি বলল, না আমি তাকে দেখিনি। তিনি বললেন, তুমি যাও তাকে ভালোভাবে দেখে আসো। আনসারী নারীদের চোখে কি যেন থাকে।"৭৯৩
জাবির এর বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمُرْأَةَ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ ، قَالَ: فَخَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنتُ أَتَخَبَّلُ لَهَا حَتَّى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِي إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوَّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا
"তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিবে তখন সে সাধ্যের মধ্যে থেকে তার ঐ অঙ্গগুলো দেখে নিবে, যেগুলো বিবাহের দিকে আহবানকারী। জাবির বলেন, তখন আমি এক নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম। আড়াল থেকে তার এমন কিছু দেখে নিলাম, যা বিবাহের আহবানকারী। এরপর তাকে বিবাহ করে ফেললাম।"৭৯৪
বিবাহের পূর্বে কন্যা দেখার হিকমাহ: ছেলের মনে মেয়েটির কাছের মানুষ হওয়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী হলো বিয়ের আগে কন্যা দেখে নেওয়া। সেই সাথে এর মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে মায়া-মমতা ও স্নেহ ভালোবাসার স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি হয়ে থাকে। যেমন মুগীরা এক মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন আল্লাহর রসূল তাকে বলেছিলেন, তুমি তাকে দেখে নাও! কারণ এতে উভয়ের মাঝে মিল-মহব্বত বেশি হবে। অর্থাৎ উভয়ের মাঝে ভালোবাসা এবং ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হবে।

টিকাঃ
৭৯২. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫০৮৭। সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৪২৫
৭৯৩. সহীহ মুসলিম, হা. ৩৩৭৬, ফুআ, ১৪২৪; شيئاً দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে কেউ বলেন ছোটো, আর কেউ নীল রঙ।
৭৯৪. সুনান আবু দাউদ, হা, ২০৮২। আহমাদ ৩/৩৩৪; ইমাম হাকিম তার মুসতাদরাকে ২/১৬৫ এবং তিনি বলেন, ইমাম মুসলিমের শর্তে সহীহ। ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সিলসিলাতুস সহীহাহ, ৯৯ নং

কেউ নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিতে ইচ্ছা করলে সে স্বাভাবিক অবস্থায় নারীর যে সকল অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ খোলা থাকে, তা দেখতে পারবে। এটা শরীয়ত সম্মত এবং সন্নাহ। যেমন- চেহারা, হাতের কব্জি ও পা। সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণিত হাদীসের আলোক।
أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللهَ جِئْتُ لِأَهَبَ لَكَ نَفْسِي، فَنَظَرَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَعَّدَ النَّظَرَ إِلَيْهَا وَصَوَّبَهُ، ثُمَّ طَأْطَأَ رَأْسَهُ "এক নারী আল্লাহর রসূল এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি নিজেকে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম। তখন আল্লাহর রসূল তার দিকে তাকালেন, তাকে দেখলেন। এরপর মাথা নীচু করে ফেললেন।”৭৯২ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةَ مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنظَرْتَ إِلَيْهَا ؟»، قَالَ: لَا ، قَالَ: «فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا، فَإِنَّ فِي أَعْيُنِ الْأَنْصَارِ شَيْئًا
"আমি নাবী এর নিকটে ছিলাম। তখন এক লোক আল্লাহর রসূল এর কাছে এসে বলল, সে এক আনসারী নারীকে বিবাহ করতে চায়। তখন আল্লাহর রসূল জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তাকে দেখেছ? লোকটি বলল, না আমি তাকে দেখিনি। তিনি বললেন, তুমি যাও তাকে ভালোভাবে দেখে আসো। আনসারী নারীদের চোখে কি যেন থাকে।"৭৯৩
জাবির এর বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمُرْأَةَ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ ، قَالَ: فَخَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنتُ أَتَخَبَّلُ لَهَا حَتَّى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِي إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوَّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا
"তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিবে তখন সে সাধ্যের মধ্যে থেকে তার ঐ অঙ্গগুলো দেখে নিবে, যেগুলো বিবাহের দিকে আহবানকারী। জাবির বলেন, তখন আমি এক নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম। আড়াল থেকে তার এমন কিছু দেখে নিলাম, যা বিবাহের আহবানকারী। এরপর তাকে বিবাহ করে ফেললাম।"৭৯৪
বিবাহের পূর্বে কন্যা দেখার হিকমাহ: ছেলের মনে মেয়েটির কাছের মানুষ হওয়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী হলো বিয়ের আগে কন্যা দেখে নেওয়া। সেই সাথে এর মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে মায়া-মমতা ও স্নেহ ভালোবাসার স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি হয়ে থাকে। যেমন মুগীরা এক মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন আল্লাহর রসূল তাকে বলেছিলেন, তুমি তাকে দেখে নাও! কারণ এতে উভয়ের মাঝে মিল-মহব্বত বেশি হবে। অর্থাৎ উভয়ের মাঝে ভালোবাসা এবং ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হবে।

টিকাঃ
৭৯২. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫০৮৭। সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৪২৫
৭৯৩. সহীহ মুসলিম, হা. ৩৩৭৬, ফুআ, ১৪২৪; شيئاً দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে কেউ বলেন ছোটো, আর কেউ নীল রঙ।
৭৯৪. সুনান আবু দাউদ, হা, ২০৮২। আহমাদ ৩/৩৩৪; ইমাম হাকিম তার মুসতাদরাকে ২/১৬৫ এবং তিনি বলেন, ইমাম মুসলিমের শর্তে সহীহ। ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সিলসিলাতুস সহীহাহ, ৯৯ নং

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00