📄 উত্তরাধিকারের প্রকার
উত্তরাধিকার দুই প্রকার: পুরুষ ও মহিলা।
পুরুষদের মধ্য থেকে উত্তরাধিকার ১০ প্রকার: ১ ও ২. ছেলে ও তার ছেলে এবং অধঃস্তন পুরুষ: মহান আল্লাহর বাণীর ভিত্তিতে।
يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ
“আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক পুত্রের জন্য দুই কন্যার অংশের সমপরিমাণ।”[সুরা নিসা: ১১]
৩ ও ৪. বাবা ও তার বাবা এবং ঊর্ধ্বতন পুরুষ: মহান আল্লাহ বলেন: وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ "আর যদি তার সন্তান থাকে তবে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ।" [সুরা নিসা: ১১]
আয়াতাংশে উল্লিখিত 'পিতা'র মাঝে 'দাদা'ও অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর রসূল দাদার জন্য এক-ষষ্ঠমাংশ নির্ধারণ করেছেন।
৫. যে-কোনো দিক থেকে ভাই (সহোদর, বৈমাত্রেয়, বৈপিত্রেয়): إِنِ امْرُوا هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ “কোনো ব্যক্তি যদি নিঃসন্তান হয়ে মারা যায় এবং তার এক বোন থাকে, তবে তার জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক। আর সে (মহিলা) যদি নিঃসন্তান হয় তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে।" [সূরা নিসা: ১৭৬]
মহান আল্লাহ আরও বলেন: وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتُ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ “যদি কোনো পুরুষ অথবা নারী 'কালালাহ (পিতা-মাতা ও সন্তানহীন) উত্তরাধিকারী হয়, আর তার এক ভাই অথবা বোন থাকে, তবে প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ।"[সূরা নিসা: ১২]
৬. বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে ওয়ারিস হলেও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলে ওয়ারিস হবে না; কেননা সে 'যুল আরহামে'র অন্তর্ভুক্ত।
৭ ও ৮. চাচা ও চাচার ছেলে; সে বাবার আপন ভাই হতে পারে অথবা তার বৈমাত্রেয় ভাইও হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে 'যুল আরহাম' হওয়ার কারণে বৈপিত্রেয় ভাই ওয়ারিস হতে পারবে না।
৯. স্বামী: মহান আল্লাহ বলেন: ﴾وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ "তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য।"[সুরা নিসা: ১২]
১০. দাস আজাদকারী অথবা তার সমপর্যায়ের ব্যক্তি: আল্লাহর রসূল বলেন: الْوَلَاءُ لُحْمَةٌ كَلُحْمَةِ النَّسَبِ "ওয়ালা একটা শক্তিশালী সম্পর্ক যেমন রক্তের সম্পর্ক। ৭৭৬
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন : إِنَّمَا الْوَلَاءَ لِمَنْ أَعْتَقَ "দাসের রেখে যাওয়া সম্পদ মুক্তকারীর জন্যই সাব্যস্ত হবে।” ৭৭৭
মহিলাদের মধ্য থেকে উত্তরাধিকার ৭ প্রকার: ১ ও ২. কন্যা, ছেলের কন্যা বা নাতনী এবং তার অধঃস্তন ছেলের কন্যা: মহান আল্লাহ বলেন: يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ فَإِن كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক পুত্রের জন্য দুই কন্যার অংশের সমপরিমাণ। কিন্তু শুধু কন্যা দুইয়ের বেশি থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ। আর এক কন্যা থাকলে তার জন্য অর্ধেক।” [সূরা নিসা: ১১]
৩. মা: মহান আল্লাহ বলেন: وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثلث فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ "আর যদি তার সন্তান থাকে তবে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ। আর যদি তার সন্তান না থাকে এবং তার উত্তরাধিকার হয় তার পিতামাতা তখন তার মায়ের জন্য তিন ভাগের এক ভাগ। আর যদি তার ভাই-বোন থাকে তবে তার মায়ের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ।” [সূরা নিসা: ১১]
৪. দাদী: নাবী তার জন্য এক-ষষ্ঠমাংশ ধার্য করেছেন। এ ব্যাপারে বুরাইদা থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রয়েছে- أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ لِلْجَدَّةِ السُّدُسَ، إِذَا لَمْ يَكُنْ دُونَهَا أُمُّ "নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃতের মাতা না থাকার অবস্থায় সম্পত্তি থেকে দাদীর জন্য এক ষষ্ঠাংশ দিয়েছেন। ৭৭৮
সুতরাং, এক্ষেত্রে দাদীর জন্য এক-ষষ্ঠমাংশ সাব্যস্ত হওয়ার জন্য মায়ের অনুপস্থিতি শর্ত।
৫. বোন: এক্ষেত্রে সে আপন কিংবা বৈমাত্রেয় কিংবা বৈপিত্রেয় হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন: وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتُ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ
“যদি কোনো পুরুষ অথবা নারী 'কালালাহ (পিতা-মাতা ও সন্তানহীন) উত্তরাধিকারী হয়, আর তার এক ভাই অথবা বোন থাকে, তবে প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ।" [সূরা নিসা: ১২]
إِنِ امْرُوا هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ
"কোনো ব্যক্তি যদি নিঃসন্তান হয়ে মারা যায় এবং তার এক বোন থাকে, তবে তার জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক।" [সূরা নিসা: ১৭৬]
فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ
"অতঃপর যদি দুই বোন থাকে তবে তাদের জন্য তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ।” [সুরা নিসা: ১৭৬)
৬. স্ত্রী: মহান আল্লাহন বাণীর ভিত্তিতে। ﴾وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ
"তাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ।" [সূরা নিসা: ১২]
৭. দাস মুক্তিকারিণী: নাবী বলেন: إِنَّمَا الوَلَاء لِمَنْ أَعْتَقَ
"দাসের রেখে যাওয়া সম্পদ মুক্তকারীর জন্যই সাব্যস্ত হবে।” ৭৭৯
টিকাঃ
৭৭৬. ইমাম শাফেঈ তার কিতাবুল উম, হা. ১২৩২; ইমাম হকিম তা মুসতাদরাকে ৪/৩৪১ এবং তিনি সহীহ বলেছেন; ইমাম বায়হাকী ১০/২৯২, সহীহ বলেছেন; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে' হা. ৭১৫৭ এবং ইরওয়া ৬/১০৯।
৭৭৭. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহ বুখারী, হা. ১৪৯৩; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৫০৫।
৭৭৮. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৮৯৪; ইবনু মাজাহ, হা. ২৭২৪; তিরমিযী, হা, ২১০১। হাফেয ইবনু হাজার বলেন, ইবনু খুযায়মাহ ও ইবনু জারুদ সহীহ বলেছেন এবং ইবনু আদী শক্তিশালী করেছেন, বুলুগুল মারাম নং ৮৯৬।
৭৭৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহু বুখারী, হা. ১৪৯৩; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৫০৫।
📄 উত্তরাধিকার অনুসারে উত্তরাধিকারীদের প্রকার
প্রথম প্রকার: যে সমস্ত ব্যক্তি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অংশ সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। এ জাতীয় সাত প্রকার ব্যক্তি রয়েছে। তারা হলো: স্বামী-স্ত্রী, দাদী-নানী, মা, মায়ের পক্ষের ছেলে-মেয়ে।
দ্বিতীয় প্রকার: যে সমস্ত ব্যক্তি শুধুমাত্র আসাবা (তথা যাদের জন্য নির্ধারিত কোনো সম্পদ নেই, বরং নির্দিষ্ট অংশের অধীকারীদের হক দিয়ে দেওয়ার পর যা বাকি থাকে তারা সেটার মালিক হয়।-সম্পাদক) হিসেবে সম্পদ পেয়ে থাকেন। এ জাতীয় ব্যক্তি রয়েছে বারোজন। তারা হলো: ১. ছেলে, ২. ছেলের ছেলে/নাতি, ৩. সহোদর ভাই ৪. সহোদর ভায়ের ছেলে, ৫-৬. বৈমাত্রিক ভাই ও তার ছেলে, ৭-৮. আপান চাচা ও তার ছেলে, ৯-১০. বৈমাত্রেয় চাচা ও তার ছেলে, ১১-১২. দাসদাসী আজাদকারী পুরুষ ও নারী।
তৃতীয় প্রকার: যে সমস্ত ব্যক্তি কখনো আসাবা হিসেবে উত্তরাধিকারী হয় আবার কখনো নির্দিষ্ট অংশের উত্তরাধিকারী হয়। আবার কখনো একইসাথে আসাবা ও নির্দিষ্ট অংশ উভয়টির মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হয়। তারা হলো: পিতা ও দাদা।
চতুর্থ প্রকার: যে সমস্ত ব্যক্তি কখনো নির্দিষ্ট অংশের মাধ্যমে আবার কখনো আসাবার মাধ্যমে সম্পদের উত্তরাধীকারী হয়। তবে তারা একইসাথে আসাবা ও নির্দিষ্ট অংশের মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হয় না। তারা হলো: স্বামী ব্যতীত অন্যান্য যারা অর্ধেক অংশ পেয়ে থাকে এবং যারা দুই তৃতীয়াংশ পেয়ে থাকে।
সামষ্টিকভাবে নির্দিষ্ট অংশ পেয়ে থাকে এমন ব্যক্তি রয়েছে একুশজন: যারা নির্দিষ্ট অংশ পেয়ে থাকে তাদের নির্দিষ্ট অংশ ছয়টি। সেগুলো হলো, অর্ধেক; একচতুর্থাংশ; এক অষ্টমাংশ; দুই তৃতীয়াংশ; এক তৃতীয়াংশ এবং এক ষষ্ঠাংশ।
প্রথমত: যারা অর্ধেক অংশের উত্তরাধিকারী হয় তারা পাঁচ প্রকার: ১. স্বামী: যখন স্বামীর পক্ষ হতে অথবা অন্যপক্ষ থেকে ছেলে-মেয়ে ওয়ারিস থাকবে না। ২. কন্যা: যখন তার সাথে বোনের মধ্য থেকে কোনো শরীকানা থাকবে না এবং তাকে আসাবা করে দেয় এমন কোনো ভাই থাকবে না। ৩. ছেলের মেয়ে/নাতনী: যখন তার কোনো অংশীদার এবং তাকে আসাবা করে দেয় এমন কেউ এবং মৃতব্যক্তির কোনো সন্তান থাকবে না। ৪. সহোদর বোন: যখন তার সাথে তাকে আসাবা করে দেয় এমন কেউ, অংশীদার এবং ফারয়ে ওয়ারিস (সন্তান) ও আসলে ওয়ারিস (পিতা, দাদা) থাকবে না। ৫. বৈমাত্রেয় বোন: যখন তার সাথে তাকে আসাবা করে দেয় এমন কেউ অংশীদার, মৃতব্যক্তির কোনো সন্তান, মৃতব্যক্তির পিতা, সহোদর ভাই এবং সহোদর বোন থাকবে না।
দ্বিতীয়ত: যারা এক চতুর্থাংশ অংশ পেয়ে থাকে এ ধরনের ব্যক্তি দুইজন: ১. স্বামী: যখন মৃতব্যক্তির সন্তান থাকবে তখন এ সে অংশের অধিকারী হবে। ২. স্ত্রী: যখন (মৃত ব্যক্তির) মৃতব্যক্তির কোনো সন্তান থাকবে না, তখন সে এ অংশের মালিক হবে।
তৃতীয়: যারা এক অষ্টমাংশ অংশের উত্তরাধিকারী: তারা হলো, স্ত্রীগণ, চাই একজন হোক বা একাধিক। এটা তখন হবে যখন মৃত ব্যক্তির ফারয়ে ওয়ারিস থাকবে।
চতুর্থত: যারা দুই তৃতীয়াংশ অংশের উত্তরাধিকারী: ১. কন্যা: যখন তাদেরকে আসাবা করে দেয় এমন কেউ না থাকে আর আসাবা করে দেয় এমন ব্যক্তি হলো মৃত ব্যক্তির আপন সন্তান। কণ্যাগণ এ অংশের অধিকারী তখন হবে যখন কণ্যাগণ দুই বা ততোধিক হবে। ২. ছেলের কন্যা/নাতনী: যখন তাদের সাথে তাদেরকে আসাবা করে দেয় এমন কেউ থাকবে না, আর আসাবাকারী হলো: ছেলের ছেলে/নাতি। এবং যখন ফারয়ে ওয়ারিস থাকবে না। আর ফারয়ে ওয়ারিস হলো: (মৃত ব্যক্তির) ছেলে। এক্ষেত্রে তাদেরকে দুই বা ততোধিক হতে হবে।
৩. সহোদর বোন: যখন তারা দুই বা ততোধিক হয় এবং তাদেরকে আসাবাকারী না থাকে। তাদেরকে আসাবাকারী হলো: সহোদর ভাই। আর যখন তাদের ফারয়ে ওয়ারিস থাকবে না। ফারয়ে ওয়ারিস হলো: (মৃত ব্যক্তির) সন্তানগণ এবং (মৃত ব্যক্তির) ছেলের সন্তানগণ।
৪. বৈমাত্রিক বোন: যখন তারা দুইজন বা ততোধিক হবে। যখন আসাবাকারী থাকবে না। ফারয়ে ওয়ারিস থাকবে না এবং কোনো সহোদর ভাই বোন থাকবে না।
পঞ্চমত: যারা একতৃতীয়াংশের উত্তরাধিকারী হন। এ জাতীয় ব্যক্তি দুইজন:
১. মা: যখন মৃতব্যক্তির কোনো সন্তান এবং একাধিক ভাইবোন থাকবে না তখন সে এ অংশের অধিকারী হবে।
২. বৈপিত্রেয় ভাই: যখন তারা দুই বা ততোধিক হবে, ফারয়ে ওয়ারিস থাকবে না অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সন্তান ও ছেলের সন্তানগণ থাকবে না এবং পুরুষ আছলে ওয়ারিস থাকবে না অর্থাৎ মৃতব্যক্তির পিতা ও দাদা থাকবে না।
ষষ্ঠত: যারা এক ষষ্ঠাংশ অংশের উত্তরাধিকারী হয়। এ জাতীয় ব্যক্তি হলো সাতজন।
১. পিতা: যখন ফারয়ে ওয়ারিস বা মৃত ব্যক্তির সন্তানগণ বা মৃত ব্যক্তির ছেলের সন্তানগণ না থাকবে।
২. দাদা: যখন ফারয়ে ওয়ারিস বা মৃতব্যক্তির সন্তান বা মৃত ব্যক্তির ছেলেদের সন্তান থাকবে।
৩. মা: যখন ফারয়ে ওয়ারিস থাকবে অথবা (মৃত ব্যক্তির) একাধিক ভাই থাকবে।
৪. নানী: যখন মা না থাকবে।
৫. ছেলের কন্যা/নাতনী: যখন কোনো আসাবাকারী থাকবে না এবং তার উপরের স্থরের কোনো ফারয়ে ওয়ারিস থাকবে না। তবে যে অর্ধেক অংশের উত্তরাধিকারী হবে সে ব্যতীত। কেননা তার অর্ধেক অংশের মাঝেই সে এক ষষ্ঠাংশ সম্পদ গ্রহণ করেছে।
৬. বৈমাত্রেয় বোন: যখন তাকে কোনো আসাবাকারী থাকবে না। আসাবাকারী হলো তার ভাই। তার সাথে থাকবে মৃত ব্যক্তির সহোদর/আপন বোন, যে অর্ধেক অংশের উত্তরাধিকালী হবে।
৭. বৈপিত্রেয় ভাই-বোন: যখন ফারয়ে ওয়ারিস ও আসলে ওয়ারিস থাকবে না এবং যখন সে একাাকী থাকবে।
📄 আসাবা বানানো
আসাবা (العصبة) তারা হলো ঐ সমস্ত ব্যক্তি যারা নির্ধারিত অংশ ছাড়াই সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে। কারণ আসেব (العاصب) যখন একাকী থাকে, তখন সে একাই সমস্ত সম্পদের উত্তরাধীকারী হয়। আর যখন তার সাথে অন্য কোনো নির্ধারিত অংশের হকদার থাকে, তখন তারা তাদের সম্পদ নিয়ে নেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সে গ্রহণ করে। কারণ নাবী বলেছেন: أَلْحِقُوا الفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَلِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
"তোমরা নির্ধারিত অংশের হকদারদের হক দিয়ে দাও, অতঃপর যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটবর্তী পুরুষদের জন্য।”৭৮০
আসাবা তিন প্রকার: ১. العصبة بالنفس বা যে সকল ব্যক্তি নিজে নিজেই আসাবা হয়। ২. العصبة بالغير বা যে সকল ব্যক্তি অন্যের মাধ্যমে আসাবা হয়। ৩. العصبة مع الغير বা যে সকল ব্যক্তি অন্যের সাথে আসাবা হয়।
১. যে ব্যক্তিরা নিজে নিজেই আসাবা হয়: তারা হলো: ছেলে, ছেলের ছেলে বা আরও নিচের পর্যায়ে যারা থাকবে তারা। পিতা, দাদা, পরদাদা বা তার উপর পর্যায়ে যারা থাকবে তারা। সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই ও তাদের উভয়ের সন্তান, যদিও তা আরও উঁচু স্তরের হয়। সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, ও তাদের উভয়ের সন্তান, যদিও তা আরও নিচ পর্যায়ের হয়। আপান চাচা, বৈমাত্রেয় চাচা, বা আরও যারা উপর পর্যায়ের রয়েছে এবং তাদের উভয়ের সন্তানগণ, যদিও তারা নিচ পর্যায়ের হয়। দাস-দাসী আজাদকারী পুরুষ ও নারী।
তাদের মধ্যে যে উত্তরাধীকারী হওয়ার ক্ষেত্রে একাই থাকবে, সে একাই সমস্ত সম্পদ গ্রহণ করবে। আর যখন নির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারীদের সাথে থাকবে, তখন তারা তাদের নির্ধারিত অংশ নিয়ে নেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা তারা পাবে। আর যদি কিছুই অবশিষ্ট না থাকে, তবে তারা কিছুই পাবে না।
২. যারা অন্যের মাধ্যমে আসাবা হয়: তারা হলো: কন্যা, ছেলের কন্যা বা নাতনী, সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় বোন। এরা সকলে তাদের ভাইদের সাথে আসাবা হয়। আর নাতনী তার স্তরে যারা নাতি থাকে, চাই সে নাতনীর আপন ভাই হোক বা চাচাত ভাই হোক, তার মাধ্যমে বা প্রয়োজন তার চেয়ে আরও নিছু স্তরের কেউ যদি থাকে, তাবে তার মাধ্যমেও সে আসাবা হতে পারে। এ ছাড়া আরও অন্যান্য যে পুরুষরা রয়েছে, তারা তাদের বোনদের ওয়ারিস বানাবে না। যেমন- ভাইদের সন্তানগণ ভাতিজারা, চাচা এবং চাচার সন্তনেরা।
৩. যারা অন্যের সাথে আসাবা হয়: তারা হলো: সহোদর বোনেরা (মৃত ব্যক্তির) কন্যাদের সাথে বা নাতনীদের সাথে আসাবা হয়। আর যদি দুই বা ততোধিক আসাবা একত্রিত হয়, আর তারা যদি আত্মীয়তা সম্পর্কে সুদৃঢ় বন্ধন ও স্থরের দিক দিয়ে সমান হয়, তবে তারা উভয়েই সম্পদের অংশীদার হবে। যেমন- ছেলেরা ও ভায়েরা।
আর আত্মীয়তা সম্পর্কের দিক যদি ভিন্ন হয়, তবে শক্তিশালী দিকটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। যেমন- ছেলে ও পিতা।
আর যদি সম্পর্কের দিক যদি একই রকম হয়, কিন্তু স্থরের দিকে ভিন্নতা থাকে, তবে নিকটবর্তী স্তরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেমন- নাতির উপর ছেলেকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
আর যদি আত্মীয়তা সম্পর্কের দিক ও স্তর সমান হয়, কিন্তু আত্মীয়তার বন্ধন শক্তিশালী হওয়ার দিক থেকে ভিন্নতা থাকে, তবে অধিক শক্তিশালী দিকটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। যেমন- সহোদর ভাইকে বৈমাত্রেয় ভায়ের উপর প্রাধান্য দেওয়া হবে।
টিকাঃ
৭৮০. সহীহুল বুখারী ৬৭৩২, সহীহ মুসলিম ২/১৬১৫।
📄 বাঁধা দেওয়া (উত্তরাধীকারীকে তার উত্তরাধিকার থেকে বাঁধা দেওয়া)
الحجب তথা বাঁধা দেওয়া হলো: সমস্ত সম্পদ হতে বা কিছু সম্পদ হতে উত্তরাধিকারীকে তার উত্তরাধিকার হতে বাঁধা দেওয়া, এমন ব্যক্তির উপস্থিতির কারণে যে ব্যক্তি তার চেয়ে অধিক বেশি হকদার। এটা দুই প্রকার:
১. حجب الأوصاف তথা কর্ম বা বিশেষণের কারণে সম্পদ হতে বঞ্চিত হওয়া: যে ব্যক্তি সম্পদ হতে বঞ্চিত হওয়ার তিনটি কারণ: দাস হওয়া বা হত্যা করা, বা মুরতাদ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। যে কোনো একটির সাথে সম্পৃক্ত হবে, সে সম্পদ হতে বঞ্চিত হবে। তার থাকাকে না থাকা বলে গণ্য করা হবে। এটা সকল উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রে হতে পারে।
২. حجب الأشخاص তথা ব্যক্তির কারণে সম্পদ হতে বঞ্চিত হওয়া: স্বাভাবিকভাবে সম্পদ থেকে বঞ্চিত হওয়া বলতে এটাকেই বুঝায়। এটা দুই প্রকার:
প্রথমতঃ حجب الحرمان তথা পরিপূর্ণভাবে (সম্পদের উত্তরাধিকারী হওয়া থেকে) বঞ্চিত হওয়া: তা হলো, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি সামগ্রিকভাবে সম্পদের উত্তরাধিকারী হওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়া। এটা সমস্ত ওয়ারিসদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, শুধুমাত্র ছয় প্রকার ব্যক্তি ব্যতীত। তারা হলো: বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে।
দ্বিতীয়ত: )حجب النقصان( তথা অধিক সম্পদের উত্তরাধিকারী হওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়া: তা হলো, অধিক সম্পদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে কম সম্পদ পাওয়া। এ পদ্ধতিতে সম্পদ হতে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হলো: সে ব্যক্তির চেয়ে বেশি হকদার ব্যক্তি থাকা। এজন্য এটার নামকরণ করা হয়েছে حجب الأشخاص তথা ব্যক্তির কারণে সম্পদ হতে বঞ্চিত হওয়া। এটা আবার সাত প্রকার: [নোট: আসাবা-অনির্ধারিত অংশ অর্থাৎ যাদের জন্য উত্তরাধিকার সম্পদে নির্ধারিত অংশ থাকে না]
১. অধিক অংশ হতে কম অংশে স্থানান্তরিত হওয়া। এটা ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে যাদের নির্ধারিত দুটি অংশ রয়েছে। যেমন: স্বামী-স্ত্রী, মাতা, নাতনী এবং বৈমাত্রেয় বোন।
২. নির্ধারিত অংশ হতে আসাবাতে স্থানান্তরিত হওয়া। এটা হয়ে থাকে যারা অর্ধেক ও দুই তৃতীয়াংশের উত্তরাধীকারী হয়। যখন তাদের সাথে আসাবাকারী থাকে।
৩. আসাবা থেকে নির্ধারিত অংশের দিকে ফিরে যাওয়া, যা আসাবা থেকে কম। এটা পিতা ও দাদার ক্ষেত্রে হওয়ে থাকে, যখন তারা আসাবা থেকে নির্ধারিত অংশের দিকে আসে।
৪. এক আসাবা হতে আরেক আসাবায় যাওয়া, যা তুলনামূলক কম। এটা সহোদর বোন ও বৈমাত্রেয় বোনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কারণ তারা মেয়ে ও নাতনীর সাথে থাকলে যতটুকু সম্পদ পেতো, তারা তাদের ভায়ের সাথে আসাবা হলে, তার চেয়ে কম পেয়ে থাকে।
৫. নির্ধারিত অংশ বণ্টনের ক্ষেত্রে অনেক লোকের সমাগম হওয়া। যেমন এক চতুর্থাংশ সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে দুজন স্ত্রীর একত্রিত হওয়া অথবা এক ষষ্ঠাংশ সম্পদ বণ্টনে একাধিক দাদী থাকা।
৬. আসাবার ক্ষেত্রে অনেক লোকের সমাগম হওয়া। যেমন সম্পূর্ণ সম্পদ বা অবশিষ্ট সম্পদের ক্ষেত্রে অনেক আসাবা হওয়া।
৭. নির্ধারিত অংশের অধিকারীদের আউলে )عول( ৭৮১ সমাগম ঘটা। যে সমস্ত আসলের ক্ষেত্রে আউল )عول( সংঘটিত হয়ে থাকে।
এরই উপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি: যে ব্যক্তি কারো মাধ্যমে সম্পর্কযুক্ত হয়, ৭৮২ ঐ সম্পর্ক মাধ্যমই ব্যক্তি তাকে বঞ্চিত করে। আর মৃতব্যক্তির আসলকে (পিতা, দাদা, বা পরদাদাকে) আসলই বঞ্চিত করে (অর্থাৎ পিতা থাকলে দাদাকে বঞ্চিত করবে, আবার যদি পিতা না থাকে, কিন্তু দাদা ও পরদাদা থাকে তবে দাদা পরদাদাকে বঞ্চিত করে)। আর ফুরু فروع কে তার উচু স্তরের فروع ই বঞ্চিত করবে (অর্থাৎ ছেলে, নাতি, নাতির ছেলে এগুলো فروع। যদি ছেলে থাকে, তবে নাতিকে বঞ্চিত করবে, আর যদি ছেলে না থাকে, কিন্তু নাতি ও নাতির ছেলে থাকে, তবে নাতি নাতির ছেলেকে বঞ্চিত করবে।)। আর حواشی )মৃতব্যক্তির ভাই-বোন) কে أصول বা আসল (বাপ-দাদা) ও فروع বা ফুরু (ছেলে-নাতনী) ও حواشی )নিকটবর্তী ভাই-বোন দূরবর্তী ভাইবোনকে) বঞ্চিত করে থাকে।
টিকাঃ
৭৮১. আউল: উত্তরাধিকারের সামষ্টিক নির্ধারিত ভাগের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং তাদের প্রত্যেকের নির্ধারিত অংশকে হ্রাস করা।
৭৮২. বা আল ইদলা: মৃতের সাথে সম্পর্ক। সেটা হবে সরাসরি রক্তের সাথে। যেমন- পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা। অথবা কারো মাধ্যমে সম্পর্কযুক্ত হবে। যেমন- পুত্রের পুত্র বা নাতির সম্পর্ক ছেলের মাধ্যমে অথবা নাতনির সম্পর্ক ছেলের মাধ্যমে।