📄 দাস মুক্তির রুকন শর্ত ও শব্দাবলি
১. দাস মুক্তির রুকনসমূহ: দাস মুক্তির রুকন তিনটি: ক. المعتق বা মুক্তকারী: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যার মাধ্যমে অন্যকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করা হয়। খ. المعتق। বা মুক্তিপ্রাপ্ত: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যাকে আজাদ করা হয় অথবা মুক্ত হওয়াটা যার জন্য প্রযোজ্য হয়। গ. শব্দসমূহ: আর এগুলো হলো সেই শব্দগুচ্ছ যেগুলোর মাধ্যমে আজাদ করাটা বাস্তবায়িত হয়।
২. তার শর্তসমূহ: দাস মুক্ত করা বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য নিম্নে বর্ণিত শর্তগুলো জরুরি:
► মুক্তিকারীকে উদ্দিষ্ট কাজের যোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ তাকে প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান, বিচক্ষণ এবং স্বেচ্ছাধীন হতে হবে। কাজেই শিশু, উন্মাদ মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং অনিচ্ছুক ব্যক্তির দাস মুক্তি করা বিশুদ্ধ হবে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةِ، عَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَبْلُغَ ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يُفِيقَ، وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ "তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিশু বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত, উন্মাদ বোধ শক্তি ফিরে পাওয়ার আগ পর্যন্ত ও ঘুমন্ত ব্যক্তির জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত।”৭৬০ তাছাড়া যাকে বাধ্য করা হয়েছে এমন ব্যক্তির দাস মুক্তি বিশুদ্ধ হবে না যেমনিভাবে তার কোনো কাজই গৃহীত হয় না।
► তাকে সেই দাসের মালিক হতে হবে। কাজেই যে মালিক নয় তার পক্ষ থেকে দাস মুক্ত করা বিশুদ্ধ হবে না।
► দাসকে এমন কোনো হকের সাথে জড়িত থাকা যাবে না যেটি তাকে মুক্ত হতে বাধাগ্রস্ত করে। যেমন ঋণ অথবা দিয়াত। কাজেই যতক্ষণ পর্যন্ত সে এই ঋণ পরিশোধ না করবে অথবা দিয়াত প্রদান না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে মুক্ত করাটা সঠিক হবে না।
► অবশ্যই দাস মুক্ত করাটা হতে হবে স্পষ্ট, দ্যর্থহীন শব্দ উচ্চারণ অথবা এমন ইঙ্গিতের মাধ্যমে যেটা স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত হবে। শুধুমাত্র নিয়ত করার মাধ্যমে দাস মুক্ত করা বাস্তবায়ন হবে না। কেননা নিয়ত এর মাধ্যমে মালিকানা অপসারিত হয় না।
৩. শব্দসমূহ:
► স্পষ্ট শব্দাবলীর মাধ্যমে; যেমন মুক্ত করা বা স্বাধীন করার শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে অথবা অনুরূপ অর্থবোধক শব্দের মাধ্যমে যেমন- 'তুমি স্বাধীন, মুক্ত, বন্ধনহীন, আজাদকৃত' অথবা 'আমি তোমাকে মুক্ত করে দিলাম।'
► পরোক্ষভাবে; যেমন যেথায় খুশি চলে যাও। অথবা তোমার উপর আমার কোনো মালিকানা নেই অথবা তোমার উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব নেই। দূরে কোথাও চলে যাও!, দূর হও!, আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম এবং অনুরূপ শব্দাবলী। এ ধরনের পরোক্ষ শব্দ উচ্চারণ এর মাধ্যমে দাস মুক্ত করা বাস্তবায়িত হবে না। তবে যদি ব্যক্তি তাকে মুক্ত করে দেওয়ার নিয়ত করে তাহলে বাস্তবায়িত হবে।
টিকাঃ
৭৬০. সুনান আবু দাউদ, হা. ৪৩৯৮।
📄 দাস মুক্তির নীতিমালা
১. কোনো দাস বা দাসীর মালিকানায় একাধিক ব্যক্তির যৌথ অংশগ্রহণ বৈধ রয়েছে।
২. যখন কোনো ব্যক্তি যৌথভাবে ক্রয়কৃত গোলামকে মুক্ত করবে তখন শুধুমাত্র তার অংশটাই মুক্ত করা হবে। আর অপর মালিকের অংশের ক্ষেত্রে করণীয় হলো, মুক্তকারী ব্যক্তি সামর্থ্যবান হলে সে অপর অংশীদারের অংশ আজাদ করে দিবে এবং গোলামের মূল্য নির্ধারণ করে অপর অংশীদারকে তা প্রদান করবে। আর যদি মুক্তকারী অংশীদার স্বাবলম্বী না হয় তাহলে তাকে অপর অংশীদারের অংশ প্রদান করতে হবে না। বস্তুত গোলাম নিজেই অপর অংশীদারের মূল্য জোগাড় করার জন্য প্রচেষ্টা চালাবে। অতঃপর তাকে মূল্য প্রদানের মাধ্যমে সে নিজেকে মুক্ত করে নিবে। আর এক্ষেত্রে বিষয়টি মুকাতাব গোলাম এর মতো।
দলীল: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ، فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ العَبْدِ قُوْمَ العَبْدُ عَلَيْهِ قِيمَةَ عَدْلٍ، فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ، وَعَتَقَ عَلَيْهِ العَبْدُ، وَإِلَّا فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ
“কেউ যদি কোনো ক্রীতদাস হতে নিজের অংশ মুক্ত করে আর ক্রীতদাসের মূল্য পরিমাণ অর্থ তার কাছে থাকে, তবে তার উপর দায়িত্ব হবে ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নির্ণয় করা। তারপর সে শরীকদেরকে তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করবে এবং ক্রীতদাসটি তার পক্ষ হতে মুক্ত হয়ে যাবে, কিন্তু (সে পরিমাণ অর্থ) না থাকলে তার পক্ষ হতে ততটুকুই মুক্ত হবে যতটুকু সে মুক্ত করেছে।”৭৬১ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন: مَنْ أَعْتَقَ نَصِيبًا - أَوْ شَقِيصًا فِي مَمْلُوكٍ، فَخَلَاصُهُ عَلَيْهِ فِي مَالِهِ، إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ، وَإِلَّا قُوْمَ عَلَيْهِ، فَاسْتُسْعِيَ بِهِ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ
“কেউ অংশীদারিত্ব ক্রীতদাস হতে নিজের ভাগ বা অংশ মুক্ত করে দিলে অর্থ ব্যয়ে সেই ক্রীতদাসকে নিষ্কৃতি দেওয়া তার উপর কর্তব্য, যদি তার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ থাকে। অন্যথায় তার নায্যমূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং তাকে অতিরিক্ত কষ্ট না দিয়ে উপার্জন করতে বলা হবে।”৭৬২ প্রকাশ থাকে যে বিষয়টি দাসের ইচ্ছার আনুপাতিক হবে।
৩. অন্য কেউ নয়, দাসের রেখে যাওয়া সম্পদ কেবল মুক্তকারীই পাবে। কারণ দাসের রেখে যাওয়া সম্পদ মুক্তকারীর জন্যই; যেমনিভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: الوَلاءَ لَمِنْ أَعْتَقَ
"দাসের রেখে যাওয়া সম্পদ মুক্তকারীর জন্যই সাব্যস্ত হবে।”৭৬৩ নাবী الولاء বা মালিকানাকে বংশীয় সম্পর্কের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন: الْوَلَاءُ حْمَةٌ كَلُحْمَةِ النَّسَبِ
"ওয়ালা একটা বলিষ্ঠ সম্পর্ক যেমন রক্তের সম্পর্ক। ”৭৬৫
৪. যে ব্যক্তি তার দাসকে অন্যায়ভাবে প্রহার, কঠোর শাস্তি দিবে, নির্যাতন ও অঙ্গহানি করবে অথবা অনুরূপ কোনো কিছু করবে, তাহলে তার করণীয় হলো, সেই দাসকে মুক্ত করে দিবে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: مَنْ ضَرَبَ غُلَامًا لَهُ حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ، أَوْ لَطَمَهُ، فَإِنَّ كَفَّارَتَهُ أَنْ يُعْتِقَهُ
"যে ব্যক্তি নিজ গোলামকে বিনা অপরাধে প্রহার করল কিংবা চপেটাঘাত করল, এর কাফফারা হলো তাকে মুক্ত করে দিবে।"৭৬৬ তবে শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার জন্য মামুলি আঘাত করলে কোনো সমস্যা নাই।
টিকাঃ
৭৬১. 'মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহু বুখারী, হা. ২৫২২; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৫০১।
৭৬২. মুত্তাফাকুন আলাইহি; সহীহু বুখারী, হা. ২৫২৭; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৫০৩।
৭৬৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহ বুখারী, হা. ১৪৯৩; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৫০৫।
৭৬৫. ইমাম শাফেঈ তার কিতাবুল উম, হা. ১২৩২; ইমাম হকিম তা মুসতাদরাকে ৪/৩৪১ এবং তিনি সহীহ বলেছেন; ইমাম বায়হাকী ১০/২৯২ সহীহ বলেছেন; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে' হা. ৭১৫৭ এবং ইরওয়া ৬/১০৯।
৭৬৬. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৫৭-৩০।
📄 আত-তাদবির তথা মুদাব্বার গোলাম
১. পরিচয়: تعليق عتق الرقيق بموت سیده "মনিবের মৃত্যুর সাথে দাসের মুক্ত হওয়া সম্পর্কযুক্ত করা।"
যেমন বলা হয় دبر الرجل عبده تدبيرا লোকটি তার দাসের জন্য মুক্তির ব্যবস্থা করেছিল। মৃত্যুর পর কোনো ব্যক্তি তার দাসকে মুক্ত করলে এটি ব্যবহৃত হয়। অনুরূপভাবে أعتقه عن দিবা সে তাকে পরে মুক্তি দিল এবাক্যটিও ব্যবহৃত হয়।
المدير : هو العبد الذي حصل له التدبير মুদাব্বার: সেই গোলাম যাকে মালিকের মৃত্যুর পর মুক্তির ব্যবস্থা হয়। আর তাকে মুদাব্বার নামে নামকরণ করার কারণ: তার মুক্ত হওয়া মনিবের মৃত্যুর পর বাস্তবায়িত হয়। তাছাড়া মৃত্যু জীবনের পরেই আসে।
২. হুকুম ও দলীল: মুদাব্বার গোলাম গ্রহণ ইসলামে বৈধ রয়েছে এবং এর বিশুদ্ধতার উপর ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এর দলীল জাবির এর হাদীস। أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ أَعْتَقَ غُلَامًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ ، لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي ؟ فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بِثَمَانِ مِائَةِ دِرْهَمٍ، فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ *আনসারী এক ব্যক্তি (মৃত্যুর পর মুক্ত হবে এই শর্তে) তার গোলামকে মুক্ত করেছিলেন, তার এই গোলামটি ছাড়া আর কোনো সম্পদ ছিল না। অতঃপর এ সংবাদটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: তাকে আমার কাছ থেকে কে ক্রয় করবে? অতঃপর নাঈম বিন আব্দুল্লাহ আটশত দিরহামের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করে নেন। অতঃপর তিনি সেই বিনিময় তার নিকট প্রদান করেন।"৭৬৭
৩. মোদাব্বার গোলামের বিধান: স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজনের তাগিদে মুদাব্বার গোলাম বিক্রি করা বৈধ রয়েছে। তাছাড়া কিছু আহলুল ইলম প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে উভয় ক্ষেত্রে বিক্রয় করার বৈধতা প্রদান করেছেন। পূর্বে উল্লিখিত জাবির এর হাদীসের উপর নির্ভর করে।
মালের এক-তৃতীয়াংশ হতে মুদাব্বার গোলামকে মুক্ত করতে হবে, সম্পূর্ণ মাল থেকে নয়। কেননা তার হুকুম অসীয়তের অনুরূপ। এ দুটোই মৃত্যুর আগে বাস্তবায়িত হয় না।
মুদাব্বার গোলামকে দান করে দেওয়া মনিবের জন্য বৈধ রয়েছে। কারণ দান করা বিক্রয় করার মতোই। মালিকের জন্য মুদাব্বার দাসীর সাথে সঙ্গম করা বৈধ রয়েছে। কারণ প্রকৃতপক্ষে সে একজন দাসীই। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ﴿إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ﴾ "নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত, এক্ষেত্রে তারা নিন্দিত হবে না।"[সূরা মুমিনুন: ৬]
টিকাঃ
৭৬৭. 'মুত্তাফাকুন আলাইহি; সহীহু বুখারী, হা. ১৪৯৩; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৯৭।
📄 মুকাতাব গোলাম
১. তার পরিচয়: مكاتبه এর শাব্দিক অর্থ: শব্দটি كتب মূল ধাতু থেকে গৃহীত। অর্থ অত্যাবশ্যক করা, বাধ্যতামূলক করে দেওয়া। وشرعاً: هي إعتاق العبد نفسه من سيده بمال يكون في ذمته يُؤدى مؤجلاً. পরিভাষায়: নির্ধারিত সময়ে মূল্য পরিশোধ করার মাধ্যমে গোলাম নিজেকে তার মনিবের করায়ত্ত থেকে মুক্ত করে নেওয়া।
মুকাতাব مكاتب শব্দের এ বর্ণে যবর দিয়ে: ঐ গোলামকে বুঝায় যার মুক্ত হওয়া ন্যস্ত থাকে ঐ সম্পদের উপর যে সম্পদ তার মনিবকে প্রদান করতে হয়।
আর এ বর্ণে যের দিয়ে, যে মুক্ত করে তাকে বুঝায়।
আর এটিকে কিতাবাহ (كتابة) নামে নামকরণের কারণ হলো, মনিব তার ও তার দাসের মধ্যস্থতায় এমন একটি চুক্তিনামা লিপিবদ্ধ করেন যেটির উপর দুইজনেই পরিতুষ্ট থাকেন।
২. তার হুকুম ও দলীলসমূহ: মনিবের চাহিদাকৃত সম্পদ প্রদানে সামর্থ্যবান উপার্জনকারী সত্যবাদী দাস যখন স্বাধীন হতে চাইবে তখন তাকে এ পদ্ধতিতে মুক্ত করা মুস্তাহাব। আল্লাহ তাআলার বাণী,
وَالَّذِينَ يَبْتَغُونَ الْكِتَابَ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًا "তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে কেউ তার মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চাইলে, তাদের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হও, যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণ আছে বলে জানতে পার।” [সূরা নূর: ৩৩]
৩. মুকাতাব দাসের বিধিবিধান: > দাস-দাসী যখন তাদের মনিবের সাথে চুক্তিকৃত সম্পদ প্রদান করতে পারবে তখন তারা মুক্ত হয়ে যাবে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
المَكَاتَبُ عَبْدُ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْ مُكَاتَبَتِهِ دِرْهَمْ "নির্দিষ্ট অংকের অর্থ পরিশোধ করার বিনিময়ে মুক্তিলাভের চুক্তিতে আবদ্ধ দাস তা হতে এক দিরহাম অবশিষ্ট থাকলেও সে দাসই থেকে যাবে।"৭৬৮ এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, যখন দাস চুক্তিকৃত সম্পদ তার মনিবকে প্রদান করবে তখন সে আর দাস থাকবে না, স্বাধীন হয়ে যাবে।
> উপরিউক্ত হাদীসটির আলোকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, চুক্তিকৃত সম্পূর্ণ সম্পদ গোলাম তার মনিবকে প্রদান করার আগ পর্যন্ত স্বাধীন বলে বিবেচ্য হবে না।
> গোলাম তার চুক্তিকৃত সম্পদ মনিবকে প্রদান করার পর তার অলা (রেখে যাওয়া সম্পদ) তার মনিবের হয়ে যাবে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
الوَلاءَ لِمَنْ أَعْتَقَ "দাসের রেখে যাওয়া সম্পদ মুক্তকারীর জন্যই সাব্যস্ত হবে।”৭৬৯
> মনিবের উচিত চুক্তিকৃত সম্পদ থেকে কিছু ছাড় দেওয়া। মহান আল্লাহ বলেন:
وَآتُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ "আর আল্লাহ্ তোমাদেরকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তাদেরকে দাও।"[সূরা নূর: ৩৩]
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস বলেন,
ضَعُوا عَنْهُمْ مِنْ مُكَاتَبَتِهِمْ “তোমরা তোমাদের গোলামের দায়ভার কিছুটা কমিয়ে দাও।”৭৭০
তাছাড়া তাকে ছাড় দেওয়া-না দেওয়া বা সেই সম্পদ পুনরায় তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি মনিবের ইচ্ছাধীন।
গোলাম চুক্তিকৃত মূল্য এক কিস্তি, দুই কিস্তি বা ততোধিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবে। তবে শর্ত হলো- কিস্তি সংখ্যা ও প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ মূল্য পরিশোধ করবে সেটি নির্ধারিত থাকতে হবে।
মুকাতাব গোলাম তার মনিবের বিনা অনুমতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
أَيُّمَا عَبْدٍ تَزَوَّجَ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ، فَهُوَ عَاهِرٌ “যেকোনো ক্রীতদাস তার মনিবের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে সে ব্যভিচারী।”৭৭২ এমনকি বিনা অনুমতিতে কোনো উপপত্নী বা রক্ষিতা গ্রহণ করতে পারবে না।
মুকাতাব গোলাম বিক্রি করা বৈধ এবং এই চুক্তিটা ক্রেতার নিকট হস্তান্তর হয়ে যাবে। গোলাম তার পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে পারলে মুক্ত হয়ে যাবে এবং তার অলা (রেখে যাওয়া সম্পদ) ক্রেতার জন্য নির্ধারিত হবে। বারিরা-এর ঘটনায় আয়িশাহ-এর হাদীস: اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا، فَإِنَّ الْوَلَاءَ مِنْ أَعْتَقَ "তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও। নিশ্চয়ই মালিকানা তারই হবে যে মুক্ত করে। "৭৭৩
টিকাঃ
৭৬৮. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩৯২৬; তিরমিযী, হা. ১২৬০ এবং তিনি হাসান বলেছেন; শাব্দিক বর্ণনা ইমাম আবু দাউদের। ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, ইরওয়া নং ১৬৭৩।
৭৬৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহ বুখারী, হা. ১৪৯৩; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৫০৫।
৭৭০. বায়হাকী তার সুনানুস সগীর, হা. ৩৪৭৮।
৭৭২. সুনান আবু দাউদ, হা. ২০৭৮; তিরমিযী, হা. ১১১১ এবং তিনি হাসান বলেছেন; শাইখ আলবানী হাসান বলেছেন, সহীহ সুনানুত তিরমিযী, হা. ৮৮৭; عَامِرٌ: ব্যভিচারী।
৭৭৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহু বুখারী, হা. ২৫৬৫; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৫০৪-১২।