📄 দাস মুক্তির পরিচয়, শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল, তার ফযীলত এবং শ্রীয়ত সম্মত হওয়ার হিকমাহ
১. عتق (দাস মুক্তির) পরিচিতি:
عتق এর শাব্দিক অর্থ: عين বর্ণে যের ও تاء বর্ণে সাকিন দিয়ে অর্থ হলো : স্বাধীনতা ও নিষ্কৃতি লাভ করা, তাদের প্রচলিত কথা عتق الفرس থেকে নির্গত। বাক্যটি তখন বলা হয়ে থাকে যখন ঘোড়াটি অন্য ঘোড়াদের অগ্রবর্তী হয়ে যায়। আর عتق الفرخ অর্থাৎ পাখির ছানাটি মুক্তি পেয়েছে বাক্যটি তখন ব্যবহার করা হয় যখন সেটি উড়ে যায়, স্বাধীন হয়ে যায় এবং নিষ্কৃতি লাভ করে।
وشرعاً : هو تحرير الرقبة وتخليصها من الرق، وإزالة الملك عنها، وتثبيت الحرية لها. শারঈ পরিভাষায় : عتق হলো দাসদের মুক্তি করে দাসত্বের গণ্ডি থেকে নিষ্কৃতি প্রদান করা, তার থেকে সর্বপ্রকার কর্তৃত্ব অপসারণ করা এবং তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
২. শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল:
এটি শরীয়ত সম্মত হওয়ার মূল ভিত্তি হলো কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা।
কুরআন থেকে দলীল : মহান আল্লাহর বাণী: فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ “তাহলে একজন দাসকে মুক্ত করবে।” [সুরা নিসা : ৯৬]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন : فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا "একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একজন দাসকে মুক্ত করবে।” [সূরা মুজাদালাহ : ৩]
সুন্নাহ থেকে দলীল: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً، أَعْتَقَ اللَّهُ بِكُلِّ عُضْرٍ مِنْهَا عُضْوًا مِنْ أَعْضَائِهِ مِنَ النَّارِ، حَتَّى فَرْجَهُ بِفَرْجِهِ "কেউ কোনো একজন দাস মুক্ত করলে আল্লাহ সেই দাসের প্রত্যেকটি অঙ্গের বিনিময় তার অঙ্গ কে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন। এমনকি লজ্জাস্থানের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানকেও।”৭৫৮
ইজমা থেকে দলীল: দাস মুক্তির বিশুদ্ধতা এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ব্যাপারে উম্মতের ইজমা হয়েছে।
৩. ফযীলত: দাস মুক্তি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম একটি মাধ্যম এবং বিরাট আনুগত্যের কাজও বটে। যেমনিভাবে আল্লাহ তাআলা দাস মুক্তির ফজিলতের ব্যাপারে এরশাদ করেন فَكُّ رَقَبَةٍ "ব্যক্তিকে দাসত্বের গ্লানি থেকে মুক্তি দেওয়া।" [সূরা বালাদ: ১৩]
আর উক্ত আলোচনাটি এমন কিছু পথ অবলম্বনের আলোচনায় নিয়ে আসা হয়েছে, যে পথ ধরে কোনো ব্যক্তি চললে তার জন্য রয়েছে মুক্তি এবং কল্যাণ। আর সে পথটি হলো, দাস মুক্ত করা। আর একটু আগেই আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসে দাস মুক্তির ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। أَيُّهَا امْرِئٍ مُسْلِمٍ، أَعْتَقَ امْرَأَ مُسْلِمًا، كَانَ فَكَاكَهُ مِنَ النَّارِ... الحديث "কোনো মুসলিম ব্যক্তি অপর মুসলিমকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিলে এটিই তার জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের জন্য যথেষ্ট। ৭৫৯ এর ফযীলতের ব্যাপারে বহু উদ্ধৃতি রয়েছে।
মহিলা মুক্ত করা অপেক্ষা পুরুষকে মুক্ত করা উত্তম। আর অন্যান্য দাসের তুলনায় মূল্যবান ও উৎকৃষ্ট দাস মুক্ত করা অধিক উত্তম।
৪. শরীয়ত সম্মত হওয়ার হিকমাহসমূহ: ইসলামে কতিপয় মহৎ উদ্দেশ্য ও বিশুদ্ধ কিছু হিকমাহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দাস মুক্তিকে শরীয়ত সম্মত করা হয়েছে। তা হলো: নির্দোষ মানুষদেরকে দাসত্বের ধৃষ্টতা থেকে মুক্তি দেওয়া, যাতে সে যেন স্বীয় মালিকানা গ্রহণ করতে পারে এবং তার উপকার সাধনের জন্য ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী খরচ করতে সামর্থ্যবান হয়।
আর এজন্যই আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা হত্যা, রমাযানে স্ত্রী সঙ্গম এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা স্বরূপ দাস মুক্তিকে নির্ধারণ করেছেন।
টিকাঃ
৭৫৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৫১৭; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৫০৯।
৭৫৯. তিরমিযী, হা. ১৫৪৭ এবং তিনি সহীহ বলেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহু সুনানুত তিরমিযী, হা. ১২৫২।
📄 দাস মুক্তির রুকন শর্ত ও শব্দাবলি
১. দাস মুক্তির রুকনসমূহ: দাস মুক্তির রুকন তিনটি: ক. المعتق বা মুক্তকারী: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যার মাধ্যমে অন্যকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করা হয়। খ. المعتق। বা মুক্তিপ্রাপ্ত: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যাকে আজাদ করা হয় অথবা মুক্ত হওয়াটা যার জন্য প্রযোজ্য হয়। গ. শব্দসমূহ: আর এগুলো হলো সেই শব্দগুচ্ছ যেগুলোর মাধ্যমে আজাদ করাটা বাস্তবায়িত হয়।
২. তার শর্তসমূহ: দাস মুক্ত করা বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য নিম্নে বর্ণিত শর্তগুলো জরুরি:
► মুক্তিকারীকে উদ্দিষ্ট কাজের যোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ তাকে প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান, বিচক্ষণ এবং স্বেচ্ছাধীন হতে হবে। কাজেই শিশু, উন্মাদ মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং অনিচ্ছুক ব্যক্তির দাস মুক্তি করা বিশুদ্ধ হবে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةِ، عَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَبْلُغَ ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يُفِيقَ، وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ "তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিশু বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত, উন্মাদ বোধ শক্তি ফিরে পাওয়ার আগ পর্যন্ত ও ঘুমন্ত ব্যক্তির জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত।”৭৬০ তাছাড়া যাকে বাধ্য করা হয়েছে এমন ব্যক্তির দাস মুক্তি বিশুদ্ধ হবে না যেমনিভাবে তার কোনো কাজই গৃহীত হয় না।
► তাকে সেই দাসের মালিক হতে হবে। কাজেই যে মালিক নয় তার পক্ষ থেকে দাস মুক্ত করা বিশুদ্ধ হবে না।
► দাসকে এমন কোনো হকের সাথে জড়িত থাকা যাবে না যেটি তাকে মুক্ত হতে বাধাগ্রস্ত করে। যেমন ঋণ অথবা দিয়াত। কাজেই যতক্ষণ পর্যন্ত সে এই ঋণ পরিশোধ না করবে অথবা দিয়াত প্রদান না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে মুক্ত করাটা সঠিক হবে না।
► অবশ্যই দাস মুক্ত করাটা হতে হবে স্পষ্ট, দ্যর্থহীন শব্দ উচ্চারণ অথবা এমন ইঙ্গিতের মাধ্যমে যেটা স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত হবে। শুধুমাত্র নিয়ত করার মাধ্যমে দাস মুক্ত করা বাস্তবায়ন হবে না। কেননা নিয়ত এর মাধ্যমে মালিকানা অপসারিত হয় না।
৩. শব্দসমূহ:
► স্পষ্ট শব্দাবলীর মাধ্যমে; যেমন মুক্ত করা বা স্বাধীন করার শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে অথবা অনুরূপ অর্থবোধক শব্দের মাধ্যমে যেমন- 'তুমি স্বাধীন, মুক্ত, বন্ধনহীন, আজাদকৃত' অথবা 'আমি তোমাকে মুক্ত করে দিলাম।'
► পরোক্ষভাবে; যেমন যেথায় খুশি চলে যাও। অথবা তোমার উপর আমার কোনো মালিকানা নেই অথবা তোমার উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব নেই। দূরে কোথাও চলে যাও!, দূর হও!, আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম এবং অনুরূপ শব্দাবলী। এ ধরনের পরোক্ষ শব্দ উচ্চারণ এর মাধ্যমে দাস মুক্ত করা বাস্তবায়িত হবে না। তবে যদি ব্যক্তি তাকে মুক্ত করে দেওয়ার নিয়ত করে তাহলে বাস্তবায়িত হবে।
টিকাঃ
৭৬০. সুনান আবু দাউদ, হা. ৪৩৯৮।
📄 দাস মুক্তির নীতিমালা
১. কোনো দাস বা দাসীর মালিকানায় একাধিক ব্যক্তির যৌথ অংশগ্রহণ বৈধ রয়েছে।
২. যখন কোনো ব্যক্তি যৌথভাবে ক্রয়কৃত গোলামকে মুক্ত করবে তখন শুধুমাত্র তার অংশটাই মুক্ত করা হবে। আর অপর মালিকের অংশের ক্ষেত্রে করণীয় হলো, মুক্তকারী ব্যক্তি সামর্থ্যবান হলে সে অপর অংশীদারের অংশ আজাদ করে দিবে এবং গোলামের মূল্য নির্ধারণ করে অপর অংশীদারকে তা প্রদান করবে। আর যদি মুক্তকারী অংশীদার স্বাবলম্বী না হয় তাহলে তাকে অপর অংশীদারের অংশ প্রদান করতে হবে না। বস্তুত গোলাম নিজেই অপর অংশীদারের মূল্য জোগাড় করার জন্য প্রচেষ্টা চালাবে। অতঃপর তাকে মূল্য প্রদানের মাধ্যমে সে নিজেকে মুক্ত করে নিবে। আর এক্ষেত্রে বিষয়টি মুকাতাব গোলাম এর মতো।
দলীল: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ، فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ العَبْدِ قُوْمَ العَبْدُ عَلَيْهِ قِيمَةَ عَدْلٍ، فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ، وَعَتَقَ عَلَيْهِ العَبْدُ، وَإِلَّا فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ
“কেউ যদি কোনো ক্রীতদাস হতে নিজের অংশ মুক্ত করে আর ক্রীতদাসের মূল্য পরিমাণ অর্থ তার কাছে থাকে, তবে তার উপর দায়িত্ব হবে ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নির্ণয় করা। তারপর সে শরীকদেরকে তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করবে এবং ক্রীতদাসটি তার পক্ষ হতে মুক্ত হয়ে যাবে, কিন্তু (সে পরিমাণ অর্থ) না থাকলে তার পক্ষ হতে ততটুকুই মুক্ত হবে যতটুকু সে মুক্ত করেছে।”৭৬১ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন: مَنْ أَعْتَقَ نَصِيبًا - أَوْ شَقِيصًا فِي مَمْلُوكٍ، فَخَلَاصُهُ عَلَيْهِ فِي مَالِهِ، إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ، وَإِلَّا قُوْمَ عَلَيْهِ، فَاسْتُسْعِيَ بِهِ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ
“কেউ অংশীদারিত্ব ক্রীতদাস হতে নিজের ভাগ বা অংশ মুক্ত করে দিলে অর্থ ব্যয়ে সেই ক্রীতদাসকে নিষ্কৃতি দেওয়া তার উপর কর্তব্য, যদি তার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ থাকে। অন্যথায় তার নায্যমূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং তাকে অতিরিক্ত কষ্ট না দিয়ে উপার্জন করতে বলা হবে।”৭৬২ প্রকাশ থাকে যে বিষয়টি দাসের ইচ্ছার আনুপাতিক হবে।
৩. অন্য কেউ নয়, দাসের রেখে যাওয়া সম্পদ কেবল মুক্তকারীই পাবে। কারণ দাসের রেখে যাওয়া সম্পদ মুক্তকারীর জন্যই; যেমনিভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: الوَلاءَ لَمِنْ أَعْتَقَ
"দাসের রেখে যাওয়া সম্পদ মুক্তকারীর জন্যই সাব্যস্ত হবে।”৭৬৩ নাবী الولاء বা মালিকানাকে বংশীয় সম্পর্কের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন: الْوَلَاءُ حْمَةٌ كَلُحْمَةِ النَّسَبِ
"ওয়ালা একটা বলিষ্ঠ সম্পর্ক যেমন রক্তের সম্পর্ক। ”৭৬৫
৪. যে ব্যক্তি তার দাসকে অন্যায়ভাবে প্রহার, কঠোর শাস্তি দিবে, নির্যাতন ও অঙ্গহানি করবে অথবা অনুরূপ কোনো কিছু করবে, তাহলে তার করণীয় হলো, সেই দাসকে মুক্ত করে দিবে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: مَنْ ضَرَبَ غُلَامًا لَهُ حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ، أَوْ لَطَمَهُ، فَإِنَّ كَفَّارَتَهُ أَنْ يُعْتِقَهُ
"যে ব্যক্তি নিজ গোলামকে বিনা অপরাধে প্রহার করল কিংবা চপেটাঘাত করল, এর কাফফারা হলো তাকে মুক্ত করে দিবে।"৭৬৬ তবে শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার জন্য মামুলি আঘাত করলে কোনো সমস্যা নাই।
টিকাঃ
৭৬১. 'মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহু বুখারী, হা. ২৫২২; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৫০১।
৭৬২. মুত্তাফাকুন আলাইহি; সহীহু বুখারী, হা. ২৫২৭; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৫০৩।
৭৬৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহ বুখারী, হা. ১৪৯৩; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৫০৫।
৭৬৫. ইমাম শাফেঈ তার কিতাবুল উম, হা. ১২৩২; ইমাম হকিম তা মুসতাদরাকে ৪/৩৪১ এবং তিনি সহীহ বলেছেন; ইমাম বায়হাকী ১০/২৯২ সহীহ বলেছেন; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে' হা. ৭১৫৭ এবং ইরওয়া ৬/১০৯।
৭৬৬. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৫৭-৩০।
📄 আত-তাদবির তথা মুদাব্বার গোলাম
১. পরিচয়: تعليق عتق الرقيق بموت سیده "মনিবের মৃত্যুর সাথে দাসের মুক্ত হওয়া সম্পর্কযুক্ত করা।"
যেমন বলা হয় دبر الرجل عبده تدبيرا লোকটি তার দাসের জন্য মুক্তির ব্যবস্থা করেছিল। মৃত্যুর পর কোনো ব্যক্তি তার দাসকে মুক্ত করলে এটি ব্যবহৃত হয়। অনুরূপভাবে أعتقه عن দিবা সে তাকে পরে মুক্তি দিল এবাক্যটিও ব্যবহৃত হয়।
المدير : هو العبد الذي حصل له التدبير মুদাব্বার: সেই গোলাম যাকে মালিকের মৃত্যুর পর মুক্তির ব্যবস্থা হয়। আর তাকে মুদাব্বার নামে নামকরণ করার কারণ: তার মুক্ত হওয়া মনিবের মৃত্যুর পর বাস্তবায়িত হয়। তাছাড়া মৃত্যু জীবনের পরেই আসে।
২. হুকুম ও দলীল: মুদাব্বার গোলাম গ্রহণ ইসলামে বৈধ রয়েছে এবং এর বিশুদ্ধতার উপর ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এর দলীল জাবির এর হাদীস। أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ أَعْتَقَ غُلَامًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ ، لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي ؟ فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بِثَمَانِ مِائَةِ دِرْهَمٍ، فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ *আনসারী এক ব্যক্তি (মৃত্যুর পর মুক্ত হবে এই শর্তে) তার গোলামকে মুক্ত করেছিলেন, তার এই গোলামটি ছাড়া আর কোনো সম্পদ ছিল না। অতঃপর এ সংবাদটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: তাকে আমার কাছ থেকে কে ক্রয় করবে? অতঃপর নাঈম বিন আব্দুল্লাহ আটশত দিরহামের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করে নেন। অতঃপর তিনি সেই বিনিময় তার নিকট প্রদান করেন।"৭৬৭
৩. মোদাব্বার গোলামের বিধান: স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজনের তাগিদে মুদাব্বার গোলাম বিক্রি করা বৈধ রয়েছে। তাছাড়া কিছু আহলুল ইলম প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে উভয় ক্ষেত্রে বিক্রয় করার বৈধতা প্রদান করেছেন। পূর্বে উল্লিখিত জাবির এর হাদীসের উপর নির্ভর করে।
মালের এক-তৃতীয়াংশ হতে মুদাব্বার গোলামকে মুক্ত করতে হবে, সম্পূর্ণ মাল থেকে নয়। কেননা তার হুকুম অসীয়তের অনুরূপ। এ দুটোই মৃত্যুর আগে বাস্তবায়িত হয় না।
মুদাব্বার গোলামকে দান করে দেওয়া মনিবের জন্য বৈধ রয়েছে। কারণ দান করা বিক্রয় করার মতোই। মালিকের জন্য মুদাব্বার দাসীর সাথে সঙ্গম করা বৈধ রয়েছে। কারণ প্রকৃতপক্ষে সে একজন দাসীই। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ﴿إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ﴾ "নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত, এক্ষেত্রে তারা নিন্দিত হবে না।"[সূরা মুমিনুন: ৬]
টিকাঃ
৭৬৭. 'মুত্তাফাকুন আলাইহি; সহীহু বুখারী, হা. ১৪৯৩; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৯৭।