📄 তার অর্থ এবং দলীলসমূহ
১. তার অর্থ: الهبة বা হিবা হলো লেনদেনের উপযুক্ত ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় কাউকে কোনো বিনিময় ছাড়াই স্বেচ্ছায় নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট সম্পদ প্রদান করা।
২. তার হুকুম ও দলীলসমূহ: الهبة একটি মুস্তাহাব কাজ। যখন সে এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি করার ইচ্ছা করবে, যেমন সৎলোক, দরিদ্র ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজনকে দান করা।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: تَهَادَوْا تَحَابُّوا "আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: পরস্পরের ভালোবাসার নিদর্শনে হাদীয়া দাও।"৭৪৪
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْبَلُ الهَدِيَّةَ وَيُثِيبُ عَلَيْهَا "আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীয়া গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন।"৭৪৫
হিবা যদি লোক দেখানো, সুনাম-সুখ্যাতি অর্জন ও অহংকার প্রদর্শনে হয়, সেটা মাকরুহ হবে।
টিকাঃ
৭৪৪. বায়হাকী ৬/১৬৯; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, ইরওয়া নং ১৬০১।
৭৪৫. সহীহুল বুখারী, হা. ২৫৮৫।
📄 الهبة এর শর্তসমূহ
হিবার সাথে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পৃক্ত:
১. হিবাকারীকে লেনদেনের উপযুক্ত ব্যক্তি হতে হবে। তা হলো স্বাধীন, মুকাল্লাফ (যার উপর শারঈ বিধান অর্পণ হয়), চালাক প্রকৃতির হওয়া।
২. হিবাকারীর ইচ্ছার মাধ্যমে হতে হবে জোর পূর্বক হলে চলবে না।
৩. হিবাকৃত জিনিস এমন হবে যা বিক্রয় করা যাবে। যা বিক্রি করা যাবে না তা হিবা করা যাবে না। যেমন- মদ, শুকর।
৪. যাকে হিবা করা হয়েছে সে হিবাকৃত জিনিস গ্রহণ করবে। কারণ হিবা হলো মালিকানার চুক্তি। সুতরাং এক্ষেত্রে ইজাব ও কবুল-এর প্রয়োজন আছে।
৫. হিবা একেবারে হতে হবে, সময় সাপেক্ষে চলবে না। যেমন কেউ বলল, আমি তোমাকে এক মাস বা এক বছরের জন্য দান করলাম, তাহলে ঠিক হবে না। কেননা হিবা একটি মালিকানায় চুক্তি।
৬. হিবা কোনো বিনিময় মুক্ত হতে হবে। কারণ এটা হলে দান।
📄 হিবার সাথে সম্পৃক্ত বিধান
হিবার সাথে নিম্নোক্ত বিধানগুলো সম্পৃক্ত।
১. যখন দানকারী ব্যক্তি কাউকে তা দান করবে এবং সে ঐ দান গ্রহণ করবে, তখন তা দান হিসাবে অবধারিত হয়ে যাবে। তারপর এটি ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে দানকারীর কোনো অধিকার থাকবে না। যেহেতু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
العائد في هبته كالكلب يقيء ثم يعود في قيئه
"যে দান করে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মতো, যে বমি করে তা আবার খায়।" ৭৪৬ তবে পিতা এই বিধানের বাইরে। তিনি তার কোনো ছেলেকে দান করলে তা ফেরত নিতে পারবেন। যেমন ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
لا يحل للرجل أن يعطي العطية، فيرجع فيها، إلا الوالد فيما يعطي ولده
"কিছু দান করার পর পুনরায় তা ফেরত নেওয়া দানকারীর জন্য হালাল নয়। তবে পিতা তার পুত্রকে যা দান করে তা ফেরত নিতে পারে।"৭৪৭
২. যদি কোনো পিতা তার সন্তানদেরকে দান করে, তাহলে তার জন্য আবশ্যক হলো তাদের মাঝে সমতা রক্ষা করা। সুতরাং সে যদি নির্দিষ্টভাবে কাউকে বেশি দেয় বা প্রাধান্য দেয় অন্যদের সন্তুষ্টি ছাড়া তাহলে তা ঠিক হবে না। যদি তারা সন্তুষ্ট থাকে তাহলে ঠিক হবে। আর এটি এই কারণে যে, নুমান বিন বাশীর এর হাদীসে আছে, তার পিতা তাকে কিছু সম্পদ দিলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: أَكُلَّ وَلَدِكَ أَعْطَيْتَ مِثْلَ هَذَا ؟ قَالَ لَا ، قَالَ: «فَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْدِلُوا بَيْنَ أَوْلَادِكُمْ ، وفي رواية لا تُشْهِدْنِي عَلَى جَوْرٍ
“তোমার সব ছেলেকেই কি এ ধরনের দান করেছ? তিনি (বাশীর) বললেন, না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তবে আল্লাহকে ভয় করো এবং আপন সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা করো।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আমাকে অন্যায়ের সাক্ষী করো না।"৭৪৮
৩. যদি কোনো পিতা মৃত্যু শয্যায় কোনো সন্তানকে প্রাধান্য দিয়ে বেশি সম্পদ দেয়। আর অন্যদেরকে না দেয় তাহলে এটি ঠিক হবে না। তবে যদি অন্য ওয়ারিশরা অনুমতি দেয় তাহলে তা ঠিক হবে।
৪. কোনো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত করে দান করাটাও বৈধ হবে। যেমন কেউ বলল, যখন মুসাফির আসবে অথবা বৃষ্টি নামবে তখন আমি তোমাকে এই জিনিসটি দিবো।
৫. কারো পাওনা ঋণ হিবা করা বৈধ আছে। সেটি হবে ঋণ থেকে মুক্তি প্রদান।
৬. দান বা হাদীয়া ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। যদিও তা কম হয়। তবে সুন্নাহ হলো এর বিনিময়ে কিছু প্রদান করা। যেমন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছেন। عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْبَلُ الهَدِيَّةَ وَيُثِيبُ عَلَيْهَا
"আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীয়া গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন।"৭৪৯
টিকাঃ
৭৪৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৬২২; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৬২০।
৭৪৭. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩৫২২; তিরমিযী, হা. ১২৯৯ এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু মাজাহ, হা. ২৩৭৭; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ১৬২৪।
৭৪৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৫৮৭; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৬২৩।
৭৪৯. সহীহুল বুখারী, হা. ২৫৮৫।