📄 তার অর্থ ও বিধান
১. অর্থ: কোনো জিনিসকে এমনভাবে আটকে রাখা যা অক্ষত রেখেই আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার মাধ্যমে উপকার নেওয়া সম্ভব। সুতরাং এটি হলো মূলকে ঠিক রেখে তার থেকে লাভ নেওয়া। উদাহরণ: কেউ তার বাড়িকে ওয়াকফ করে ভাড়া দিলো। তারপর সে ভাড়ার টাকা মুখাপেক্ষী, মসজিদ অথবা দ্বীনি কিতাব ছাপানোর কাজে ব্যয় করল।
২. তার হুকুম ও দলীল: এটি একটি মুস্তাহাব কাজ। এই বিষয়ে মূল দলীল হলো উমার থেকে বর্ণিত হাদীস।
"নিশ্চয়ই তিনি খায়বারে কিছু জমি লাভ করেন। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি খায়বারে এমন উৎকৃষ্ট কিছু জমি লাভ করেছি, ইতঃপূর্বে এমন সম্পদ আর কখনো পাইনি। আপনি আমাকে এ ব্যাপারে কী আদেশ দেন? আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি ইচ্ছা করলে জমির মূল মালিকানা নিজে রাখো এবং এভাবে সাদকা করতে পারো যে তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং কেউ এর উত্তরাধিকারী হবে না।"৭৪২
আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীস-
“আদম সন্তান মারা গেলে তিনটি আমল ব্যতীত সকল আমলই বন্ধ হয়ে যায়। ১. সদাকায়ে জারিয়া (ওয়াকফ); ২. উপকারী বিদ্যা; ৩. পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্য দুআ করে।”৭৪৩ এই হাদীসে সদাকায়ে জারিয়া দ্বারা উদ্দেশ্যে হলো ওয়াকফ।
টিকাঃ
৭৪২. 'মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৭৩৭; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৩২।
৭৪৩. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৬৩১
📄 এর সাতে সম্পৃক্ত হুকুম
ওয়াকফ এর সাথে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি সম্পৃক্ত:
১. ওয়াকফকারীকে লেনদেনের উপযুক্ত হতে হবে। তাকে হতে হবে জ্ঞানী, প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন এবং বিচক্ষণ।
২. ওয়াকফ করা বস্তুটি এমন হতে হবে যা অক্ষত রেখে সার্বক্ষণিকভাবে তার মাধ্যমে উপকার নেওয়া সম্ভব।
৩. ওয়াকফ হতে হবে সৎ ও ভালো কাজের জন্য। যেমন- মসজিদ, মিসকিন, দ্বীনি কিতাব ছাপানো ইত্যাদি কাজের জন্য। কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা হয়ে থাকে। সুতরাং কাফেরদের উপাসনা বা হারাম বস্তু কেনার কাজে ওয়াকফ করা হারাম।
৪. ওয়াকফ করা বস্তু থেকে যদি উপকার নেওয়া শেষ হয়ে যায়। আর কোনোভাবেই তা থেকে উপকার নেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে তা বিক্রি করে দিবে। তারপর তার মূল্য অনুরূপ কাজে ব্যয় করবে। যেমন মসজিদ হলে তার মূল্য অন্য মসজিদ নির্মানের কাজে ব্যয় করবে। বাড়ি হলে তা বিক্রি করে তার মূল্য দিয়ে অন্য আরেকটি বাড়ি ক্রয় করবে। কারণ এটিই হলো ওয়াকফকারীর কাছাকাছি উদ্দেশ্য।
৫. ওয়াকফ করা একটি বৈধ চুক্তি। এটি শুধুমাত্র কথার মাধ্যমেই সাব্যস্ত হবে। তা বাতিল করা বা বিক্রি করে দেওয়া বৈধ নয়।
৬. ওয়াকফ করা বস্তুটি নির্দিষ্ট হতে হবে। সুতরাং অনির্দিষ্ট কোনো বস্তু ওয়াকফ করা সঠিক নয়।
৭. ওয়াকফ পরিপূর্ণভাবে হতে হবে। সুতরাং কোনো কিছুর সাথে ঝুলিয়ে বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওয়াকফ করা বৈধ হবে না। তবে কারো মৃত্যু বরণের সাথে যদি সম্পৃক্ত করা হয় তাহলে এটি ভিন্ন বিষয়।
৮. ওয়াকফকারীর শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে হবে। যদি না তা শরীয়তের বিপরীত হয়।
৯. যদি কেউ সন্তানদের জন্য ওয়াকফ করে, তাহলে এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সবাই সমান হিসেবে গণ্য হবে।