📄 কুড়িয়ে পাওয়া শিশু
القيط এমন শিশু যাকে অবহেলিত অবস্থায় রাস্তায় কিংবা মসজিদের দরজায় পাওয়া যায়। অথবা যে তার পরিবার থেকে পথ হারিয়ে ফেলেছে। যার ফলে তার কোনো বংশ বা দায়িত্বশীল সম্পর্কে জানা যায় না। এই অবস্থায় কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে ফেলে রাখা যাবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى "সৎকাজ ও তাক্বওয়ার ব্যাপারে তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করো।” [সূরা মায়িদাহ: ২]
উক্ত আয়াতের ব্যাপকতা এটাই প্রমাণ করে যে, কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে গ্রহণ করা আবশ্যক। সুতরাং তাকে রেখে দেওয়া এবং তার জন্য খরচ করাটা ফরজে কিফায়া। কারণ তাকে গ্রহণ করার অর্থই হলো একটি আত্মাকে জীবিত রাখা। আর কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর কাছে যে সম্পদ পাওয়া যাবে, তার মালিক সেই হবে যে তাকে কুড়িয়ে নিবে। শিশুটির উপর তারই দায়িত্ব থাকবে। সে নিজের থেকেই তার জন্য সম্পদ খরচ করবে। যদি তার কোনো সম্পদ না থাকে তাহলে বাইতুল মাল থেকে তার জন্য খরচ করবে। কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি সকল বিধানের ক্ষেত্রে মুসলিম হিসেবে বিবেচিত হবে, তবে যদি তাকে কোনো কাফের রাষ্ট্রে পাওয়া যায় তাহলে সে কাফের হিসেবেই বিবেচিত হবে।
কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটির বংশ তার সাথেই সাব্যস্ত হবে যে তার দাবী করবে এবং তার সাথে তার বংশ সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু যদি একাধিক ব্যক্তি তার বংশ সাব্যস্ত করার জন্য দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় আর তাদের কোনো প্রমাণ না থাকে তাহলে তার সাথেই বংশ সাব্যস্ত হবে যার সাথে তার মিল থাকবে।
সুতরাং শিশুকে যে ব্যক্তি কুড়িয়ে পাবে, সেই তার ব্যাপারে বেশি হকদার হবে। তবে শর্ত হলো তাকে হতে হবে স্বাধীন, বিশ্বস্ত, ন্যায় পরায়ণ ও বিচক্ষণ। তবে শিশুর অধিকারী হওয়ার ব্যাপারে কোনো মুসলিম ব্যক্তির উপর কাফের বা ফাসেক প্রাধান্য পাবে না।
শিশু কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তির জন্য শর্ত: (তার মাঝে থাকতে হবে) জ্ঞান, প্রাপ্ত বয়স, স্বাধীনতা, ইসলাম, ন্যায়পরায়ণতা ও বিচক্ষণতা। সুতরাং কোনো শিশুকে, পাগল, দাস, ফাসেক এবং নির্বোধ ব্যক্তি যদি কুড়িয়ে পায়, তাহলে তা ঠিক হবে না। অনুরূপ কোনো মুসলিম শিশুকে যদি কোনো কাফের কুড়িয়ে পায় তাহলেও তা ঠিক হবে না।