📄 কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান
১. যদি কুড়ানো বস্তু ভোজ্য প্রাণী হয় তাহলে তা ঐ অবস্থায় খাওয়া কিংবা তার মূল্য পরিশোধ করা অথবা বিক্রি করে দেওয়ার মাঝে তার ইখতিয়ার আছে। সে ইচ্ছা করলে কুড়ানো প্রাণিটির গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য জেনে তা বিক্রি করে তার মূল্য তার মালিকের জন্য সংরক্ষণ করতে অথবা প্রাণিটিকে নিজের কাছে রেখে দিতে পারে। সে তার জন্য নিজের মাল খরচ করতে কিন্তু তার মালিক হবে না। কিন্তু যদি মালিক ফিরে এসে তার কাছে সেই প্রাণিটি চায় তাহলে সে তাকে তা দিয়ে দিবে এবং তার থেকে খরচের টাকা নিবে। তবে কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি তা খেয়ে ফেলার আগেই যদি তার মালিক এসে যায় তাহলে তার মালিক তা নিয়ে নিবে।
২. যদি কুড়ানো বস্তু এমন হয় যা নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে। যেমন- ফল-ফলাদি। তাহলে যে তা কুড়িয়ে পাবে সে তা খেয়ে মূল্য মালিককে দিয়ে দিতে পারে অথবা তা বিক্রি করে তার মূল্য মালিকের জন্য সংরক্ষণ করতে পারে। যেন মালিক আসলেই তাকে তা দিয়ে দিতে পারে।
৩. যদি হারানো বস্তু টাকা, পাত্র বা পণ্য সামগ্রী হয় তাহলে আমানত হিসাবে সব কিছু নিজের হাতে সংরক্ষণ করা এবং সমাজে তার ব্যাপারে ঘোষণা করা আবশ্যক।
৪. কুড়ানো বস্তু শুধুমাত্র এমন ব্যক্তিই নিয়ে রাখতে পারবে যে নিজেকে নিরাপদ মনে করে এবং তার ব্যাপারে ঘোষণা দিতে সক্ষম। কারণ কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর বিষয়ে ঘোষণা দেওয়াটা ওয়াজিব। সুতরাং যখন সে তার ব্যাপারে ঘোষণা দিবে তখন তার গুণাগুন বর্ণনা করবে। এভাবে সে পূর্ণ এক বছর ঘোষণা দিবে। আর এই ঘোষণাটি দিবে জন সম্মুখে। তারপর যদি তার মালিক এসে উপযুক্ত গুণাগুণ বর্ণনা করে তাহলে সে তা তাকে দিয়ে দিবে। কিন্তু এক বছর ঘোষণা দেওয়ার পরেও যদি তার মালিক না আসে তাহলে সে তার মালিক হয়ে যাবে।
৫. যে ব্যক্তি কুড়িয়ে পাবে সে পূর্ণ এক বছর ঘোষণা দেওয়ার পরে তার মালিক হয়ে যাবে। কিন্তু সে কুড়ানো বস্তুটির বৈশিষ্ট ও গুণাগুণ না জেনে তাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। সুতরাং যখনই তার মালিক এসে উপযুক্ত গুণাগুণ বর্ণনা করবে তখনই কোনো ধরনের প্রমাণ ও শপথ ছাড়াই তাকে তা দিয়ে দিবে। পূর্ববর্তী যায়েদ বিন খালেদ আল-জুহানী এর হাদীসে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেছেন।
৬. যদি ছোট শিশু বা নির্বোধ কেউ কিছু কুড়িয়ে পায় তাহলে তাদের অভিভাবক লেনদেন করবে। যেমন: পূর্বে তার বর্ণনা গত হয়েছে।
৭. হারাম এলাকায় কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর কেউ মালিক হতে পারবে না। বরং যে পাবে তার জন্য আবশ্যক হবে দীর্ঘ কাল তা ঘোষণা করতে থাকা।
📄 কুড়িয়ে পাওয়া শিশু
القيط এমন শিশু যাকে অবহেলিত অবস্থায় রাস্তায় কিংবা মসজিদের দরজায় পাওয়া যায়। অথবা যে তার পরিবার থেকে পথ হারিয়ে ফেলেছে। যার ফলে তার কোনো বংশ বা দায়িত্বশীল সম্পর্কে জানা যায় না। এই অবস্থায় কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে ফেলে রাখা যাবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى "সৎকাজ ও তাক্বওয়ার ব্যাপারে তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করো।” [সূরা মায়িদাহ: ২]
উক্ত আয়াতের ব্যাপকতা এটাই প্রমাণ করে যে, কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে গ্রহণ করা আবশ্যক। সুতরাং তাকে রেখে দেওয়া এবং তার জন্য খরচ করাটা ফরজে কিফায়া। কারণ তাকে গ্রহণ করার অর্থই হলো একটি আত্মাকে জীবিত রাখা। আর কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর কাছে যে সম্পদ পাওয়া যাবে, তার মালিক সেই হবে যে তাকে কুড়িয়ে নিবে। শিশুটির উপর তারই দায়িত্ব থাকবে। সে নিজের থেকেই তার জন্য সম্পদ খরচ করবে। যদি তার কোনো সম্পদ না থাকে তাহলে বাইতুল মাল থেকে তার জন্য খরচ করবে। কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি সকল বিধানের ক্ষেত্রে মুসলিম হিসেবে বিবেচিত হবে, তবে যদি তাকে কোনো কাফের রাষ্ট্রে পাওয়া যায় তাহলে সে কাফের হিসেবেই বিবেচিত হবে।
কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটির বংশ তার সাথেই সাব্যস্ত হবে যে তার দাবী করবে এবং তার সাথে তার বংশ সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু যদি একাধিক ব্যক্তি তার বংশ সাব্যস্ত করার জন্য দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় আর তাদের কোনো প্রমাণ না থাকে তাহলে তার সাথেই বংশ সাব্যস্ত হবে যার সাথে তার মিল থাকবে।
সুতরাং শিশুকে যে ব্যক্তি কুড়িয়ে পাবে, সেই তার ব্যাপারে বেশি হকদার হবে। তবে শর্ত হলো তাকে হতে হবে স্বাধীন, বিশ্বস্ত, ন্যায় পরায়ণ ও বিচক্ষণ। তবে শিশুর অধিকারী হওয়ার ব্যাপারে কোনো মুসলিম ব্যক্তির উপর কাফের বা ফাসেক প্রাধান্য পাবে না।
শিশু কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তির জন্য শর্ত: (তার মাঝে থাকতে হবে) জ্ঞান, প্রাপ্ত বয়স, স্বাধীনতা, ইসলাম, ন্যায়পরায়ণতা ও বিচক্ষণতা। সুতরাং কোনো শিশুকে, পাগল, দাস, ফাসেক এবং নির্বোধ ব্যক্তি যদি কুড়িয়ে পায়, তাহলে তা ঠিক হবে না। অনুরূপ কোনো মুসলিম শিশুকে যদি কোনো কাফের কুড়িয়ে পায় তাহলেও তা ঠিক হবে না।