📄 তার অর্থ ও হুকুম
১. الموات এর আভিধানিক অর্থ: যার কোনো আত্মা নেই। কিন্তু এখানে উদ্দেশ্য হলো এমন অনাবাদি জমিন যার কোনো মালিক নেই।
পরিভাষায় الموات হলো- নির্দিষ্ট ও বিশেষ মালিকানা মুক্ত জমিন। সেটি হতে পারে এমন বিরান ভূমি যার কোনো মালিকানা নির্ধারণ হয়নি এবং তাতে আবাদ করার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অথবা তাতে মালিকানা বা আবাদের চিহ্ন থাকলেও তার মালিককে জানা যায়নি।
২. তার হুকুম ও দলীল: এর মূল হচ্ছে নাবী -এর হাদীস:
مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَهِيَ لَهُ، وَلَيْسَ لِعِرْقٍ ظَالِمٍ حَقٌّ
"কেউ কোনো পতিত জমি আবাদ করলে সেটা তারই। অন্যায়ভাবে দখলকারীর পরিশ্রমের কোনো মূল্য নেই। "
হাদীসে العرق الظالم হচ্ছে কোনো ব্যক্তি এমন জমিতে আসলো যা অন্য কেউ আবাদ করেছে সে সেখানে গাছ লাগালো অথবা চাষ করল যাতে এটা তার হয়ে যায়।
আবার কখনো জমি জীবিত করাটা মুস্তাহাব এতে মানুষ ও পশু পাখির উপকার থাকার কারণে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَلَهُ فِيهَا أَجْرٌ وَمَا أَكَلَهُ الْعَوافِي" فهو له صدقة
টিকাঃ
৭৩৩. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩০৭৩; তিরমিযী, হা, ১৩৭৮; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ১৫৫১
📄 অনাবাদি জমি আবাদি করার শর্ত এবং যেভাবে তা অর্জিত হবে
অনাবাদি জমিনকে সঠিকভাবে আবাদি করার দুটি শর্তআছে।
১. সেই জমির উপর কোনো মুসলিম ব্যক্তির মালিকানা থাকতে পারবে না। যদি কোনো মালিকানা থাকে তাহলে শারঈ অনুমোদন ছাড়া তা আবাদ যোগ্য করার জন্য পিছু নেওয়া হারাম।
২. অনাবাদি জমিনকে আবাদকারীকে মুসলিম হতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্রে কোনো কাফের অনাবাদি জমিকে আবাদি করতে পারবে না।
অনাবাদি জমিনকে আবাদি করার বিষয়টি অর্জিত হবে কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে।
১. প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কোনো দেয়ালের মাধ্যমে যদি জমিনকে ঘেরাও করে। যা মানুষেরা সাধারণত করে থাকে তাহলে তা আবাদি করে তুললো বলে ধরে নেওয়া হবে। যেমন: নাবী مَنْ أَحَاطَ حَائِطًا عَلَى أَرْضِ فَهِيَ لَهُ : MISTER IRR GHI MEIN
"কেউ জমির চারপাশে (মালিকানাহীন) বেষ্টনী দিলে, সেটা তারই।
২. যখন কেউ অনাবাদি জমিতে কূপ খনন করবে যেখানে পানি জমে থাকবে। তাহলে সে ওই জমিনকে আবাদি করে তুলল। যদি সেই কূপে পানি না পৌঁছে তারপরেও সে অন্যের থেকে বেশি হকদার। অনুরূপ কেউ যদি তাতে কোনো নালা খনন করে, তাহলে সেও এর হকদার হবে।
৩. যখন কেউ অনাবাদি জমিনে ঝরনা, নালা ইত্যাদির মাধ্যমে পানি পৌঁছাবে তখন সে তার জীবিতকারী হিসেবে গণ্য হবে।
৪. যখন কোনো ব্যক্তি এমন কোনো অনাবাদি জমিনকে পরিষ্কার করে গাছ রোপন করবে। যা আগে গাছ রোপনের মতো কোনো যোগ্য জমি ছিল না। তাহলে সে তা জীবিতকারী হিসেবে গণ্য হবে।
৫. আলেমদের মধ্য হতে কেউ বলেন: অনাবাদি জমিনকে আবাদি করার ব্যাপারটি শুধু এই কয়েকটি বিষয়ের মধ্যেই সীমা বদ্ধ নয়, বরং এই ক্ষেত্রে মানুষের সাধারণ রীতিনীতিই বিবেচ্য হবে। সুতরাং মানুষেরা যে ব্যাপারটি জীবিত করা বলে গণ্য করবে, সেটিই জীবিত বলে গণ্য হবে। আর যেটাকে জীবিত বলে গণ্য করবে না সেটি জীবিত বলে গণ্য হবে না।
টিকাঃ
৭৩৫. দারেমী, হা. ২৬৪৯; আহমাদ, হা. ১৪৫০০; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ৪/৬।
৭৩৬. 'সুনান আবু দাউদ, হা. ৩০৭৭; সামুরাহ ইবনে জুনদুব হতে বর্ণিত। শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ১৫৫৪।
📄 এর সাথে সম্পৃক্ত কিছু মাসআলা
১. যে ব্যক্তি অনাবাদি জমিনের কোনো অংশ আবাদি করবে সেই তার মালিক হবে। আল্লাহর রসূল এর হাদীসের ব্যাপকতার উপর ভিত্তি করে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ "কেউ কোনো পতিত জমি আবাদ করলে সেটা তারই। "
২. আবাদি জমির পাশের জমি অন্য কেউ আবাদ করার মাধ্যমে মালিক হতে পারবে না। কেননা আবাদি জমির মালিক তার পাশের জমির ব্যাপারে বেশি হকদার।
৩. মুসলিম শাসকের এই অধিকার আছে যে, তিনি অনাবাদি জমি আবাদকারী ব্যক্তির থেকে নিয়ে নিতে পারবেন। যেমন এই বিষয়ে ওয়ায়েল ইবনে হুজুর এর হাদীস রয়েছে,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْطَعَهُ أَرْضًا بِحَفْرَمُوتَ "নিশ্চয়ই নাবী তাকে হাযরা মাওতের এক খণ্ড জমি দিয়েছিলেন। "
৪. যদি প্রয়োজন হয় এবং তাতে মুসলমানদের কোনো ক্ষতি বা সংকীর্ণতা তৈরি না হয় তাহলে মুসলিম শাসকের এই অধিকার আছে যে, তিনি সদাকার উট ও মুজাহিদদের ঘোড়ার জন্য অনাবাদি জমিনকে ঘাস রোপনের জন্য রেখে দিবেন। আর এই অধিকার শুধু মুসলিম শাসকেরই আছে। অন্য কারো নেই। আর এটিকে শরীয়ত সম্মত করা হয়েছে ব্যাপক কল্যাণের জন্য। ছা'ব ইবনে জাসসামা থেকে মারফু হাদীস রয়েছে-
لَا حِمَى إِلَّا اللَّهَ وَلِرَسُولِهِ "চারণভূমি আল্লাহ ও তাঁর রসূল ব্যতীত সংরক্ষণের অধিকার কারো নেই। " এর অর্থ হলো তাকে আড়াল করল, ঘেরাও করল। যার কাছে কিছু আসতে পারে না।
টিকাঃ
৭৩৭. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩০৭৩; তিরমিযী, হা. ১৩৭৮; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ১৫৫১।
৭৩৮. তিরমিযী, হা. ১৩৮১ এবং তিনি হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ সুনানুত তিরমিযী, হা. ১১৬
৭৩৯. সহীহুল বুখারী, হা. ২৩৭০।