📄 ধার-এর অর্থ ও তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার প্রমাণ
১. অর্থ: إعارة হচ্ছে কোনো জিনিসকে অবশিষ্ট রেখেই তার মাধ্যমে বৈধ পন্থায় উপকার নেওয়া। العارية হচ্ছে উপকার নেওয়া উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা বস্তুটি। যেমন কোনো ব্যক্তি ভ্রমন করার উদ্দেশ্যে কারো কাছ থেকে একটি গাড়ি ধার নিলো। তারপর আবার তাকে তা ফিরিয়ে দিলো।
২. العارية শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীলসমূহ: শরীয়ত সম্মত ও প্রয়োজন। আল্লাহ তা'আলা সার্বজনীনভাবে বলেন: ﴿وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَ "সৎকাজ করতে ও সংযমী হতে (তাকওয়া অর্জনে) তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো।” [সুরা মায়িদাহ: ২]
তিনি আরও বলেন: ﴾وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ
“গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় ছোটো খাটো সাহায্য জিনিস দানে বিরত থাকে।” [সুরা মাউন: ৭] এই আয়াতে معُونَ। শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এমন বস্তু যা সাধারণত এক প্রতিবেশী আরেক প্রতিবেশির কাছ থেকে ধার নিয়ে থাকে। যেমন- পাত্র, ডেক ইত্যাদি। যারা এধরনের সাধারণ জিনিসও তার প্রতিবেশিকে ধার হিসেবে দেয় না, তাদেরকে মহান আল্লাহ তিরষ্কার করেছেন।
সুতরাং এখান থেকে বুঝা যায় এসব জিনিস ধার দেওয়া ভালো বা মুস্তাহাব কাজ। সাফওয়ান বিন উমাইয়া বর্ণনা করেন।
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَعَارَ مِنْهُ أَدْرُعًا يَوْمَ حُنَيْنٍ "নাবী হুনাইনের যুদ্ধে তার থেকে অনেক বর্ম ধার নিয়েছিলেন।”
আনাস থেকে বর্ণিত আছে- اسْتَعَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَسًا مِنْ أَبِي طَلْحَةَ "নাবী আবু ত্বলহা থেকে ঘোড়া ধার নিয়েছিলেন। "
টিকাঃ
৭১৭. আহমাদ ৪/২২২; সুনান আবু দাউদ, হা. ৩৫৬৩; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ১৫১৩।
৭৩২. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৬২৭ ও সহীহ মুসলিম, হা, ফুআ. ২৩০৭।
📄 ধার এর শর্তসমূহ
১. ধার দাতা ও ধার গ্রহণকারী উভয়েই শরীয়াত সম্মতভাবে স্বেচ্ছা দানের উপযুক্ত হতে হবে। আর ধারকৃত জিনিস অবশ্যই ধার দাতার সম্পদ হতে হবে।
২. ধারকৃত বস্তু দ্বারা উপকার নেওয়া বৈধ হতে হবে। সুতরাং গান বা এ জাতীয় কোনো কাজের জন্য কোনো কিছু ধার নেওয়া বৈধ নয়। অনুরূপভাবে পান করার জন্য স্বর্ণ বা রূপার পাত্র ধার নেওয়া বৈধ নয়। এমনিভাবে এমন জিনিস ধার নেওয়া বৈধ নয় যেসব দ্বারা উপকার নেওয়া হারাম।
৩. ধার নেওয়া বস্তুটি এমন হতে হবে, যার মাধ্যমে উপকার নেওয়ার পরেও তা অক্ষত থেকে যায়। কিন্তু যদি তা এমন হয় যা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তা ধার হিসেবে নেওয়া বৈধ হবে না। যেমন- খাবার বা এ জাতীয় বস্তু।
📄 সংশ্লিষ্ট কতিপয় বিধানাবলি
১. ধার গ্রহণকারীর জন্য বৈধ নয় ধারকৃত জিনিস অন্যকাউকে ধার দেওয়া। কেননা এটা তার সম্পদ নয়। এমনিভাবে এটাকে ব্যবসায় খাটানো ঠিক না। তবে যদি তার মালিক অনুমতি দেয় তাহলে বৈধ।
২. ধারকৃত জিনিসটি ধার গ্রহণকারীর হাতে আমানত। তার জন্য ওয়াজিব হচ্ছে তা সংরক্ষণ করা এবং তা অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া। যেভাবে সে তা গ্রহণ করেছে। এতে বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন করলে সে তার যামীন হবে।
৩. ই’আরা বা ধার নেওয়া হলো এমন চুক্তি যা আবশ্যকীয়ভাবে সংঘটিত হয় না। তাই ধারদাতা যে কোনো সময় তা ফিরিয়ে নিতে পারে যদি ধার গ্রহণকারীর কোনো ক্ষতি না হয়। কিন্তু যদি ধার গ্রহণকারীর কোনো ক্ষতি হয় তাহলে তা কখনোই ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ নয়।
৪. কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে ধার দেওয়ার চুক্তি বাতিল হবে এবং ধার দেওয়া বস্তুটি তার মালিকের কাছে ফিরে আসবে। সেগুলো হলো: * যখন বস্তুটির মালিক ধার দেওয়া বস্তু ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি করবে। যদিও তখন পর্যন্ত ধার গ্রহণকারীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত না হয়। * ধার নেওয়া বস্তুর মাধ্যমে উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হলে। * ধারের জন্য নির্দিষ্ট সময় থাকলে তা অতিবাহিত হয়ে গেলে। * ধার দাতা অথবা ধার গ্রহণকারীর মৃত্যু হলে। কারণ এতে তাদের চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
৫. ধার গ্রহণকারী ধার নেওয়া বস্তু থেকে পরিপূর্ণভাবে উপকার, নিতে পারবে। যেমন: কোনো ব্যক্তি কোনো বস্তু ভাড়া নিলে তা থেকে পরিপূর্ণভাবে উপকার নিতে পারে। সুতরাং ধার নেওয়া বস্তু থেকে সে নিজে এবং যাদের ব্যাপারে সে চাইবে তারাও উপকার নিতে পারবে। কারণ এক্ষেত্রে তার মূল মালিকের অনুমতি রয়েছে।