📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সাধারণ সন্ধির প্রকারসমূহ

📄 সাধারণ সন্ধির প্রকারসমূহ


মানুষের মাঝে সন্ধি করাটা কয়েক প্রকার।
১. স্বামী স্ত্রীর মাঝে ফাটল সৃষ্টি হওয়ার ভয় থাকলে তাদের মাঝে সন্ধি করা। মহান আল্লাহ বলেন: وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا "আর তাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ আশংকা করলে তোমরা স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত কর; তারা উভয়ে নিস্পত্তি চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত।” [সূরা নিসা: ৩৫] অথবা স্বামী-স্ত্রী যদি এক অপরের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তাদের মাঝে অনাগ্রহ সৃষ্টি হয় তাহলে তাদের মাঝে সন্ধি করা। মহান আল্লাহ বলেন:
وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُورًا أَوْ إِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا وَالصُّلْحُ خَيْرٌ
"যদি কোনো নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে কোনো দুর্ব্যবহার অথবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তারা উভয়ে কোনো মীমাংসা করলে তাদের কোনো অপরাধ নেই। সন্ধিই কল্যাণকর।” [সুরা নিসা: ১২৮]
২. মুসলিমদের মাঝে যুদ্ধরত দুই দল এর মাঝে সন্ধি করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا
"মুমিনদের দুই দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে, তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে।” [সুরা হুজরাত: ৯]
৩. মুসলিম এবং যুদ্ধরত কাফেরদের মাঝে সন্ধি করা।
৪. সম্পদ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে দুই ঝগড়াকারীর মাঝে সন্ধি করা।
৫. সম্পদ নিয়ে ঝগড়াকারীদের মাঝে সন্ধি করা। এটাই আলোচনার উদ্দিষ্ট বিষয়। এটা ২ প্রকার।
ক. স্বীকৃতির মাধ্যমে সন্ধি। এটা আবার ২ প্রকার-
১. صلح الإبراء বা শিথিলতার সন্ধি: তা হচ্ছে- অধিকারের বিষয়ে যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় তার বিষয়ে সন্ধি করা। যেমন রাশেদ কারো জন্য ঋণ অথবা কোনো জিনিসের স্বীকৃতি দিলো। তারপর যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হলো সে তার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ঐ জিনিসের কিছু ঋণ বা অংশ কমিয়ে দেয় এবং বাকিটা গ্রহণ করে। তাহলে সন্ধি করার কারণে সে কিছু ঋণ থেকে মুক্তি পাবে। এটা বৈধ। শর্ত হলো- মালিককে স্বেচ্ছা দানের উপযুক্ত হতে হবে। তবে এর জন্য শর্ত নয় যে স্বেচ্ছায় প্রদানের বিষয়টি হকদারকে স্বীকার করে নিতে হবে।
২. صلح المعاوضة বা বিনিময় গ্রহণের সন্ধি: কোনো ব্যক্তি স্বীকার করল যে, সে জিনিস নিয়েছে। কিন্তু সন্ধির মাধ্যমে ঠিক হলো যে, সে যা নিয়েছিল তা দিতে পারবে না। বরং অন্য কোনো জিনিস দিবে। যেমন- কেউ স্বীকার করল যে, তার কাছে অমুক ব্যক্তি ঋণ পায় অথবা এই জিনিসটি পায়। কিন্তু তারা সন্ধি করল যে, পাওনাদার তার কাছ থেকে এর বিনিময় নিবে। সেই বস্তুটি নিবে না। যদি তারা এরূপ করে তা হবে ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুমে। পক্ষান্তরে যদি পাওনা বস্তু না নিয়ে শুধু তার থেকে লাভ নেয়, তাহলে তা হবে إجارة বা ভাড়া দেওয়ার হুকুমে।
৩. الصلح مع الانكار অস্বীকৃতির মাধ্যমে সন্ধি: কোনো ব্যক্তি এই দাবি করল যে, সে অমুক ব্যক্তির কাছে একটি জিনিস পায় অথবা কিছু ঋণ পায়। কিন্তু যার ব্যাপারে এরূপ দাবি করা হয়েছে সে তা অস্বীকার করল অথবা তার জানা না থাকার কারণে চুপ থাকলো, তারপর দাবিকারী ব্যক্তি তার দাবির বিষয়ে নগদ অথবা বাকিতে কিছু সম্পদ নেওয়ার বিনিময়ে সন্ধি করল। তাহলে এই অবস্থায় সন্ধি করাটা ঠিক হবে। যদিও বিবাদী প্রতিপক্ষের দাবি সঠিক না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। তারপরেও সে তাকে সম্পদ দিয়ে দেয় নিজের থেকে বিবাদ দূর করার জন্য এবং শপথের কাফ্ফারা দেওয়ার জন্য। এই অবস্থায় যদি বাদি তার দাবি সঠিক হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে তাহলে সে তার হকের বিনিময়ে সম্পদ নিয়ে নিবে।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সন্ধির সাথে সম্পৃক্ত হুকুম

📄 সন্ধির সাথে সম্পৃক্ত হুকুম


১. অনির্দিষ্ট হকের ক্ষেত্রে সন্ধি করা যায়। এই সন্ধি করা যাবে যখন নির্দিষ্ট জানা সম্ভব না হবে। চাই সেটি ঋণ হোক অথবা অন্য কোনো বস্তু হোক। যেমন দুজন ব্যক্তির মাঝে দীর্ঘ দিনের লেনদেনের হিসাব আছে। কিন্তু তাদের কেউ জানে না, একে অপরের কাছে কি পরিমাণ সম্পদ পায়।
২. সন্ধি করা যাবে কেবল এমন সব বিষয়ে যেসব বিষয়ে বিনিময় গ্রহণ করা সম্ভব। যেমন- শরীয়ত নির্ধারিত কিসাসের দিয়াত নেওয়ার মাধ্যমে। দিয়াতের পরিমাণটা কম হোক অথবা বেশি হোক।
৩. এমন সব বিষয়ে সন্ধি করা বৈধ নয় যেসব বিষয়ে বিনিময় গ্রহণ করা যায় না। যেমন- শরীয়ত নির্ধারিত হদ্দের ক্ষেত্রে। কেননা তা শরীয়ত সম্মত করাই হয়েছে অপরাধীকে শাসন করার জন্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00