📄 ধ্বংস বা নষ্ট করা
মানুষের সম্পদের উপর বাড়াবাড়ি করা হারাম এবং তা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করাও হারাম। যে অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে নষ্ট করবে, সে তার জামিনদার হবে। এমনিভাবে যে অন্যের সম্পদ নষ্ট করার কোনো কারণ বানাবে, সেও জিম্মাদার হবে।
যদি তার চতুষ্পদ জন্তু থঅকে, তাহলে রাতে তাকে হেফাজত করতে হবে, যাতে মানুষের খেত খামার নষ্ট না করে। যদি সে এতে অমনোযোগী হয় এবং তা নষ্ট করে, তাহলে সে তার জামিন হবে। কারণ আল্লাহর রসূল দিনে মানুষের সম্পদ হেফাজত করার ফয়সালা দেন এবং রাতে পশুর মালিককে তা হেফাজতের নির্দেশ দেন। সুতরাং যদি রাতে কারো পশু অন্যের সম্পদ নষ্ট করে তাহলে পশুর মালিক এর জিম্মাদার হবে। কারণ মুসলমানদের জান-মাল হলো নিরাপত্তার বিষয়। এই ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা বা সীমালঙ্ঘনের কোনো কারণ সৃষ্টি করা সবই হারাম।
الصائل হলো এমন মানুষ বা প্রাণী, যে নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিরুপায় হয়ে অন্যকে হত্যা করে ফেলে। যদি কেউ এরূপ করে ফেলে তাহলে এর জন্য সে কোনো ধরনের দায়ভার বহন করবে না। কারণ সে আত্মরক্ষার্থে এরূপ করেছে। ৭২১ নাবী বলেন:
مَنْ أُرِيدَ مَالُهُ بِغَيْرِ حَقٌّ فَقَاتَلَ فَقُتِلَ فَهُوَ شَهِيدٌ
“জোরপূর্বক কোনো লোকের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চায়, সে যদি এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে, তবে শহীদ হিসাব গণ্য হবে।”৭২২
পক্ষান্তরে যদি কোনো ব্যক্তি এমন সব জিনিস নষ্ট করে যা মহান আল্লাহ হারাম করেছেন। যেমন- অনর্থক খেলনার বস্তু, ক্রুশ, মদের পাত্র, পথভ্রষ্টকারী ও বেদআতী বই-পুস্তক, খারাপ, মন্দ ও অশ্লীল সিডি রেকর্ড ইত্যাদি নষ্ট করে ফেলে, তাহলে সে এর জন্য জামিনদার হবে না। তবে অবশ্যই এধরনের কাজ বিচারকের আদেশ ও তত্ত্বাবধায়নে হতে হবে। যাতে কোনো ধরনের ফেতনা-ফাসাদ না হয়ে কাজটি কল্যাণকর হিসেবে সাব্যস্ত হয়।
টিকাঃ
৭২১. الصائل من الإنسان বা মানুষের প্রতি অত্যাচারী: যে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় বা স্বভাবগত অন্যের উপর আক্রমণ করে তার জীবন, সম্মান অথবা সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চায়।
৭২২. তিরমিযি, হা. ১৪২০ এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু মাজাহ, হা. ২৫৮২; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী, হা. ১১৪৭।