📄 তার পরিচয় এবং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার প্রমাণ
১. الوديعة বা আমানত বলা হয়: কোনো জিনিস তার মালিক অথবা তার প্রতিনিধি কর্তৃক এমন কারো কাছে রেখে দেওয়া, যে তা কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই সংরক্ষণ করবে।
২. শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল: এর মূল হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বাণী:
فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ "যাকে বিশ্বাস করা হয়েছে তার উচিত আমানت ফিরিয়ে দেওয়া।" [সূরা বাক্বারা: ২৮৩]
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন, আমানতের জিনিস হকদারকে অর্পণ করো।" [সূরা নিসা: ৫৮]
আল্লাহর রসূল বলেন:
أَدَّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ، وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ "কেউ তোমার কাছে আমানত রাখলে তাকে তা ফেরত দাও। যে তোমার সাথে খিয়ানত করে, তুমি তার সাথে খিয়ানত করো না।”৭১৭
কেননা মানুষ তার বিভিন্ন প্রয়োজনেই অন্যের কাছে আমানত রেখে থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তির আমানত রক্ষা করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস আছে, তার জন্য মুস্তাহাব হলো আমানত গ্রহণ করা। কারণ আল্লাহর রসূল বলেন:
وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ "বান্দাদের মধ্যে যে তার ভাইয়ের সহযোগিতা করবে, আল্লাহ সেই বান্দাকে সাহায্য করবেন।”৭১৮
আর যদি কেউ নিজের ব্যপারে এটা জানতে পারে যে, সে আমানত রক্ষা করতে পারবে না, তাহলে তার জন্য কারো আমানত গ্রহণ করা বৈধ নয়।
টিকাঃ
৭১৭. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩৫৩৫; তিরমিযী, হা. ১২৬৪; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ৫/৩৮১।
৭১৮. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ২৬৯৯।
১. الوديعة বা আমানত বলা হয়: কোনো জিনিস তার মালিক অথবা তার প্রতিনিধি কর্তৃক এমন কারো কাছে রেখে দেওয়া, যে তা কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই সংরক্ষণ করবে।
২. শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল: এর মূল হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বাণী:
فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ "যাকে বিশ্বাস করা হয়েছে তার উচিত আমানত ফিরিয়ে দেওয়া।" [সূরা বাক্বারা: ২৮৩]
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন, আমানতের জিনিস হকদারকে অর্পণ করো।" [সূরা নিসা: ৫৮]
আল্লাহর রসূল বলেন:
أَدَّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ، وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ "কেউ তোমার কাছে আমানত রাখলে তাকে তা ফেরত দাও। যে তোমার সাথে খিয়ানত করে, তুমি তার সাথে খিয়ানত করো না।”
কেননা মানুষ তার বিভিন্ন প্রয়োজনেই অন্যের কাছে আমানত রেখে থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তির আমানত রক্ষা করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস আছে, তার জন্য মুস্তাহাব হলো আমানত গ্রহণ করা। কারণ আল্লাহর রসূল বলেন:
وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ "বান্দাদের মধ্যে যে তার ভাইয়ের সহযোগিতা করবে, আল্লাহ সেই বান্দাকে সাহায্য করবেন।”
আর যদি কেউ নিজের ব্যপারে এটা জানতে পারে যে, সে আমানত রক্ষা করতে পারবে না, তাহলে তার জন্য কারো আমানত গ্রহণ করা বৈধ নয়।
টিকাঃ
৭১৭. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩৫৩৫; তিরমিযী, হা. ১২৬৪; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ৫/৩৮১।
৭১৮. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ২৬৯৯।
📄 আমানত সঠিক হওয়ার শর্ত
আমানত রক্ষাকারীকে লেনদেনের উপযুক্ত হতে হবে। অতএব লেনদেনের উপযুক্ত কোনো ব্যক্তি যদি শিশু, পাগল কিংবা নির্বোধ ব্যক্তির কাছে আমানত রাখে, অতঃপর সে তা নষ্ট করে ফেলে, তাহলে এর জন্য সে দায়ী থাকবে না।
পক্ষান্তরে যদি শিশু কিংবা এই শ্রেণির লোকেরা অন্য কোনো লেনদেনের উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে আমানত রাখে, আর সেই উপযুক্ত ব্যক্তি তা নষ্ট করে ফেলে, তাহলে এই জন্য সে জিম্মাদার হবে।
আমানত রক্ষাকারীকে লেনদেনের উপযুক্ত হতে হবে। অতএব লেনদেনের উপযুক্ত কোনো ব্যক্তি যদি শিশু, পাগল কিংবা নির্বোধ ব্যক্তির কাছে আমানত রাখে, অতঃপর সে তা নষ্ট করে ফেলে, তাহলে এর জন্য সে দায়ী থাকবে না।
পক্ষান্তরে যদি শিশু কিংবা এই শ্রেণির লোকেরা অন্য কোনো লেনদেনের উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে আমানত রাখে, আর সেই উপযুক্ত ব্যক্তি তা নষ্ট করে ফেলে, তাহলে এই জন্য সে জিম্মাদার হবে।
📄 আমানতের সাথে সম্পৃক্ত বিধান
১. আমানতটা আমানত রক্ষাকারীর হাতে আমানত হিসেবেই থাকবে। যদি না সে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি বা সীমালংঘন করে। আল্লাহর রসুল বলেন:
لَا ضَمَانَ عَلَى مُؤْتَمَنِ "আমানত রক্ষাকারীর উপর কোনো জিম্মাদারিত্ব নেই।”৭১৯
২. যদি কেউ আমানতের বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করে। কিংবা তা রক্ষা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে। আর এর ফলে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাহলে সে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে জিম্মাদার হবে। কারণ সে তখন হবে অন্যের সম্পদ নষ্টকারী।
৩. যার কাছে আমানত রাখা হয় তার উপর আবশ্যক হলো আমানতকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা। আল্লাহ তা'আলা আমানতকে তার মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে আদেশ করেছেন। আর এটি তখনই সম্ভব যখন আমানতদার তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করবে। যথাযথভাবে আমানত পৌঁছে দেওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্যই হলো তা সঠিকভাবে সংরক্ষন করা। আমানতদার এটি করতে বাধ্য। যদি সে তা না করে তাহলে সে তার আবশ্যকীয় দায়িত্ব পালন করল না।
৪. আমানত গ্রহণকারী ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে, সেই আমানতের জিনিসটি এমন কারো কাছে দিবে যে স্বাভাবিকভাবে তা সংরক্ষণ করবে। যেমন তার স্ত্রী, দাস, প্রহরী, খাদেম। যদি তা এদের হাতে কোনো ধরনের সীমালঙ্ঘন ছাড়াই নষ্ট হয়, তার জিম্মাদারীর ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে না।
৫. অন্যের নিকট কোনো ওজর ব্যতীত আমানতের জিনিসটি দেওয়া জায়েজ নয়। কিন্তু যদি ওজর থাকে, যেমন সফর, মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে তখন বৈধ। যদি ওজরের কারণে অন্যের কাছে দেয় এবং সে তা নষ্ট করে ফেলে, তাহলে এতে জিম্মাদারী নেই। আর যদি ওজর ছাড়া হয়, তাহলে এতে তার বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘনের জন্য জিম্মাদার হবে।
৬. যখন আমানত গ্রহণকারী ব্যক্তি আমানতের জিনিসের ব্যাপারে ভীত সন্ত্রস্ত হবে অথবা সফরের ইচ্ছা করবে; তখন তার জন্য আবশ্যক অন্যের নিকট তা ফিরিয়ে দেওয়া। যদি কাউকে না পায় তাহলে সে তা সফরে নিয়ে যাবে, যদি এটা বেশি সংরক্ষিত মনে হয় নয়তোবা বিচারকের কাছে দিবে। যদি সম্ভব না হয় তাহলে যাকে বিশ্বাস যোগ্য মনে হয় তাকে দিবে। কারণ নাবী মদিনায় হিজরত করার পূর্বে সমস্ত আমানতের সম্পদ উম্মে আয়মান এর নিকট রেখে যান এবং আলী কে সেগুলো প্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। ৭২০ যদি যদি বিচারককে দেওয়া সম্ভব না হয় এবং বিশ্বাসযোগ্য কাউকে না পায়, আর সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়, এমতাবস্থায় তার নিকট আমানত রাখা জিনিস থাকে, তা মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিবে।
৭. যদি আমানত রাখা বস্তুটি চতুষ্পদ জন্তু হয় তাহলে আমানতদার ব্যক্তি পশুকে ঘাস খাওয়াবে। যদি এতে অমনোযোগী হয় এবং তা মরে যায় তাহলে সে তার জিম্মাদার হবে। এর জন্য গুনাহগার হবে। কারণ প্রত্যেককে খাবার দিয়ে তাদের কলিজা ঠাণ্ডা করায় সওয়াব আছে।
৮. বিশ্বস্ত আমানত গ্রহণকারী যখন দাবি করবে যে, সে আমানত তার মালিকের নিকট অথবা মালিকের স্থলাভিষিক্ত কোনো ব্যক্তির নিকট ফিরিয়ে দিয়েছে, তবে তার কথা গ্রহণ করা হবে। যদি সে শপথ করে দাবি করে যে, তার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সীমালঙ্ঘন ও বাড়াবাড়ি করা হয়নি, তবুও তা নষ্ট হয়ে গেছে, তাহলে তার কথা গ্রহণ করা হবে। যখন মালিক তার আমানত ফেরত চাইবে, সে কোনো ধরনের দেরি করা ছাড়াই তা দিয়ে দিবে। যদি কারণবশত দেরি করে আর তা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সে তার জামিনদার হবে।
৯. আমানত রাখার আধুনিক কিছু পদ্ধতি: ব্যংকিং আমানত: কোনো ব্যক্তি ব্যাংকে নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা জমা রাখল। এ টাকা দিয়ে ব্যাংক লেনদেন করে এবং তার মালিককে লভ্যাংশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেয়। আর এই টাকা ব্যাংকের কাছে ঋণের টাকা হিসাবে থাকে। ব্যাংক জিম্মাদার হিসেবে এই টাকার মালিক হয়। এই চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে মালিক যখনই সেই টাকা ফেরত চাইবে, তখন তাকে মূল টাকা পুরোটাই ফেরত দিবে। এই পদ্ধতিটা হলো সুদ। সুতরাং মুসলমানদেরকে এধরনের আমানত রাখা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। [লভ্যাংশ অনির্দিষ্ট এবং লাভ-ক্ষতি থাকলে সেটা ভিন্ন মাসআলা-অনু.]
আর যেসব আমানত রাখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের লাভ আসে না। যেমন সেভিংস একাউন্টের ক্ষেত্রে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। যেহেতু মালিক এখানে তার মূল অর্থের অতিরিক্ত লাভ নিচ্ছে না। কিন্তু যদি কাউকে এ ধরনের লাভ নিতে বাধ্য করা হয় এবং লাভ না নেওয়ার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তাহলে সে লাভ নিবে এবং তা মুসলমানদের জন্য কল্যাণমূলক কাজে খরচ করবে।
টিকাঃ
৭১৯. দারাকুলী, হা, ৪১১৩, মাশা, ২৯৬১; বায়হাক্বী ৬/২৮৯; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, ইরওয়া ১৫৪৭।
৭২০. বায়হাক্বী ৬/২৮৯; ইআহব, ইরওয়াউল গালীল ৫/৩৮৪।
১. আমানতটা আমানত রক্ষাকারীর হাতে আমানত হিসেবেই থাকবে। যদি না সে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি বা সীমালংঘন করে। আল্লাহর রসুল বলেন:
لَا ضَمَانَ عَلَى مُؤْتَمَنِ "আমানত রক্ষাকারীর উপর কোনো জিম্মাদারিত্ব নেই।”
২. যদি কেউ আমানতের বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করে। কিংবা তা রক্ষা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে। আর এর ফলে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাহলে সে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে জিম্মাদার হবে। কারণ সে তখন হবে অন্যের সম্পদ নষ্টকারী।
৩. যার কাছে আমানত রাখা হয় তার উপর আবশ্যক হলো আমানতকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা। আল্লাহ তা'আলা আমানতকে তার মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে আদেশ করেছেন। আর এটি তখনই সম্ভব যখন আমানতদার তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করবে। যথাযথভাবে আমানত পৌঁছে দেওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্যই হলো তা সঠিকভাবে সংরক্ষন করা। আমানতদার এটি করতে বাধ্য। যদি সে তা না করে তাহলে সে তার আবশ্যকীয় দায়িত্ব পালন করল না।
৪. আমানত গ্রহণকারী ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে, সেই আমানতের জিনিসটি এমন কারো কাছে দিবে যে স্বাভাবিকভাবে তা সংরক্ষণ করবে। যেমন তার স্ত্রী, দাস, প্রহরী, খাদেম। যদি তা এদের হাতে কোনো ধরনের সীমালঙ্ঘন ছাড়াই নষ্ট হয়, তার জিম্মাদারীর ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে না।
৫. অন্যের নিকট কোনো ওজর ব্যতীত আমানতের জিনিসটি দেওয়া জায়েজ নয়। কিন্তু যদি ওজর থাকে, যেমন সফর, মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে তখন বৈধ। যদি ওজরের কারণে অন্যের কাছে দেয় এবং সে তা নষ্ট করে ফেলে, তাহলে এতে জিম্মাদারী নেই। আর যদি ওজর ছাড়া হয়, তাহলে এতে তার বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘনের জন্য জিম্মাদার হবে।
৬. যখন আমানত গ্রহণকারী ব্যক্তি আমানতের জিনিসের ব্যাপারে ভীত সন্ত্রস্ত হবে অথবা সফরের ইচ্ছা করবে; তখন তার জন্য আবশ্যক অন্যের নিকট তা ফিরিয়ে দেওয়া। যদি কাউকে না পায় তাহলে সে তা সফরে নিয়ে যাবে, যদি এটা বেশি সংরক্ষিত মনে হয় নয়তোবা বিচারকের কাছে দিবে। যদি সম্ভব না হয় তাহলে যাকে বিশ্বাস যোগ্য মনে হয় তাকে দিবে। কারণ নাবী মদিনায় হিজরত করার পূর্বে সমস্ত আমানতের সম্পদ উম্মে আয়মান এর নিকট রেখে যান এবং আলী কে সেগুলো প্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। যদি যদি বিচারককে দেওয়া সম্ভব না হয় এবং বিশ্বাসযোগ্য কাউকে না পায়, আর সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়, এমতাবস্থায় তার নিকট আমানত রাখা জিনিস থাকে, তা মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিবে।
৭. যদি আমানত রাখা বস্তুটি চতুষ্পদ জন্তু হয় তাহলে আমানতদার ব্যক্তি পশুকে ঘাস খাওয়াবে। যদি এতে অমনোযোগী হয় এবং তা মরে যায় তাহলে সে তার জিম্মাদার হবে। এর জন্য গুনাহগার হবে। কারণ প্রত্যেককে খাবার দিয়ে তাদের কলিজা ঠাণ্ডা করায় সওয়াব আছে।
৮. বিশ্বস্ত আমানত গ্রহণকারী যখন দাবি করবে যে, সে আমানত তার মালিকের নিকট অথবা মালিকের স্থলাভিষিক্ত কোনো ব্যক্তির নিকট ফিরিয়ে দিয়েছে, তবে তার কথা গ্রহণ করা হবে। যদি সে শপথ করে দাবি করে যে, তার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সীমালঙ্ঘন ও বাড়াবাড়ি করা হয়নি, তবুও তা নষ্ট হয়ে গেছে, তাহলে তার কথা গ্রহণ করা হবে। যখন মালিক তার আমানত ফেরত চাইবে, সে কোনো ধরনের দেরি করা ছাড়াই তা দিয়ে দিবে। যদি কারণবশত দেরি করে আর তা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সে তার জামিনদার হবে।
৯. আমানত রাখার আধুনিক কিছু পদ্ধতি: ব্যংকিং আমানত: কোনো ব্যক্তি ব্যাংকে নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা জমা রাখল। এ টাকা দিয়ে ব্যাংক লেনদেন করে এবং তার মালিককে লভ্যাংশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেয়। আর এই টাকা ব্যাংকের কাছে ঋণের টাকা হিসাবে থাকে। ব্যাংক জিম্মাদার হিসেবে এই টাকার মালিক হয়। এই চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে মালিক যখনই সেই টাকা ফেরত চাইবে, তখন তাকে মূল টাকা পুরোটাই ফেরত দিবে। এই পদ্ধতিটা হলো সুদ। সুতরাং মুসলমানদেরকে এধরনের আমানত রাখা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। [লভ্যাংশ অনির্দিষ্ট এবং লাভ-ক্ষতি থাকলে সেটা ভিন্ন মাসআলা-অনু.]
আর যেসব আমানত রাখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের লাভ আসে না। যেমন সেভিংস একাউন্টের ক্ষেত্রে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। যেহেতু মালিক এখানে তার মূল অর্থের অতিরিক্ত লাভ নিচ্ছে না। কিন্তু যদি কাউকে এ ধরনের লাভ নিতে বাধ্য করা হয় এবং লাভ না নেওয়ার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তাহলে সে লাভ নিবে এবং তা মুসলমানদের জন্য কল্যাণমূলক কাজে খরচ করবে।
টিকাঃ
৭১৯. দারাকুলী, হা, ৪১১৩, মাশা, ২৯৬১; বায়হাক্বী ৬/২৮৯; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, ইরওয়া ১৫৪৭।
৭২০. বায়হাক্বী ৬/২৮৯; ইআহব, ইরওয়াউল গালীল ৫/৩৮৪।
📄 ধ্বংস বা নষ্ট করা
মানুষের সম্পদের উপর বাড়াবাড়ি করা হারাম এবং তা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করাও হারাম। যে অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে নষ্ট করবে, সে তার জামিনদার হবে। এমনিভাবে যে অন্যের সম্পদ নষ্ট করার কোনো কারণ বানাবে, সেও জিম্মাদার হবে।
যদি তার চতুষ্পদ জন্তু থঅকে, তাহলে রাতে তাকে হেফাজত করতে হবে, যাতে মানুষের খেত খামার নষ্ট না করে। যদি সে এতে অমনোযোগী হয় এবং তা নষ্ট করে, তাহলে সে তার জামিন হবে। কারণ আল্লাহর রসূল দিনে মানুষের সম্পদ হেফাজত করার ফয়সালা দেন এবং রাতে পশুর মালিককে তা হেফাজতের নির্দেশ দেন। সুতরাং যদি রাতে কারো পশু অন্যের সম্পদ নষ্ট করে তাহলে পশুর মালিক এর জিম্মাদার হবে। কারণ মুসলমানদের জান-মাল হলো নিরাপত্তার বিষয়। এই ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা বা সীমালঙ্ঘনের কোনো কারণ সৃষ্টি করা সবই হারাম।
الصائل হলো এমন মানুষ বা প্রাণী, যে নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিরুপায় হয়ে অন্যকে হত্যা করে ফেলে। যদি কেউ এরূপ করে ফেলে তাহলে এর জন্য সে কোনো ধরনের দায়ভার বহন করবে না। কারণ সে আত্মরক্ষার্থে এরূপ করেছে। ৭২১ নাবী বলেন:
مَنْ أُرِيدَ مَالُهُ بِغَيْرِ حَقٌّ فَقَاتَلَ فَقُتِلَ فَهُوَ شَهِيدٌ
“জোরপূর্বক কোনো লোকের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চায়, সে যদি এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে, তবে শহীদ হিসাব গণ্য হবে।”৭২২
পক্ষান্তরে যদি কোনো ব্যক্তি এমন সব জিনিস নষ্ট করে যা মহান আল্লাহ হারাম করেছেন। যেমন- অনর্থক খেলনার বস্তু, ক্রুশ, মদের পাত্র, পথভ্রষ্টকারী ও বেদআতী বই-পুস্তক, খারাপ, মন্দ ও অশ্লীল সিডি রেকর্ড ইত্যাদি নষ্ট করে ফেলে, তাহলে সে এর জন্য জামিনদার হবে না। তবে অবশ্যই এধরনের কাজ বিচারকের আদেশ ও তত্ত্বাবধায়নে হতে হবে। যাতে কোনো ধরনের ফেতনা-ফাসাদ না হয়ে কাজটি কল্যাণকর হিসেবে সাব্যস্ত হয়।
টিকাঃ
৭২১. الصائل من الإنسان বা মানুষের প্রতি অত্যাচারী: যে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় বা স্বভাবগত অন্যের উপর আক্রমণ করে তার জীবন, সম্মান অথবা সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চায়।
৭২২. তিরমিযি, হা. ১৪২০ এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু মাজাহ, হা. ২৫৮২; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী, হা. ১১৪৭।