📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 শুফ'আহ এর সাথে সম্পৃক্ত হুকুম

📄 শুফ'আহ এর সাথে সম্পৃক্ত হুকুম


১. কোনো অংশীদারের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার অপর অংশীদারকে না জানিয়ে বা তার অনুমতি না নিয়ে তার অংশীদারিত্বের মূল বস্তু বিক্রি করবে। তারপরেও যদি তাকে না জানিয়ে বিক্রি করে তাহলে তার অপর অংশীদারের এই বস্তুর ব্যাপারে শুফআহ-এর দাবি করতে পারবে।
২. الشفعة বা অগ্রক্রয় অধিকারে কেবল জমি এবং স্থাবر সম্পদের মাঝে দাবি করা যাবে। এ ছাড়া অস্থাবর সম্পদ যেমন বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী এবং প্রাণী ইত্যাদির ক্ষেত্রে শুফআহ দাবি করা যাবে না।
৩. الشفعة বা অগ্রক্রয় অধিকার একটি শরীয়ত সম্মত অধিকার। সুতরাং এই অধিকার বাতিল করার জন্য কোনো ধরনের কৌশল অবলম্বন করাটা ঠিক নয়। কেননা এটি শরীয়ত সম্মত করা হয়েছে অপর অংশীদার থেকে ক্ষতি দূর করার জন্য।
৪. বিভিন্ন অংশীদারদের জন্য الشفعة সাব্যস্ত হবে তাদের মালিকানা অনুপাতে। সুতরাং যার জন্য শুফআহ সাব্যস্ত হবে, সে তা গ্রহণ করবে ঐ মূল্য দিয়ে, যে মূল্যে বস্তুটি বিক্রয় করা হয়েছে। তা হোক নগদে অথবা বাকিতে।
৫. অংশীদারিত্বমূলক সম্পদ যদি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন হয়, তাহলেই কেবল الشفعة দাবি করা যাবে। কিন্তু যদি ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াই মালিকানা পরিবর্তন হয়। যেমন বিনিময় ছাড়াই কেউ কাউকে দান করল অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ পেলো কিংবা অসীয়ত করার কারণে পেলো, তাহলে শুফআহ-এর দাবি করা যাবে না।
৬. বিক্রয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর যোগ্য স্থাবর সম্পদ অবশ্যই বণ্টন যোগ্য হতে হবে। অতএব, যদি তা বণ্টন করা না যায়, তাহলে তার বিষয়ে শুফআহ দাবি করা যাবে না। যেমন- ছোটো গোসলখানা, কূপ, রাস্তা ইত্যাদি।
৭. الشفعة বা অগ্রক্রয় অধিকার দাবি করতে হবে তখনই যখন সে বিক্রয়ের বিষয়টি জানতে পারবে। অতএব, যদি সে তখন দাবি না করে, তাহলে দাবি করার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে। তবে যদি সে জানতে না পারে অথবা জানার পরেও গ্রহণযোগ্য কোনো ওজরের কারণে (যেমন শুফআহর বিধান না জানা) দাবি না করে, তাহলে সে الشفعة দাবি করার হকদার থাকবে।
৮. الشفعة দাবি করা যাবে এমন জমির ক্ষেত্রে যা বণ্টন করা ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি। আর যেসব জমির মাঝে গাছ রোপন অথবা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো ও বণ্টন করা হয়নি জমি হিসাবেই গণ্য হবে। কিন্তু যদি বণ্টন করা হয়ে যায় আর কিছু অংশীদারমূলক উপকার নেওয়ার মতো বস্তু প্রতিবেশীদের সাথে মালিকানা অবস্থায় থেকে যায়, যেমন রাস্তা, পানির উৎস ইত্যাদি। তাহলে আলেমদের দুটি মতের বিশুদ্ধ মত হলো শুফআহ-এর দাবি থেকে যাবে।
৯. الشفعة বা অগ্রক্রয় অধিকার দাবিকারীকে অবশ্যই বিক্রিত বস্তুর পুরাটাই নিতে হবে। সুতরাং সে এক অংশ নিবে আরেক অংশ নিবে না, তাহলে তার জন্য الشفعة এর হক সাব্যস্ত হবে না। কারণ এতে বিক্রেতার কষ্ট হবে।

১. কোনো অংশীদারের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার অপর অংশীদারকে না জানিয়ে বা তার অনুমতি না নিয়ে তার অংশীদারিত্বের মূল বস্তু বিক্রি করবে। তারপরেও যদি তাকে না জানিয়ে বিক্রি করে তাহলে তার অপর অংশীদারের এই বস্তুর ব্যাপারে শুফআহ-এর দাবি করতে পারবে।
২. الشفعة বা অগ্রক্রয় অধিকারে কেবল জমি এবং স্থাবর সম্পদের মাঝে দাবি করা যাবে। এ ছাড়া অস্থাবর সম্পদ যেমন বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী এবং প্রাণী ইত্যাদির ক্ষেত্রে শুফআহ দাবি করা যাবে না।
৩. الشفعة বা অগ্রক্রয় অধিকার একটি শরীয়ত সম্মত অধিকার। সুতরাং এই অধিকার বাতিল করার জন্য কোনো ধরনের কৌশল অবলম্বন করাটা ঠিক নয়। কেননা এটি শরীয়ত সম্মত করা হয়েছে অপর অংশীদার থেকে ক্ষতি দূর করার জন্য।
৪. বিভিন্ন অংশীদারদের জন্য الشفعة সাব্যস্ত হবে তাদের মালিকানা অনুপাতে। সুতরাং যার জন্য শুফআহ সাব্যস্ত হবে, সে তা গ্রহণ করবে ঐ মূল্য দিয়ে, যে মূল্যে বস্তুটি বিক্রয় করা হয়েছে। তা হোক নগদে অথবা বাকিতে।
৫. অংশীদারিত্বমূলক সম্পদ যদি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন হয়, তাহলেই কেবল الشفعة দাবি করা যাবে। কিন্তু যদি ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াই মালিকানা পরিবর্তন হয়। যেমন বিনিময় ছাড়াই কেউ কাউকে দান করল অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ পেলো কিংবা অসীয়ত করার কারণে পেলো, তাহলে শুফআহ-এর দাবি করা যাবে না।
৬. বিক্রয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর যোগ্য স্থাবর সম্পদ অবশ্যই বণ্টন যোগ্য হতে হবে। অতএব, যদি তা বণ্টন করা না যায়, তাহলে তার বিষয়ে শুফআহ দাবি করা যাবে না। যেমন- ছোটো গোসলখানা, কূপ, রাস্তা ইত্যাদি।
৭. الشفعة বা অগ্রক্রয় অধিকার দাবি করতে হবে তখনই যখন সে বিক্রয়ের বিষয়টি জানতে পারবে। অতএব, যদি সে তখন দাবি না করে, তাহলে দাবি করার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে। তবে যদি সে জানতে না পারে অথবা জানার পরেও গ্রহণযোগ্য কোনো ওজরের কারণে (যেমন শুফআহর বিধান না জানা) দাবি না করে, তাহলে সে الشفعة দাবি করার হকদার থাকবে।
৮. الشفعة দাবি করা যাবে এমন জমির ক্ষেত্রে যা বণ্টন করা ও সীমানা বির্ধারণ করা হয়নি। আর যেসব জমির মাঝে গাছ রোপন অথবা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো ও বণ্টন করা হয়নি জমি হিসাবেই গণ্য হবে। কিন্তু যদি বণ্টন করা হয়ে যায় আর কিছু অংশীদারমূলক উপকার নেওয়ার মতো বস্তু প্রতিবেশীদের সাথে মালিকানা অবস্থায় থেকে যায়, যেমন রাস্তা, পানির উৎস ইত্যাদি। তাহলে আলেমদের দুটি মতের বিশুদ্ধ মত হলো শুফআহ-এর দাবি থেকে যাবে।
৯. الشفعة বা অগ্রক্রয় অধিকার দাবিকারীকে অবশ্যই বিক্রিত বস্তুর পুরাটাই নিতে হবে। সুতরাং সে এক অংশ নিবে আরেক অংশ নিবে না, তাহলে তার জন্য الشفعة এর হক সাব্যস্ত হবে না। কারণ এতে বিক্রেতার কষ্ট হবে।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 প্রতিবেশীর বিষয়ক বিধিবিধান

📄 প্রতিবেশীর বিষয়ক বিধিবিধান


এক প্রতিবেশীর অপর প্রতিবেশির উপর হক রয়েছে। নাবী কে প্রতিবেশির ব্যপারে অনেক অসীয়ত করা হয়েছে। এমন কি তাঁর কাছে মনে হয়েছে যে, প্রতিবেশীকে মহান আল্লাহ তার উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিবেন।
সুতরাং কোনো প্রতিবেশির যদি অন্য প্রতিবেশির কাছে প্রয়োজন হয়। যেমন ক্ষেতে পানি দেওয়া অথবা তার মালিকানাধীন কোনো জায়গা অতিক্রম করা ইত্যাদি কোনো বিষয়ে। তাহলে প্রতিবেশির উপর দায়িত্ব হলো তার প্রয়োজন মেটানো। চাই কোনো কিছুর বিনিময়ে হোক কিংবা বিনিময় ছাড়াই হোক।
কোনো প্রতিবেশির জন্য বৈধ নয় যে, সে তার মালিকানাধীন জমিতে এমন কিছু করবে যা তার অপর প্রতিবেশির ক্ষতির কারণ হবে। যেমন কেউ এমন জায়গায় একটি জানালা খুলল যা দিয়ে তার প্রতিবেশির বাড়িতে বৃষ্টি পড়ে। অথবা এমন জায়গায় একটি কারখানা বানাল যার আওয়াজে তার প্রতিবেশির কষ্ট হয়। মোট কথা এমন কিছু করা যাবে না যাতে তার প্রতিবেশির কষ্ট হয়।
যদি দুই প্রতিবেশির মাঝে উভয়ের মালিকানাধীন একটি দেয়াল থাকে তাহলে তাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না এবং তার উপর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কোনো কিছু রাখাও যাবে না। যেমন কেউ বাড়ির ছাদ দেওয়ার জন্য তার উপর কাষ্ট রাখলো। তাহলে যেন তাকে কাষ্ট রাখা থেকে নিষেধ না করা হয়। । কেননা নাবী বলেন: لا يَمْنَعْ جَارٌ جَارَهُ أَنْ يَغْرِزَ خَشَبَهُ فِي جِدَارِهِ "কোনো প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুঁটি পুঁততে নিষেধ না করে। "৭১৬

টিকাঃ
৭১৬. সহীহুল বুখারী, হা. ২৪৬৩; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬০৯।

এক প্রতিবেশীর অপর প্রতিবেশির উপর হক রয়েছে। নাবী কে প্রতিবেশির ব্যপারে অনেক অসীয়ত করা হয়েছে। এমন কি তাঁর কাছে মনে হয়েছে যে, প্রতিবেশীকে মহান আল্লাহ তার উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিবেন।
সুতরাং কোনো প্রতিবেশির যদি অন্য প্রতিবেশির কাছে প্রয়োজন হয়। যেমন ক্ষেতে পানি দেওয়া অথবা তার মালিকানাধীন কোনো জায়গা অতিক্রম করা ইত্যাদি কোনো বিষয়ে। তাহলে প্রতিবেশির উপর দায়িত্ব হলো তার প্রয়োজন মেটানো। চাই কোনো কিছুর বিনিময়ে হোক কিংবা বিনিময় ছাড়াই হোক।
কোনো প্রতিবেশির জন্য বৈধ নয় যে, সে তার মালিকানাধীন জমিতে এমন কিছু করবে যা তার অপর প্রতিবেশির ক্ষতির কারণ হবে। যেমন কেউ এমন জায়গায় একটি জানালা খুলল যা দিয়ে তার প্রতিবেশির বাড়িতে বৃষ্টি পড়ে। অথবা এমন জায়গায় একটি কারখানা বানাল যার আওয়াজে তার প্রতিবেশির কষ্ট হয়। মোট কথা এমন কিছু করা যাবে না যাতে তার প্রতিবেশির কষ্ট হয়।
যদি দুই প্রতিবেশির মাঝে উভয়ের মালিকানাধীন একটি দেয়াল থাকে তাহলে তাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না এবং তার উপর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কোনো কিছু রাখাও যাবে না। যেমন কেউ বাড়ির ছাদ দেওয়ার জন্য তার উপর কাষ্ট রাখলো। তাহলে যেন তাকে কাষ্ট রাখা থেকে নিষেধ না করা হয়। । কেননা নাবী বলেন: لا يَمْنَعْ جَارٌ جَارَهُ أَنْ يَغْرِزَ خَشَبَهُ فِي جِدَارِهِ "কোনো প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুঁটি পুঁততে নিষেধ না করে। "

টিকাঃ
৭১৬. সহীহুল বুখারী, হা. ২৪৬৩; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬০৯।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 রাস্তা সম্পর্কে আলোচনা

📄 রাস্তা সম্পর্কে আলোচনা


১. মুসলমানদের চলাচলের রাস্তা সংকীর্ণ করে দেওয়া বৈধ নয়।
২. নিজের মালিকানাধীন জমিনে এমন কিছু করা যাবে না যা রাস্তাকে সংকীর্ণ করে দেয়।
৩. মানুষের চলাচলের রাস্তায় বাহন বা গাড়ি রাখার জায়গা বানানো যাবে না।
৪. রাস্তার বিষয়ে সবার অধিকার থাকে। অতএব পথচারিদের ক্ষতি করে এমন সবকিছু থেকে রাস্তাকে হেফাজত করা আবশ্যক। কোনোভাবেই রাস্তায় ময়লা আবর্জনা রাখা ঠিক হবে না। অছাড়াও রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করাটা ঈমানের অন্যতম একটি অঙ্গ।

১. মুসলমানদের চলাচলের রাস্তা সংকীর্ণ করে দেওয়া বৈধ নয়।
২. নিজের মালিকানাধীন জমিনে এমন কিছু করা যাবে না যা রাস্তাকে সংকীর্ণ করে দেয়।
৩. মানুষের চলাচলের রাস্তায় বাহন বা গাড়ি রাখার জায়গা বানানো যাবে না।
৪. রাস্তার বিষয়ে সবার অধিকার থাকে। অতএব পথচারিদের ক্ষতি করে এমন সবকিছু থেকে রাস্তাকে হেফাজত করা আবশ্যক। কোনোভাবেই রাস্তায় ময়লা আবর্জনা রাখা ঠিক হবে না। অছাড়াও রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করাটা ঈমানের অন্যতম একটি অঙ্গ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00