📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ভাড়া দেওয়া। অর্থ এবং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল

📄 ভাড়া দেওয়া। অর্থ এবং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল


১. الإجارة এর অর্থ ও পরিচয়:
الإجارة শব্দটি আরবি الأجر শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ বিনিময়। এজন্যই সওয়াবকে اجر বা বিনিময় বা প্রতিদান বলা হয়।
পরিভাষায়: الإجارة বলা হয় নির্দিষ্টভাবে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট বস্তু থেকে বৈধ পন্থায় উপকার গ্রহণ করার চুক্তি করা। যে উপকারটা কিছু কিছু করে নেওয়া হবে। অথবা নির্দিষ্ট কোনো কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিময় গ্রহণ করা।
২. শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীলসমূহ:
শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ
"যদি তারা তোমাদের সন্তানদেরকে স্তন্য দান করে, তাহলে তাদেরকে পারিশ্রমিক দিবে।” [সূরা ত্বলাক্ব : ৬]
মহিমান্বিত আল্লাহ আরও বলেন:
قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ
"তাদের একজন বলল, হে পিতা! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন; কারণ আপনার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।” [সূরা কুসাস : ২৬]
এ ছাড়াও প্রমাণিত রয়েেেছ: النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَأَبُو بَكْرٍ اسْتَأْجَرَ رَجُلًا مِنْ بَنِي الدِّيلِ، هَادِيًا خِرِّينًا. "নাবী ও আবু বাকর বনূ দীল গোত্রের একজন অত্যন্ত সচেতন ও অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক শ্রমিক নিয়োগ করেন। ৭০৮
আল্লাহ বলেন: ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ ... وَرَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا فَاسْتَوْقَى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِ أَجْرَهُ. " "কিয়ামতের দিনে আমি নিজে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো... তাতে রয়েছে, আর ঐ ব্যক্তি, যে কোনো মজুর নিয়োগ করে, তার থেকে পুরো কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয় না।”৭০৯
ইবনু উমার বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন: আনুহুমা أَعْطُوا الْأَجِيرَ أَجْرَهُ، قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ "শ্রমিকের দেহের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তোমরা তার মজুরী দিয়ে দাও।”৭১০

টিকাঃ
৭০৮. সহীহুল বুখারী, হা. ২২৬৩।
৭০৯. সহীহুল বুখারী, হা. ২২২৭।
৭১০. ইবনু মাজাহ, হা, ২৪৪৩।

১. الإجارة এর অর্থ ও পরিচয়:
الإجارة শব্দটি আরবি الأجر শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ বিনিময়। এজন্যই সওয়াবকে اجر বা বিনিময় বা প্রতিদান বলা হয়।
পরিভাষায়: الإجارة বলা হয় নির্দিষ্টভাবে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট বস্তু থেকে বৈধ পন্থায় উপকার গ্রহণ করার চুক্তি করা। যে উপকারটা কিছু কিছু করে নেওয়া হবে। অথবা নির্দিষ্ট কোনো কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিময় গ্রহণ করা।
২. শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীলসমূহ:
শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ
"যদি তারা তোমাদের সন্তানদেরকে স্তন্য দান করে, তাহলে তাদেরকে পারিশ্রমিক দিবে।” [সূরা ত্বলাক্ব : ৬]
মহিমান্বিত আল্লাহ আরও বলেন:
قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ
"তাদের একজন বলল, হে পিতা! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন; কারণ আপনার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।” [সূরা কুসাস : ২৬]
এ ছাড়াও প্রমাণিত রয়েেেছ: النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَأَبُو بَكْرٍ اسْتَأْجَرَ رَجُلًا مِنْ بَنِي الدِّيلِ، هَادِيًا خِرِّينًا. "নাবী ও আবু বাকর বনূ দীল গোত্রের একজন অত্যন্ত সচেতন ও অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক শ্রমিক নিয়োগ করেন।
আল্লাহ বলেন: ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ ... وَرَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا فَاسْتَوْقَى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِ أَجْرَهُ. " "কিয়ামতের দিনে আমি নিজে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো... তাতে রয়েছে, আর ঐ ব্যক্তি, যে কোনো মজুর নিয়োগ করে, তার থেকে পুরো কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয় না।”
ইবনু উমার বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন: আনুহুমা أَعْطُوا الْأَجِيرَ أَجْرَهُ، قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ "শ্রমিকের দেহের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তোমরা তার মজুরী দিয়ে দাও।”

টিকাঃ
৭০৮. সহীহুল বুখারী, হা. ২২৬৩।
৭০৯. সহীহুল বুখারী, হা. ২২২৭।
৭১০. ইবনু মাজাহ, হা, ২৪৪৩।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ইজারার শর্তসমূহ

📄 ইজারার শর্তসমূহ


১. লেনদেনের উপযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া ভাড়া দেওয়া ( الإجارة) সঠিক হবে না। যেমন তাকে হতে হবে সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন, প্রাপ্তবয়ষ্ক, স্বাধীন ও বিচক্ষণ।
২. ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে যে উপকার নেওয়া হবে, তা অবশ্যই জানা থাকবে। কারণ এই উপকার নেওয়ার জন্যই মূলত চুক্তি করা হয়ে থাকে। সুতরাং শর্ত হলো সেটি ক্রয়-বিক্রয়ের মতোই জানা থাকতে হবে।
৩. ভাড়ার বিষয়টি জানা থাকবে। কারণ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে। তাই আর্থিক মূল্য জানা আবশ্যক।
৪. উপকার নেওয়াটা অবশ্যই বৈধ হতে হবে। অতএব জিনা, গান-বাজনা, অনর্থক খেলাধুলার বস্তু বিক্রি করা বিষয়ে ভাড়া দেওয়া বা নেওয়া ঠিক হবে না।
৫. উপকার নেওয়ার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি বা বস্তুকে ভাড়া নেওয়া হবে, তাকে অবশ্যই এমন যোগ্য হতে হবে, যার মাধ্যমে উপকার নেওয়া সম্ভব। সুতরাং এমন বস্তু বা ব্যক্তিকে ভাড়া নেওয়া ঠিক হবে না, যার মাধ্যমে উপকার নেওয়া অসম্ভব। যেমন কোনো অন্ধ ব্যক্তিকে মজুর নেওয়া হলো কোনো বস্তুকে পাহাড়া দেওয়ার জন্য। অথচ সে দেখতেই পায় না।
৬. যে জিনিসটি ভাড়া দেওয়া হবে সেই জিনিসটি অবশ্যই ভাড়া দাতার মালিকানায় থাকতে হবে অথবা সেই বিষয়ে অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হবে। কারণ ভাড়া দেওয়াটা হলো এক ধরনের উপকার বিক্রি করা। সুতরাং এই বিষয়ে ক্রয়-বিক্রয়ের মতোই শর্ত করা হয়েছে।
৭. ভাড়া দেওয়ার সময়টি নির্ধারিত হতে হবে। সুতরাং অনির্ধারিত সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া ঠিক নয়। কেননা এতে করে ঝগড়া-বিবাদ তৈরি হতে পারে।

১. লেনদেনের উপযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া ভাড়া দেওয়া ( الإجارة) সঠিক হবে না। যেমন তাকে হতে হবে সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন, প্রাপ্তবয়ষ্ক, স্বাধীন ও বিচক্ষণ।
২. ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে যে উপকার নেওয়া হবে, তা অবশ্যই জানা থাকবে। কারণ এই উপকার নেওয়ার জন্যই মূলত চুক্তি করা হয়ে থাকে। সুতরাং শর্ত হলো সেটি ক্রয়-বিক্রয়ের মতোই জানা থাকতে হবে।
৩. ভাড়ার বিষয়টি জানা থাকবে। কারণ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে। তাই আর্থিক মূল্য জানা আবশ্যক।
৪. উপকার নেওয়াটা অবশ্যই বৈধ হতে হবে। অতএব জিনা, গান-বাজনা, অনর্থক খেলাধুলার বস্তু বিক্রি করা বিষয়ে ভাড়া দেওয়া বা নেওয়া ঠিক হবে না।
৫. উপকার নেওয়ার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি বা বস্তুকে ভাড়া নেওয়া হবে, তাকে অবশ্যই এমন যোগ্য হতে হবে, যার মাধ্যমে উপকার নেওয়া সম্ভব। সুতরাং এমন বস্তু বা ব্যক্তিকে ভাড়া নেওয়া ঠিক হবে না, যার মাধ্যমে উপকার নেওয়া অসম্ভব। যেমন কোনো অন্ধ ব্যক্তিকে মজুর নেওয়া হলো কোনো বস্তুকে পাহাড়া দেওয়ার জন্য। অথচ সে দেখতেই পায় না।
৬. যে জিনিসটি ভাড়া দেওয়া হবে সেই জিনিসটি অবশ্যই ভাড়া দাতার মালিকানায় থাকতে হবে অথবা সেই বিষয়ে অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হবে। কারণ ভাড়া দেওয়াটা হলো এক ধরনের উপকার বিক্রি করা। সুতরাং এই বিষয়ে ক্রয়-বিক্রয়ের মতোই শর্ত করা হয়েছে।
৭. ভাড়া দেওয়ার সময়টি নির্ধারিত হতে হবে। সুতরাং অনির্ধারিত সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া ঠিক নয়। কেননা এতে করে ঝগড়া-বিবাদ তৈরি হতে পারে।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ইজারার সাথে সম্পৃক্ত বিধানসমূহ

📄 ইজারার সাথে সম্পৃক্ত বিধানসমূহ


ভাড়া দেওয়ার সাথে বেশ কিছু হুকুম সম্পৃক্ত। নিম্নে তুলে ধরা হলো:
১. নৈকট্যশীল কাজ এবং ইবাদাতের ক্ষেত্রে কাউকে মজুর নেওয়া বৈধ নয়। যেমন- আজান দেওয়া, হাজ্জ করা, বিভিন্ন মাসআলা মাসায়েলের সমাধান দেওয়া, বিচারিক ফয়সালা করা, ইমামতি করা, কুরআন শিক্ষা দেওয়া ইত্যাদি। কারণ এসব কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা হয়। হ্যাঁ, তবে যারা এসব দায়িত্ব পালন করবে, তারা (بیت المال) বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভরণপোষণের জন্য অর্থ নিতে পারবে।
২. যে ব্যক্তি ভাড়া দিবে, তার কর্তব্য ভাড়ার জিনিসটি ভাড়া গ্রহণকারীর কাছে পৌঁছে দিবে। যেন সে তার মাধ্যমে উপকার লাভ করতে পারে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি ভাড়া নিবে তার জন্য আবশ্যক ভাড়া নেওয়া জিনিস যত্নে রাখা এবং সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিনিময় প্রদান করা।
৩. কোনো এক পক্ষ থেকে اجارة বা ভাড়া দেওয়ার চুক্তি বাতিল করা বৈধ নয়। বাতিল করার ক্ষেত্রে উভয়কে রাজী থাকতে হবে। যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে আর ভাড়া দেওয়া বস্তুটি থেকে যায়, তাহলেও চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে না। বরং এই ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিস তার স্থলাভিষিক্ত হবে।
৪. যখন ভাড়া দেওয়ার বস্তুটি নষ্ট হয়ে যাবে অথবা তা থেকে উপকার নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, যেমন: ভাড়া নেওয়া কোনো প্রাণী মারা গেল অথবা কোনো বাড়ি ধসে পড়লো, তাহলে ভাড়ার চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।

ভাড়া দেওয়ার সাথে বেশ কিছু হুকুম সম্পৃক্ত। নিম্নে তুলে ধরা হলো:
১. নৈকট্যশীল কাজ এবং ইবাদাতের ক্ষেত্রে কাউকে মজুর নেওয়া বৈধ নয়। যেমন- আজান দেওয়া, হাজ্জ করা, বিভিন্ন মাসআলা মাসায়েলের সমাধান দেওয়া, বিচারিক ফয়সালা করা, ইমামতি করা, কুরআন শিক্ষা দেওয়া ইত্যাদি। কারণ এসব কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা হয়। হ্যাঁ, তবে যারা এসব দায়িত্ব পালন করবে, তারা (بیت المال) বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভরণপোষণের জন্য অর্থ নিতে পারবে।
২. যে ব্যক্তি ভাড়া দিবে, তার কর্তব্য ভাড়ার জিনিসটি ভাড়া গ্রহণকারীর কাছে পৌঁছে দিবে। যেন সে তার মাধ্যমে উপকার লাভ করতে পারে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি ভাড়া নিবে তার জন্য আবশ্যক ভাড়া নেওয়া জিনিস যত্নে রাখা এবং সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিনিময় প্রদান করা।
৩. কোনো এক পক্ষ থেকে اجارة বা ভাড়া দেওয়ার চুক্তি বাতিল করা বৈধ নয়। বাতিল করার ক্ষেত্রে উভয়কে রাজী থাকতে হবে। যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে আর ভাড়া দেওয়া বস্তুটি থেকে যায়, তাহলেও চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে না। বরং এই ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিস তার স্থলাভিষিক্ত হবে।
৪. যখন ভাড়া দেওয়ার বস্তুটি নষ্ট হয়ে যাবে অথবা তা থেকে উপকার নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, যেমন: ভাড়া নেওয়া কোনো প্রাণী মারা গেল অথবা কোনো বাড়ি ধসে পড়লো, তাহলে ভাড়ার চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00