📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 অংশীদারিত্বের পরিচয় এবং তার হুকুম ও শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল

📄 অংশীদারিত্বের পরিচয় এবং তার হুকুম ও শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল


১. شركة বা অংশীদারিত্বের পরিচয়:
شركة শব্দটির আভিধানিক অর্থ: মিশ্রন। অর্থাৎ এক জনের সম্পদ আরেকজনের সম্পদের সাথে মিশিয়ে ফেলা। যা আলাদা করা হয় না।
পরিভাষায়: شركة বলা হয় লেনদেনের অথবা অধিকারের ক্ষেত্রে একত্রিত হওয়া।
অধিকারের ক্ষেত্রে একত্রিত হওয়ার উদাহরণ। যেমন উত্তরাধিকারী সূত্রে পাওয়া অথবা অসীয়তের মাধ্যমে কিংবা দান সূত্রে পাওয়া সম্পদের ক্ষেত্রে অংশীদার হওয়া। এটি হতে পারে নির্দিষ্ট কোনো বস্তু অথবা নির্দিষ্ট কোনো উপকার লাভ। এটিকে আবার (شركة الأملاك) অংশীদারিত্বমূলক মালিকানা বলা হয়।
আর সম্মিলিত লেনদেনটি شركة العقود বা অংশীদারিত্বমূলক চুক্তি হিসেবে পরিচিত। এখানে এটিই উদ্দেশ্য। অতএব বুঝা গেল যে, অংশীদারিত্বের বিষয়টি পরিচয়ের দিক দিয়ে দুই প্রকার।
২. শরীয়ত সম্মত হওয়া দলীল:
অংশীদারিত্বমূলক লেনদেন বা চুক্তি করাটা শরীয়ত সম্মত। যেহেতু তা বৈধ হওয়ার বিষয়ে কুরআনের আয়াত ও হাদীস দ্বারা বর্ণিত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ الْخُلَطَاءِ لَيَبْغِي بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ
"শরীকদের অনেকে একে অন্যের উপর অবিচার করে থাকে।" [সুরা সোয়াদ: ২৪]
فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ) “তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে।"[সূরা নিসা: ১২]
এটি বৈধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজে এর ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। যেহেতু এ জাতীয় অনেক কাজ মানুষের সম্মিলিত ভাবে করতে হয়, একাকি করতে পারে না, তাই শরীয়ত একে বৈধতা দিয়েছে।

১. شركة বা অংশীদারিত্বের পরিচয়:
شركة শব্দটির আভিধানিক অর্থ: মিশ্রন। অর্থাৎ এক জনের সম্পদ আরেকজনের সম্পদের সাথে মিশিয়ে ফেলা। যা আলাদা করা হয় না।
পরিভাষায়: شركة বলা হয় লেনদেনের অথবা অধিকারের ক্ষেত্রে একত্রিত হওয়া।
অধিকারের ক্ষেত্রে একত্রিত হওয়ার উদাহরণ। যেমন উত্তরাধিকারী সূত্রে পাওয়া অথবা অসীয়তের মাধ্যমে কিংবা দান সূত্রে পাওয়া সম্পদের ক্ষেত্রে অংশীদার হওয়া। এটি হতে পারে নির্দিষ্ট কোনো বস্তু অথবা নির্দিষ্ট কোনো উপকার লাভ। এটিকে আবার (شركة الأملاك) অংশীদারিত্বমূলক মালিকানা বলা হয়।
আর সম্মিলিত লেনদেনটি شركة العقود বা অংশীদারিত্বমূলক চুক্তি হিসেবে পরিচিত। এখানে এটিই উদ্দেশ্য। অতএব বুঝা গেল যে, অংশীদারিত্বের বিষয়টি পরিচয়ের দিক দিয়ে দুই প্রকার।
২. শরীয়ত সম্মত হওয়া দলীল:
অংশীদারিত্বমূলক লেনদেন বা চুক্তি করাটা শরীয়ত সম্মত। যেহেতু তা বৈধ হওয়ার বিষয়ে কুরআনের আয়াত ও হাদীস দ্বারা বর্ণিত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ الْخُلَطَاءِ لَيَبْغِي بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ
"শরীকদের অনেকে একে অন্যের উপর অবিচার করে থাকে।" [সুরা সোয়াদ: ২৪]
فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ) “তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে।"[সূরা নিসা: ১২]
এটি বৈধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজে এর ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। যেহেতু এ জাতীয় অনেক কাজ মানুষের সম্মিলিত ভাবে করতে হয়, একাকি করতে পারে না, তাই শরীয়ত একে বৈধতা দিয়েছে।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 চুক্তি করার মাধ্যমে অংশীদারিত্ব গ্রহণ করা প্রকারভেদ

📄 চুক্তি করার মাধ্যমে অংশীদারিত্ব গ্রহণ করা প্রকারভেদ


প্রথম প্রকার : شركة العنان। এটি হলো দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই সম্পদের মাঝে অংশীদার হবে এবং তা দিয়ে তারা ব্যবসা করবে। আর এটিকে আরবিতে شركة العنان বলার কারণ হলো, অংশ গ্রহণকারী সকলেই লেনদেন করা ও সম্পদের মালিকানার ক্ষেত্রে সমান হয়ে থাকে। যেমন চলার ক্ষেত্রে সমান দুটি ঘোড়ার লাগাম সমান হয়ে থাকে।
তবে এটি সঠিক হওয়ার জন্য শর্ত হলো, মূল সম্পদ অবশ্যই নগদ ও নির্ধারিত হতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেকে কি পরিমাণ লভ্যাংশ পাবে তাও নির্ধারিত হতে হবে।
দ্বিতীয় প্রকার: المضاربة। شركة এটি হলো দুই অংশীদারের একজন আরেক জনকে সম্পদ দিবে। আর তা দিয়ে সে ব্যবসা করবে এবং সম্পদের মালিককে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ দিবে।
তৃতীয় প্রকার: شركة الوجوه। এটি হলো দুজনেই মাল কিনবে। তারপর বিক্রি করে লাভ ভাগ করে নিবে। তবে তাদের কাছে মূল সম্পদ থাকবে না। বরং তাদের উপর ব্যবসায়ীদের আস্থার উপর নির্ভর করবে।
চতুর্থ প্রকার: شركة الأبدان। এটি হলো দুই ব্যক্তি তাদের শরীর খাটিয়ে বৈধভাবে উপার্জন করবে। যেমন- ঘাস কাটা, শিকার করা, খনিজ সম্পদ আরোহণ করা, লাকড়ি সংগ্রহ করা, কাপড় বুনা বা সেলাই করা ইত্যাদি। কাজ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে লাভ বণ্টন করা হবে সেই হিসাবে, যেই হিসাবে তারা বণ্টন করার বিষয়ে একমত হয়েছিল।
যদি ব্যবসায় ক্ষতি হয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিও তাদের মাঝে সম্পদ অনুপাতে বণ্টন করা হবে। প্রত্যেকেই ইচ্ছা করলে তাদের চুক্তি ঠিক রাখতে পারবে, আবার বাতিলও করতে পারবে। অনুরূপভাবে তাদের কেউ একজন মারা গেলে বা পাগল হলেও চুক্তি বাতিল হবে।

প্রথম প্রকার : شركة العنان। এটি হলো দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই সম্পদের মাঝে অংশীদার হবে এবং তা দিয়ে তারা ব্যবসা করবে। আর এটিকে আরবিতে شركة العنان বলার কারণ হলো, অংশ গ্রহণকারী সকলেই লেনদেন করা ও সম্পদের মালিকানার ক্ষেত্রে সমান হয়ে থাকে। যেমন চলার ক্ষেত্রে সমান দুটি ঘোড়ার লাগাম সমান হয়ে থাকে।
তবে এটি সঠিক হওয়ার জন্য শর্ত হলো, মূল সম্পদ অবশ্যই নগদ ও নির্ধারিত হতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেকে কি পরিমাণ লভ্যাংশ পাবে তাও নির্ধারিত হতে হবে।
দ্বিতীয় প্রকার: المضاربة। شركة এটি হলো দুই অংশীদারের একজন আরেক জনকে সম্পদ দিবে। আর তা দিয়ে সে ব্যবসা করবে এবং সম্পদের মালিককে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ দিবে।
তৃতীয় প্রকার: شركة الوجوه। এটি হলো দুজনেই মাল কিনবে। তারপর বিক্রি করে লাভ ভাগ করে নিবে। তবে তাদের কাছে মূল সম্পদ থাকবে না। বরং তাদের উপর ব্যবসায়ীদের আস্থার উপর নির্ভর করবে।
চতুর্থ প্রকার: شركة الأبدان। এটি হলো দুই ব্যক্তি তাদের শরীর খাটিয়ে বৈধভাবে উপার্জন করবে। যেমন- ঘাস কাটা, শিকার করা, খনিজ সম্পদ আরোহণ করা, লাকড়ি সংগ্রহ করা, কাপড় বুনা বা সেলাই করা ইত্যাদি। কাজ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে লাভ বণ্টন করা হবে সেই হিসাবে, যেই হিসাবে তারা বণ্টন করার বিষয়ে একমত হয়েছিল।
যদি ব্যবসায় ক্ষতি হয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিও তাদের মাঝে সম্পদ অনুপাতে বণ্টন করা হবে। প্রত্যেকেই ইচ্ছা করলে তাদের চুক্তি ঠিক রাখতে পারবে, আবার বাতিলও করতে পারবে। অনুরূপভাবে তাদের কেউ একজন মারা গেলে বা পাগল হলেও চুক্তি বাতিল হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00