📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 দ্বিতীয় প্রকারের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত বিধিবিধান; অন্যের কল্যানের জন্য কারো উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা

📄 দ্বিতীয় প্রকারের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত বিধিবিধান; অন্যের কল্যানের জন্য কারো উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা


১. কোনো ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উপর তার ঋণের কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধের সময় শেষ হয়ে যায়। কেননা ঋণ পরিশোধের সময় শেষ হওয়ার আগে সে তার ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য নয়। কিন্তু যদি কোনো ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি এমন দীর্ঘ সফরের ইচছা করে। যেখান থেকে ফিরে আসার আগেই ঋণ পরিশোধের সময় হয়ে যাবে, তাহলে ঋণদাতা তাকে সফর থেকে বিরত রাখতে পারবে। যেন সে তার কাছে কোনো কিছু বন্ধক হিসেবে রেখে যায় অথবা স্বচ্ছল কোনো ব্যক্তিকে তার জিম্মাদার বানিয়ে যায়।
২. নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ব্যক্তির সম্পদ যদি তার ঋণের থেকে বেশি হয়, তাহলে সম্পদের বিষয়ে তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না। বরং ঋণ ফেরত চাওয়ার সময় তাকে ঋণ পরিশোধ করতে আদেশ করা হবে। যদি সে তা পরিশোধ না করে তাহলে তাকে আটকে রাখা হবে এবং বিচারের সম্মুখীন করা হবে। তারপরেও যদি সে না দেয়, তাহলে ঋণ পরিশোধ করার জন্য তার থেকে জোরপূর্বক সেই ঋণের পরিমাণ সম্পদ নেওয়া হবে। কিন্তু যদি তার সম্পদ ঋণের চেয়ে কম হয় তাহলে ঋণ চাওয়ার সময় থেকে তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। যাতে ঋণদাতা ব্যক্তিরা বেশি ক্ষতির সম্মুখীন না হয় এবং ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিও যেন তার সম্পদের মাঝে কোনো লেনদেন করতে না পারে। যেমন কাউকে সে দান করল অথবা এমনিতেই সম্পদ ব্যয় করল। যদি সে এসব করে তাহলে ঋণদাতা ব্যক্তিরা আরও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
৩. যার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তাকে যদি কেউ ঋণ প্রদান করে অথবা তার কাছে কোনো কিছু বিক্রি করে, তাহলে তার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার কাছ থেকে তা দাবি করতে পারবে না।
৪. কারো উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার ব্যাপারে বিচারকের আধিকার আছে যে, তিনি তার সম্পদ বিক্রি করে দিবেন এবং তা ঋণদাতাদের মাঝে পরিমাণ অনুযায়ী বণ্টন করে দিবেন। বরং এটিই তাকে করতে হবে। এক্ষেত্রে বিলম্ব করাটা হবে তাদের প্রতি যুলুম ও অন্যায়। তবে বিচারক তার জন্য সেই পরিমাণ রেখে দিবেন, যা দিয়ে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি সাধারণ খরচা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00