📄 দায়িত্ব গ্রহণ করা
এখানে দায়িত্ব গ্রহণ করা মানে হলো অন্যের উপর যে দায়িত্ব রয়েছে, তা নিজের উপর আবশ্যক করে নেওয়া। আর এটি জায়েয। যেমন: আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَلِمَنْ جَاءَ بِهِ حِمْلُ بَعِيرٍ وَأَنَا بِهِ زَعِيمٌ)
"যে সেটা এনে দিবে, সে এক উট বোঝাই মাল পাবে এবং আমি সেটার জামিন।"[সুরা ইউসুফ: ৭২] অন্যদিকে আল্লাহর রসূল বলেছেন: وَالزَّعِيمُ غَارِمٌ "দায়িত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তিই ঋণ গ্রহণকারী হিসেবে গণ্য হবে।”৭০৭
এটি বৈধ হওয়ার বিষয়ে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তাছাড়াও এর রয়েছে ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা। এটি হলো মানুষের প্রয়োজন মেটানোর অন্যতম একটি বিষয়। যে বিষয়ে ইসলাম আদেশ করেছে।
জিম্মাদরী গ্রহণ করার হুকুম এবং তার শর্তসমূহ:
১. দায়িত্ব গ্রহণ করার কারণে কোনো বিনিময় গ্রহণ করা যাবে না।
২. দায়িত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি একাধিক হতে পারে। কোনো একটি অধিকারের ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি জামিন হতে পারে।
৩. দায়িত্ব গ্রহণ করা সঠিক হওয়ার জন্য শর্ত নয় যে, যার পক্ষ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করা হচ্ছে তার কাছে তাকে পরিচিত হতে হবে।
৪. জানা বা অজানা যে-কোনো বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা যাবে। তবে বিষয়টি অবশ্যই এমন হতে হবে, যা জানা সম্ভব। অনুরূপ বিক্রিত পণ্যের দায়িত্বও গ্রহণ করা যাবে।
৫. দায়িত্ব গ্রহণ করাটা সাব্যস্ত হবে এমন সব শব্দ দ্বারা যেগুলোর মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যেমন- কেউ বলল আমি জিম্মাদর, আমি দায়িত্বশীল ইত্যাদি।
৬. যার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে, সে যখন ঋণ পরিশোধ করবে, সেটি হতে পারে পরিশোধ করার মাধ্যমে অথবা ক্ষমার মাধ্যমে, তখনই দায়িত্বগ্রহণকারী তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হবে।
৭. কারো পক্ষ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করার শর্ত হলো, দায়িত্বশীলকে অবশ্যই রাজি থাকতে হবে। কিন্তু যদি তাকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধ্য করা হয়, তাহলে এটি সঠিক হবে না। তবে যার পক্ষ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করা হচ্ছে অথবা যার জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করা হচ্ছে, তার রাজি থাকা শর্ত নয়। যেমন সঠিক হওয়ার জন্য শর্ত: কারো পক্ষ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য শর্ত হলো, অবশ্যই দায়িত্ব গ্রহণকারী দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্য হতে হবে। যেমন তাকে প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন ও বিচক্ষণ হতে হবে।
টিকাঃ
৭০৭. তিরমিজি: ১২৬৫।