📄 তার পরিচয়, হুকুম এবং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল
الوكالة تفويض شخص غيره ؛ ليقوم مقامه فيما تدخله النيابة :
“প্রতিনিধি বলতে বুঝায়, কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে নিজের স্থলাভিষিক্ত করা।”
২. হুকুম: এটি শরীয়ত সম্মত। আর শরীয়তসম্মত হওয়ার দলীল হলো, আল্লাহ তা'আলার বাণী:
فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ هَذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ
“এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রা দিয়ে শহরে পাঠিয়ে দাও।” [সূরা কাহফ : ১৯]
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا
"সাদকা গরীব এবং অভাবগ্রস্তদের, আর সাদকার জন্য নিযুক্ত কর্মচারীদের।” [সুরা তাওবা : ৬০] এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা সাদকা আদায়ের কাজে )عامل( শ্রমিক নিযুক্ত করাকে বৈধতা দিয়েছেন। যা প্রতিনিধি নিযুক্ত করারই নামান্তর।
عَنْ جَابِرٍ : أَرَدْتُ الخُرُوجَ إِلَى خَيْبَرَ فَقَالَ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا أَتَيْتَ وَكِيلِي فَخُذْ مِنْهُ خَمْسَةَ عَشَرَ وَسْقًا...
"জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খায়বার এলাকায় যাওয়ার ইচ্ছা করলাম। তিনি বললেন: যখন তুমি আমার প্রতিনিধির নিকট আসবে, তার কাছ থেকে পনেরো ওয়াসক নিবে।”৭০৪
عَنْ عُرْوَةَ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ قَالَ : عَرَضَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَبٌ، فَأَعْطَانِي دِينَارًا، فَقَالَ: أَيْ عُرْوَةُ انْتِ الْجُلَبَ فَاشْتَرِ لَنَا شَاةٌ ....
"উরওয়াহ ইবনু আবুল জা'দ থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী কে কিছু আনার প্রস্তাব দিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে এক দিনার দিয়ে বললেন: উরওয়াহ, আমাদের জন্য একটি বকরী ক্রয় করে নিয়ে আসো।..."৭০৫
সাধারণভাবে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা বৈধ হওয়ার বিষয়ে মুসলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। যেহেতু তার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কেননা সব মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় সব কাজ নিজে নিজেই করা। তাই প্রয়োজন শরীয়তে এর বৈধতা দাবি করে।
টিকাঃ
৭০৪. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩৬৩২; দারাকুনী ৪/১৫৫।
৭০৫. সহীহুল বুখারী, হা. ৩৬৪২; মূল মাতান মুসনাদে আহমাদ, হা. ১৯৩৬৭।
📄 প্রতিনিধি নিযুক্ত করা সংক্রান্ত বিধিবিধান
১. প্রতিনিধি নিযুক্তকারী ও প্রতিনিধি হিসাবে নিযুক্ত ব্যক্তি উভয়কে লেনদেনের যোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে প্রাপ্ত বয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন ব্যক্তি ও বিচক্ষণ হতে হবে।
২. প্রতিনিধি নিযুক্ত করা যাবে শুধু এমন সব ক্ষেত্রে যেগুলোতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা যায়। যেমন: ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদন করা অথবা তালাক ও খোলার মতো বিষয়ে চুক্তি করা বা বাতিল করা। অনুরূপভাবে যেসব ইবাদত প্রতিনিধির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেসব ইবাদাতের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা যায়। যেমন: যাকাত দেওয়া, কাফ্ফারা আদায় করা, মান্নত পূর্ণ করা, হাজ্জ পালন করা ইত্যাদি।
৩. মহান আল্লাহর যেসব হক প্রতিনিধির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যায় না, সেসব হক আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা যাবে না। যেমন: অজু করা, সলাত আদায় করা ইত্যাদি।
৪. প্রতিনিধি নিযুক্তকারীর অনুমতির অধীনে থেকে প্রতিনিধি তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে শর্ত হলো- কোনোভাবে যেন প্রতিনিধি নিযুক্তকারীর ক্ষতি না হয়।
৫. নিযুক্ত কোনো প্রতিনিধি নিজে তার কোনো প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে না। তবে যদি প্রতিনিধি নিযুক্তকারী তাকে অনুমতি দেয় অথবা প্রতিনিধি নিজে ভালোভাবে কাজটি করতে না পারে কিংবা কাজটি করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তাহলে তার স্থানে সে বিশ্বস্ত কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে।
৬. যে কাজের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয় সে কাজের ক্ষেত্রে সে আমানতদার হিসেবে থাকবে। সুতরাং কোনো কারণে যদি কাজের ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে সে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে না। যদি না সে কোনো ধরনের সীমালংঘন না করে থাকে।
৭. প্রতিনিধি নিযুক্ত করা একটি বৈধ চুক্তি। যা উভয়েই বাতিল করার অধিকার রাখে।
৮. প্রতিনিধি নিযুক্ত করার চুক্তি বিভিন্ন কারণে বাতিল হতে পারে। যেমন উভয় পক্ষের কেউ মারা গেল অথবা পাগল হয়ে গেল কিংবা চুক্তি বাতিল করল। অথবা প্রতিনিধি নিযুক্তকারী কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তিকে অপসারণ করা হলো। কিংবা নির্বুদ্ধিতার কারণে তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো ইত্যাদি।