📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার 📄 হাওয়ালার অর্থ এবং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার প্রমাণ

📄 হাওয়ালার অর্থ এবং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার প্রমাণ


الحوالة হাওয়ালা বলা হয়, একজনের জিম্মা থেকে অপরজনের জিম্মায় ঋণ স্থানান্তরিত করা। এটি শরীয়ত সম্মত। কারণ তাতে রয়েছে লেনদেনের সহজতা। মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং ব্যাপক কল্যাণের প্রসারতা।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيءٍ فَلْيَتَبِعْ
"আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কারো প্রতি ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব দিলে, সে যেন তা গ্রহণ করে।”৭০৩
এর অর্থ হলো: যদি কোনো ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কোনো স্বচ্ছল ব্যক্তির উপর তার ঋণ হাওয়ালা করে, তাহলে ঋণদাতা যেন সেই হাওয়ালা গ্রহণ করে। কিন্তু ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি ঋণদাতাকে দেউলিয়া কোনো ব্যক্তির কাছে হাওয়ালা করে, তাহলে তার হাওয়ালা নিজের কাছেই ফিরে আসবে। কারণ দেউলিয়া হওয়াটা একটি বিশেষ ত্রুটি। তাই ঋণদাতা দেউলিয়া ব্যক্তির উপর সন্তুষ্ট না হলে, ঋণ গ্রহীতার কাছেই তার অধিকার ফিরে আসবে।

টিকাঃ
৭০৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২২৮৭; সহীহ মুসলিম, হা. ৩৮৯৪, ফুআ. ১৫৬৪।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার 📄 হাওয়ালা সঠিক হওয়ার শর্ত

📄 হাওয়ালা সঠিক হওয়ার শর্ত


হাওয়ালা সঠিক হওয়ার শর্তসমূহ নিম্নরূপ।
১. হাওয়ালা করার বিষয়ে হাওয়ালা কারী রাজি থাকতে হবে। কারণ ঋণ পরিশোধ করা অথবা হাওয়ালা করা এ দুটির যে কোনোটির বিষয়ে তার ইখতিয়ার আছে। সুতরাং, হাওয়ালা করার জন্য কাউকে বাধ্য করা যাবে না।
২. যে সম্পদের জন্য হাওয়ালা করা হবে সেই সম্পদ এবং যে সম্পদ পরিশোধ করা হবে সেই সম্পদে পরিমাপ, ধরন ও গুনাগুণের ক্ষেত্রে একই হতে হবে।
৩. যে বস্তুর বিষয়ে হাওয়ালা করা হবে সেই বস্তু বা সম্পদ হাওয়ালাকৃত ব্যক্তির কাছে ঋণ হিসাবে থাকবে।
সঠিকভাবে হাওয়ালা বাস্তবায়ন হওয়ার জন্য অবশ্যই উপর্যুক্ত নিয়মে হকটি হাওয়ালার দায়িত্বদাতা থেকে হাওয়ালা গ্রহণকারীর নিকট স্থানান্তরিত হতে হবে।
বর্তমানে হাওয়ালা করার কিছু ধরন নীচে উল্লেখ করা হলো।
ক. ব্যাংকের মাধ্যমে হাওয়ালা করা। এটি হলো, কেউ ঋণ পরিশোধ করার জন্য ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিলো। আর ব্যাংক সেই টাকা অন্য ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিলো। আর এর বিনিময়ে ব্যাংক নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্য গ্রহণ করল।
খ. চেকের মাধ্যমে হাওয়ালা করা। এটি হলো, ঋণগ্রহীতা অথবা তার প্রতিনিধি ঋণদাতা বা তার প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে একটি বইয়ে অথবা কাগজে সই করে পাঠিয়ে দিলো, যেন এই চেকের মাধ্যমে তারা ঋণ পরিশোধ করে নিতে পারে। অথবা একজন মানুষ অন্যদেশে থাকা আরেকজন মানুষকে ঋণ দিলো। তখন ঋণগ্রহীতা অথবা তার প্রতিনিধি অন্য দেশের ঋণদাতা বা তার প্রতিনিধির কাছে যাতে ঋণ পরিশোধ করতে পারে। এখানে ঋণগ্রহীতা যে কাগজে লিখে তাকে সুফতাজাহ বা চেক বলে। এটি ফারসি শব্দ, যাকে আরবি করা হয়েছে।
উল্লিখিত পদ্ধতি দুটি বৈধ হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন অবৈধ। তবে সঠিক কথা হলো এটি বৈধ। যেহেতু উভয় পক্ষেরই কল্যাণ রয়েছে। কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হচ্ছে না। তা ছাড়া শরীয়ত কর্তৃক সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞাও বর্ণিত হয়নি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية